ইলেক্ট্রিক সাইকেল ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে৷

0
696

দেখলে মনে হবে ছোটদের প্যাডেল স্কুটার, তবে এগুলো বড়দের জন্য৷ নাম রাখা হয়েছে: স্ক্রুজার৷ ইলেকট্রিক ইঞ্জিন থাকার ফলে যানটি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে৷ জার্মানিতে এই পুশ বাইক সাইকেল ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে৷সাইকেল চালানোর লেন, এমনকি ফুটপাথেও স্ক্রুজার চালানো যেতে পারে, তবে গাড়ি চলার রাস্তায় নয়৷ স্ক্রুজারের আবিষ্কারক হলেন এক জার্মান বিজনেস কনসালট্যান্ট, ৫০-বছর-বয়সি ইয়েন্স টিমে৷ কি করে তিনি এই অদ্ভুত যানটি আবিষ্কার করলেন, সে কাহিনি শোনালেন টিমে:

‘‘পরিস্থিতি এই দাঁড়িয়েছিল যে, আমার হাঁটতে ভালো লাগত না৷ শহরের মধ্যে স্বল্প দূরত্বের জন্য গাড়ি চালাতে ভালো লাগত না৷ সাইকেল আমার পছন্দ নয়৷ কাজেই রাস্তায় এমনিতে যা দেখা যায়, তার থেকে আলাদা, নতুন একটা কিছুর দরকার ছিল৷”

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

0,,17005308_303,00 ইলেক্ট্রিক সাইকেল ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে৷

চেখে দেখা

ইয়েন্স টিমে ড্রেসডেনের পথেই পথচারীদের দিয়ে তাঁর স্ক্রুজার পরীক্ষা করিয়েছেন৷ ডিজাইনটা তাঁরই৷ পরে একদল ইঞ্জিনিয়ার প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি সামলেছেন৷ স্ক্রুজার তৈরিতে পাক্কা দু’বছর সময় লেগেছে৷

স্ক্রুজার চালানো যায় দাঁড়িয়ে কিংবা বসে৷ যারা চালিয়ে দেখেছেন, তাদের প্রতিক্রিয়া মন্দ নয়৷ কেউ বলেন, ‘‘চালাতে দারুণ, স্কেটবোর্ডের মতোই মজা, কিন্তু স্পিড অনেক বেশি৷” কেউ বা বলেন, ‘‘থ্রিলিং! সাইকেলের থেকে আলাদা৷ আমি তো ভাবছিলাম, এবার দোকানের কাচে গিয়ে ধাক্কা খাব!” আবার কেউ বলেন, ‘‘তবে ফিট থাকার জন্যে খুব ভালো নয়!”

ইলেকট্রিক সাইকেলের মতোই স্ক্রুজারের ইঞ্জিনটিও পাল্স ড্রাইভ৷ মোটর নিজের থেকেই বুঝতে পারে, চালক পা দিয়ে কতো জোরে মাটিতে ধাক্কা দিচ্ছে৷ মোটর সেই শক্তিটাকেই বহুগুণ করে৷স্ক্রুজার শহরের পরিবহন সমস্যা মেটাতে সহায়তা করতে পারে

স্ক্রুজারের সব ক’টি অংশ জার্মানিতে তৈরি – শুধু নামটাই ইংরিজি৷ নামের ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে টিমে জানালেন: ‘‘বহু ভেবেছি, শব্দ নিয়ে খেলেছি৷ শেষমেষ সব মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে স্ক্রুজার: স্কুটার আর ক্রুইজ-এর সমষ্টি৷”

0,,17005303_404,00 ইলেক্ট্রিক সাইকেল ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে৷

ইলেক্ট্রোমোবিলিটি’

কয়েক বছর যাবৎ নানা ধরনের ইলেকট্রিক সাইকেল বাজারে আসছে এবং ক্রমেই আরো বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে৷ জার্মানিতে আজ প্রায় ১৩ লাখ ইলেকট্রিক সাইকেল চলছে৷ বার্লিনের ইলেক্ট্রোমোবিলিটি এজেন্সির টোমাস মাইসনার মনে করেন, বছর বিশেকের মধ্যে সব সাইকেলের অন্তত অর্ধেকের সহকারী ইলেকট্রিক মোটর থাকবে:

‘‘বৈদ্যুতিক সচলতার নিত্য নতুন ধারণা, নতুন আইডিয়া৷ ইলেকট্রিক যানের নানা সুবিধা: শহরের যানজটের মধ্যে সহজে পথ করে নেওয়া – অথচ কোনোরকম ধোঁয়া না ছেড়ে চলা৷ শব্দও কম৷ শহরবাসীদের পক্ষে সেটাও একটা বড় বিবেচনা৷ এছাড়া ইলেকট্রিক যানগুলি নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে চালানো যায়৷ কাজেই এ ভাবে জলবায়ু সুরক্ষার প্রতিও অবদান রাখা সম্ভব৷”

তবে ইলেকট্রিক যানগুলির দাম কম বললে ভুল করা হবে৷ একটি স্ক্রুজারের দাম প্রায় চার হাজার ইউরো৷ একটা সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ির দাম যে দেশে দু’হাজার, তার তুলনায় দামটা কিছু বেশি বৈকি৷ তবুও রোজগেরে শহরবাসীরা তাঁর স্ক্রুজার কিনবে বলে ইয়েন্স টিমে-র আশা৷ এমন সব মানুষ, যাদের প্রত্যেক দিন অনেক ছোট ছোট দূরত্ব পার করতে হয়, কিন্তু যারা বাস-ট্রাম-ট্যাক্সিতে সন্তুষ্ট নন৷ টিমে বলেন:

‘‘ইলেক্ট্রোমোবিলিটি এবং আর্বান মোবিলিটি – শহরের মধ্যে চলাফেরা – উভয় ক্ষেত্রেই আমরা সবেমাত্র সূচনায়৷ এ সব জিনিস বিপুলভাবে বাড়বে৷ যানচলাচল বাড়বে; লোকজন বিকল্প খুঁজবে এবং পাবে৷ আমার স্বপ্ন হল: আমি বুয়েনস আইরেস-এ বসে আছি – হঠাৎ দেখব একটি স্ক্রুজার রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে৷ তাতেই আমার আনন্দ৷”

২০১৪ সালের মে মাস থেকে স্ক্রুজার কিনতে পাওয়া যাবে৷ সারা বিশ্ব থেকে ইতিমধ্যেই ৬০টি অর্ডার এসেছে৷

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen + one =