ঘুম ও বিজ্ঞান

0
414
ঘুম ও বিজ্ঞান

আরিফ কামাল

ভালবাসি বাংলাদেশ এবং টিউনারপেজ সহ সকল প্রযুক্তি ব্লগ। মাঝে মাঝে লিখি সংগ্রহ করা খবর গুলো সবার কাছে পৌঁছে দেই আমি। নয়া দিল্লীতে থেকে ১০ বছর পরে পড়াশুনা শেষে এবার দেশের ছেলে দেশে ফিরেছি।
ঘুম ও বিজ্ঞান

মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণির দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ঘুম বা নিদ্রা । ঘুমন্ত অবস্থায় আমাদের সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে। মনুষ্য জীবনের প্রায় এক তৃতীয়াংশই কেটে যায় ঘুমিয়ে থেকে। কিন্তু বৈদ্যুতিক বাল্বের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন যখন বলেন ঘুমের মানে –“সময়ের অপচয়” তখন  মানতে পারবেন কী সে কথা! আসুন জেনে নেয়া যাক এডিসনের এই মন্তব্যের যথার্থতা কতখানি।

আমরা কেন ঘুমাই?
প্রকৃতপক্ষে আমরা ঠিক কেন ঘুমাই তা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো জবাব দিতে পারেননি। অনেকে মনে করেন ঘুম আমাদের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমেরই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ক্ষুধা পেলে যেমন আমরা খাই তেমনি ক্লান্ত হলে ঘুমাই। পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীর যে কর্মশক্তি ক্ষয় হয় ঘুমের মাধ্যমেই তার পুনরুদ্ধার ঘটে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে আট ঘন্টার ঘুমের মাধ্যমে সংরক্ষিত শক্তির পরিমাণ মাত্র ৫০ কিলো ক্যালোরি যা একটি টোস্ট বিস্কুটে থাকা শক্তির সমতুল্য। প্রকৃতপক্ষে আমাদের উচ্চতর মানসিক দক্ষতাসমূহ যেমন  বিভিন্ন বাকশক্তি, স্মৃতি, উদ্ভাবনী চিন্তা ভাবনা ইত্যাদির স্বাভাবিকতা বজায় রাখার জন্যেই ঘুম অপরিহার্য। অর্থাৎ মস্তিস্কের কর্মক্ষমতা উন্নয়নে ঘুম খুবই জরুরী।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

না ঘুমুলে কি হবে?
ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সহজে বোঝার জন্যে চলুন জেনে নেই না ঘুমুলে শরীর ও মনের উপর তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে। ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর ফলে অস্থিরতা,বিষণ্ণতা, আচরণে রুক্ষতা, বিস্মৃতি ইত্যাদি মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। একটিমাত্র নির্ঘুম রাতই   একাগ্রতা ও মনোযোগের ক্ষেত্রে বিশাল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। মস্তিষ্কের যে অংশ আমাদের ভাষা, স্মৃতি, পরিকল্পনা, সময় জ্ঞান ইত্যাদি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে তা দীর্ঘদিনের পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পর্যাপ্ত ঘুম-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে সর্বাবস্থায় যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। মানুষের আবেগিয় এবং শারীরিক সুস্থতাও ঘুমের অভাবে বিপর্যস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে ক্ষুধা এবং ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন রাসায়নিক পদার্থ এবং হরমোনসমূহ ঘুমের সময় দেহ থেকে নিঃসৃত হয়। ফলে স্থূলতার  ঝুঁকি বৃদ্ধির পেছনেও কম ঘুমের বিষয়টি জড়িত।

ঘুমের সময় কী ঘটে?
ঘুম ৯০-১১০ মিনিটের একটি  চক্রে আবর্তিত হয় এবং একে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: Non-Rem(Rapid Eye Movement) ঘুম এবং Rem ঘুম.
Non-Rem ঘুম

