মানিকগঞ্জের বালিয়াটি প্রাসাদ,ঘুরে দেখে আসুন

1
313
ঢাকার অদূরের একটি জেলা মানিকগঞ্জ। এর প্রতিটি উপজেলায়ই কমবেশি রয়েছে নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন। এসবের মধ্যে অনেকের পরিচিত বালিয়াটি প্রাসাদের দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী সহজেই দর্শনার্থীদের মন কাড়ে।মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি জমিদারবাড়ি। ঢাকা থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্ব দিকেimage_1164_327521 মানিকগঞ্জের বালিয়াটি প্রাসাদ,ঘুরে দেখে আসুন

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু সুরম্য প্রাচীন স্থাপনা। অনেক দূর থেকেএখনও দালানগুলোর চূড়া মন কাড়ে আগতদের। সময়ের ব্যবধানে ভবনগুলো ধ্বংসের প্রহর গুনলেও আজও ঠায় দাঁড়িয়ে জানান দেয়া বালিয়াটির জমিদারদের সেকালের সেই বিত্ত আর বৈভবের কথা। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি বালিয়াটির জমিদাররা আঠারো শতকের প্রথম ভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথমভাগ—প্রায় দুইশ বছরের এ দীর্ঘ সময়টাতে বালিয়াটির জমিদারদের সুখ্যাতি ছিল বিস্তর। এ সময়ে তারা নানা রকম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরি করেন এ এলাকায়। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি সেগুলোর অন্যতম। জানা যায়, আঠারো শতকের মধ্যভাগে জনৈক লবণ ব্যবসায়ী জমিদার গোবিন্দরাম শাহ বালিয়াটি জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। আর ক্রমান্বয়ে তার উত্তরাধিকারীরা এখানে নির্মাণ করেন আরো বেশ কিছু স্থাপনা। এখানে পূর্ববাড়ি, পশ্চিমবাড়ি, উত্তরবাড়ি, মধ্যবাড়ি এবং গোলাবাড়ি নামে বড় আকারের পাঁচটি ভবন। জমিদারবাড়ির এই বিভিন্ন অংশ বালিয়াটি জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারীরাই তৈরি করেন বলে জানা যায়। মূল প্রাসাদ কমপ্লেক্সটির একই রকম পাঁচটি অংশ আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। পূর্ব দিকের একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও বাকি চারটি টিকে আছে এখনও। মূল ভবনগুলোর সামনের দেয়ালজুড়ে নানা রকম কারুকাজ  মূর্তি চোখে পড়ে।

 imagesz মানিকগঞ্জের বালিয়াটি প্রাসাদ,ঘুরে দেখে আসুন
 বালিয়াটি জমিদারবাড়ির বিশাল কমপ্লেক্সটি উঁচু দেয়ালে ঘেরা। প্রাচীন আমলের সেই প্রাচীর এখনও টিকে আছে। এ চার দেয়ালের মাঝে এখন রয়েছে চারটি সুদৃশ্য ভবন। আর ভবনগুলোর সামনের প্রাচীর দেয়ালে রয়েছে চারটি প্রবেশ পথ। আর চারটি ভবনের পেছন দিকে আছে আরো চারটি ভবন। চারটি প্রবেশ পথের চূড়ায় রয়েছে পাথরের তৈরি চারটি সিংহমূর্তি। সিংহ দরজা পেরিয়ে বাইরে বেরোলেই দীর্ঘ পুকুর। পুকুরের জলে বালিয়াটি প্রাসাদের প্রতিচ্ছবি আজো মন ভরে দেয় সবার। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি মূলত পাঁচটি মহলে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে টিকে আছে প্রায় একই রকম চারটি মহল। আর এ চারটি মহলের মাঝের দুটি দোতলা আর দু পাশের দুটি তিন তলা। প্রায় বিশ একরেরও বেশি জমির উপরে নির্মিত এ জমিদারবাড়িতে রয়েছে ছোট-বড় দুশোর বেশি কক্ষ। পেছনের দিকে আছে বড় একটি পুকুর। শান বাঁধানো ছয়টি ঘাট আছে এ পুকুরের চার পাশে। পুকুরের চারপাশের সারিবদ্ধ কক্ষগুলো ছিল পরিচারক, প্রহরী ও অন্যান্য কর্মচারীদের থাকার জন্য। বর্তমানে বালিয়াটি জমিদারবাড়ির অবস্থা খুবই করুণ। সংস্কারের অভাবে দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি। বর্তমানে জমিদারবাড়ির ভবনগুলোতে বালিয়াটি কলেজ, ভূমি অফিসের কার্যক্রম। এ ছাড়া পেছনের দিকে পুরো বাড়িটিই রয়েছে নানাজনের দখলে।
কিভাবে যাবেন  বালিয়াটি জমিদার বাড়িঃ
ঢাকার গাবতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি সাটুরিয়ার বাস এস বি লিঙ্ক,ভাড়া ৬০ টাকা অথবা ‘জনসেবা’ বাস। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। এ ছাড়া যেকোনো জায়গা থেকে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের কালামপুর স্টেশনে এসে সেখান থেকেও লোকাল বাসে সাটুরিয়া আসতে পারেন। আবার মানিকগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড থেকে এখন সি এন জির সুব্যবস্থা আছে ।সাটুরিয়া স্টেশন থেকে বালিয়াটি জমিদারবাড়ির রিকশা ভাড়া ২০-৩০ টাকা।
যদি আপনি এখানে এক দিন বা দুই দিন থাকতে চান তাহলে কোথায় থাকবেনঃ

ঢাকা থেকে দিনে দিনেই বেরিয়ে আসা যায় মানিকগঞ্জ। আর থাকার জন্য ভালো মানের কোন হোটেলও নেই এখানে। একান্ত জরুরি থাকতে হলে সাধারণ মানের দু’একটি হোটেলের ঠিকানা হেয়া হলো। শহরের শহীদ রফিক সড়কে হোটেল, মানিকগঞ্জ আবাসিক বোর্ডিং।

Advertisement
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

পূর্বে  এখানে  প্রকাশিত

Advertisement -
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen + 9 =