যেভাবে ম্যালওয়্যার ডাউনলোড প্রতিহত করবেন

1
486

প্রতিদিন কমিপউটার ক্রিমিনালরা নিত্য নতুন উপায় বের করছে, কিভাবে আমাদের কমিপউটারে কোনও ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়া যায়, নয়তো এডওয়্যার নয়তো ভিন্ন কোনও সফটওয়্যার যা আমাদের কমিপউটার থেকে মূল্যবান গোপনীয় তথ্য চুরি করতে পারে।

সবচে বেশি এই জিনিসটি ঘটে যখন আপনি ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইট ব্রাউজ করছেন। ইন্টারনেটে হাজারো সাইট আছে যেগুলোতে গেলে, তারা আপনার কমিপউটারে ভাইরাসসহ বিভিন্ন রকমের খারাপ সফটওয়্যার ডাউনলোড করে দিতে পারে। এমনকি, আপনার অনুমতি ছাড়াই এরা অনেক সময় এই কজাগুলো করে থাকে। তারপর কিছুদিন পর পর আপনাকে হার্ডডিস্ক ফরম্যাট করে নতুন করে সব ইনস্টল করতে হয়। তবে ঠিকমতো সিকিউরিটি সেটিং করা থাকলে, ঝুকিটা অনেকাংশেই কমানো যেতে পারে।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

আমরা এখানে সহজ কিছু পন্থার কথা জানিয়ে দিচ্ছি, যেগুলো অনুসরন করলে আপনার কমপিউটার এমন সব বিভিন্ন রকমের ভাইরাসের হাত থেকে মুক্ত থাকতে পারে।

সবসময় সফটওয়্যারের লেটেস্ট সংস্করনটি ব্যবহার করুন
কমিপউটারের সিকিউরিটির সবচে দূর্বল জায়গা হলো তার অপারেটিং সিস্টেম (উইন্ডোজ, ম্যাক, এন্ড্রয়েড, লিনাক্স ইত্যাদি)। নিরপত্তার শুরু এবং শেষ – দুটোই হয় অপারেটিং সিস্টেম থেকে। আপনি যদি উইন্ডোজ ব্যবহারকারী হোন, তাহলে প্রথমেই উইন্ডোজ-৭-এ আপগ্রেড করে নিন। উইন্ডোজ এক্সপি ও ভিসটায় অনেক ফাঁকফোকর ইতোমধ্যেই বের হয়ে গিয়েছে, যেগুলো ক্রিমিনালরা জেনে গিয়েছে। সেগুলো ফিক্স করা চেয়ে, উইন্ডোজ-৭ চালানোটা অনেক বেশি নিরাপদ হবে। যদি আপনি ম্যাক, লিনাক্স এবং এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারী হন, তাহলে ইনস্টল করে নিতে পারেন লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেমটি।

তারপর খেয়াল রাখুন, আপনার অপারেটিং সিস্টেমে “অটো আপডেট” সেট করা আছে কি না! যদি না থাকে, তাহলে অটো আপেডটটি সেট করে নিন। অনেকেই অটো-আপডেট নিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকেন। ভাবেন, ঠিক মতো আপডেট হবে তো? কিংবা আপডেট করতে গিয়ে আবার উল্টো ঝামেলা না হয়! কিন্তু বর্তমান সময়ের অটো-আপডেট ফিচারগুলো চমৎকার কাজ করে। আর মনে রাখবেন, অটো-আপডেটের বেশির ভাগ সময়ই হয়, সিকিউরিটি আপডেট। তাই, কোন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পুরো অপারেটিং সিস্টেম এবং যাবতীয় এ্যাপ্লিকেশন নতুন করে ইনস্টল করার চেয়ে অটো-আপডেট দিয়ে ছোট ছোট আপডেটগুলো করে নেয়াই শ্রেয়।

আপনি যে সিকিউরিটি সফটওয়্যার ইনস্টল করেছেন, দেখুন সেগুলোর ভার্সন লেটেস্ট কি না। এই সফটওয়্যারগুলো সাধারনত একটি এলার্ম দিয়ে থাকে। আপনার উইন্ডোজের ডান দিকের স্টাটাস-বার-এ চোখ রাখুন। দেখুন কোন লালা রঙের এলার্ম আছে কি না। সিকিউরিটি সফটওয়্যারগুলো ঠিকমতো কাজ না করলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজেরাই সেটা আপনাকে জানাবে।

আপনার যদি সবগুলো সিকিউরিটি সফটওয়্যার ঠিক মতো কাজ করে, তবে মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনশিয়াল-এ একটি সবুজ রঙের টিক মার্ক থাকবে। নীচের ছবিতে, নীচের দিকে ডান পাশে সবুজ মার্কটি লক্ষ্য করুন।

