মিসাইল কীভাবে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে

0
613
মিসাইল কীভাবে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে

ronykhan ron

নিজের সম্পর্কে তেমন কিছু বলার নাই । আসলে আমি নিজেই এখনো নিজেকে ভালো করে জানার চেষ্টায় আছি প্রতিনিয়ত । সব কিছু সম্পর্কে ব্যাপক কৌতুহল কাজ করে সব সময় । সেই কৌতুহল কাজ করা থেকেই মাঝে মাঝে কিছু একটা লেখার চেষ্টা করি । তবে সেই সব লেখার মান তেমন ভালো কোন সময়ই হয়তো হয়ে উঠে না ।
মিসাইল কীভাবে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে

মিসাইল কীভাবে এই টার্গেট লক করার কাজ করে সেটা নিয়েই। রেফারেন্স হিসেবে আমরা একটি স্টিঞ্জার মিসাইল (Stinger Missile)-এর কথা মাথায় রাখছি। এর অফিসিয়াল নাম FIM-92A। অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতা দিয়ে উড়ে যাওয়া এরোপ্লেন আর হেলিকপ্টারকে ভূমি থেকে ধ্বংস করার কাজেই মূলত এই মিসাইলটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এখন মূল প্রশ্নের উত্তরে ফিরে যাওয়া যাক…

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

মিসাইল কীভাবে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে

আগে চলুন দেখে নেয়া যাক স্টিঞ্জার মিসাইলের মূল নকশাটি।

মিসাইল ছোঁড়ার আগে প্রথমে একজন সৈনিক তার লক্ষ্যের দিকে মিসাইলটি তাক করেন। এরপর তিনি ট্রিগারটি টানেন। আর তখনই প্রায় একসাথে নিচের দুটি ঘটনা ঘটেঃ
১. একটি ছোট Launch Rocket মিসাইলটিকে Launch Tube এর বাইরে ছুঁড়ে দেয়।
২. Launch Engine খুলে পড়ে যায় আর প্রধান Rocket Engine তার কাজ শুরু করে। এই ইঞ্জিন মিসাইলটিকে ঘন্টায় ১৫০০ মাইল বেগে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়!

টার্গেট ট্র্যাকিং:
টার্গেট ট্র্যাকিংয়ের কাজে স্টিঞ্জার মিসাইল ব্যবহার করে থাকে IR/UV সেন্সর। মিসাইলটি চলার সময় তার টার্গেট এরোপ্লেনের ইঞ্জিন থেকে উৎপন্ন তাপ থেকে নির্গত ইনফ্রারেড লাইটকে খুঁজতে থাকে। আর এভাবেই সে তার টার্গেটকে আঘাত করার আগ পর্যন্ত নজরে রাখে। তবে একই সাথে মিসাইলটি তার টার্গেটের আল্ট্রা-ভায়োলেট ছায়াকেও অনুসরণ করে। এটি মিসাইলকে আশেপাশের অন্যান্য তাপোৎপাদী বস্তু থেকে তার লক্ষ্যকে আলাদা রাখতে সাহায্য করে।

এবার আসা যাক মোশন-সেন্সিং এর কথায়। একটি মোশন-সেন্সিং লাইট ব্যবহার করে একটিমাত্র সেন্সর। কিন্তু স্টিঞ্জার মিসাইলের বেলায় দরকার পড়ে একসারি সাজানো সেন্সরের। কারণ সে অনুসরণ করছে একটি উড়ন্ত বস্তুকে যার গতিপথ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল।

স্টিঞ্জার মিসাইলের সামনের দিকে রয়েছে একটি ইনফ্রারেড ডিজিটাল ক্যামেরা। এতে ২*২ থেকে শুরু করে ১২৮*১২৮ টি পর্যন্ত ইনফ্রারেড সেন্সর সজ্জিত থাকে। এদের কাজ হলো সামনের দৃশ্যের ইনফ্রারেড ইমেজ ধারণ করা। একজন সৈনিক যখন তার মিসাইলটিকে ছোঁড়ার জন্য প্রস্তুত হবেন, তখন টার্গেটকে অবশ্যই এসব সেন্সরের ধারণসীমার মাঝে থাকতে হবে।

যখন মিসাইলটি উড়তে থাকে, তখন টার্গেটের ইমেজটি নানা কারণে ইমেজ সেন্সরের সেন্টার থেকে সরে যেতে পারে (সোজা কথায় ক্যামেরার আওতার বাইরে চলে যেতে পারে). তো তখন কি মিসাইল বলবে “MISSION FAILED”? না, তখন সে নিজেই যেন হয়ে ওঠে এক বুদ্ধিমান সত্তা। মিসাইলের বিল্ট-ইন গাইডেন্স সিস্টেমই তাকে বলে দেয় যে সে তার লক্ষ্য থেকে দূরে যাচ্ছে; আর তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও এই গাইডেন্স সিস্টেমেরই। সহজ করে বলতে গেলে, মিসাইলটি তখন খুঁজে বের করে সে তার টার্গেট থেকে কত কোণে দূরে সরে গেছে। তারপর একটি আনুপাতিক হারে এই বিচ্যুতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে আনতে মিসাইলটি আবার তার কাঙ্ক্ষিত পথ ফিরে পায়। তারপর যথারীতি একটি আঘাত এবং BOOMMMM…!!!

তবে আসল কথা হলো, বাস্তবে মিসাইলটি প্রচণ্ডবেগে ওড়ার সাথে সাথে ঘুরতে থাকে; সেই সাথে ঘোরে তার সেন্সরগুলো। আর তার টার্গেটতো উড়ছেই। ফলে বাস্তবে এই ‘সঠিকভাবে আঘাত হানা’র পেছনে কাজ করে আরো জটিল সব গাণিতিক সমীকরণ আর বৈজ্ঞানিক যুক্তিবিদ্যার খেলা। সেসব আলোচনায় না গিয়ে এখানে কেবল মূল ধারণাটিই সহজ করে বলার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

ঘুরে আসুন ফেসবুক এর এই পেজটি

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × one =