আয়ু বাড়ানোর বিজ্ঞান

0
314

অমরত্বের সন্ধানে মানুষের অভিযান সুদূর অতীত থেকে। পৌরাণিক ঝরনার পানি কিংবা সমুদ্রতলে কৌটাবন্দি ভোমরার দিন শেষ, এখন জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সে চলছে অভিযান। পুরোপুরি অমরত্বের আশা না করলেও জীবনের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টায় অনেক এগিয়েছেন একালের বিজ্ঞান সাধকরা।

অমরত্ব নিয়ে গবেষণার কথা উঠলেই কল্পনায় সাধু সন্ন্যাসীদের ছবি আসে। বিজ্ঞানের জগতেও এমন দুই সাধুর খোঁজ পাওয়া গেছে। গত কয়েক দশক ধরে মানুষের শারীরতত্ত্বের আপাত রহস্যময় অধ্যায়টি নিয়ে গবেষণা করে আসছেন তারা। একজন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘায়ু ও বয়স বৃদ্ধি সংক্রাšত্ম বিশারদ ড. ওয়াল্টার বোর্জ। গবেষণা করেছেন ওষুধ বিজ্ঞান নিয়েও। অপরজন ব্রিটিশ গবেষক অব্রে ডি গ্রে, বুড়িয়ে যাওয়ার নানা তত্ত্ব নিয়েই কাজ করেছেন বেশি। সম্প্রতি এ দুজন কথা বলেছেন নিউজউইক ম্যাগাজিনের সঙ্গে। তাদের কথোপকথনে উঠে এসেছে মানুষের দীর্ঘায়ু অর্জন অভিযানের হালনাগাদ চিত্র।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1383987164_aou____sakil আয়ু বাড়ানোর বিজ্ঞান

নিউজউইক: কদিন আগে একটি বীমা কোম্পানি তাদের বিলবোর্ডে লিখেছে, দেড়শ বছর আয়ু পেতে যাওয়া বিশ্বের প্রথম মানুষটি এখন বেঁচে আছে। ওটা দেখেছেন?

ওয়াল্টার: এটা কারও চোখ এড়ায়নি।

ডি গ্রে: এটা এখন সবখানেই।

নিউজউইক: তো এ নিয়ে আপনারা কী ভাবছেন?

ডি গ্রে: আমি নিজেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছি যে দেড়শ বছর আয়ু পেতে যাওয়া মানুষটা এখন মধ্যবয়সে আছে। আর এখন যারা ২০-এর মধ্যে আছে, তাদের বেশিরভাগই এই আয়ু পেতে যাচ্ছে। আর বিশেষ কিছু বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তির কারণেই এটা সম্ভব হবে। আমার প্রতিষ্ঠিত এসইএনএস ফাউন্ডেশনে এ ধরনের কিছু রিজেনারেটিভ ওষুধ নিয়ে গবেষণা চলছে। এটা ঠিক বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টা নয়, বরং বয়স কমিয়ে দেয়ার গবেষণা বলতে পারেন। জীবনভর দেহের আণুবীক্ষণিক উপাদান ও কোষের ভেতর ক্রমাগত যে ক্ষয় প্রক্রিয়া চলছে সেটাকে থামানোর গবেষণা। এর সুফল শুধু আজকের নবজাতকরা পাবে না, এখন যাদের বয়স ৩০-এর ঘরে তারাও পাবে। ৩০ বছর পর তাদের বয়স হবে ৬০। ওই সময় আমরা বুড়িয়ে যাওয়ার উল্টোটা ঘটাতে পারব। অর্থাৎ বয়স ৬০ হলেও দেখতে মনে হবে ৩০-৩৫।

নিউজউইক: মানুষ বুড়ো হয় কেন?

ডি গ্রে: এ বিষয়ে আমরা এখনও অনেক কিছুই জানি না। আমাদের শরীরের বিল্ট-ইন মেরামত কারখানায় একটা বড় গ্যাপ আছে। একটা প্রক্রিয়ায় নতুন কোষ তৈরি হয়, আরেকটা প্রক্রিয়া ওই কোষের ধ্বংস ঠেকায়। এই পার্থক্য যত কম হবে, তার বুড়িয়ে যাওয়াটা তত মন্থর হবে। মানুষের শরীরকে চলমান যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা যায়। চলতে চলতে এটা ক্ষয় হবেই। ঠিক যেমন মরচে ধরার পর পুরনো দরজা ধসে পড়ে।

ওয়াল্টার: আমার মতে মহাবিশ্বের সবকিছুই বুড়িয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে বস্তুর ওপর শক্তির স্রোত বয়ে যাওয়ার ফলেই তা ঘটে। এটা শুধু জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় নয়।

নিউজউইক: আপাতত দীর্ঘায়ু হওয়ার শর্টকাট কোনো টেকনিক জানা আছে?

