নিজের আসল নাম ব্যবহার করে ব্লগ লিখুন এবং নিজের নামে লেখাকে কপিরাইট করুন।

0
307

আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কপিরাইট আইনগুলো অনেক matured এবং complex. তবে সহজ ভাষায় বলতে গেলে মূলত কপিরাইট আইনের কাজ হচ্ছে যে কনটেন্ট তৈরী করেছে তার অধিকারকে রক্ষা করা। ওই কন্টেন্টের প্রকাশক অথবা ব্যবহারকারীকে কপিরাইট আইন মেনে এমনভাবে কনটেন্ট প্রকাশ বা ব্যবহার করতে হয় যেন কনটেন্ট এর যে মালিক তার অধিকার গুলো পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকে। কপিরাইট আইন অনুযাই যে কনটেন্ট তৈরী করলো সে এটার প্রথম মালিক। সে এই মালিকানা যে কারো কাছে বিক্রি করতে পারে দুই পক্ষের সমঝোতায় নির্ধারিত দামে অথবা বিনামূল্যে। এই কন্টেন্টের কপিরাইট যে কিনে নিবে কপিরাইট আইন তখন তার অধিকার কে সংরক্ষণ করবে।

বাংলা সাহিত্যে ছদ্দনামে লেখা একটা প্রচলিত প্রথা। অনেক নামী দামী কবি সাহিত্যিক ছদ্দনামে লিখেছেন অনেক অসাধারণ লেখনি। কিন্তু তখন ছিল ছাপানো কাগজের লেখা প্রকাশের যুগ। লেখা প্রকাশের আগে প্রকাশক ওই লেখককে ব্যক্তিগত ভাবে ভালোভাবেই চিনতেন। ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশ সরকার আইন করেছিল যে একটা ‘কন্টেন্টের দায় দায়িত্ব’ প্রকাশক অথবা সম্পাদক কে নিতে হবে। তাই প্রকাশক এবং সম্পাদকরা ভালো করে পড়ে এবং সম্পাদনা করেই ঐ লেখাগুলো ছাপতেন। তবুও অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য অথবা লেখাটাকে আরো রোমান্টিক করার জন্য অনেক লেখক ছদ্দনামে লিখতেন। বিশেষত ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে যারা লিখতেন তারা ছদ্দনামে লিখতেন এবং গোপনে কোনো ব্যক্তিগত ছাপাখানা থেকে ওই লেখাগুলো ছাপাতেন।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

আমেরিকাতে কখনো ‘কন্টেন্টের দায় দায়িত্ব’ এই নিয়মটা করা হয়নি। ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার পরে ১৭৯০ সালে ‘বিল অফ রাইটস’ এর মাধ্যমে সবাইকে স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার দেয়া হয় বলে মতামতের ‘কন্টেন্টের দায় দায়িত্ব’ এর আর কোনো আইনগত গুরুত্ব থাকে না। তাই আমেরিকাতে সবাই নিজের নামেই লিখতেন এবং ছদ্দনামে লেখার আইডিয়াটার কারো মধ্যে আসেনি। আজো সেই আইনি বহাল আছে এবং এই আইনটি এতই শক্ত যে কেউ মিথ্যা তথ্য লিখলেও তাকে কোনো আদালত ‘লেখা’র জন্য বিচার করতে পারবে না।

‘৭০ দশকের শেষের দিকে প্রকাশনা যখন ছাপাখানা থেকে ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে চলে যায় তখন কনটেন্ট এর মালিকের অধিকার রক্ষা করার জন্য নতুন আইনের দরকার হয়। যেহেতু ব্যক্তি পর্যায়ে সফটওয়্যার কেনা বেচার ব্যাপারটা আমেরিকায় প্রথম শুরু হয় তাই আমেরিকাতে এই আইনটি করার সময় সফটওয়্যারকেও ‘কনটেন্ট’ হিসাবে দেখা হয় এবং বিভিন্ন লেখা, ছবি ইত্যাদির সাথেই সফটওয়্যারকে সমান্তরাল আইনের মধ্যে নিয়ে আশা হয়। আমেরিকায় প্রবর্তিত সেই কপিরাইট বিশ্বের প্রায় সবকটি গণতান্ত্রিক দেশে স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে নেয়া হয় ‘৮০ এর দশকের শুরুর দিকে। প্রায় মোটামুটি অপরিবর্তিত ভাবেই সেই আইনগুলো এখনো বহাল আছে।