উইন্ডোজ-৭-এ সিকিউরিটি সেটিং পরীক্ষা করার জন্য, স্টাটাস বারে যেখানে নোটিফিকেশন দেখায়, সেখানে প্যানান্ট আইকনে ক্লিক করে, “ওপেন একশন সেন্টার” (Open Action Center) সিলেক্ট করুন। “সিকিউরিটি” (Security) লেখার পাশে যে “ডাউন এরো” (Down Arrow) আছে, সেটাতে ক্লিক করুন। তখন আপনি আপনার সিকিউরিটি সেটিংগুলো দেখতে পাবেন। (নীচের ছবিটি খেয়াল করুন।)

এর সাথে আপনি ইনষ্টল করে নিতে পারেন, সিকুনিয়ার তৈরী সফটওয়্যার “পারসোনাল সফটওয়্যার ইন্সপেক্টর”, (এই লিংক থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারেন) যা প্রতিনিয়ত আপনার কমিপউটারে বিভিন্ন সফটওয়্যারের আপডেট হয়েছে কি না, সেটা পরীক্ষা করে আপনাকে জানাবে। এবং কোন আপডেট থাকলে সেগুলো নিজেই ডাউনলোড করে ইনষ্টল করে রাখবে। আপনাকে আর এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে না।

সন্দেহজনক ইমেলগুলোর উপর চোখ রাখুন
বেশিরভাগ ভাইরাস ও ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার আসে ইমেলের মাধ্যমে। তাই, অপ্রত্যাশিত কারো কাছ থেকে ইমেল এলে, – (১) সেখানে কোনও লিংক থাকলে সেই লিংকে ক্লিক করবেন না; এবং (২) সেখানে কোনও এটাচম্যান্ট ফাইল থাকলে সেটা ডাউনলোড করবেন না।

এমনকি, আপনার বিশ্বস্ত কোনও মানুষের কাছ থেকে ইমেল এলেও সেটার এটাচম্যান্ট চট করে খুলে ফেলবেন না। অনেক সময়ই অনেকের কমিপউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত থাকে; তখন সেগুলো ইমেলের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। আবার অনেক সময় কারো ইমেল একাউন্ট হ‌্যাক হতে পারে। তখন অনেক অযাচিত ইমেল আসে যেগুলোর সাথে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার থাকতে পারে। আবার আজকাল এটাও সম্ভব যে, কারো একাউন্ট হ্যাক না করেও কারো নামে অন্য কেউ ইমেল পাঠাতে পারে (এটা নিয়ে আমরা পরবর্তীতে বিস্তারিত প্রকাশ করবো।)

আবার আপনি যদি মনে করেন, আপনার ইমেল একাউন্ট হ্যাক হয়েছে, তাহলে সেটাকে পুরোপুরি স্ক্যান করানো প্রয়োজন। ম্যালওয়্যার-বাইটস কম্পানীর ফ্রি সফটওয়্যার “এন্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার” ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

আপনি যদি নিশ্চিত থাকেন যে, আপনার কমপিউটারটি ভাইরাসমুক্ত, তখনই কেবল আপনার ইমেলের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। নইলে, আপনার পাসওয়ার্ড এই ম্যালওয়্যার বা ভাইরাসগুলো অন্যত্র পাঠিয়ে দিতে সক্ষম। এবং আমরা আগেও বলেছি যে, আপনার পাসওয়ার্ড কয়েক মাস পর পর পরিবর্তন করুন।

যেকোনও ডাউনলোড থেকে সতর্ক থাকুন
আমরা যারা পিসি ব্যবহার করি, তারা নিশ্চই জানি যে, স্ক্রীনে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন রকমের এলার্ট, ওয়ার্নিং, এমনকি ডাউনলোড করার ম্যাসেজ এসে উদয় হয়। এমনকি, আপনার ব্রাউজারে পপ-আপ ব্লক করা থাকলেও মাঝে মাঝে তাদের দেখা মেলে।

এবং এই ধরনের পপ-আপ স্ক্রীন এলে আমরা তারাহুড়ো করে কোনও একটি বাটন চেপে স্ক্রীনটিকে বন্ধ করার চেষ্টা করি, যেন আমরা ঠিক মতো কাজ করতে পারি। আপনি যখন এক ওয়েব সাইট থেকে অন্য ওয়েব সাইটে ভিজিট করতে থাকবেন, তখন এমনটা প্রায়শই পাবেন। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন, ঠিক কোন বাটনটি চাপলেন? নাকি ধরেই রেখেছেন, ক্যান্সেল বাটনটি চাপলেই ওই পপ-আপ উইন্ডোটি বন্ধ হয়ে যাবে? (এটাই অবশ্য মানুষের সাইকোলজী)। আমরা যেটা করি, আগে ক্লিকটা করে ফেলি, তারপর মাথায় চিন্তাটা আসে – ঠিক ক্লিক করলাম তো?

