কম্পিউটার সমাচার, ( গ্রাফিক্স কার্ড, ATi ) পর্ব-৫

20
893

                                     
                

 

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

ATi ( Aero Technologies incorporate ) হচ্ছে গ্রাফিক্স জগতের এক নতুন জাদুকর। কানাডিয়ান এই প্রতিষ্ঠানটি লি কা লউ, বেনি লউ, কেঅয়াইহ এর হাত ধরে ১৯৮৫ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে এরা কম্পিউটার এর জন্য চিপ উৎপাদন করলেও পরে এরা গ্রাফিক্স এর চিপ উৎপাদন শুরু করে। ২০০০ সালের দিকে বেশকিছু গ্রাফিক্স কার্ড বাজারে ছাড়লেও NVIDIA এর কাছে চরমভাবে পরাস্ত হয়। তারপর ভাঙ্গা-গড়ার খেলায় ২০০৬ সালে এএমডি কিনে নেয় এই জিপিউ ও মাদারবোর্ডের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে। তখন নাম পাল্টে রাখা হয় ” এএমডি গ্রাফিক্স প্রোডাক্ট গ্রুপ ” । কিন্তু তারা ATi কে তাদের প্রোডাক্ট নাম হিসাবে এতদিন ব্যাবহার করে আসলেও বর্তমানে ৬০০০ সিরিজ থেকে তাদের নাম পরিবর্তন করে AMD Radeon নামে বাজারজাত করা শুরু করে। ২০০৭ সালের দিকেই সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে থাকে এই কোম্পানিটি। এএমডি এর অধীনে প্রান ফিরে পায় কোম্পানিটি। তার ধারাবাহিকতায় একে একে ৩০০০, ও ৪০০০ সিরিজ বাজারে এনে শক্তির আভাস দিতে শুরু করে ATi । তারপর ২০০৯ সালে ৫০০০ সিরিজ বাজারে আনে ATi যা গ্রাফিক্স জগতে এক নতুন সম্রাট এর আগমনী বার্তা জানান দেয়। খুবই কম বিদ্যুৎ খরচ করে, কম দাম এবং NVIDIA এর জিটিএক্স ২০০ সিরিজ থেকে ভাল পারফমেন্স এর কারনে বাজারের সেরা এবং প্রথম পছন্দের কার্ড হয়ে উঠে এটি যা NVIDIA কে মোটামুটি ভালই ধাক্কা দেয়। আর এই সিরিজে চমকপ্রদ সব ফিচার একে আরও উচ্চতায় নিয়ে যায়। ওই বছরের সেরা গ্রাফিক্স সিরিজ হিসাবে ৫০০০ সিরিজ নির্বাচিত হয়। আর তারপর থেকেই একের পর এক ধাক্কা দিতে থাকে এই কোম্পানিটি। মূলত কমদামে ভালমানের পণ্য সরবরাহ করায় ATi এর কাছে NVIDIA এর জনপ্রিয়তা দিন দিন কমতে থাকে। আর নতুন নতুন সব গ্রাফিক্স কার্ড ও বিশ্বসেরা সব প্রযুক্তি, কম বিদ্যুতে ভাল পারফমেন্স, ও কম মূল্যের হওয়াতে ২০১০-২০১১ সালটি পুরাটাই ATi এর দখলে থাকে। ২০১০-২০১১ সালে ATi এর কাছে NVIDIA ০৮% বাজার হারায়। আর জনপ্রিয়তা, তার কথা নাহয় নাই বা বললাম। আসুন দেখে নেই ATi এর কিছু চমকপ্রদ ফিচার যা একে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তুলেছে।

:: টেরাস্কেল ঈঞ্জিন ::

এটি সর্বপ্রথম ৪০০০ সিরিজে যোগ করা হয় যার কোডনেম ছিল ” সাইপ্রাস “। ৫০০০ সিরিজে ব্যাবহার করা হয় 2nd Generation টেরাস্কেল ঈঞ্জিন যার ক্ষমতা ছিল প্রায় দ্বিগুণ। আর ৬০০০ সিরিজে 3rd Generation টেরাস্কেল ঈঞ্জিন ব্যাবহার করা হয় যা মাল্টি-প্রসেসসিং এ এক নতুন সুচনা আরম্ব করে। এই ইঞ্জিনটি মূলত অন্যসব গ্রাফিক্স কার্ড থেকে একে আলাদা করে তুলে। এতে প্রায় ৮০০ প্রসেসসিং স্ট্রিম আছে। ৫০০০ সিরিজে এর কোর সংখ্যা দ্বিগুণ ৬০০০ সিরিজে তিনগুন করা হয়েছে। এর কারনে HD Gameing আর Blu-Ray ভিডিও হয়ে গেছে “ হাতের ময়লা “।

:: ATi স্ট্রিম টেকনোলজি ::

