কম্পিউটার ক্রাশ কেন হয়? কিভাবে? সাথে প্রতিকার অবশ্যই মিস করবেন না

0
311

কম্পিউটার ক্রাশের সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। সমস্যা তা অনেকেই ফেস করছেন। ধরেন আপনি হয়ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতেছিলেন। হঠাৎ আপনার সম্পূর্ণ সিস্টেম হাং করল অথবা ব্লু-স্ক্রীন আর কিছু এরর ম্যাসেজ দেখা দিল। বাধ্য হয়ে আপনাকে All+Ctrl+Del চাইপা সিস্টেম রিবুট করতে হইল । আমার এই সমস্যা অনেকবার হইছে । তাই আজকে এইটা নিয়া লেখলাম। এইতার কারন অনেক থাকতে পারে। জেমনঃ সফটওয়্যার বাগস , মেমোরি ব্লক হওয়া ইত্যাদি।

ক্রাশ কেন হয়?

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

আগেরকালে পিসির আকৃতি ছোট করার আর এটা যাতে সবাই কিনতে পারে সেই দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হইত। তারা হার্ডওয়্যার তৈরির সময় সবচেয়ে কম দামের পার্টস ব্যাবহার করত আর সফটওয়্যার লেখার সময় বিপদজনক শটকাট ইউস করত। তাছাড়া ধীর গতির পিসিতে ভাল পারফরমেন্স পাবার আশায় ComputerCrash কম্পিউটার ক্রাশ কেন হয়? কিভাবে? সাথে প্রতিকার অবশ্যই মিস করবেন নাঅপারেটিং সিস্টেম, সকল এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ও ডিভাইস ড্রাইভার চালানোর জন্য মেইন মেমরির একটি নির্দিষ্ট স্পেস ব্যবহার করত। আর এগুলোর মধ্যে যদি কোন একটিতে ক্ষতিকর বাগ থাকত তাহলে তা পুরা সিস্টেম কে অচল করে দিত। সব সফটওয়্যার নির্দিষ্ট ও অরক্ষিত স্পেস ব্যবহার করত। জার ফলে যেকোনো সফটওয়্যার এ একটি সমস্যা থাকলে তা অন্য সফটওয়্যার এ ছড়িয়ে পড়ত।যার ফলে সিস্টেম ক্রাশ।কিন্তু আগেরকালের পিসিগুল যথেষ্ট বিশ্বত ছিল তাদের সহজ ও সরল আর্কিটেকচারের জন্য। আর এখনকার পিসিগুলোতে আগের কালের পিসিগুলোর তুলনায় বাঁশি ক্রাশ হয়। কারন বর্তমানে পিসির জটিল আকার ধারন করা ।

আরও কারন আছে ক্রাশ হওয়ার । পিসির বর্তমান অপারেটিং সিস্টেম এর কোড সাইজের স্বাভাবিক বাড়ার কথাই ধরুন। ১৯৯২ সালের উইন্ডোজ এনটি এর অরিজিনাল ভার্সনে সোর্স কোড এর সংখ্যা ছিল ৪ মিলয়ন লাইন। আর ১৯৯৬ সালে রিলিজ হওয়া এনটি ৪.০ এ সোর্স কোড এর পরিমান দারাইছে ১৬.৫ মিলিয়ন। এর পরে যে উইন্ডোজ এনটি এর ৫.০ ভার্সন বের হইছে তাতে সোর্স কোড এর পরিমান আসিল ৩০ মিলিয়ন লাইন । এইবার বুঝেন ঠ্যালা শতকরা বাড়ার হার ৬ বছরে ৭০০% ।যদি এখানে কোন ক্ষতিকর বাগ থাকে তাহলে সিস্টেম ক্রাশ হতে কতক্ষণ লাগবে আপনারাই বের করেন?অনেক সময় সফটওয়্যার এর সমস্যার কারনেও এটি হতে পারে । যখন কোন সিস্টেম ক্রাশ করে তখন সফটওয়্যার গুলো ফেইল করে। যদি এটি কোন এপ্লিকেশন হয় তাহলে আপনাকে আনসেভড কাজ গুলা হারাতে হবে । তবে উন্নতমানের অপারেটিং সিস্টেম অবশ্যই অন্যান্য প্রোগ্রামের মেমোরি পার্টিশন রক্ষা করবে। অনেকসময় ক্রাশ করা প্রোগ্রামটি আর অনেক প্রোগ্রাম এ সমস্যা সৃষ্টি করে ফলে পুরা সিস্টেম অচল হওয়া যায়। তখন পিসি রিবুত করা ছাড়া উপাই নাই। আবার অপ্রত্যাশিত রিবুত হার্ডডিস্কে নানান জঞ্জাল বানাতে পারে। তার ফলে আপনার হার্ডডিস্ক ক্রাশ করতে পারে। তার পর আপনাকে নতুন হার্ডডিস্ক লাগাতে হবে। আবার ভাইরাস এর কারনেও সিস্টেম ক্রাশ হতে পারে। আবার নতুন এক ঝামেলা হইল কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যার চুরি। বিশেষ করে র‍্যাম চুরি । র‍্যাম চুরির ফলে সিস্টেম অন হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার এর অভাবে আপনার সিস্টেম ক্রাশ করবে।

