আমি এবং ফুটবল স্টাফ

0
222

 

champions-league-results- আমি এবং ফুটবল স্টাফ

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

 

চ্যাম্পিয়নস লীগের বার্সেলোনা-ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচের হাইলাইটস দেখছিলাম। জাভির বাড়ানো একটি থ্রু দেখে সনি নর্দের কথা মনে পড়ে গেল। ওয়েডসনকে এরকম একটি থ্রুই তো দিয়েছিল নর্দে! সঙ্গে সঙ্গেই যেন বুক চিড়ে বেরিয়ে এল দীর্ঘশ্বাস। ইতিহাসটা গড়তে না পারার দীর্ঘশ্বাস।

 

ভারতের শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী আইএফএ শিল্ডের কথা বলছিলাম। ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মত কোন বাংলাদেশী ক্লাবের চ্যাম্পিয়ন হতে পারার সুযোগটা এভাবে ফসকে যাবে তা কেউই ভাবেনি। গতি এবং পাসের পসরা সাজিয়ে গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই অসাধারণ খেলেছে শেখ জামাল। মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি এটি বাংলাদেশের কোন ক্লাব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাইনালে কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কাছে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হেরে শিল্ডের শিরোপার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হল শেখ জামাল।

 

অথচ টুর্নামেন্ট জুড়েই কি মাতামাতিই না হল শেখ জামালকে নিয়ে! ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের কোচ, মিডিয়া এমনকি কলকাতার দর্শকদেরও মন জয় করেছে শেখ জামাল তাদের অনবদ্য পারফর্মেন্স দিয়ে। বিশেষ করে সনি নর্দের চোখ ধাঁধানো পারফর্মেন্সের কথা তো আলাদাভাবে বলতেই হয়। হাইতির জাতীয় দলের এই প্লেমেকার নিশ্চিতভাবেই গত ১৫ বছরে আসা ঢাকার মাঠের সেরা বিদেশী ফুটবলার। ফ্রিকিক থেকে নেওয়া তার গোলগুলো ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ কিংবা স্প্যানিশ লীগের গোলগুলোর চেয়ে কোন অংশেই কম চিত্তাকর্ষক নয়। আলাদা করে চোখে পড়েছে মামুনুলের অসাধারণ পাসিং ফুটবলও।

 

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব প্রথম খেলায় কলকাতা মোহামেডানের কাছে হারলেও পরের ম্যাচে ইউনাইটেড সিকিমকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী কলকাতা মোহনবাগানকে ১-০ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠে শেখ জামাল। তারপর সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইস্টবেঙ্গলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ক্লাবটি।

 

ফাইনালের শ্বাসরুদ্ধকর খেলায় ২৮ মিনিটে শেখ জামালের পক্ষে গোল করেন শেখ জামালের সনি নর্দে। ফ্রি কিক থেকে দর্শনীয় এক গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মেহরাজ উদ্দিনের গোলে সমতায় ফেরে কলকাতা মোহামেডান। ম্যাচের ৮১ মিনিটে রেফারির একটি বাজে সিদ্ধান্তে লাল কার্ড দেখেন সনি নর্দে। তবে সিদ্ধান্তটি যে ভুল ছিল তা সমস্বরে জানিয়ে রেফারির তীব্র সমালোচনা করেছেন টিভি ধারাভাষ্যকাররা। নর্দের লাল কার্ড শেখ জামালকে ভীষণভাবে ব্যাকফুটে ফেলে দেয়। নির্ধারিত সময়ের ১-১ সমতা থাকা ৯০ মিনিটের খেলা গড়ায় ১২০ মিনিটে। সেখানেও কোন দল গোল করতে না পারলে খেলার নিস্পত্তি হয় টাইব্রেকারে৷

 

১৯৯৫ সালে ঢাকা মোহামেডান শিল্ডের ফাইনালে উঠেও ট্রাইব্রেকারে হেরে গিয়েছিল ইস্ট বেঙ্গলের কাছে। ২০১৪ তেও পারলো না শেখ জামাল। আইএফএ শিল্ড যেন দুর্ভাগ্য আর হতাশার প্রতিচ্ছবিই হয়ে থাকবে আমাদের কাছে!

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × one =