জানেন? ভবিষ্যতে সম্ভব হবে কেটে যাওয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পুনরুদ্ধার

0
614

টিকটিকির কাটা লেজটাকে লাফাতে দেখেছেন তো? অনেক গিরগিটি জাতীয় প্রাণী আছে যাদের শরীরে (মূলত লেজে) এমন সব স্টেম সেল থাকে যেগুলো কেটে যাওয়া বা ক্ষত হওয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আবার গজাতে পারে নিজে থেকেই। এই বৈশিষ্ট্য মানুষের মাঝে নিয়ে আসার জন্য অনেক দিন থেকেই গবেষণা চলছে। কিন্তু এমন কোন ফলাফল পাওয়া যায় নি যেটা বৃহত্তর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া একটি প্রতিবেদনে এমন সব তথ্য উঠে এসেছে যাতে মনে হয় যে সেই দিনটি খুব দূরে নয় যখন মানুষের পক্ষেও সম্ভব হবে এমনভাবে কোষ-কলা পুনরুদ্ধার।

ডক্টর মায়ুমি ইতো প্রকাশ করেন এই প্রতিবেদনটি। এর মূল বিষয় হল ২০১০ সালের একটি ঘটনা। দীপা কুলকারনি নামের এক ভদ্রমহিলা দরজায় জোরে চাপ খেয়ে হারান তার একটি আঙ্গুলের মাথা। পরবর্তীতে ACell নামের এক কোম্পানির তৈরি করা এক ধরনের পাউডার ব্যবহার করেন তিনি ওই ক্ষতস্থানে। পাউডারটির নাম হল MatriStem এবং এর মূল উপাদান হল শূকরের মুত্রথলির গুঁড়ো। শুনতে গা গুলোচ্ছে নিশ্চয়ই? কিন্তু এটি ব্যবহারের ফলে আসলেই তার কাটা আঙ্গুলের মাথা পুনরায় গজিয়ে যায়। এটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ACell কম্পানি বলে, এই পাউডারটি মিশে যায় ক্ষতস্থানের চারপাশের কোষের সাথে এবং ক্ষতচিহ্নের পরিবর্তে নতুন কোষ তৈরি করে।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

kuenstliche-ohrmuschel-11607 জানেন? ভবিষ্যতে সম্ভব হবে কেটে যাওয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পুনরুদ্ধার

তারা ধারনা করেন যে, এই পাউডারটি আমাদের অস্থিমজ্জা থেকে স্টেম সেল আকর্ষণ করে এবং কাটা অংশে নতুন কোষের বৃদ্ধি ঘটায়। এই ধারনাটি দীপা কুলকারনির ক্ষেত্রে কাজ করার পেছনে আরেকটি কারন হল, তার আঙ্গুলে কিছু পরিমাণ নখ অবশিষ্ট ছিল। ডক্টর ইতো এবং তার গবেষক দল নিশ্চিত হন যে আঙ্গুলের নখের উপস্থিতির কারনেই এই কোষ পুনরুৎপাদন সম্ভব হয়েছে। দেখা গেছে যে, মানুষের নখে থাকে এমন কিছু স্টেম সেল যা নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। শুধুমাত্র নতুন নখই নয়, নখ, মাংস এমনকি হাড়ের কোষ পুনরুৎপাদনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। ডক্টর ইতো এই ধরনের স্টেম সেল গুলোর নাম দেন Wnts, এবং ইঁদুরের ওপর এগুলো প্রয়োগ করে দেখা যায়, এদের সাহায্যে তৈরি হয়ছে এমন সম রাসায়নিক যা কিনা ইঁদুরের শরীরে নতুন হাড়-মাংসের বৃদ্ধি ঘটাতে সক্ষম।

মানুষের মাঝে এই প্রযুক্তি কিভাবে ব্যাবহার করা সম্ভব? ধরুন আপনার শরীরে এমন কোন অঙ্গহানি ঘটেছে যাতে শরীরের কোন স্বাভাবিক Wnts সেখানে উপস্থিত নেয়। এমন ক্ষেত্রে জেনেটিক এঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে শরীরকে বাধ্য করা যেতে পারে Wnts উৎপাদন করতে। এই বিষয়টি ইঁদুরের উপর প্রয়োগ করে সাফল্য পাওয়া গেছে এবং অদূর ভবিষ্যতেই মানুষের ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

16 + fourteen =