মনমোহন সিং এর বাংলাদেশ সফর, ৬৫ দফা ঘোষনা এবং আমার ব্যক্তিগত

2
362

ঈদুল ফিতরের পর বাংলাদেশ সরগরম ছিল মেসি আর মনমোহন সিংকে নিয়ে। “ম” অক্ষরটার প্রতি বাঙ্গালী সেই প্রাচীঙ্কাল থেকে একটু উইক। তাই ম নিয়ে মাতামাতি কম হয় না। যে ম দি্যে মা হয় মাতৃভূমি হয় সেই ম দিয়ে মেসি আর মনমোহন হল, এমনকি মমতা তার নামও ম দিয়ে। মাতামাতি তাই একটু বেশীই হল। এসব ফালতু প্যাচাল থাক। মনমোহন সাহেব বাংলাদেশ বেড়িয়ে প্রচুর অভিজ্জতা নিয়ে গেলেন। প্রকৃত কি অভিজ্জতা পেলেন তা এখন জানা যাবে না। আমরা জানতে পারব যখন অদূর ভবিষ্যতে তিনি তার জীবনী লেখায় মনসংযোগ করবেন। তাই সেদিকে আমরা এখনি মনযোগ না দিয়ে ৬৫ দফা নিয়ে কিছু কথা বলি। ৬৫ দফা কি? ৬৫ দফা হল বাংলাদেশ ও ভারতের ঘোষিত যৌথ ইশতেহার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে (৬-৭ সেপ্টেম্বর) যৌথ ইশতেহার ঘোষিত হয়েছে। এ যৌথ ইশতেহারে ৬৫টি দফা সংযুক্ত হয়েছে। আসুন আমরা ইশ্তেহারের দফা গুলো জেনে সোফার উপর দুই পা তুলে বসে দুলে দুলে ঝুলে ঝুলে সুর করে একটু রফা করি। আমি ব্রাকেটের ভিতর আমার বেবুঝ মনের কিছু যুক্তি/ প্রশ্ন/মতামত রেখে গেলাম। পছন্দ না হলে আওয়াজ দিয়েন। আলোচনা আলুছানা করা যাবে।

১. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সস্ত্রীক এ ঢাকা সফর।
(দুই দেশের ঘোষিত ইস্তেহারে এটা কতটা গুরুত্ববহন করে সেটা আমার বোধগম্য নয়)

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

২. এ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিরোধীদলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
(লোকটা খুবই ভালো। হাসিনার দাওয়াতে এসে তার চিরশত্রু খালেদার সাথে গল্প করার সাহস করেছেন। এরকম লোককে দাওয়াত দিতে নেই ভাই)

৩. রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে যান এবং সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, জাদুঘর পরিদর্শন এবং পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধে ড. মনমোহন সিং মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পন করেন।
(বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সৈনিক আত্মত্যাগ করেছে তাদের স্মৃতির কথা মনমোহন সাহেবের মনে পড়েছিল কিনা সেটা জানতে পারি নাই।)

৪. দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং ড. মনমোহন সিং, তার স্ত্রী এবং প্রতিনিধিদলের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৈশভোজের অয়োজন করেন।
(পান্তাভাত বাঙ্গালীর অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্তত পহেলা বৈশাখে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা সেই রকম ধারণা দেন। মনমোহন সিংকে কেন পান্তা দিয়ে আপ্যায়ন করা হল না এই বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকোটের দুই বিচারক কি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলজারি করবেন?)

৫. বৈঠকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করেন সেদেশ থেকে আসা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও চার মুখ্যমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
(গণতন্ত্রে সামষ্টিক মতামত খুবই দরকারী। আমাদ্বের দেশে এটা অত্যন্ত দরকারী। ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের এটা শেখার আছে।)
৬. বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, জ্বালানি উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
(এই যা! প্রধানমন্ত্রী যে তার পুরো ব্যাটেলিয়ন সাথে নিয়েছিলেন এবার। দেশের সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি যদি এইভাবে চলতেন তাহলে বংগ দেশ আরো উন্নতি করতে পারত।)
৭. বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সামজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দুই দেশের উদ্দেশ্যই হল শান্তি, উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতা কায়েম করা।
(খুবই ভালোকথা। এক কাঠমুরখো কি বলেছে জানেন, আস্তিক মানুষের পক্ষে নাকি ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয় কখনো!)
৮. দক্ষিণ এশিয়ায় এ তিনটি মূলমন্ত্র প্রতিষ্ঠায় একমত হন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো করছে।
(এটা পাম্প না প্রশ্ংসা বুঝলাম না। বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কথা শুনে কি তার ধারণা হল বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো করছে।)

