বাংলাদেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন অবৈধ লাইসেন্স

0
250

ঢাকা : বাংলাদেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন অবৈধভাবে লাইসেন্স নিয়েছে এমন অভিযোগ অনেকদিন ধরেই করা হচ্ছিলো। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ দিনের অমীমাংসিত সমস্যার আজও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এদিকে সম্প্রতি সরকার গঠিত গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে গ্রামীণফোনের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়। ফলে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় সম্প্রতি টেলিনরের প্রতিনিধি, নরওয়ের বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সর্বশেষে গ্রামীণফোন বোর্ডের চেয়ারম্যান দফায় দফায় বাংলাদেশ সরকারের উচ্চমহলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি থ্রিজি নিলামে অংশ নেয়ার আগে লাইসেন্সের নিশ্চয়তা চেয়েছে গ্রামীণফোন। তারই প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, গ্রামীণ ফোনের লাইসেন্স বাতিলের কোনো ইচ্ছাই সরকারের নেই। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন থেকে নাম প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে লাইসেন্স বাতিলের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হতে চায় দেশের শীর্ষ সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। বাণিজ্যিকভাবে থ্রিজির নিলামে অংশ নেয়ার আগে এসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সিগভে বেক্কের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল গতকাল সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শর্ত পূরণসাপেক্ষে নিলামে অংশ নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

প্রতিষ্ঠানটির দেয়া শর্তের মধ্যে রয়েছে— গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন থেকে টেলিনরের নাম প্রত্যাহার, গ্রামীণফোনের ব্যবসার সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে না জড়ানো এবং মেয়াদ থাকা অবস্থায় গ্রামীণফোনের লাইসেন্স বাতিল হবে না এমন নিশ্চয়তা। এছাড়া গ্রামীণফোনে থাকা টেলিনরের শেয়ার ছেড়ে দেয়ার প্রসঙ্গটিও কমিশনের প্রতিবেদনে না রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, টেলিনর প্রতিনিধি দল গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সরকার যাতে লাইসেন্স বাতিল না করে সে বিষয়ে তারা নিশ্চয়তা চেয়েছে। গ্রামীণ ফোনের লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে না। এ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তারও কিছু নেই।

গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গ্রামীণফোনকে লাইসেন্স দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী। আর এক্ষেত্রে তাকে প্রভাবিত করেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাইসেন্স দেয়ার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কারিগরী ও আর্থিক যোগ্যতার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এর কোনটিরই মানদণ্ডে গ্রামীণ কনসোর্টিয়ামের আবেদন যোগ্য বিবেচিত হয়নি। কারিগরী ও আর্থিক মূল্যায়ন কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকার চার নম্বরে ছিল গ্রামীণ কনসোর্টিয়াম। আর তালিকার প্রথম তিন প্রতিষ্ঠান ছিল যথাক্রমে একটেল, সেবা ও টেলেস্ট্রা।

এর মধ্য থেকে একটেল ও সেবাকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়। ১৯৯৬ সালের নভেম্বরে গ্রামীন ফোন কনসোর্টিয়ামের নামেই লাইসেন্স দেয়া হয়। ১৯৯৯ সালে তা গ্রামীণ ফোন লিমিটেড নাম ধারণ করে। গ্রামীণ কনসোর্টিয়ামের নামে লাইসেন্স নিলেও ১৯৯৬-৯৯ পর্যন্ত গ্রামীণ ফোন লিমিটেডের নামে ব্যবসা চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ লাইসেন্স হস্তান্তরকে সম্পূর্ণ অবৈধ উল্লেখ করে কমিশনের প্রতিবেদনে গ্রামীণফোনের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশও করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর আশংকায় পড়ে গ্রামীণফোন ও এর সিংহভাগ শেয়ারের মালিক টেলিনর। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে নরওয়েভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টেলিনরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা একাধিকবার বাংলাদেশ সফর করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সফরকালে নরওয়ের বাণিজ্যমন্ত্রীও এসব বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তুলে ধরেন।

এর আগে গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে থাকা গ্রামীণফোন অংশটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করে টেলিনর গ্রুপ। তারা বলে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের পরিশিষ্ট-৯-এ গ্রামীণফোন সম্পর্কে তথ্যগত ও ধারণাগত ভুলগুলো সরকার শুদ্ধ করলে তা মেনে নেবে টেলিনর। টেলিনর আরও বলে, ২০১২ সালের আগস্ট মাসে গ্রামীণফোন ১৫ বছরের জন্য সম্পূর্ণ নতুন লাইসেন্স পেয়েছে। কিন্তু কমিশন এই লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছে, যা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয় এবং এর কোনো ভিত্তিও নেই।