ওয়াল্টার: আচরণ বদলে ফেলুন। ব্যায়ামই হলো এখনকার সেরা অ্যান্টি-এজিং ফর্মুলা। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা হবে লোকদের হাঁটতে উৎসাহী করা।

ডি গ্রে: আরেকটা সমস্যা হলো, এখন প্রতিরোধের চেয়ে প্রতিকারের দিকেই ঝোঁক বেশি। লোকেরা অপেক্ষা করে কবে তারা বুড়িয়ে যাবে। এরপর অসুস্থ হলে সবাই সাধ্যমতো চেষ্টা করে সেটা সারিয়ে তোলার। দুঃখজনক হলো, এতে করে হাতে খুব একটা সময় পাওয়া যায় না। ২০ বছর পর বুড়িয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে মানুষ সত্যিই গুরুত্ব নিয়ে ভাবতে শুরু করবে। এখন বৃদ্ধ বয়সে রোগের চিকিৎসা করার সময় মানুষ মনে করে, এটা বুঝিয়ে সারিয়ে তোলা যাবে। অথচ তারা এটা জানে না যে এই মুহূর্তে বুড়িয়ে যাওয়াটা হলো বেঁচে থাকার সাইড ইফেক্ট, যা সারিয়ে তোলা অসম্ভব।

নিউজউইক: আপনি বিশ্বাস করেন বয়সকে উল্টো পথে হাঁটানো সম্ভব।

ডি গ্রে: ২০০০ সাল থেকেই আমি বলে আসছি, এখনকার গেরোনটোলোজিস্টরা (বুড়িয়ে যাওয়া বিশেষজ্ঞ) বুড়িয়ে যাওয়ার সাতটি মৌলিক কারণ আবিষ্কার করেছেন। এর মধ্যে তিনটি কোষীয় ক্ষয় আর চারটি আণুবীক্ষণিক উপাদানের। এর মধ্যে কিছু কোষ আজীবন ধীরে ধীরে সংখ্যায় কমতে থাকে। যেমন হƒৎপিণ্ডের কোষ। আবার রোগ প্রতিরোধে কাজ করে এমন কিছু কোষ আছে যেগুলো বয়স বাড়লে আর মরতে চায় না। এরাই তখন বড় বিঘœ ঘটায়। আণুবীক্ষণিক পরিবর্তন ঘটে দুই ভাগে। এক জোড়া পরিবর্তন ঘটে কোষের ভেতরে। আরেক জোড়া বাইরে। একটি পরিবর্তন ঘটে কোষের ভেতরকার ইঞ্জিন খ্যাত মাইটোকোনড্রিয়ার ভেতর। আমাদের নিশ্বাসের রসায়নের সঙ্গে যেটা সরাসরি জড়িত। আর একটা ক্ষতি হয় কোষের বাইরে ক্রমাগত আবর্জনা জমার কারণে। সব আবর্জনাকে কোষ ভাঙতে পারে না। হƒদরোগ, আলঝেইমার্স ও বয়সকালে অন্ধত্বের কারণ এটাই। আরেকটা পরিবর্তন ঘটে আমাদের বহিরাবরণের নমনীয়তায়। ভেতরের শক্ত কঙ্কালের বাইরেও ওপরে কোষীয় একটা কঙ্কাল আছে। যার কারণে দেহের টিস্যুগুলো একটা সুনির্দিষ্ট আকার নিয়ে থাকতে পারে। বাইরের কঙ্কালটি নমনীয়। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই নমনীয়তা কমতে থাকে। এ কারণেই বুড়িয়ে গেলে ত্বকে ভাঁজ পড়ে। আবার ব্যাপারটা যখন হƒৎপিণ্ডে ঘটে তখন দেখা যায় ধমনীগুলো নমনীয়তা হারাচ্ছে। এর পর হাইপারটেনশনের ফলে যদি হƒৎস্পন্দন বেড়ে যায়, তবে সেটা সামলানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে হƒৎপিণ্ডটা। তখনই দেখা দেয় উচ্চ রক্তচাপ।

২৫ বছরের মধ্যে এসব উৎরে যাওয়ার ক্ষমতা মানুষ পেতে পারে। এর সম্ভাবনা ফিফটি ফিফটি। আর এখনই তো আমাদের সব ঠিক করে ফেলতে হবে না। একটা দুটো ঠিক করতে পারলে বাকিগুলোর জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে। তাছাড়া এখনই তো স্টেম সেল দিয়ে শরীরে নতুন কোষ বসিয়ে দেয়া যাচ্ছে। এনজাইম থেরাপি দিয়ে কোষের ভেতরকার আবর্জনা দূর করা যাচ্ছে। আর ইমিউন থেরাপি দিয়ে সরানো যাচ্ছে দুই কোষের মধ্যকার অনাকাক্সিক্ষত বস্তু। ধমনীর নমনীয়তা কমিয়ে দেয়ার জন্য দায়ী উপাদানগুলোকে গুড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে ওষুধ দিয়ে। আর তাই সামগ্রিকভাবে বুড়িয়ে যাওয়া আটকে দিতে আমাদের হয়তো আর কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হবে।
ওয়াল্টার: আমার মনে হয় লক্ষ্যটা ভুল। জটিলতা নিয়েই আমার যত চিন্তা। এমন এক অবস্থা আসবে যখন হাতের কাছে অজস্র চলমান উপাদান দাঁড়িয়ে যাবে। যেমনটা আমরা ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ভেবেছিলাম। বলেছি, ক্যান্সার হলো এটা এটা আর ওটা। আদতে দেখা গেল ক্যান্সারের পেছনে হাজারটা বিষয় জড়িত। আর তাই সব কিছু জানা সম্ভব নয়। আমাদের সব জানতেও হবে না। যেটা দরকার ওটাই জানতে হবে। আর আমি মনে করি মানব মস্তিষ্কের বড় সীমাবদ্ধতা আছে। এটা ঘটনার চাইতে বস্তুর দিকে নজর দেয় বেশি। জীবন তো একটা ক্রিয়া, এটা বিশেষ্য নয়। জীবনের উৎপত্তি হয়েছে ৪০০ কোটি বছর পেরিয়ে গেছে, এখন পর্যšত্ম অমর কাউকে দেখলাম না।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − eight =