৯. ড. মনমোহন সিং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধিকে স্বাধীনতার সম্মাননা প্রদান করায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
(এটা কি যৌথ ঘোষনার দাবি রাখে?)
১০. দুই প্রধানমন্ত্রীর মনে করেন বাংলাদেশ ও ভারত দু‘দেশই নতুন এক সম্পর্কের যুগে প্রবেশ করেছে যার ভিত্তি হল স্বকীয়তা, সাম্য, বন্ধুত্ব, বিশ্বাস এবং বোঝাপড়ার ওপর নির্ভরশীল।
(পারস্পরিক বোঝাপড়া টা কি দলীয় নাকি আঞ্চলিক?)
১১. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১০ সালের নয়াদিল্লি সফর থেকে শুরু করে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ক বৃদ্ধি করেছে।
(সেই সাথে দেশের পন্যের মুল্যবৃদ্ধিও অব্যাহত আছে। তাহলে লাভ টা হল কি দাদা।)

১২.দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়ানো, বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য সচিব পর্যায়ে বৈঠক, জয়েন্ট রিভার কমিশন বৈঠক, স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক, বিজিবি-বিএসএফের ডিজি পর্যায়ের বৈঠক এবং জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্র“পের মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা বলেন।
(বৈঠকে ঠক ঠক তো কম হলনা। পেরেছো কি ফেলানীদের বাঁচাতে। কদিন আগে আরেক জন গেল সীমান্তে। কি যেন তার নাম? মনে আছে?)
১৩ তাছাড়া নতুন নতুন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক খুঁজে দেখার কথা বলা হয়েছে।
(হুম, ভাবছি। সুন্দরবনকে ভারতের হাতে লিজ দেয়া যেতে পারে। এটা তো নতুন একটা ক্ষেত্র তৈরী করবে। সরকার যদি সাগরের নিচের গ্যাস বেঁচে দিতে পারে তাহলে সুন্দরবন লিজ দেওয়া এমন কি আর খারাপ কাজ! ৯৯ বছর পর তো আমরা আবার ফিরে পাব সুন্দরবন কে।)
১৪. দুই দেশই ঐতিহাসিক কিছু চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি প্রটোকল স্বাক্ষর হয়।
(বাংলাদেশে যা হয় তাই ঐতিহাসিক। ঘাটে মাঠে যেখানেই জনসভা হোক সেটা ঐতিহাসিক, ঢাকার মাঠে মেসি ফুটবল খেলে গেল সেটাও ঐতিহাসিক। আজ দুপুরে আমি যে পুইশাক দিয়ে ভাত খাব সেটাও ঐতিহাসিক। আমাদের ইতিহাস কি এতই কম গুরুত্বপূরনো যে সব কিছু ইতিহাসের পাতায় নিয়ে টানাটানি করতে হবে। বেচারা ইতিহাসের মাস্টার এত ইতিহাস কিভাবে মনে রাখবে ভাই।)