এই স্তরটি চারটি ধাপে বিভক্ত
ধাপ ১: এটি ঘুমের একেবারে প্রাথমিক স্তর। এই ধাপে আমরা থাকি আধো ঘুম আধো জাগরণের মাঝে। ঘুম থাকে খুব হালকা এবং সহজেই আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে।
ধাপ ২: দশ মিনিট প্রথম স্তরে অবস্থানের পর পরবর্তী ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা পৌঁছে যাই দ্বিতীয় ধাপে। এ ধাপে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রকৃতি এবং হৃৎপিণ্ডের গতি স্তিমিত হয়ে আসে। এই ধাপটি ঘুমের সবচেয়ে বৃহত্তম অংশকে নির্দেশ করে।
ধাপ ৩ ও ৪:  তৃতীয় ধাপে মস্তিষ্ক থেকে ডেল্টা তরঙ্গ উৎপন্ন হয়।  শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃৎপিণ্ডের গতি সবচেয়ে নিচে নেমে আসে। চতুর্থ ধাপে শ্বাস-প্রশ্বাসে থাকে ছান্দিক গতি, পেশীসমূহের কার্যকলাপ থাকে সীমিত।  তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে আমরা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন থাকি। কোনো কারণে এই সময়ে ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমরা সহসাই পরিবেশের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারিনা এবং এই অস্থিরতা বেশ কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়।

রিম ঘুম
এক রাতের ঘুমের ভেতর রিম ঘুমের প্রায় ৩-৫ টি পর্যায় সম্পন্ন হয়। ঘুমিয়ে পড়ার প্রায় ৭০ থেকে ৯০ পর প্রথম পর্যায়টি শুরু হয়। ঘুমের সময় আমরা সচেতন না থাকলেও মস্তিষ্ক ঠিকই সক্রিয় থাকে। কখনও কখনও তার মাত্রা আমাদের জাগ্রত অবস্থার চেয়েও বেশি। এই সময়েই মারা স্বপ্ন দেখি। চোখের নড়াচড়া, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। এ সময়ে আমাদের দেহ সাময়িকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বলা হয়ে থাকে যে স্বপ্নে দেখা পরিস্থিতির প্রতি সাড়া প্রদানে বিরত রাখার নিমিত্তেই প্রাকৃতিকভাবেই এমনটা হয়ে থাকে।

রিম এর পর্যায়গুলো শেষ হওয়ার পর ঘুমের পুরো চক্রটি পুনরায় শুরু হয়।

কতখানি ঘুম প্রয়োজন?
ঘুমের পরিমাণ ও প্রয়োজনীয়তা জনে জনে বিভিন্ন রকম। তাই আদর্শ ঘুমের পরিমাণ কি হওয়া উচিত তা সম্পূর্ণরূপে নির্ধারণ করা এখনও সম্ভব হয়নি।  তবে বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের সমন্বয়ে বয়স অনুযায়ী ঘুমের প্রয়োজনীয়তার

পরিমাণের একটি তুলনামূলক ধারণা পাওয়া যায়ঃ
বয়স    প্রয়োজনীয় পরিমাণ
নবজাতক (০-২ মাস) ১২-১৮ ঘণ্টা
শিশু (৩-১১ মাস)    ১৪-১৫ ঘণ্টা
শিশু (১-৩ বছর)    ১২-১৪ ঘণ্টা
শিশু (৩-৫ বছর )    ১১-১৩ ঘণ্টা
শিশু (৫-১০ বছর)    ১০-১১ ঘণ্টা
বয়ঃসন্ধিকাল (১০-১৭) ৮.৫- ৯.২৫ ঘণ্টা
প্রাপ্তবয়স্ক    ৭-৯ ঘণ্টা

দেহ ও মনের সর্বাঙ্গীণ সুস্থতায় পরিমিত ঘুম সব বয়েসি মানুষের জন্যেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ভালো ঘুমের জন্যে চাই দুশ্চিন্তামুক্ত মন ও আরামদায়ক পরিবেশ। ঘুমের গুরুত্ব অনুধাবন করে তাই নিয়মিত সুস্থ ঘুমের ব্যপারে মনযোগী হওয়া উচিত।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × 2 =