উপজাতিদের গায়ে রং মাখা ! (পড়ে দেখুন ঠকবেন না )

6
351

বিভিন্ন দেশের লোক , বিশেষ করে অশিক্ষিত উপজাতি লোকেরাই এটা করে থাকে । নিজের দেহকে সাজিয়ে তোলে নানাভাবে । কখনো রঙ মেখে কখনো বিচিত্র পোশাক পরে সাজায় নিজের দেহকে ।

এটা তারা করে কখনো ধর্মের জন্য , কখনও উত্‍সব-অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আবার কখনও-বা সামাজিক মর্যাদা ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য । আবার কেউ কেউ তার দেহ রাঙায় নিছক সুখে , সাজানোর জন্য ।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

ব্রাজিলের কায়াপো (Kayapo ) উপজাতির লোকেরা তাদের শরীরে জেনিপাপ ( Genipap ) নামে এক প্রকার গাছের ফলের রস দিয়ে রঙ মাখায় । তাদের এই রঙ মাখানোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট হল — এই রঙ দিয়ে তারা শরীরে জ্যামিতিক রেখার মতো রেখা অঙ্কন করে থাকে !

এদের সমাজে এই শরীরে রঙ মাখানোর ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । কায়াপো উপজাতিদের মধ্যে কেউ শরীরে রঙ না মাখলে সেটা খুবই খারাপ কাজ বলে মনে করা হয় । এটা অসামাজিক এবং অসভ্যপনা বলেও ধরা হয় ! যে শরীরে রঙ না মাখে , তাকে উলঙ্গ বলে মনে করা হয় !!

আফ্রিকার কোন কোন অঞ্চলের উপজাতিদের শরীরে রং মাখানোর ব্যাপারটি খুবই জটিল । শরীরে এলোমেলো রং মাখানো নয় , এদের শরীরের এক একটি রেটা এক একটি মানে বহন করে ।

উত্তর আমেরিকার থম্পসন ( Thompson ) উপজাতির লোকেরা তাদের মুখমন্ডল রং করে ভয়ংকর ভাবে । মুখের এক অংশ লাল রং আর অপর অংশে মাখানো হয় কালো রং । আমাদের চোখে হয়ত সে এক বীভংস মূর্তি হতে পারে , তবে থম্পসনদের সমাজে এটা খুবই সম্মানের এবং মর্যাদার কাজ । বিশেষ করে যুদ্ধে যাবার সময় এই রঙে সাজে ।এই যে দুটো রঙ লাল এবং কালো । এরও দুটো চমত্‍কার মানে আছে । লাল রং হল নিজের সৌভাগ্য বা যুদ্ধের বিজয় আর কালো রং হল শত্রুপক্ষের দুর্ভাগ্য । এই কালো রং দেখলেই শক্রুদের অমঙ্গল ঘটে আর তারা ভাগ্যের দোষ হেরে যায় । তাই থম্পসন উপজাতিরা যুদ্ধের আগে মুখে লাল আর কালো রং করে শত্রুদের ভয় দেখানোর জন্য । কারো কারো কপালে থাকে অঙ্কন করা রেখা । এরও কিন্তু চমত্‍কার অর্থ আছে । যার কপালে দশটি রেখা থাকবে ধরে নিতে হবে ঐ বীরপুরুষ তার ১০ দশ জন শত্রুকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে । এমনি করে শত্রু নিধনের সংখ্যার উপর নির্ভর করে তার কপালের রেখা । তাই কপালের রেখা হল থম্পসনদের বীরত্বের প্রতীক ।