১৫. ৮টি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হয়। এগুলো হল
নবায়নযোগ্য জ্বালানিখাতে সহযোগিতা,
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ট্রানজিট সুবিধা পেতে ভারতীয় ভূমি ব্যবহার, (বাংলাদেশ নিজের ভূমির সঠিক ব্যবহার করতে পারে না, ভারতের ভূমির কি ব্যবহার করবে।)
সুন্দরবন সুরক্ষা,
সুন্দরবনের বাঘ রক্ষাবিষয়ক,
মৎস্যখাতে সহযোগিতা, (বাংলাদেশ কি জামাই ষষ্ঠীর সিজনে ইলিশ রপ্তানির কথা ভাবছে এই খাতে)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা,
বিটিভি ও দূরদর্শনে মধ্যে সহযোগিতা (ভারতে যে বাংলাদেশের চ্যানেলের প্রবেশাদ্গিকার নাই)
ন্যাশনাল ইন্সিটিটিউট অব ফ্যাশান টেকনোল্যজি নিউদিল্লি আইএফটি এবং বিজিএমইএ ইন্সিটিটিউট অব ফ্যাশান টেকনোল্যজি অফ বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়। (বাংলাদেশে কি বলিউডি ফ্যাশন চালু করার চিন্তা ভাবনা চলছে?)
১৬. ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট’ আওতায় দুই দেশ শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতায় দুই পক্ষই রাজি হয়েছে।
(চোরাচালানের মাধ্যমে যে হারে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য ঢুকছে তাতে স্থিতিশীলতা না এসে পারেই না)
১৭. ফেমওয়ার্কের আওতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে যৌথ কমিশন কাজ করে যাবে।
১৮. দুই প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু ও সাম্যের ভিত্তিতে তিস্তা ও ফেনি নদীর পানিবণ্টনে অন্তবর্তীকালীন চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে যাবার অঙ্গিকার করেন।
(ফারাক্কায় আমাদের সাথে কি সুবিচার করা হয়েছিল? ন্যাড়া কোন সাহসে আবার বেলতলায় যাওয়ার সাহস দেখাচ্ছে বুঝলাম না। ভারত কি এবার কথা রাখবে? বাংলাদেশ কি অতিত থেকে শিক্ষা নেবে না?)
১৯. দুই প্রধানন্ত্রী মনু, মহুরী, খোয়াই, গোমতি, ধরলা এবং দুধকুমার নদীর সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত জেআরসি বৈঠক অনুষ্ঠানে কথা বলেন।
(ভয় পাইলাম। পাগলকে বলে দিলাম নাতো আমরা যে সাঁকো নাড়াস না! মনমোহন সিং না জানি কোথায় বাঁধ দিচ্ছেন মনে মনে।)
২০. দুই প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সালে ঘোষিত যৌথ ইশতেহারে বিভিন্ন কাজের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
(সেটার বাস্তবায়ন হয়েছিল কত পারসেন্ট যে তারা সন্তুষ্টু হয়ে গেলেন। বোঝা গেল তারা অল্পে সন্তুষ্ট হন।)

