জানেন কি নভোচারীর নভোজীবন ? জানতে হলে পরতে হবে মেগা পোস্ট “নভোচারীর নভোজীবন”

0
338
জানেন কি নভোচারীর নভোজীবন ? জানতে হলে পরতে হবে মেগা পোস্ট “নভোচারীর নভোজীবন”

মুত্তাকিন অভি™

আমি Arts নিয়ে পড়েছি কিন্তু সায়েন্স নিয়ে ব্যাপক / সিরাম কিউরিসিটি আছে । তাই বিজ্ঞান অনেক ভালবাসি । পোস্টে কোন সমস্যা বা অভিমত জানাতে ভুলবেন না । আর টিপির সঙ্গেই থাকুন ভালো ভালো পোস্ট উপভোগ করুন । ধন্যবাদ ।
জানেন কি নভোচারীর নভোজীবন ? জানতে হলে পরতে হবে মেগা পোস্ট “নভোচারীর নভোজীবন”

আমরা প্রায়ই শুনে থাকি মহাকাশে নভোযান পাঠানো হচ্ছে। এদের কোনো কোনোটি মানুষবিহীন আবার কোনোটিতে থাকেন নভোচারীরা। মহাকাশে এ পর্যন্ত অনেক নভোযানই পাঠানো হয়েছে। স্পেস ডটকমের পরিসংখ্যান অনুসারে শুধু নাসাই বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে ৫টি স্পেস শাটল মিশন পরিচালনা করে। বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে নভোচারীদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে বলা হয়েছে। জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাও তাদের ওয়েবসাইটে নভোচারীদের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

 

পৃথিবীতে আমরা মাধ্যাকর্ষণ বলয়ে বাস করি। এর ফলে আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। দৈনন্দিন কার্যক্রম বলতে ধরে নেওয়া যায় খাওয়া, ঘুমানো, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া, বিনোদন উপভোগ করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডকে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, মহাকাশে অবস্থানকালে নভোচারীরা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম কীভাবে করেন?  মাধ্যাকর্ষণ বলয়ের বাইরে থেকে তারা কীভাবে দৈনন্দিন জীবন কাটান? তারা কী খান, কীভাবে ঘুমান?

 

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
জানেন কি নভোচারীর নভোজীবন ? জানতে হলে পরতে হবে মেগা পোস্ট “নভোচারীর নভোজীবন”

 

 

খাদ্য

মহাকাশেই হোক আর পৃথিবীতেই হোক, না খেয়ে জীবনধারণ অসম্ভব। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীতে আমরা হরেক রকম খাবার খাই। কিন্তু মহাকাশে তা কি সম্ভব? কারণ সেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নেই, আগুন জ্বালানোর মতো পরিস্থিতি নেই। তাহলে তারা কী খেয়ে জীবনধারণ করেন? যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল স্পেস সেন্টারের সাইটটিতে নভোচারীদের খাবারবিষয়ক একটি প্রতিবেদনে এ প্রশ্নটির উত্তর জানা গেছে। উত্তরটি হচ্ছে শুকনো খাবার। পুষ্টিকর শুকনো খাবার খেয়ে তারা জীবনধারণ করেন। এছাড়াও প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছে, নভোচারীরা পানি মিশিয়ে কফি, চা, জুস, দুধ ইত্যাদি খাবার উপোযোগী করে তোলেন এবং তা পান করেন।

নভোচারীদের খাবার নিয়েও রয়েছে এক মজার ইতিহাস। শুরুর দিকে ১৯৬০ সালে নভোযানের খাবার সংরক্ষণ করা হত অ্যালুমিনিয়াম টিউবের ভেতরে। সে সময় খাবারের পরিমাণও ছিল কম। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে খাবারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, ফলে নতুন প্রক্রিয়ায় খাবার সরবরাহ করা শুরু হয়। বর্তমানে একটি নভোযানে ভিন্নধরনের ১৫০টিরও বেশি খাবার থাকে। এখন খাবার সংরক্ষণ করা হয় প্লাস্টিক কন্টেইনারে। সংরক্ষিত খাবারগুলো শুকনো হলেও অনেকটা পৃথিবীর খাবারের মতোই।