গত ১৯ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে পাঠানো চিঠিতে টেলিনর গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এশিয়া অপারেশন্সের প্রধান সিগবে ব্রেক্কে এ কথা বলেন। বর্তমানে গ্রামীণফোনের ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক নরওয়ের টেলিনর গ্রুপ।

গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে গ্রামীণফোন লিমিটেডের লাইসেন্স অতিসত্বর স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে গ্রামীণফোনের মালিকানার লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন এই প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, টেলিনর গ্রুপ আশা করে, অভিযোগগুলোর গুরুত্ব, সংকট ও আসন্ন তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া বিবেচনা করে গ্রামীণফোন সম্পর্কে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের বিষয়গুলো অতিসত্বর পরিষ্কার করার পাশাপাশি সমাধান করা হবে।

গ্রামীণফোন সম্পর্কে কমিশনের বক্তব্যের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং তথ্যভিত্তিক নয় বলেও অভিযোগ করেছে টেলিনর গ্রুপ। কমিশনের সামগ্রিক তর্কসমূহ পক্ষপাতদুষ্ট ও সংগতিহীন উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, এর ফলে বাংলাদেশে টেলিনর গ্রুপের বিনিয়োগ ‘দখল করে নেওয়া’র সুপারিশ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কমিশনের প্রতিবেদনে গ্রামীণফোনের শেয়ারহোল্ডারদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর পক্ষে যথেষ্ট তথ্য উপস্থাপিত হয়নি, যা বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বেশ উদ্বেগের বিষয়। এসব অভিযোগ খণ্ডন ও বিনিয়োগ সুরক্ষা করতে সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে টেলিনর গ্রুপ আশা করে বলেছে, গ্রামীণফোন সম্পর্কে কমিশনের এসব প্রশ্নবিদ্ধ সুপারিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরকার সমাধান করবে। গ্রুপটি মনে করছে, গ্রামীণ ব্যাংকের কাঠামোর বাইরে কমিশনের কার্যপরিধির আওতা নেই।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা ছিল, ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর গ্রামীণ টেলিকম, নরওয়ের টেলিনর ও গণফোন একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এর মাধ্যমে গঠিত গ্রামীণফোন কনসোর্টিয়াম মুঠোফোনের লাইসেন্স নেওয়ার দরপত্রে অংশ নেয়।

কনসোর্টিয়ামে গ্রামীণ টেলিকমের সাড়ে ৪৪ শতাংশ, টেলিনরের ৫১ শতাংশ ও গণফোনের সাড়ে ৪ শতাংশ শেয়ার ছিল। সমঝোতায় বলা ছিল, কার্যক্রম শুরু হওয়ার ৬ বছর পর টেলিনর তার শেয়ার ৩৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার অভিপ্রায় থাকতে হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ টেলিকমের সেই শেয়ার প্রথমে প্রত্যাখ্যান করার অধিকার থাকবে।

এ বিষয়ে টেলিনরের বক্তব্য হলো, কমিশনের প্রতিবেদনে সমঝোতা স্মারক সইয়ের ভুল তারিখ দেওয়া হয়েছে। সব পক্ষের মধ্যে ১৯৯৫ সালের ৫ নভেম্বর সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। চিঠিতে টেলিনর বলেছে, যেকোনো মুঠোফোন কোম্পানির পরিচালনা শুরুর দিকে সাধারণত বিনিয়োগে সমস্যায় পড়ে। এখানেও ব্যতিক্রম হয়নি।

এই প্রতিষ্ঠানটিও টেলিনরের টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে মৌলিক চাহিদা বা শর্ত, যা অন্য সহযোগীদের পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব ছিল না। এই পর্যায়ে নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, মূলধনি বিনিয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি নরওয়ের প্রতিষ্ঠান নোরাডের কাছ থেকে সাড়ে সাত কোটি নরওয়েজিয়ান ক্রোনার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর মধ্যে টেলিনরের নিশ্চয়তায় সাড়ে তিন কোটি নরওয়েজিয়ান ক্রোনার পায় গ্রামীণ টেলিকম।

পরে ১৯৯৯ সালে আরও অর্থ দরকার হলে বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান সিডিসির কাছ থেকে পাঁচ কোটি ডলার ঋণ পায় গ্রামীণফোন কনসোর্টিয়াম। শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, ঋণদাতাদের নিশ্চয়তার জন্য গ্রামীণফোনের নামে লাইসেন্স হতে হবে, ঋণ নিতে হবে গ্রামীণফোনের নামে, টেলিনরের শেয়ারের পরিমাণ ৫১ শতাংশের ওপরে থাকতে হবে।

