পৃথিবীর নানান জায়গার রসহ্যময় কিছু কুসংস্কার ও তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (পর্ব ৬)

1
1645
এটি 11 পর্বের রহস্যময় প্রযুক্তি সিরিজ টিউনের 8 তম পর্ব

সালাম সবাইকে।ভেবেছিলাম এই ধারবাহিক টি আমি শেষ করে দিব আগে ৫টি পর্ব লিখেছিলাম। বেশ কিছু ইনবক্স পেলাম পর্বগুলো যদি পারি তাহলে যেনো আরো লিখি তাই আবারো লিখতে বসেছি এই ধারাবাহিক টি নিয়ে। আমরা জানি আমাদের বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে রয়েছে বেশ কিছু কুসংস্কার যা আমরা হয় বিশ্বাস না করতে চেয়েও এগুলোকে মানতে বাধ্য হয়ে থাকি আমাদের পরিবারের গুরুজনের কাছে। শুধু দেশেই নয় পৃথিবীর সব জায়গায় রয়েছে বেশ কিছু কুসংস্কার। কিন্তু সব কিছুর একটি ব্যাখ্যা আছে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি থেকে। তাহলে চলুন আজকে আমার শেষ পর্বে দেখি এমন কিছু কুসংস্কার যা আমরা এতদিন সত্য ভেবেছিলাম কিন্তু আসলে এগুলো শুধুই আমাদের মিথ্যা ভাবনা ছাড়া আর কিছু নয়।

পৃথিবীর নানান জায়গার অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু কুসংস্কার (পর্ব ১)

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

পৃথিবীর নানান জায়গার অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু কুসংস্কার (পর্ব ২)

পৃথিবীর নানান জায়গার অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু কুসংস্কার (পর্ব ৩)

পৃথিবীর নানান জায়গার অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু কুসংস্কার (পর্ব ৪)

পৃথিবীর নানান জায়গার অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু কুসংস্কার (পর্ব ৫)

rainbow পৃথিবীর নানান জায়গার রসহ্যময় কিছু কুসংস্কার ও তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (পর্ব ৬)

রেইনবো (Rainbow) রামধনু


রামধনুর রহস্যময় চরিত্র, যাকে মনে হয় যেন স্বর্গের সাথে পৃথিবীর সেতু বন্ধন রচনা করছে। এর অর্থ হচ্ছে কুসংস্কারী লোকেরা মনে করে এই পরিবর্তন তাদের অনুপ্রাণিত করেছে বহুকাল থেকে বহু সংস্কৃতিতে, যদিও অনেকে রামধনুকে সৌভাগ্যের মনে করে এবং তারা এটা দেখতে পেলে একটা কিছু ইচ্ছা প্রকাশ করে। খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় পুরানে দাবি করা হয় যে, রামধনু হচ্ছে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি যে, তিনি ভবিষ্যতে আর কোনোদিন সেইরূপ বন্যা দেবেন না যেরূপ বন্যা দিয়েছিলেন এবং নুহ নবীর নৌকার ইতিহাসে যা ঘটেছিল।

যাইহোক অনেকে এই ধারণা গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করে যে, তিব্বতের মধ্যবর্তী স্থানে বসবাসকারী লোকদের ওপর এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ার জন্য রামধনু একটা ইতিবাচক আশ্বাসবাণী। উপরন্তু তারা এর উপস্থিতিকে একটা মৃত্যুর অশুভ লক্ষণ বলে ব্যাখ্যা করে। সম্ভবত এই ধারনা এসেছে সাধারণ মানুষের স্মৃতি থেকে যাকে পর্সদের শুরুকাল থেকে স্বর্গের সিঁড়ি হিসেবে কল্পনা করা হতো, যার ওপর দিয়ে মৃতেরা (বিশেষ করে শিশুরা) স্বর্গে প্রবেশ করে। শেটল্যান্ড দ্বীপে উদাহরণস্বরূপ এক প্রস্থ রামধনু কারো বাড়ির ওপর দেখতে পেলে তারা সেটাকে মৃত্যুর একটা অশুভ লক্ষণ বলে ধরে নেয়। বহুস্থানের বহু কুসংস্কারের রামধনুর খারাপ প্রভাবকে প্রত্যাখ্যান করা হয়ে থাকে।