যদিও NVIDIA এই প্রযুক্তিটি সর্বপ্রথম বাজারজাত করে, কিন্তু ATi এর স্ট্রিমিং প্রযুক্তিটি সত্তিই NVIDIA থেকে ভাল পারফমেন্স প্রদান করে। এই প্রযুক্তির কল্যাণে যে কোন কম্পিউটার প্রসেসসরের সাথে গ্রাফিক্স প্রসেসসর মিলিত হয়ে একত্রে কাজ করে যা আপনাকে দিবে অসাধারন কার্যক্ষমতা। বিশেষত এএমডি প্রসেসসরের সাথে একত্রে এটি আপনাকে দিবে HD Gameing, Smooth Video, 3D এর আসল মজা। এই স্ট্রিমিং এর কারনে কম্পিউটার এর প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ডের ক্ষমতা মোটামুটি ভালই বৃদ্ধি পায়। ইন্টেল বা এএমডির সাথে NVIDIA এর গ্রাফিক্স প্রসেসসর একই প্রযুক্তিতে কাজ করলেও খুব বেশি সুবিধা পাওয়া যায় না। কিন্তু এই স্ট্রিমিং এর কারণে ATi, ইন্টেল প্রসেসসর এর সাথে খুব ভাল এবং এএমডি প্রসেসসর এর সাথে অসাধারন পারফমেন্স প্রদান করতে পারে। আসলে এটি জিপিউ, এবং সিপিউ কে একে প্লাটফর্মে কাজ করার সুযোগ করে দেয়।

কম্পিউটার সমাচার, ( গ্রাফিক্স কার্ড, ATi ) পর্ব-৫

:: ATi আইফিনিটি টেকনোলজি ::

৫০০০ সিরিজে সর্বপ্রথম এই প্রযুক্তিটি ব্যাবহার করা হয়। এর সাহায্যে একত্রে ৩-৬ টি মনিটরকে একত্রে সংযোগ দেয়া যায়। আসলে আইফিনিটি টেকনোলজি একাধিক মনিটরকে একটি গ্রুপ হিসাবে বিবেচনা করে একটি হাই রেজুলেশনের মনিটর হিসাবে ব্যাবহার করার সুযোগ করে দেয়। ৫০০০ সিরিজে ৩ টি। ৫৮৭০ তে ৬ টি ও ৬০০০ সিরিজে ৮ টি মনিটরকে এই প্রযুক্তির সাহায্যে একত্রে সংযোগ দেয়া যায়। খুব হাই রেসুলেশনের ভিডিও যারা বানাতে বা এডিট করতে চান তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ।

কম্পিউটার সমাচার, ( গ্রাফিক্স কার্ড, ATi ) পর্ব-৫

কম্পিউটার সমাচার, ( গ্রাফিক্স কার্ড, ATi ) পর্ব-৫

:: এএমডি EyeSpeed টেকনোলজি ::

৬০০০ সিরিজে এই টেকনোলজি সর্বপ্রথম ব্যাবহার করা হয়। এটি আসলে APP ( Accelerated Parallel Processing ) টেকনোলজি যা HD Gameing, Blu-Ray ভিডিও এডিটিং, 3D মুভি এডিটিং, এর গতিকে প্রয়োজনীয় সময় প্রায় দ্বিগুণ করে তুলতে পারে। এর ফলে আরও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন Blu-Ray ভিডিও, 3D মুভি, Game তৈরি করা অনেক সহজ হয়ে গেছে।

:: এএমডি HD3D টেকনোলজি ::

এই প্রযুক্তিটিও ৬০০০ সিরিজে সর্বপ্রথম যুক্ত করা হয়। এর সাহায্যে হাই ডেফিনেসন 3D মুভি এডিটিং, ট্রান্সকোডিং, এনকোডিং, আপস্কেলিং ও উপভোগ করা যাবে। তাছাড়া এটি গেম, মুভি এর মাঝে Stereoscopic 3D সাপোর্ট এনে দিতে সক্ষম যা আপনার 3D লাইফকে আরও জীবন্ত ও উপভোগ্য করে তুলবে।

:: ATi AVIVO টেকনোলজি ::

এটি Blu-Ray ভিডিও প্লেব্যাক, হোম থিয়েটার, HDMI ( High Defination Multimedia Interface ), পোর্টেবল মিডিয়া ডিভাইস, OpenGL, GDDR-5, EyeSpeed, HD3D, আইফিনিটি, পিক্সেল শ্রেডার ৫.০ এর মত নতুন প্রযুক্তি কে সরাসরি গ্রাফিক্স কার্ডের মাধ্যমে ব্যাবহার করার সুযোগ করে দেয়।

:: ATi CrossFire X ::