এরপর ২০০১ সালে সম্প্রসারণের জন্য আরও অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়ে। সে সময় গ্রামীণফোনে এক কোটি ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে টেলিনর। তখন অন্য মালিকদের বিনিয়োগের সক্ষমতা ছিল না। অর্থায়নকারী হিসেবে গ্রামীণ টেলিকমের কাছ থেকে কখনো ঋণ পাওয়া যায়নি।

টেলিনরের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে বৃহৎ ঋণদাতাদের ইচ্ছানুযায়ী সিদ্ধান্ত হয় যে গ্রামীণ টেলিকমের শেয়ারের অংশীদারি বিচ্যুত বা পরিবর্তন করা হবে না। এর মানে হলো, শেয়ার হ্রাস করার অভিপ্রায়ে টেলিনরের আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কোম্পানিটির পরিচালনা, আর্থিক ও ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ টেলিনরের হাতে রয়েছে। এগুলোর কোনো পর্যায়েই গ্রামীণ ব্যাংকের অংশগ্রহণ ছিল না।
লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা:

গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রতিবেদনে গ্রামীণফোনের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে মুঠোফোন লাইসেন্স পাওয়ার প্রস্তাব আহ্বানের সময় দেওয়া শর্তানুযায়ী, টেলিযোগাযোগ খাতের অভিজ্ঞতাই অন্যতম যোগ্যতা বলে টেলিনর দাবি করেছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিহীন ও দরিদ্র গ্রাহকেরাই এই মুঠোফোনের সুবিধা পাবে, শুধু এ কারণেই গ্রামীণ কনসোর্টিয়ামকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এটাকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে মনে করে টেলিনর গ্রুপ। কেননা, এ ধরনের লাইসেন্স পেতে অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতাই দরপত্রে অংশগ্রহণের পূর্বশর্ত ছিল। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের এ ধরনের যোগ্যতা ছিল না। আর লাইসেন্স পাওয়ার জন্য দরপত্রে অংশগ্রহণের প্রস্তাবে কখনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি যে এই লাইসেন্স পাওয়ার সুফল পাবে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিহীন ও দরিদ্র নারীরা।

কমিশনের প্রতিবেদনে ১৯৯৯ সালে গ্রামীণ কনসোর্টিয়াম থেকে গ্রামীণফোনের কাছে মুঠোফোনের লাইসেন্স হস্তান্তরের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। টেলিনর বলছে, লাইসেন্স হস্তান্তর করা হয়নি। যেহেতু মালিকানার কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন হয়নি, তাই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো ধরনের লাইসেন্স হস্তান্তরকে বোঝায় না। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে এ ধরনের সংশোধন করা হয়েছে। ২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এই লাইসেন্স নবায়নও করেছে।

কমিশনের সুপারিশগুলো ‘একগুঁয়েমি’ বলে উল্লেখ করে টেলিনর বলেছে, কোনো আইনেই তা সমর্থনযোগ্য নয়। আর মুঠোফোনের লাইসেন্সটি মালিক হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তরের সুপারিশও তথ্যগত ও আইনসিদ্ধ নয়। এবং কমিশনের কার্যপরিধিবহির্ভূত।

বর্তমানে গ্রামীণফোনের ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক টেলিনর গ্রুপ। গ্রামীণ টেলিকমের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার। আর বাকি ১০ শতাংশ জনগণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

গ্রামীণফোন এখন পর্যন্ত দেশে বিনিয়োগ করেছে ২৩ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশে এটাই কোনো একক কোম্পানির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। সরকারি কোষাগারে রাজস্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সবচেয়ে বড় কোম্পানি গ্রামীণফোন। গত ১৫ বছরে কোম্পানিটি সরকারি কোষাগারে দিয়েছে ৩০ হাজার ৮৭৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নানা ধরনের কর ও শুল্ক দিয়েছে ১৯ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

বিটিআরসিকে বিভিন্ন ফি হিসেবে দিয়েছে তিন হাজার ৮১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম ফি হিসেবে দিয়েছে তিন হাজার ২২ কোটি ৯০ লাখ টাকা, বিটিসিএল ও বাংলাদেশ রেলওয়েকে দিয়েছে দুই হাজার ৩০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং গ্রামীণফোন উইথহোল্ডিং কর দিয়েছে আরও দুই হাজার ৩৫৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

প্রসঙ্গত, থ্রিজির বাণিজ্যিক সেবার লাইসেন্স দিতে নিলামের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩১ জুলাই। এর আগে ১২ জুন এ নিলামের দিন নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে নিলামের আগে ভ্যাটসহ আরও বেশ কিছু বিষয় সমাধানে অপারেটরদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ে নিলামের আয়োজন করতে ব্যর্থ হয় কমিশন।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 + 8 =