অস্ট্রেলিয়ার উপজাতিরাও তাদের শরীরে চিত্র আঁকে । এরা অধিকাংশ শরীর রাঙায় ধর্মীয় কারণে । এছাড়া সামাজিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ওদের গায়ে রঙ মাখতে হয় । এদের একেক জাতের লোকদের শরীরে একেক ধরণের রং মাখানো থাকে । রঙ এবং চিত্র দেখলে ওরা বুঝতে পারে কে কোন জাতের । এ ছাড়া বিশেষ বিশেষ কাজ বা অনুষ্ঠানের জন্যও বিশেষ পদ্ধতিতে গায়ে চিত্র আঁকা হয় । যেমন- তারা যখন শোক প্রকাশ করে তখন সারা শরীরে সাদা রং এর চিত্র আঁকে । তবে এরা দৈনন্দিন যে রং মাখে ,তার মধ্য অবশ্য বিশেষ রঙের কোন বাঁধা ধরা নিয়ম নেই ।সাদা রং ছাড়া অন্য কিছু হলেই হল । এই সময় ওরা চেষ্টা করে গায়ের রঙ এবং চিত্র আঁকার কাজটি যেন সুন্দর হয় , অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে । অস্ট্রেলিয়ার উপজাতিদের গায়ে রং মাখানোটা সৌন্দর্যচর্চার প্রতীক ।

আফ্রিকার সুদানের নুবা ( Nuba ) উপজাতিরা যে গায়ে রং মাখে , সেটাও সম্পূর্ণ সৌন্দর্যচর্চা এবং শিল্পকর্ম । নুবারা একান্তই শিল্প সৃষ্টির কারণেই শরীরকে সাজিয়ে তোলে বিচিত্র রঙে । এখানে কোন ধর্মীয় কারণ নেই । শরীরকে সুন্দর এবং অপরের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য ।

পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক উপজাতির মধ্যে একটি সাধারণ নিয়ম প্রচলিত আছে । তারা সবাই প্রায় স্বল্পবস্ত্রধারী । সোজা কথা বলতে গেলে তারা প্রায় অর্ধউলঙ্গ থাকে । নারী পুরুষ সবাই এক টুকরো কাপড় দিয়ে শুধু লজ্জাস্থান ঢেকে রাখে । বাকি শরীরটা উদোম থাকে । এই গোটা উদোম শরীরটা এটা ঢেকে রাখে বা সাজিয়ে রং মেখে ।

যৌবনে শরীর থাকে সুগঠিত ও সুন্দর । তাই তখন শরীরিক সৌন্দর্য প্রদর্শন করা যায় । তাকে রং মাখিয়ে আরো মনোরম করে তোলা যায় । সেই জন্যই অশিক্ষিত উপজাতিরা শরীরকে রাখে খোলামেলা । কিন্তু বুড়ো হয়ে এলে শরীরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায় ।তখন আর তাকে প্রদর্শন করা যায় না । উপজাতির বুড়ো লোকেরা কাপড় পড়তে শুর করে । বুড়ো কালের শুকনো কুশ্রী শরীরটা ওরা কাপড়ের নিচে ঢেকে রাখে ।

এই যে রং মাখে শরীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ঘটানো , এটা শুধু যে অসভ্য উপজাতিদের মধ্যে প্রচলিত আছে তা নয় ।এমন কাজ তথাকথিত সভ্য সমাজের লোকে রাও করে । গায়ে রং মেখে দৈহিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার ব্যাপারটি আধুনিকতার প্রতীক ।

এই যে ,সভ্য সমাজের মেয়েরা ঠোঁটে লিপস্টিক মাখে , গালে রং মেখে বলে রুজ মেখেছি , হাতে রং দিয়ে চিত্র আঁকে , পায়ে আলতার আলপনা আঁকে , এটাও উপজাতিদের গায়ে রং মাখারই সমতুল্য । সভ্য সমাজে আমরা আমাদের রুচি ও নিয়ম মোতাবেকই রং মাখি । সেটা আমাদের কাছে রুচিশীলতার প্রতীক । আর ওদের সমাজে ওরা যেভাবে রং মাখে , ওটা ওদের সমাজেই রুচিশীলতার প্রতীক । তাই পার্থক্যটুকু শুধু দৃষ্টিভঙ্গীর এবং যার যার রূচির ।।

>>>>এটা  আমার প্রতম পোস্ট । ভুল হলে মাপ করবেন । ভাল লাগলে মন্তব্য করবেন ।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

6 মন্তব্য

  1. অনেক সুন্দর পোষ্ট! আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

  2. নতুন একটা ব্যাপার জানালেন! ধন্যবাদ! চালিয়ে যান। :)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 − eight =