এ ছাড়াও আরও একটি পদ্ধতিতে খাবার সংরক্ষণ করে রাখা হয়। সেটি হল জমাটবাঁধা অবস্থায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোকে গরম অথবা ঠাণ্ডা পানির সাহায্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। নভোচারীরা এসব খাবার বাদেও ফল, রুটি, বাদাম ইত্যাদি খান। আর পানি পানের ক্ষেত্রে তারা সিল করা প্যাকেজে স্ট্র ব্যবহার করেন, যাতে পানি বের হয়ে না যায়। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তিন শতাধিক পদের খাবার প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

জানেন কি নভোচারীর নভোজীবন ? জানতে হলে পরতে হবে মেগা পোস্ট “নভোচারীর নভোজীবন”

 

 

পোশাক

আমরা সাধারণত নভোচারীদের দেখি তাদের আপাদমস্তক মোড়া স্পেস স্যুটে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নভোযান যখন মহাকাশে থাকে, তখনও কি তারা এ ধরনের বিশেষ স্যুট পরা অবস্থায় থাকেন? উত্তরটি হচ্ছে ‘না’। এ বিষয়ে স্পেসফ্লাইট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নভোযানের ভেতরের আবহওয়া ‘এক’ এ রাখা হয়, যা পৃথিবীর আবহাওয়ার সমান। ফলে তাদের বিশেষ স্যুট পরে থাকতে হয় না। তারা সাধারণ পোশাকই পরতে পারেন। কিন্তু নভোযানে লন্ড্রির সুবিধা না থাকায় সময় অনুযায়ী কাপড় নিয়ে যেতে হয় তাদের। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। অনেক সময় নভোচারীর সাধারণ কাপড় নভোচারীর আগেই স্পেস স্টেশনে পৌঁছে যায়।

শুধু যখন নভোচারীদের নভোযান থেকে বের হতে হয় তখন তাদেরকে সেই বিশেষ স্পেস স্যুটটি পরতে হয়।

 

জানেন কি নভোচারীর নভোজীবন ? জানতে হলে পরতে হবে মেগা পোস্ট “নভোচারীর নভোজীবন”

 

 

ঘুম

মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নেই তা আমরা সবাই জানি। এ কারণেই নভোচারীরা নভোযানের ভেতরে ভাসমান অবস্থায় থাকেন। আর ভাসমান অবস্থায় ঘুমানো কীভাবে সম্ভব? জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ কারণে প্রায় প্রত্যেকটি নভোযানেই স্লিপিং ব্যাগ নভোযানের দেওয়ালের সঙ্গে সাঁটানো অবস্থায় থাকে। নভোচারীদের ঘুমের সময় হলে তারা সেই স্লিপিং ব্যাগে নিজেকে বেল্টের মাধ্যমে আটকিয়ে ঘুমান। ব্যাপারটা অনেকটা ঝুলন্ত বিছানার মতো।

 

জানেন কি নভোচারীর নভোজীবন ? জানতে হলে পরতে হবে মেগা পোস্ট “নভোচারীর নভোজীবন”

 

 

গোসল

মাধ্যাকর্ষণ বলয়ের বাইরে যেহেতু পানি নিজে নিজে প্রবাহিত হতে পারে না, তাই নভোযানে কোনো সিংক বা শাওয়ারের ব্যবস্থা নেই। তাহলে নভোচারীরা কীভাবে নিজেদের পরিষ্কার রাখেন। এ প্রশ্নটির উত্তরে ডিসকভারি জানিয়েছে, নভোযানে শাওয়ার হচ্ছে প্লাস্টিক সিলিন্ডার। এ ছাড়াও নভোচারীরা অ্যালকোহল বা পানিতে ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করেন। মাথা পরিষ্কার করার জন্য পানিবিহীন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হয় তাদের। নিজেকে এভাবে পরিষ্কার করা শেষ হলে নভোচারীরা শুকনো টাওয়েল ব্যবহার করেন। শরীর পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও তারা পানিবিহীন শ্যাম্পু, ভেজা তোয়ালেতে মাখিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োগ করেন।