কোনো কোনো অঞ্চলে রামধনুকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার জন্য গান গাওয়া হয়। আবার অন্য স্থানের লোকেরা দুটো লাঠি বা দুটো খড় একসাথে ক্রস করে রাখে যেন রামধনু শেষ হয়ে যায়। রামধনুর প্রতি কাউকে আঙুলি নির্দেশরত দেখলে তাও অবিবেকী কাজ বলে বিবেচিত হয়। কারণ তার ফলে আবার বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে অথবা আরো বেশি দুর্ভাগ্যকে ডাকা হতে পারে। আরো বেশি ইতিবাচক প্রথা হচ্ছে যে, যদি সঠিকভাবে স্থানটি খুঁজে পাওয়া যায় তবে রামধনুর শেষ প্রান্ত যে স্থানে নির্দেশ করে সেখানে একপাত্র স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে।

Raven পৃথিবীর নানান জায়গার রসহ্যময় কিছু কুসংস্কার ও তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (পর্ব ৬)

র‌্যাভেন (Raven) দাঁড়কাক
অন্য কালো পাখির মতো দাঁড়কাক (প্রাচীন গ্রিক ও স্কন্ডেনেভিয়ার রাজাদের সহচরী) এটাকেও ব্যাপকভাবে অশুভ প্রাণী বলে মনে করা হয় এবং তাকে ভয় করা হয়। কারণ তার তাৎক্ষণিক ক্ষমতা আছে সে মৃত্যুকে পূর্বেই দেখতে পারে। এই পাখিটিকে অপছন্দ করা হয় বিশেষভাবে কোনো অসুস্থ রোগীর আশপাশে উপস্থিত হলে। কারণ এর ডাক হচ্ছে মৃত্যুর অগ্রদূত। অনেক সময় তার ডাক শোনা যায় করপস, করপস শব্দের মতো-যার অর্থ হচ্ছে মৃতদেহ। এটা এমন একটা কুলক্ষণ যে এই ডাক শুনলে রোগী আর ভালো হবে না। বিগত দিনে বলা হতো যে পাখিটি ছদ্মবেশ ধারণকারী শয়তানের প্রিয়। এটা তার পাখা দ্বারা দেশের মধ্যে রোগ ব্যাধি ছড়ায়। অনেক সময় বলা হয়ে থাকে যে এই মৃত্যুর সাথে যোগাযোগের কারণ হচ্ছে পাখিটির অত্যন্ত বেশি সূক্ষ্ম ঘ্রাণ নেয়ার ক্ষমতা। যার ফলে অনেক দূর থেকেও যেন শরীরের মাংসের সামান্যতম অবক্ষয়েরও ঘ্রাণ পায়। আরো শোনা যায় যে, ইংল্যান্ডে সতেরশ খ্রিষ্টাব্দে যখন নর্ম্যান আক্রমণকারীরা প্রবেশ করে তখন তারা তাদের পতাকায় এনেছিল দাঁড়কাকের ছবি। এভাবে ইংরেজদের মনে দাঁড়কাক সম্বন্ধে একটা যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসের ছবি এঁকে গিয়েছিল।

razzor পৃথিবীর নানান জায়গার রসহ্যময় কিছু কুসংস্কার ও তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (পর্ব ৬)

রেজর (Razor) ক্ষুর
কুসংস্কারে বলা হয় ক্ষুর যা প্রায় চাকুর মতোই কাউকে উপহার দেয়ার অযোগ্য। কারণ কোনো ধরনের ফলক উপহার দেয়ার অর্থ হচ্ছে বন্ধুত্ব ছুটে যাওয়ার বিপদ। একইভাবে আটলান্টিক মহাসাগরের দুইপাড়েই একটা প্রথা হচ্ছে ক্ষুর পথে দেখতে পাওয়া হচ্ছে দুর্ভাগ্যের কারণ।

Recognition পৃথিবীর নানান জায়গার রসহ্যময় কিছু কুসংস্কার ও তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (পর্ব ৬)

রিকগনিশন () স্বীকৃতি
একটি অমঙ্গলসূচক ব্রিটিশ কুসংস্কার অনুযায়ী একজন আগন্তুককে অন্য কেউ বলে ভুল করলে তা হবে অশুভ এবং দুর্ভাগ্যজনক। এরূপ ভুল হলে যে লোকটির জন্য ভুল করা হলো সেই লোকটি অতি তাড়াতাড়ি মারা যাবে বলে ধারণা করা হয়।

Series Navigation << পৃথিবীর নানান জায়গার অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু কুসংস্কার (শেষ পর্ব ৫)রসহ্যময় কিছু কুসংস্কার ও তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (পর্ব ৭ – লাল রঙ,রিবন,চাল,দান দিক) >>
টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

two + 1 =