খুবসম্ভভত এই প্রযুক্তিটি ATi কে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। যদিও NVIDIA এই প্রযুক্তিটি সর্বপ্রথম বাজারজাত করা শুরু করে SLI নামে, কিন্তু তাতে ২ টির বেশি গ্রাফিক্স কার্ড সংযুক্ত করার সুযোগ ছিল না। ATi এর কিছুদিন পরেই CrossFire বের করে যাতে ২ টি ও CrossFireX এ ৪ টি গ্রাফিক্স কার্ডকে একত্রে সংযোগ দেয়া যেত। আর তখন SLI এর জন্য প্রায় ৮০০ ওয়াট এর পাওয়ার সাপ্লাই লাগতো যা অনেক ব্যয়বহুল। কিন্তু CrossFire X এ মাত্র ৬০০-৬৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ লাগতো যা ছিল CrossFire X এর জনপ্রিয়তার মুল কারন। CrossFire XSLI প্রায় কাছাকাছি পারফমেন্স দিত কিন্তু দামে সাশ্রয়ী, কম বিদ্যুৎ খরচ করার কারনে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়ে উঠে। বর্তমানে ৫৭% মাদারবোর্ড শুধু CrossFire X সাপোর্ট করে যা বর্তমানে এর জনপ্রিয়তাকে আরও একধাপ উপরে নিয়ে গেছে। আরও একটা গোপন তথ্য দেই। ATi নামি দামি সব মাদারবোর্ড কোম্পানির সাথে চুক্তি করে আগেভাগেই SLI কে বোল্ড আউট করে দিচ্ছে। এই চুক্তির কারনে বেশিরভাগ মাদারবোর্ডে শুধু CrossFire X সাপোর্ট কিন্তু SLI সাপোর্ট করে না।

কম্পিউটার সমাচার, ( গ্রাফিক্স কার্ড, ATi ) পর্ব-৫

কম্পিউটার সমাচার, ( গ্রাফিক্স কার্ড, ATi ) পর্ব-৫

কম্পিউটার সমাচার, ( গ্রাফিক্স কার্ড, ATi ) পর্ব-৫

 

NVIDIA এর নাম আর দামের চাপায় যেসকল কম পুজির গ্রাফিক্স, গেম ইন্ডাস্ট্রি হাপিয়ে উঠেছিল, ATi তাদেরকে নতুন ধারার গ্রাফিক্স এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। শুধু কমদাম বলেই না, পারফমেন্স এর জাদু দিয়ে বিশ্বের নতুন এই গ্রাফিক্স জাদুকর সবার প্রিয় গ্রাফিক্স ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। সেই দিন আর খুব বেশি দূরে নয় যেই দিন NVIDIA এর পরিবর্তে ATi এর মাথায় উঠবে গ্রাফিক্স সম্রাট এর মুকুট। তবে পথটা এত সোজা নয়। ২০১২ তে আসছে NVIDIA এর জিটিএক্স ৬০০ সিরিজ যা দিয়ে তারা ২০১০-২০১১ এর সেরার খেতাবটি ATi থেকে ছিনিয়ে নেবার স্বপ্ন দেখছে। আর আবারও ২০১১-২০১২ এর সেরা হবার লড়াইতে গ্রাফিক্স জাদুকর ATi তাদের ব্র্যান্ড নেম বদলে AMD Rradeon 7000 সিরিজ নিয়ে আসছে বিশ্বকে আরও একবার তার ভেল্কি দেখাতে।

             **** আপনি এই যুদ্ধে কার সেনাপতি হয়ে লড়াই করবেন তা আমাকে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু ****

 

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

20 মন্তব্য

  1. দেইখা তো মাথা ঘুরায়তেসে …….. আমি ATI 5450 ব্যবহার করতেসি ………..

    • ধন্যবাদ, ৫৪৫০ কমদামের মধ্যে খুব চমৎকার একটা কার্ড।

  2. অনেক সুন্দর এবং দারুন একটা পোষ্ট। ধন্যবাদ।

  3. এইতো ভাই আসল কথা কইলেন। তয় চাকরি পাইলে আপনারে অবশ্যই দিমু, খালি একটু সবুর করেন। হে হে হে হে।

  4. চরম! যদি পোস্ট এর সাথে আমাদেরকে একখান করে গ্রাফিকস কার্ড দিতেন তই আরও খুশি হয়তাম! :D :D :D

  5. অরে বাপরে বাপ। চরম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্ম একটা পোস্ট হইছে। আসলেই অসাধারণ। খুব কষ্ট করে পোস্ট করছেন বুঝাই যাইতেছে। সুপার হইছে সুপার

    • পুদিনা ভাই চরম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্ম বলসেন , আমি ধন্য হয়ে গেলাম . আমার পোস্ট সার্থক হইসে.

  6. জব্বর, ফাটাফাটি, অসাধারন টিউন। ধন্যবাদ। :D

    • ধন্যবাদ ভাই। আপনারা কার পক্ষে তা কিন্তু বললেন না।

  7. চমৎকার একটা পোষ্ট। আমার কিছুই বলার নেই। আপনার এই ধারাবাহিক পোষ্টগুলো সহ প্রত্যেকটটি পোষ্টটি অনেক চমৎকার হয়। আপনার এই পোষ্টগুলো পড়ে আমার মনে হয় একজন সাধারণ লোকও হার্ডওয়্যারের উপর অভিজ্ঞ হয়ে উঠতে পারেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় করে এই সব চমৎকার পোষ্ট উপহার দেয়ার জন্য।

  8. আশা করি সবাই ভাল আছেন। পরবর্তী পোস্ট তা হবে অতিব গুরুত্তপূর্ণ পোস্ট। আশা করি সাথেই থাকবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen + 13 =