২১. ভারতের প্রধানমন্ত্রী পুনর্বার আশ্বস্ত করেছেন, বাংলাদেশের ক্ষতি করে এমন কোনও পদক্ষেপ টিপাইমুখ বাঁধের ক্ষেত্রে করা হবে না।
(এ দেখি গায়ে হাত বুলিয়ে বাঁধ টা দিয়ে নেওয়ার মতলব। তোমরা কয়বার কথা রেখেছিলে যে তোমাদের এই কথায় আস্থা পাব!)
২২. সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপে দুই প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
(আমরাও সন্তুষ্ট হইলাম।)
২৩. দুই প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালের জুলাই মাসে ভারতের স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরে সীমানা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
(ভালো উদ্যোগ)
২৪. ২০১০ সালে করা দুই দেশের সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বন্দিবিনময় চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
(ভালো উদ্যোগ)
২৫. ১৯৭৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের স্ট্রিপম্যাপ স্বাক্ষর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
(২০১১ এসে ১৯৭৪ এ ফিরতে চাওয়া বোকামি। পৃথিবী এগিয়ে চলেছে আর আমরা বাঙ্গালীরা পিছনে ফিরতে চাইছি।)
২৬. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দহগ্রাম ও আঙ্গুরপোতা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
(ভালো উদ্যোগ)
২৭. বাণিজ্য ভারসাম্য কমানো ও বাণিজ্যবৃদ্ধি, সাফটা কার্যকর করার বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন। (ভালো উদ্যোগ)
২৮. বিএসটিআই ও বিআইএসের মধ্যে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। (ভালো উদ্যোগ)
২৯. বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি ল্যান্ড পোর্ট চালু হওয়াকে দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানিয়েছেন। (ভালো উদ্যোগ)
৩১. দুই দেশের বিভিন্ন সীমানায় বর্ডারহাট প্রতিষ্ঠা ও আরও বর্ডারহাট খোলার পরিকল্পনাকে দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানিয়েছেন। (ভালো উদ্যোগ)
৩২. দুই প্রধানমন্ত্রী সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতের বিনিয়োগের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। (বাংলাদেশের লাভ হল কতটুকু)
৩৩. দ্ইু পক্ষই নতুন ল্যান্ড পোর্ট/এসসিএস খোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। (ভালো উদ্যোগ)
৩৪. নেপাল ও ভুটান তাদের মালামাল নিয়ে বাংলাদেশের ভিতরে প্রবেশের বিষয়ে যে চুক্তি হয়ে তা উল্লেখ করা হয়। (আমি এটার ঘোর বিরোধী)
৩৫. ত্রিপুরার পালাতানা বিদুৎ প্রকল্পের জন্য ওডিসি কার্গো বহনে ঢাকা সম্মত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ধন্যবাদ জানান। (বাংলাদেশ নিজেকে বহন করতে পারে না, অন্যের বোঝা ঘাড়ে নেয়া ছ্যাবলামো মাত্র)
৩৬. আশুগঞ্জ ও শিলাঘাট চালু হওয়ায় দুই প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। (ভালো উদ্যোগ)
৩৭. দুই পক্ষই রেল এবং পানি পথে কন্টেইনার কার্গো বহনে সহযোগিতা কথা বলেছে। (ভালো উদ্যোগ)
৩৮. ফেনী নদীর ওপর সেতুনির্মাণে দুই প্রধানমন্ত্রী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছে। (ভালো উদ্যোগ)
৩৯. আগরতলা এবং আখাউরা রেল যোগাযোগ চালু করতে অবকাঠামো নির্মাণের কথা বলেছে।
(ভালো উদ্যোগ)
৪০. নেপালে পণ্য পরিবহনে ভারতের ভূমিতে রেল সুবিধা পাওয়ায় মনমোহনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে শেখ হাসিনা।
( নেপালে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার কতটুকু যে এত নাচানাচি হচ্ছে। অযৌক্তিক চুক্তি মূল্যহীন)
৪১. মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে ভারতের থেকে যে যোগাযোগ সৃষ্টি হবে তা শেষ করতে পদক্ষেপ নিতে বলে দুই প্রধানমন্ত্রী।
(বাংলাদেশ নিজেই দুটি বন্দরে নিজেদের স্থান সংকুলান করতে পারে না। এখানে ভারতকে জায়গা দেবে কোথায়! তাছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতেই তো ফতুর হরে যাবে। আম-ছোলা চলে গেলে বাংলাদেশ কি বসে বসে আঁটি চুষবে)
৪২. দুই প্রধানমন্ত্র্রী একমত হয়েছে দুই দেশের যোগাযোগ বৃদ্ধিতে অবকাঠামো উন্নয়নের। (ভালো উদ্যোগ)
৪৩. পরিবর্তনশীল জ্বালানি সহযোগিতা। (ভারত নিজেদের চাহিদা মেটাতে হিমসিম খাচ্ছে, বাংলাদেশকে সাহায্য করবে কিভাবে! এটা ফাঁকা বুলি মাত্র।)
৪৪. বাগেরহাটে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় ভারতের সহযোগিতা (আমিন)
৪৫. ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি, (বেশীদামে বিদ্যুত আমদানীর জন্য ভবিষ্যত বাংলাদেশ অবশ্যই কৈফিয়ত চাইবে।)
৪৬. দুই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রিসার্চ প্রজেক্ট ও বিজ্ঞানী বিনিময়ে সম্মত হন। (ভালো উদ্যোগ)
৪৭. রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী পালনে দুই প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। এবং নজরুলের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে যৌথভাবে একটি প্রকাশনার কথা উল্লেখ করা হয়। (আমি আনন্দিত, আমি উতফুল্লিত, আমি খুশি)
৪৮. ভারতে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যাপারে একমত হন। (ভালো উদ্যোগ)
৪৯. বাংলাদেশ মুম্বাইতে একটি ডেপুটি হাইকমিশন কার্যালয় খোলার ব্যাপারে ভারতকে অনুরোধ জানায়। (ভালো উদ্যোগ)
৫০. বিটিভি ও দূরদর্শনের মধ্যে অনুষ্ঠান বিনিময়ের জন্য দুই পক্ষই একমত হয়। (একমত নই)
৫১. মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ভারতীয় বৃত্তি দেওয়ার ব্যাপারে দুই প্রধানমন্ত্রী একমত হন।
(মুক্তিযোদ্ধারা তো এখন আওয়ামী আর জাতীয়তাবাদী দুই ধারায় বিভক্ত)
৫২. সিডরে আক্রান্ত মানুষের জন্য আবাসন নির্মাণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে একটি সঙ্গীত বিভাগ খোলার জন্য ভারতে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।
(একটা গরীব দেশকে সাহায্য করা যায় কিভাবে? তাদের টেকনিক্যাল বিষয়ে দক্ষ করে নাকি সঙ্গীত শিখিয়ে। এটা একটা ফালতু উদ্যোগ।)
৫৩. ভারতীয় একশ কোটি ডলার ঋণের ব্যবহার সম্পর্কে দুই প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
(জাপানী ঋণে কি বাংলাদেশের মন ভরছে না। কবে মুছবে বাংলাদেশের ঋণক্ষেলাপি পরিচয়!)
৫৪. ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় বেশ কিছু সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান ঘোষণা করেন। (এটা তো তাদের প্রতিষ্ঠান, তারা সাহায্য করছে, বাংলাদেশের এটা নিয়ে ইশতেহার দেওয়ার কি হল।)
৫৫. সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে দুই প্রধানমন্ত্রী একমত হন।
(আগের কালের রাজা বাদশা রা বাঘের চামড়ার জুতা পায়ে দিত হত বলে বাঘ শিকারে যেত। আর এই কালের রাজারা বাঘ বাঁচাতে মিটিং করে। বড়ই ভালো প্রস্তাব।)
৫৬. সার্কে এক সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে একমত হন।
(সার্ক সৃষ্টির সময় থেকে সব গুলো দেশই তো একসাথে কাজ করার জন্য একমত ছিল এবং আছে কিন্তু কাজ করার সময় এটা তাদের মনে থাকে না। তাই এই চুক্তির কোন বাস্তবতা নাই।)
৫৭. বিআইএমএসটিইসি’সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে দুই পক্ষই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলেন।
(খুব ভালো)

