সহজ সরল কম্পিউটার নিরাপত্তা নিয়ে কিছু টিপস এন্ড ট্রিকস

1
330

অনেকে অনেক রকমের জটিল উপদেশ দেয় – এই সফটওয়্যার ব্যবহার করো – ঐ সফটওয়্যার ব্যবহার করো তাহলে নিরাপদ থাকবে। অবশ্যই নিয়মিত অ্যান্টিভাইরাস আপডেট করা বা স্ক্যান করা কাজে লাগে। কিন্তু সবচাইতে আগে ব্যবহার করা লাগে নিজের মাথাটা। যেমন একদম শুরুতে প্রথম যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম – নানারকমের বিজ্ঞাপন দেখলেই ক্লিক করে পুরষ্কার জেতার চেষ্টা করতাম। পরে ভাইয়ার ঝাড়ি খেয়ে বুঝেছিলাম এসব ভুয়া। তার পরে আস্তে আস্তে জানলাম নানারকমের ভাইরাস, ম্যালওয়্যার ইত্যাদি নিয়ে। জানলাম, সহজেই কিছু পাওয়া যায় না। লোভ সামলাতে হয়।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত খুবই কাজের একটা ব্রাউজার add-on বার করেছিলাম WOT (Web of Trust) যেটা এখনো ব্যবহার করছি। আপনি কোন সাইটে গেলেই সেই সাইটের রেটিং ৪ ধাপে (Trust Worthiness, Privacy, Vendor Reliability, Child Safety) দেখিয়ে দিবে এবং খারাপ সাইটগুলোর জন্য আপনাকে সতর্ক করে দিবে। পাশাপাশি লিংকগুলোর জন্যও দেখিয়ে দিবে তার রেটিং।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

Snap 2012-07-10 at 23.39.20 সহজ সরল কম্পিউটার নিরাপত্তা নিয়ে কিছু টিপস এন্ড ট্রিকস

এখন পর্যন্ত অসংখ্যবার এটার কারণে নানারকমের ভুয়া সাইট থেকে বেঁচে গিয়েছি। বুঝলাম, কম্যুনিটি ভিত্তিক রেটিং সফটওয়্যারগুলো দারুণ কাজের।

মাঝে মাঝে উল্টাপাল্টা কাজও করেছি বা হয়ে গেছে। যেমন Windows reinstall করবো। করলাম C ড্রাইভ ফরম্যাট, দিলামও ইন্সটল সেটাতেই। ইন্সটল হবার পরে দেখি C ড্রাইভ ফাঁকা। D ড্রাইভ যেটায় কিনা আমার সব কাজের ডকুমেন্ট রাখতাম – তার সব কিছু গায়েব কারণ ওখানেই Windows ইন্সটল হয়েছে। কিভাবে হলো, কেন হলো তার কোন ব্যখা পাইনি। এমন তো না যে ভুল করেছি, বা ভুল ড্রাইভ সিলেক্ট করেছি। যাই হোক, বুঝলাম ফরম্যাট বা রিইন্সটলের আগে ব্যাকআপ রাখা অবশ্যই দরকার। রাখাও শুরু করলাম ডিভিডি রাইট করে, পরে পোর্টেবল হার্ডডিস্কে।

এরপরে কেন জানি একটা তাড়াহুড়া ভাব চলে আসলো। মাঝে মাঝেই বিপত্তিতে পড়েছি তার কারণে। যেমন একবার অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল দিবো। পোর্টেবল হার্ডডিস্ক থেকে ISO সিলেক্ট করে দিয়েছি। আর তারপরে দিলাম Bootable USB Installer বানাতে। হঠাৎ করেই ম্যাসেজ আসলো, ISO নাকি পাচ্ছে না। পরে দেখি ওমা! আমি তো না দেখেই পোর্টেবল হার্ডডিস্ককে Bootable USB Installer বানাতে দিয়েছি। কি বিপদ, ব্যাকআপের হার্ডডিস্কটাই যদি ফরম্যাট মারি – তাহলে তো মহা ঝামেলা। বুঝলাম, ১০-২০ সেকেন্ড নষ্ট করে যদি Apply এ ক্লিক করার আগে একটু চেক করি, তাহলে সেটা নিজেরই কাজে লাগবে। অন্ততঃ বছরের পর বছর ধরে তোলা বন্ধু বা আত্মীয়দের স্মৃতির ছবি বা ডকুমেন্ট হারানোর দুঃখ পেতে হবে না। তখন একটা সফটওয়্যার দিয়ে প্রায় সব ডাটা উদ্ধার করেছিলাম। নাম Recuva. একদমই ফ্রি এই সফটওয়্যারটা পরবর্তিতে আমার ভুলে ডিলিট করা অসংখ্য ফাইল পেতে সাহায্য করেছিল।

তখন মাথায় আসলো, ডিভিডি বা পোর্টেবল হার্ডডিস্ক তো হারিয়ে যেতে পারে, নষ্টও হতে পারে। এই কিছুদিন আগেই সেটার খুব ভালো সমাধান বার হয়েছে। ফাইলগুলো এখন ক্লাউডে ছেড়ে দেই। এর জন্য খুব ভালো ভালো কিছু সার্ভিস আছে, যেমন ড্রপবক্স, স্পাইডারওক, গুগল ড্রাইভ বা স্কাইড্রাইভ। এগুলা ছাড়াও আরো কিছু আছে – কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতামত –এগুলোই বর্তমানে সেরা। শিখলাম, কাজের জিনিষগুলো এভাবে ক্লাউডে রাখলে সেগুলা খুব সহজে নষ্ট হবে না। খুব বেশি ডাটার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করলে স্পাইডারওক বিশেষ ভালো।

আস্তে আস্তে অনলাইনে অনেকের সাথে পরিচিত হলাম। মাঝে মাঝেই নানা সমস্যায় পড়তাম। সেসব সমস্যায় প্রথম ভরসা গুগল সার্চ ইন্ঞ্জিন(বা আপনার পছন্দেরটা)। কিন্তু ওটাতেও সবসময় সমাধান পেতাম না। কম্যুনিটির অনেকেই এগিয়ে আসতেন সেসব সমস্যার সমাধানে। অসংখ্য কিছু শিখেছি তাদের কাছ থেকে। আর শিখেছি, বর্তমানে Knowledge is power না, বরং Knowledge Sharing is power বেশি সত্য।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − 17 =