মাকড়সার জালের বিচিত্র কথা

0
429

মাকড়শা তার জাল দিয়ে শিকারকে ফাঁদে ফেলে। আর যে কারণে প্রাণীগুলো জালে আটকা পড়ে সেটা হলো এই আঠালো জালের আঠা আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ পরিবাহী। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। ইলেক্টোস্ট্যাটিক বৈশিষ্ট্যেযুক্ত কারণে এই আঠা মাকড়শার পুরো জাল জুড়েই থাকে। এর ফলে চার্জ বা আধানযুক্ত যে কোন কিছু হোক তা ফুলের রেণু কিংবা কোন কীটপতঙ্গ- জালে এসে পড়লেই আটকে যায়।

92814476 মাকড়সার জালের বিচিত্র কথা

মাকড়শা জালের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই জালের সাথে থাকা স্পাইরাল আঠা জালের কয়েক মিলিমিটার দূরত্ব পর্যন্ত পৃথিবীর বিদ্যুৎ বা তড়িৎ ক্ষেত্রকে বিকৃত করে ফেলে। এর ফলে কিছু কীটপতঙ্গ বিভ্রান্ত হয় ও তাদের এন্টেনার ‘ইলেকট্রিক সেন্সর’ তাদেরকে জালের কাছে নিয়ে আসে। গবেষণায় আরো দেখা গিয়েছে, পদার্থবিজ্ঞানের জটিল কিছু সূত্র অনুসারে, মাকড়শাল জাল বাতাসে ভেসে বেড়ানো সব ধরণের বস্তুর দিকে এগিয়ে যায়। হোক সে পদার্থ বা জিনিস কিংবা কীট নেগেটিভ বা পজেটিভ চার্জের। এটা থেকে বোঝা যায়, কেন ও কিভাবে মাকড়শার জাল বিভিন্ন পোকাকে ফাঁদে ফেলে।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

আর গবেষকদের মতে, পরিবেশ দূষণ রোধে মাকড়শার জাল ব্যবহার করা যেতে পারে কারণ এই জাল খুব কার্যকরভাবে বায়ু দূষণকারী পদার্থ আটকে ফেলে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করে, যেটা অনেক ব্যয়বহুল যন্ত্রও করতে সক্ষম নয়। এই জালগুলো বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থগুলোকে নিজেদের মাঝে আটকে ফেলে। তখন এই জালগুলো পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাতাসে কি পরিমাণ দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থ আছে তা পরিমাপ করা সম্ভব হবে। যেমন বাতাসে অতিরিক্ত পরিমাণে কীটনাশক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেলে তা মৌমাছির জন্য ক্ষতিকর।

মাকড়সার জালের বিচিত্র কথা

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাকড়শাল জাল তার আশেপাশের কিছু স্থানের তড়িৎ ক্ষেত্র বিকৃত করে ফেলে। আর পৃথিবীর তড়িৎ ক্ষেত্রের সামান্য পরিবর্তনও অনেক কীটপতঙ্গ তাদের এন্টেনার ‘ইলেকট্রিক সেন্সর’ এর মাধ্যমে ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু মাকড়শা জাল কর্তৃক সৃষ্ট পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের পরিবর্তনের প্রভাব খুব বেশি দূর পর্যন্ত কারযকর হয় না। তাই এটা এখনো পরিষ্কার নয় জালে আটকে যাওয়ার আগে কীটপতঙ্গরা এই তড়িৎ ক্ষেত্রের পরিবর্তন ধরতে কেন সক্ষম হয় না।

এ সংক্রান্ত গবেষণাপত্র সম্প্রতি Naturwissenschaften এ প্রকাশিত হয়েছে। আর এটা পরিচালনা করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফ্রিৎজ ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ডক্টর ডোনাল্ড এডমন্ড।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

four + 6 =