ক্রাশ প্রতিরোধঃ


১) ভাল মানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করেন। যেমনঃ নরটন অ্যান্টিভাইরাস। অ্যান্টিভাইরাস আপনার মেমরির কিছু অংশ হয়ত দখল করবে। কিন্তু এটি আপনার কম্পিউটার কে ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখবে । আর প্রতি ৩ মাস পর পর আপনার অ্যান্টিভাইরাস টি আপডেট দিন। আর মাসে অন্তত আপনার অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে সম্পূর্ণ পিসি স্কেন করুন। কোন কিছু ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড দেয়ার পর স্কেন করে নিন।

২) আপনার কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এর ব্যাকআপ করে নিন। যদিও এটি একটি বিরক্তকর জিনিস। কিন্তু সিস্টেম ক্রাশ হলে আপনার অই গুরুত্বপূর্ণ ফাইল টি যদি না খুজে পাওয়া যায় তাহলে অইটা মনে হয় আর খারাপ হবে।

৩) সপ্তাহে অন্তত আপনার ড্রাইভ গুলো স্কেন ডিস্ক দিয়ে স্কেন করিয়ে নিন। এর জন্য আপনার ড্রাইভ এর উপর রাইট ক্লিক করে properties এ ক্লিক করুন। তার পর tools ট্যাব এ প্রবেশ করে Scan Disk এ ঢুকে আপনার ড্রাইভ টি স্কেন করুন। এটি আপনার হার্ডডিস্ক টি চেক করে এরর গুলো রিপেইর করে দিবে।

৪) প্রতি মাসে অন্তত একবার আপনার ড্রাইভ গুলো Defragment করে নিন। এতে আপনার পিসি এর পারফরমেন্স বাড়বে।

৫) স্টার্ট আপ থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করে ফেলুন।

৬) অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইন্সটল করবেন না। করা থাকলেও আনইন্সটল করে ফেলুন।

৭) বেশি প্রোগ্রাম একসাথে রান করবেন না। ফলে আপনার মাল্টিটাস্কিং সুবিধা নিতে গিয়ে সিস্টেম রিসোর্চ ঘাটতি ঘটে আপনার সিস্টেম ক্রাশ করবে ।

৮) ক্রাশ প্রটেক্টর সফটওয়্যার ব্যবহার করুন । আমি কিছু ক্রাশ প্রটেক্টর সফটওয়্যার এর নাম দিলাম। যখন কোন প্রোগ্রাম ক্রাশ করার পর্যায় এ চলে আসে তখন এসব ক্রাশ প্রটেক্টর সফটওয়্যার অপারেটিং সিস্টেম কে এটি জানায়। তখন অপারেটিং সিস্টেম অই প্রোগ্রাম টিকে চালু রাখতে সাহায্য করে ও সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালায়। যদি তা সম্ভব না হয় তখন অপারেটিং সিস্টেম প্রোগ্রাম টি থেকে আনসেভড ফাইল সংরক্ষণ করতে চেষ্টা করে।

এইখানে কয়েকটি ক্রাশ প্রটেক্টর এর নাম দিলামঃ


1) PC Medic

2) Norton Crash Guard

3) Crush Defender Deluxe

4) First Aid

5) Safe & Sound

আশাকরি পোস্টটি অনেকের কাজে লাগবে।কস্ট করে পড়ার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 + 13 =