টয়লেট ব্যবস্থা

বিজ্ঞানবিষয়ক সাইট হাও স্টাফ ওয়ার্কসের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি নভোযানের ভেতরেই টয়লেট রয়েছে এবং অধিকাংশ নভোযানেরই টয়লেটের আকার এক মিটার বাই এক মিটার। পুরুষ এবং নারী নভোচারীরা একই টয়লেট ব্যবহার করেন। টয়লেট ব্যবহারের সময় নভোচারী নিজেকে টয়লেটের সঙ্গে বেল্টের মাধ্যমে আটকে রাখেন, যাতে তিনি ভেসে না যান। টয়লেটে ঠিকমতো বসার জন্য নভোচারীরা একটি ক্যামেরাযুক্ত ট্রেইনিং ডিভাইস ব্যবহার করেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে নভোযানের টয়লেটে কোনো দরজা নেই, শুধু একটি কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা হয়। এরপর বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কারের জন্য তারা ভ্যাকুয়াম-ক্লিনারের মতো মেশিন ব্যবহার করেন, যা বর্জ্যকে শুষ্ক পদার্থে পরিণত করে।

 

জানেন কি নভোচারীর নভোজীবন ? জানতে হলে পরতে হবে মেগা পোস্ট “নভোচারীর নভোজীবন”

 

 

ব্যায়াম

পৃথিবীতে মানুষ নিয়মিত চলাফেরা করে। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বদৌলতে তাদের ক্যালরি খরচ হয়। কিন্তু মহাকাশে তা হওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মহাকাশে অনুভব করা যায় না, সে কারণে নভোচারীরা ভিন্ন ব্যবস্থায় ক্যালরি খরচ করে এবং নিজেকে ফিট রাখে। কম্পিউটার প্রযুক্তিবিষয়ক ম্যাগাজিন পিসি ম্যাগ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নভোচারীরা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (আইএসএস) রুটিন করে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম করেন। তাদের ব্যায়ামের জন্য নাসা আইএসএস এ ট্রেডমিলস, এরগোমিটারস ইত্যাদির ব্যবস্থা করে রেখেছে।

চিকিৎসা

পৃথিবীতে মানুষ হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার জন্য ডাক্তার রয়েছে, রয়েছে হাসপাতাল। কিন্তু মহাকাশে এ সুবিধা নেই তা তো জানা কথাই। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে মহাকাশে কোনো নভোচারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়?

এ প্রশ্নটির উত্তর জানার আগে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, নভোচারীদের প্রত্যেককে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রত্যেককেই ভিন্ন ভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে সবাই তার নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এভাবে নভোচারীদের কয়েকজনকে চিকিৎসা সেবার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। এ ছাড়াও নভোযানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকে। জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এসব প্রক্রিয়াতেই মহাকাশে কোনো নভোচারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

নভোযান পরিষ্কার রাখা

জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, নভোযানের বাতাস পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে নভোচারীরা এয়ার পিউরিফিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করেন। আর বিভিন্ন বর্জ্য এবং খাবারের অবশিষ্ট পরিষ্কারের জন্য তারা তরল ডিটারজেন্ট, ডিসপোজেবল প্লাস্টিক গ্লাভস এবং ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করেন। ডিটারজেন্ট স্প্রে করে তা তারা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলেন এবং বর্জ্য পরিষ্কারে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করেন। ডিটারজেন্ট ব্যবহারের সময় ডিসপেজেবল গ্লাভস ব্যবহার করা হয়। মজার বিষয় হচ্ছে, পরিষ্কারের পর যে ময়লা পাওয়া যায়, তা পৃথিবীতে ফেরত আনা হয়।

অবসর

বিজ্ঞানবিষয়ক সাইট সায়েন্সেস৩৬০ ডটকম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নভোচারীরা অবসর সময় খুব কম পেয়ে থাকেন। যেটুকু অবসর তারা পান, সে সময়টিতে নভোচারীদের কেউ গান শোনেন, কেউ বই পড়েন। তবে এ জিনিসগুলো তাদের নিজেদেরই নিয়ে যেতে হয়। আবার অনেকে নভোযানের জানালা দিয়ে মহাকাশের অসীম বিস্তৃতি উপভোগ করেন। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে পৌঁছালে নভোচারীরা ডিভিডি দেখার সুযোগ পান। এ ছাড়াও প্রতি সপ্তাহে একবার নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ দেওয়া হয় তাদের।

 

বি : দ্র: কমেন্ট করতে ভুলবেন না

c8kPr জানেন কি নভোচারীর নভোজীবন ? জানতে হলে পরতে হবে মেগা পোস্ট “নভোচারীর নভোজীবন”

t5 জানেন কি নভোচারীর নভোজীবন ? জানতে হলে পরতে হবে মেগা পোস্ট “নভোচারীর নভোজীবন”

Like My FB Page 4 FB Updates Plz

আমার ফেসবুক

Google +

আমাকে ফলো করুন

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven + five =