জেলা পরিচিতিঃ (৫)॥ এবারের জেলা উত্তরের প্রাণকেন্দ্র রংপুর । রংপুর জেলা সম্পর্কে জানুন ।

17
1241

সবাইকে স্বাগত আজকের টিউনে। এর আগে কুড়িগ্রাম, ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রাম জেলা নিয়ে প্রতিবেদন বিভাগে টিউন করা হয়েছে। সেগুলো দেখতে আমার সকল পোস্ট দেখতে পারেন এভাবে- জি এম পারভেজ@liTu এর প্রোফাইল=টিজের সকল পোস্ট দেখুন এখুনি।
রংপুর জেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ঐতিয্হ্যবাহী জনপদ। এর বুকচিরে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাগট, যমুনা, ধরলা প্রভৃতি নদ-নদী। বৃটিশ সরকারের অধীনে ১৭৬৯ খ্রিঃ রংপুর কালেক্টরেট প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও ১৭৭২ খ্রিঃ পূর্ণাঙ্গরূপ ধারণ করে। রংপুর ১৭৭২ সালে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। রংপুর এক সময় রঙ্গপুর নামে অভিহিত হতো। বৃহত্তর রংপুর জেলা পাঁচটি মহকুমার সমন্বয়ে গঠিত ছিল (রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা)।
১৯৮৪ সালে এই মহকুমাগুলো জেলায় রুপান্তরিত হয়। রংপুরে ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি ও সংস্কৃতি চর্চায় অনেক এগিয়ে আছে। কৃষিপণ্য উৎপাদনে রংপুর দেশের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

এক নজরে জেলাঃ
আয়তনঃ ২৩৬৭.৮৪বর্গ কিঃমিঃ।
নির্বাচনী এলাকাঃ ০৬টি।
জনসংখ্যাঃ ৩৩,৩৪,৫৬৭।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীঃ ১৮,০১৬।
উপজেলাঃ ০৮টি(রংপুর সদর, গংগাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগাছা)।
থানাঃ ০৮টি।
পৌরসভাঃ ০৩টি।
ইউনিয়নঃ ৮৩টি।
গ্রামঃ ১৪৩১টি।
আদর্শগ্রামঃ২৪টি।
মৌজাঃ ১,১৯৪টি।
নদীঃ০৫টি।
পাকা রাস্তাঃ ৪,৪১৭ কিঃমিঃ।
কাঁচা রাস্তাঃ১,০১৫ কিঃমিঃ।
সংসদীয় আসনঃ ০৬টি।
শিক্ষার হারঃ ৫৫%।
বৃহৎ শিল্পঃ ১টি।{শ্যামপুর সুগার মিল(সরকারী)}।
খাদ্য জাত কারখানাঃ ২২টি।
বনজ ও সহায়ক শিল্পঃ ০২টি।
প্রকৌশল শিল্পঃ ০৭টি।
ক্ষুদ্র শিল্পঃ খাদ্য ও সহায়ক শিল্পঃ ১,৬২৫টি।
বস্ত্র ও সহায়ক শিল্পঃ ২০টি।
পাট ও সহায়ক শিল্পঃ ০৩টি।
বনজ ও সহায়ক শিল্পঃ ২৯১টি।
ছাপাখানা ও প্রকাশনীঃ ৯৬টি।
চামড়া ও রাবার শিল্পঃ ০২টি।
রসায়ন ও ফার্মাসিউটিক্যালসঃ ২৮টি।
প্রকৌশল শিল্পঃ ৩৫৭টি)।
অন্যান্য শিল্পঃ শতরঞ্চি, পাটশিল্প, রেশম, তাঁত, মৃতশিল্প, নকশীকাথা, বাঁশশিল্প, কাঠশিল্প, কাসা- পিতল, লোহা শিল্প, ঢেঁকি শিল্প ইত্যাদি।
খনিজ সম্পদঃ পীরগঞ্জের খালাশপীরে কয়লা এবং মিঠাপুকুরের রানীপুকুরে তামার সন্ধান পাওয়া গেছে।

দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
পায়রাবন্দঃ রংপুর জেলার মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ গ্রামে ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর নারী জাগরণের অগ্রদূত মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন। এখানে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। স্মৃতি কেন্দ্রে রয়েছে বেগম রোকেয়ার একটি ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য,জেলা পরিচিতিঃ (৫)॥ এবারের জেলা উত্তরের প্রাণকেন্দ্র রংপুর । রংপুর জেলা সম্পর্কে জানুন । ২০০ আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম, স্মৃতি কেন্দ্র লাইব্রেরি, বেগম রোকেয়া গবেষণাগার ইত্যাদি।

তাজহাট জমিদার বাড়িঃ ২০০৫সালে ভবনটি রংপুর জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কেরামতিয়া মসজিদ ও মাজারঃ ৩টি উঁচু গম্বুজ বিশিষ্ট প্রস্ফুটিত পদ্মফুলের নকশাসহ মসজিদটি মোঘল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন বহন করে।