যারা এমন ম্যালওয়্যার তৈরী করে, তারাও এটা জানে। তারা জানে, কমপিউটার ব্যবহারকারীরা বিরক্ত হয়ে ক্লিকটা করে আগে, তারপর চিন্তা করে। তারা সেই ম্যাজেসগুলোতে আপনাকে জানাবে, এটা নিরাপদ সাইট, এখানে ক্লিক করলে নিরাপদে ডাউনলোড করতে পারবে, কিংবা এটা ডাউনলোড না করলে তোমার কমিপউটারে অনেক ঝুকি থাকবে। কিন্তু এইসব ভালোমানুষীর নীচে হয়তো রয়ে গিয়েছে শয়তানের কারসাজি।

আপনি যখনই কোনও সফটওয়্যার কিংবা অন্য কিছু ডাউনলোড করতে যাবেন, সব সময় চেষ্টা করবেন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট থেকে ডাইনলোড করতে, কিংবা সুনামের সাথে পরিচালনা করছে এমন সব ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে। (আমরা অনেকেই যত্রতত্র সাইট থেকে গান শুনি, গান ডাউনলোড করি – আর তার ফলাফলও নিশ্চই আপনারা জানেন!)

তারপর যদি কোনও সাইট থেকে আপনি কিছু ডাউনলোড করেও থাকেন, সেটা ইনষ্টল করার পূর্বে অবশ্যই এন্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার দিয়ে পরীক্ষা করে নেবেন। যেই ফোল্ডারে আপনি ফাইলটি ডাইনলোড করেছন, সেখানে গিয়ে ফাইলটির উপর “রাইট ক্লিক” করুন। তারপর যে মেনুটি আসবে সেখান থেকে “স্ক্যান উইথ ম্যালওয়্যারবাইট’স এন্টি-ম্যালওয়্যার” (Scan With Malwarebytes’ Anti-Malware) কিংবা আপনার অন্য কোনও এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন। (নীচের ছবিটি দেখুন)

তবে বেশির ভাগ সময়, পপ-আপ উইন্ডোতে ক্লিক না করাই নিরাপদ। দেখা গেলো, ওরা যেখানে লিখে রেখেছে “ক্যান্সেল” (Cancel), আপনি সেটাতে বিশ্বাস করে ক্লিক করলেন। কিন্তু সেটার পেছনে রয়েছে “হ্যাঁ” সূচক সম্মতি। কিংবা, “ওকে” (OK) এবং “ক্যান্সেল” (Cancel) – যেটাতেই চাপুন না কেন, ফাইলটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। যেহেতু ওরা ক্রিমিনাল, ওদের কোনও কিছুতেই বিশ্বাস নেই। আপনাকে বোঁকা বানানোর জন্য নানান ফন্দি আটবে তারা, সেটাই স্বাভাবিক। তাই, পপ-আপ বন্ধ করার সবচে নিরাপদ হলো, ওই স্ক্রীনে কোনও কিছুই না চাপা। আর কোনও কিছু না চেপে পপ-আপটি বন্ধ করার জন্য “কন্ট্রোল + এফ-৪” (Ctrl+ F4) চাপুন। আর আপনার মনে যদি একটু সন্দেহ থাকে, তখন পুরো ব্রাউজারটিই বন্ধ করে ফেলুন। সেক্ষেত্রে চাপুন “অল্ট + এফ-৪” (ALT + F4).

আর আপনি যদি কোনও ফ্রি সফটওয়্যার ইনষ্টল করে থাকেন, এবং সেগুলো খুব একটা ব্যবহার করেন না, তাহলে সেগুলো আন-ইনষ্টল করে ফেলাই ভালো। যখন আবার প্রয়োজন হবে, তখন নতুন ভার্সন ইনষ্টল করে নিন।

মাঝে মাঝে আপনি, মাইক্রোসফট সেফটি এন্ড সিকিউরিটি সেন্টার-এও নতুন কিছু দেখতে পারেন।

আশা করছি এই পদ্ধতিগুলো একটু খেয়াল করলে, আপনার কমিপউটারে ভাইরাস কিংবা ম্যালওয়্যারের উপদ্রব থেকে কিছুটা রক্ষা পাবেন। ভবিষ্যতে আমরা আরো অন্যান্য বিষয়ে টিপস নিয়ে হাজির হবো। আপনাদের কোনও বিষয়ের উপর জানার আগ্রহ থাকলে, এখানে মন্তব্য লিখুন। আমরা আপনার চাহিদা মেটাতে যথাসম্ভব চেষ্টা করবো।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 5 =