কপিরাইট আইনের সাথে আমার পরিচয় হয় ২০০৫ সালে GNU GPL এর কিছু প্রজেক্টের সাথে জড়িত থাকার জন্য। আমার কাজ ছিল ডকুমেন্টেশন করা তাই বাধ্য হয়ে এই আইনগুলো নিয়ে বেশ ঘাটাঘাটি করতে হয়। পরে বাধ্য হয়ে আমি একজন দক্ষ কপিরাইট আইনজীবীর সাহায্য নেই। এনেক কিছু শেখার সুযোগ হয় তার থেকে।

যেমন একটা মজার উদাহরণ দেই ~ মনে করুন অপনি একটি বাড়ির মালিক। বাড়ির যে পূর্ব মালিক ছিল সে বাড়ির কিছু ছবি তুলছিল যেগুলো সে ইন্টারনেটে আপলোড করেছিল। সেই ছবিগুলোর মালিক কিন্তু আপনি নন! আপনি যদি ওগুলো ব্যবহার করে নিজের বাড়ির ছবি হিসাবে ইন্টারনেটে আপলোড করেন তবে সেটা আইনত বৈধ হবে না এবং পূর্ব মালিক আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে আরো মজার ব্যাপার হলো যে ~ আদালতে তাকে প্রমান করতে হবে যে সেই ওই ছবিগুলোর প্রথম মালিক। ওটা প্রমানের জন্য তাকে অবশ্যই নিজের আসল নাম ব্যবহার করে ওই ছবিগুলো আপলোড করার প্রমান দেখাতে হবে। ছদ্দনাম অথবা ইউসার-নেম অথবা ই-মেইল আইডি ব্যবহার করে আপলোড করা থাকলে সে মামলায় হেরে যাবে কারণ সেটা আসল নাম নয়।

লেখা একটা অনেক শক্তিশালী মাধ্যম। আপনার লেখার সঠিক ব্যবহার যেমন আপনি করতে পারেন তেমনি অন্যকেউ এর অপব্যবহারও করতে পারে। এমন হতে পারে যে আপনার লেখা সর্বোচ্চ সংখক লোক পড়তে পারে কোনো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। কিন্তু আপনি যদি নিজের নাম ব্যবহার না করে ছদ্দনাম ব্যবহার করেন তবে এর ক্রেডিট আইনগত ভাবে আপনি নিতে পারবেন না। আবার আপনার লেখা অন্যকেউ অপব্যবহারও করতে পারে। তখন আপনি যদি নিজের নাম না লিখে ছদ্দনামে লেখেন তাহলে আইনগতভাবে এর প্রতিবাদও আপনি করতে পারবেন না। সত্যি কথা বলতে কি আমেরিকান ডিজিটাল মিডিয়াতে যেসব কন্টেন্টের মালিকের আসল নাম না থাকে সেসব কনটেন্টগুলোকে কখনই কেউ গুরুত্বের সাথে নেয় না এবং অনেক সময়ই সেগুলো পড়ার আগেই ভুয়া বলে ধরে নেয়া হয়। তাই পাঠকের কাছে গুরুত্ব পাওয়ার জন্যও আপনার নাম ব্যবহার করাটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সবাইকে ধন্যবাদ। লিখাটি আমার নয় আমি শুধু শেয়ার করলাম সকলের সাথে। এটি লিখেছেন
শামস্ ভাই
ডালাস, টেক্সাস

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 − three =