৫৮. দুই প্রধানমন্ত্রী সম্মত হয়েছেন দুই দেশই আঞ্চলিক এবং উপ-আঞ্চলিক সহযোগীতার ক্ষেত্রে জ্বালানি, পানিসম্পদ, ট্রান্সপোর্ট এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় যোগাযোগ বৃদ্ধি কাজ করে যাবে। এর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, পরিবেশ, স্থিতিশীল উন্নয়নে কাজ করবে। এজন্য দু’পক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই ও পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পানিসম্পদের ব্যবহারে হাইড্রোপাওয়ার প্রতিষ্ঠায় যৌথ প্রজেক্ট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৫৯. সার্কের আওতায় দুদেশ একই শিক্ষাক্রম চালু করার ব্যাপারে কাজ করার কথা বলেছেন।
(ধরমীয় এবং ভৌগলিক অবস্থানের জন্য এটা সম্বব নয়। বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শীকৃষনো বা রাম-লক্ষণের জীবনী যেমন পড়ানো যাবেনা। যাবে কি?)
৬০. দুইদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করার কথা বলেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলে বাংলাদেশের পদ পেতে ভারতের সমর্থন চেয়েছেন।
৬১. দুইদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে দুই প্রধানমন্ত্রী বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
৬২. জলবায়ু সংকট মোকাবিলায়ও দুইদেশ একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
৬৩. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দুইদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।
৬৪. উষ্ণ অভ্যর্থনা আতিথেয়তার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
৬৫. আবারও শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মনমোহন সিং। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার ভিত্তিতে এই সফরের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।

আর লিখতে ভালো লাগছেনা। আসুন এবার আলোচনা করি। এই দফা গুলো থেকে বাংলাদেশ বস্তুত কতটুকু সুবিধা আদায় করতে পারবে?

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

2 মন্তব্য

  1. কোন লাভ হবেনা । ইন্ডিয়ার অনেক প্রদেশের মানুষের সাথে মিশেছি । ওদের সব চেয়ে ভাল মানুষটার চেয়ে বাংলাদেশের খারাপ মানুষটা ভাল । ওরা নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বোঝে না । বাংলাদেশের হয়ে নেত্রী অব্যশয় ভাল কিছু করতে চেয়েছেন কিন্তু তিনি ব্যথ হবেন । ইন্ডিয়ার সাথে আমাদের শত্রুতা র বা গভীর বন্ধুত্যের প্রয়োজন নেই । হাই হ্যালো সম্পর্ক থাকা টা ভাল মনে করি । নেত্রী ভেবে দেখবেন বাবার টাকায় নেশা করার চেয়ে নিজের টাকায় নেশা করা ভাল এবং জনগণের টাকা নিয়ে ফাগিলামু না করাটি ভাল ।সকলের মতের ভিত্তিতে বিষ পানে ক্ষতি হয়না ।

মন্তব্য দিন আপনার