ভিন্ন জগৎঃ
রংপুর শহর থেকে১২ কিঃমিঃ দূরে গংগাচড়া উপজেলার খলেয়াগঞ্জিপুরে “ভিন্ন জগৎ’ নামে একটি বিনোদন পার্ক রয়েছে। ২০০২সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ পার্কটি। এখানে একটি প্লানেটোরিয়াম আছে যেখানে সৌরজগতের সৃস্টি থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল তথ্য প্রদর্ষন কর হয়।
ঝাড়বিশলাঃ মধ্যযুগের কবি জঙ্গনামা কাব্যের রচয়িতা কবি হেয়াত মামুদ এর জন্মস্থান ঝাড়বিশলা গ্রাম। এখানে তার মাজার রয়েছে।

পত্রপত্রিকাঃ
দৈনিক যুগের আলো,
দৈনিক দাবানল,
দৈনিক পরিবেশ,
দৈনিক আখিরা,
দৈনিক অর্জন।

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব. ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা সফল ব্যক্তি হজরত মাওলানা কেরামত আলী(রঃ) জৌনপুরী ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বক্কর সিদ্দিক(রাঃ) এর ৩৫ তম অধঃস্তন পুরুষ। রংপুরে তিনি ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন এবং মৃত্যুর পর রংপুর জেলার কেরামতিয়া মসজিদে রাখা হয়।

বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী মরহুম ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ওরফে সুধা মিয়া।
১৯৪২ সালে রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে ৯ মে তিনি ইন্তেকাল করেন।

বেগম রোকেয়া। তার সাহিত্যকর্মে সে সময়ের মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি গনজাগরন সৃস্টি করেন। মুসলিম নারী জাগরনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

কবি হেয়াত মামুদ। তার যে চারটি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে তা হচ্ছেঃ
জঙ্গনামা(১৭২৩ খ্রিঃ),
সর্বভেদবাণী বা চিত্ত উল্লাস বাণী’(১৭৩২ খ্রিঃ),
হিতজ্ঞান বাণী(১৭৫৩ খ্রিঃ)
এবং আম্বিয়াবাণী(১৭৫৭খ্রিঃ)।
ধারণা করা হয় আনুমানিক ১৭৬০ থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে উত্তর বাংলার এই সাধক কবি ইন্তেকাল করেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ওরফে পেয়ারা।
১৯৫২ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনীর চিফ অব ষ্টাফ নিযুক্ত হন ও লেফটেন্যন্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তিনি দেশে সামরিক শাসন জারী করেন। তিনি একজন কবি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
তাঁর একাধিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

কবি নূরুল ইসলাম কাব্যবিনোদ।

রংপুরের খেলাধূলাঃ বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবাধাঁ, নানা রঙ্গের ঘুড়ি উড়ানো, পাখি, গোল্লাছুট, এক্কাদোক্কা, বৌছুট, ডান্ডাগুলি (রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় চেংকু-পেন্টি), লাঠি খেলা, তরবারি খেলা, দধিকাঁদো ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
রংপুর ফুটবল অঙ্গনে অনেক খ্যাতিমান খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের মধ্যে যাদুকর আব্দুস সামাদ, মোনাগুহ, গোপাল রায়, কামাখ্যা দাস, ইসলাম, সুরেন দে, জীবন মুখার্জী, সান্টু, কাজী ছাত্তার, কাজী আনোয়ার, মুন্না প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ফুটবলের মত ক্রিকেটেও রয়েছে রংপুর জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য। রংপুর জেলায় ক্রিকেট খেলা বৃটিশ আমল থেকেই চলে আসছে।
\
বিঃদ্রঃ এই টিউন মোবাইল থেকে লেখা ও প্রকাশ করা হয়েছে।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

17 মন্তব্য

    • মিয়া প্রথমে আমার নিজের জেলা নিয়া লিখছি ।

  1. সত্যিই অসাধারণ হয়েছে.. পারভেজ ভাই, এইবার লিতু আপার জেলা নিয়া একখান টিউন লিখেন…..

  2. অসাধারন, আপনি আসলেই অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেন !

  3. পারভেজ ভাই, চাদপুর ও কুমিল্লা নিয়ে একটা টিউন করেন ।
    ভালো লাগলো ।

  4. ‘৭১এ রংপুরঃ
    স্বাধীনতা চেতনায় উদ্বুদ্ধ মানুষ রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চল হতে লাঠিসোটা, তীর ধনুক, বল্লম ইত্যাদি সহযোগে রংপুর ক্যান্টমেন্ট আক্রমণ করে। এতে ক্যান্টমেন্টের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সৈন্যরা এ সমস্ত বিক্ষুব্ধ জনতার উপর ঝাপিয়ে পরে এবং অসংখ্য মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। রংপুরের অগনিত মানুষ প্রাণ দিয়ে সৃষ্টি করে এক অবিস্বরণীয় ঘটনা। এরপর পর্যায়ক্রমে বলারখাইল গণহত্যা, ঝাড়ুদার বিল ও পদ্মপুকুরের গণহত্যা, জয়রাম আনোয়ার মৌজার গণহত্যা, সাহেবগঞ্জের গণহত্যা, লাহিড়ীরহাটের গণহত্যা, ঘাঘটপাড়ের গণহত্যা, নিসবেতগঞ্জ গণহত্যা, দমদমা ব্রীজ গণহত্যা, জাফরগঞ্জ গণহত্যা প্রভৃতি নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটে।ডিসেম্বরের ১৫তারিখে তিস্তা ব্রীজে ও ১৬ তারিখে রংপুর শহরে পাকহানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে শত্রুমুক্ত হয় বৃহত্তর রংপুর।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × four =