পদার্থবিজ্ঞানের কতিপয় অমীমাংসিত রহস্য

0
613

পদার্থবিজ্ঞানীরা সব সময়ই চেষ্টা করে আসছেন এই মহাবিশ্ব আর ভেতরে থাকা যাবতীয় বস্তু কিংবা পদার্থের রহস্য ভেদ করতে। কিন্তু কিছু জায়গায় এসে পদার্থবিজ্ঞান মহাশয়কেও এসে মাথা চুলকোতে হচ্ছে। কারণ এই বিষয়গুলোর কোন সর্বজন গ্রহণযোগ ব্যাখ্যা নেই। চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলোর কয়েকটি-

১) কৃষ্ণ বস্তু

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

এই বিশাল মহাবিশ্বের শতকরা চুরাশি ভাগ বস্তু কোন ধরণের আলো শোষণ কিংবা নিঃসরণ করে না। পদার্থ বিজ্ঞানে কৃষ্ণ বস্তু বলে একটি শব্দ আছে। যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি এর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি। এমনকি পরোক্ষভাবেও এর অস্তিত্বের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধু দৃশ্যমান পদার্থের উপর এর অভিকর্ষজ বল, তেজস্ক্রিয়তা কিংবা মহাবিশ্বের উপর এর প্রভাব অনুমান কিংবা উপলব্ধি করা যায়। একারণে কৃষ্ণ বস্তুকে অনেকে আমাদের ছায়াপথের বাইরে থেকে আগত “ছায়া-বস্তু” নামেও অভিহিত করেন। এখন পর্যন্ত কৃষ্ণ বস্তুর বাস্তব অবস্থান নির্ণয়ের অনেক চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু সফলতা আসে নি।

1963310871_1367271399 পদার্থবিজ্ঞানের কতিপয় অমীমাংসিত রহস্য

২।) আমাদের মহাবিশ্বের সমান্তরাল মহাবিশ্ব

জ্যোতির্পদার্থবিদ্যাতে অনুমান করা হয়, আমাদের এই মহাবিশ্বের অনুরূপ আরো অনেক মহাবিশ্ব আছে। যাদের প্রতিটি বস্তুকণা আমাদের মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণার অনুরূপ। হোক তা জীব কিংবা জড়। পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল তথ্য ও তত্ত্ব আমাদের সামনে এই কথাটিই তুলে ধরছে। যদিও বিজ্ঞানীরা এখনো এই বিষয়ের বাস্তব প্রমাণ পাবার ক্ষেত্রে অনেক দূরে অবস্থান করছেন।

৩) এই মহাবিশ্বের ভবিষ্যত কি?

এই মহাবিশ্বের ভাগ্য সম্পূর্ণরূপে জড়িয়ে আছে Ω ফ্যাক্টরের উপর। এই মহাবিশ্বের সব বস্তুর ঘনত্ব ও শক্তি এই অজানা Ω ফ্যাক্টর দিয়ে বোঝানো হয়। যদি কখনো এই ফ্যাক্টর Ω এর মান ‘এক’ এর চেয়ে বেশি হয় তবে ধরে নেয়া হয়, এই মহাবিশ্ব আর সম্প্রসারিত হবে না। বরং এর সঙ্কোচন শুরু হবে এবং এক সময় পুরো মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। এই অবস্থার নাম দেয়া হয়েছে “Big crunch”।

যদি এই Ω এর মান হয় ‘এক’ এর চেয়ে কম তবে এই মহাবিশ্বের তীব্র সম্প্রসারণ গতির জন্য যাবতীয় ছায়াপথ ও নক্ষত্র ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এরপর সব বস্তু হয়ে যাবে একদম শীতল, নিশ্চল। এরপরের মহাবিশ্বের ত্বরণ বা গতিবেগ এতো দ্রুত গতিতে হবে যে এর মাঝে থাকা সব পদার্থের পরমাণুগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বন্ধন ভেঙ্গে যাবে। ফলে এই মহাবিশ্বের সব পদার্থ দুমড়ে-মুচড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।

যদিও এই Ω ফ্যাক্টরের মতো পুরো বিষয়টিই এখন পর্যন্ত হাইপোথিসিস কিংবা ধরে নেয়া হয়েছে।

৪) প্রতি-পদার্থের চেয়ে পদার্থের সংখ্যা বেশি কেন

পদার্থবিজ্ঞানে পদার্থ-প্রতি প্রদার্থ (matter-anti matter) বলে দুটি ধারণা আছে। সব পদার্থেরই প্রতি পদার্থ আছে বলে ধরে নেয়া হয়। একটি পদার্থ যে আধান বা চার্জযুক্ত হয়, কিংবা এর ভেতরে থাকা ইলেক্ট্রন যে অভিমুখে ঘুরে; সেটির প্রতি-পদার্থ হয় তার ঠিক বিপরীত। প্রশ্ন হলো এই মহাবিশ্বে প্রতি পদার্থের চেয়ে পদার্থের সংখ্যা বেশি কেন? অনেকের মতে, বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর সমান সংখ্যক পদার্থ ও প্রতি-পদার্থ তৈরি হবার কথা। কিন্তু এরকম হলে তা হতো ভয়াবহ। কারণ প্রোটন এন্টি-প্রোটনের সংস্পর্শে এসে ধ্বংস হয়ে যেত। এভাবে পদার্থের ইলেক্ট্রন, নিউট্রনসহ অন্যান্য কণাগুলো প্রতি-পদার্থে থাকা এন্টি-ইলেক্ট্রন কিংবা এন্টি-নিউট্রনের সংস্পর্শে এসে ধ্বংস হয়ে যেত। এরকম হলে এই মহাবিশ্বের টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে যেত। তাই ধরে নেয়া হয়, মহাবিশ্বে পদার্থের সংখ্যা বেশি, প্রতি-পদার্থের সংখ্যা কম। যে কারণে এই মহাবিশ্ব এখনো বহাল তবিয়তে টিকে আছে।

যদিও এই ব্যপারে পদার্থবিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেন নি এখনো।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

মন্তব্য দিন আপনার