গুগল অচিরেই নিজেদের ডেটা সেন্টার স্থলভাগ থেকে সরাসরি জলে নামিয়ে নিচ্ছেন

1
266

ইন্টারনেট জগতের একটা অবিচ্ছেদ্য নাম গুগল। বিশ্বজোড়া ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়ে ২০০৬ সালে অক্সফোর্ড ডিকশনারিতেও নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে ভার্চুয়াল জগতের এই অগ্রণী প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল অচিরেই নিজেদের ডেটা সেন্টার স্থলভাগ থেকে সরাসরি জলে নামিয়ে নিচ্ছেন। গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান তথ্যের চাহিদা মেটাতেই কোম্পানিটির এই উদ্যোগ। শুক্রবার প্রকাশিত সিনেটের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সান ফ্রান্সিসকো বে’র ট্রেজার আইল্যান্ডে ‘বিল্ডিং ৩’ নামের একটি চারতলা স্থাপনার খোঁজ পাওয়া যায় যা কিনা গুগলের নতুন ধরনের ভাসমান ডেটা সেন্টার হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

52303_1 গুগল অচিরেই নিজেদের ডেটা সেন্টার স্থলভাগ থেকে সরাসরি জলে নামিয়ে নিচ্ছেন

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

জানা যায়, গ্রাহককে সার্চ ইঞ্জিন, মেইল, ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় সেবাগুলো পৌঁছে দেয়ার জন্য অবিশ্বাস্য পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করতে হয় গুগল কর্পোরেশনকে। যা দিয়ে প্রায় এক থেকে দুই লাখ লোকের একটা শহর খুব অনায়াসেই চালানো যায়। তথ্যানুসারে আরও জানা যায়, গুগলের ডাটা সেন্টারে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়। যা দিয়ে উটাহর রাজধানী সল্ট লেক সিটির মতো একটা শহর অনায়াসে চালানো যায়। তাই বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সমুদ্রের পানির নাড়াচাড়া থেকে উৎপন্ন শক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নিয়েছে গুগল। তাছাড়া ডেটা সেন্টার মানে নানা রকম সার্ভারের সমন্বয়। আর এ সার্ভারগুলো রাত-দিন সক্রিয় অবস্থায় থাকে, তাই ডেটা সেন্টার স্থাপনের পূর্বশর্তই হল এ সার্ভারগুলোকে ঠাণ্ডা রাখা।

এ পদ্ধতিতে কম্পিউটার প্রসেসরের চার পাশে ছোট ছোট পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হবে। আর সমুদ্রের ঢেউ যা কিনা ডেটা সেন্টারের সুপার কম্পিউটারগুলোকে হিমশীতল রাখতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করবে। এতে খরচ যেমন কমবে, তেমনি আরও গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হচ্ছে, এটি সরকারি নজরদারি (যেমন এনএসএ) এড়িয়ে থেকে সেবা প্রদান করতে পারবে। কেননা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ডেটা সেন্টার রাখলে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সমুদ্রে ডেটা সেন্টার স্থাপনে সুবিধার পাশাপাশি ঝুঁকির সম্ভাবনাও দেখছেন। যেমন সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে তার টানা হলে মাঝে মধ্যে এর বিপর্যয়ও ঘটতে পারে। আবার জাহাজটি জলদস্যুর শিকারও হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা জলদস্যুর চেয়ে হ্যাকারদেরই বেশি ভয় করছেন। তাই সমুদ্র উপকূল থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে রাখা জাহাজকে স্থলে রাখা ডেটা সেন্টারের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে, তাহলে তার টানার প্রয়োজন পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সবার ধারণা, গুগল যেহেতু সর্বপ্রথম সমুদ্রে ডেটা সেন্টার স্থাপনে এগিয়ে এলো এবার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সমুদ্রকে বেছে নেবে নিজেদের ডেটা সেন্টার হিসেবে।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

মন্তব্য দিন আপনার