মৃত্যুর ৭দিন পর পুনরায় জীবিত হয়েছেন এক ব্যক্তি।

0
574

আপনাকে যদি বলা হয় কোনও এক ব্যক্তি মৃত্যুর সাত দিন পর পুনরায় বেচে উঠেছে। তাহলে আপনি কি এই কথাটা বিশ্বাস করবেন? নিশ্চয়ই আপনি বিশ্বাস করবেন না। কারণ আমরা সবাই জানি মানুষ মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হতে পারে না। কিন্তু অবাক এই পৃথিবীতে কখন কি যে ঘটে সেটা বোঝা সত্যিই কষ্টকর। মানুষ পুনরায় জীবিত হতে পারে না কিন্তু অবাক এই পৃথিবীতে মৃত্যুর পর জীবিত হয়েছেন এক ব্যক্তি।

কি বিশ্বাস হচ্ছে না? বিশ্বাস না হওয়ারই কথা। কিছুদিন আগে চীনে ঘটেছে এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি। চীনের গুয়াংজি প্রদেশের লিউলৌ গ্রামের ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা লি জিউফ্যাং ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে হঠাৎ মাথায় আঘাত পান। এই আঘাত পাওয়ার কয়েকদিন পর থেকে তাকে আর ঘরের বাইরে বেরোতে দেখা যাচ্ছিল না। দু’দিন পরও তাকে দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীরা জিউফ্যাংয়ের ঘরে যান সে কেন ঘর থেকে বাহির হচ্ছে না তা দেখার জন্য।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

image_1816 মৃত্যুর ৭দিন পর পুনরায় জীবিত হয়েছেন এক ব্যক্তি।

প্রতিবেশীরা তার ঘরে গিয়ে দেখেন নিথর দেহে বিছানায় পড়ে আছেন স্বামী-সন্তানহীন ওই বৃদ্ধা। প্রতিবেশীরা তার পাশে এসে দেখেন জিউফ্যাংয়ের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ এবং শত ডাকার পরও কারও ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না তিনি, যদিও তার শরীর ছিল গরম। জিউফ্যাংয়ের এই অবস্থা দেখে শেষমেশ গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা ১৮ ফেব্রুয়ারি সভা ডেকে জিউফ্যাংকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেখানকার স্থানীয় রীতি অনুসারে জিউফ্যাংয়ের দেহ শেষ শ্রদ্ধার জন্য কফিনে ভরে কয়েকদিন তার নিজ বাড়ির উঠানে রেখে দেওয়া হয়। প্রতিবেশীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তারা ২৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে জিউফ্যাংকে সমাহিত করবেন।

কিন্তু ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে জিউফ্যাংয়ের উঠানে এসে সবার চোখ ছানাবড়া। সবাই তার উঠানে এসে দেখেন কফিনের দরজা খোলা আর সেখানে জিউফ্যাংয়ের মৃতদেহটি নেই। সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়ে যায় কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না জিউফ্যাংকে। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর গিয়ে দেখা যায়, জিউফ্যাং তার রান্নাঘরে রান্না করছেন। ভূত ভেবে সবাই প্রথমে ঘাবড়ে যান।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা বৃদ্ধা জিউফ্যাং এর কাছে এগিয়ে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে থাকার পর তার অনেক ক্ষুধা পেয়েছিল, তাই খাবারের খোঁজে তিনি রান্নাঘরে এসেছিলেন। কিন্তু রান্নাঘরে খাবার কিছু না পেয়ে এখন তিনি রান্না করতে বসেছেন। জিউফ্যাংয়ের এই ঘটনা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

জিউফ্যাংয়ের এই অবাক করা ঘটনাটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনা নিয়ে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের সমস্যাকে বলা হয় ‘আর্টিফিশিয়াল ডেথ’। ছোট-বড় আঘাতের কারণে রোগী অনেক সময় দীর্ঘ সময়ের জন্য নিস্তেজ হয়ে পড়তে পারে এমন কি তার শ্বাস-প্রশ্বাসও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে নির্দিষ্ট সময় পর শ্বাস-প্রশ্বাস আবারও স্বাভাবিকভাবে তার কাজ শুরু করে।

জিউফ্যাংকে আবারও জীবিত অবস্থায় কাছে পেয়ে খুবই খুশি হয়েছে তার প্রতিবেশীরা। মৃতদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য কিছুদিন কফিনে সংরক্ষণ করে রাখার রীতিই আবারও জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে জিউফ্যাংকে, নতুবা প্রথম দিনেই সমাহিত করা হয়ে যেত তাকে।

জিউফ্যাংয়ের ফিরে আসা আনন্দের বিষয় হলেও দুঃখের বিষয় হচ্ছে জীবিত থেকেও তিনি এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। কারণ সেখানে আরেকটি স্থানীয় প্রচলিত নিয়ম রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে, মানুষ মৃত্যু বরণ করলে সেই মৃত ব্যক্তির ব্যবহৃত আনুষঙ্গিক সব জিনিস পুড়িয়ে ফেলা হয়। তাই দরিদ্র বৃদ্ধা জিউফ্যাং লম্বা ঘুম ভেঙে উঠে দেখেন তাকে মৃত ভেবে তার একমাত্র সম্বল সামান্য কয়েকটি পোশাক, স্যান্ডেল আর আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র যা ছিল তার সবই পুড়িয়ে ছাই করে ফেলেছে স্থানীয়রা।

তবে জিউফ্যাংয়ের প্রতিবেশীরা তার ফিরে আসার কারণে খুবই খুশি। কারণ তারা তাদের প্রিয় প্রতিবেশীটাকে তাদের চোখের সামনে দেখতে পারবে আরও কয়েক দিন, মাস বা বছর।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × 3 =