পাওয়ারপয়েন্টে প্রোজেন্টেশনঃ পর্ব ৪ যুক্ত করা ভিডিও/অডিও ফাইলের লক্ষণীয় বিষয়

0
277

আসা করি আমার সাথে নিয়মিত পরছেন পাওয়ারপয়েন্টে প্রোজেন্টেশন তৈরি করা টিউটোরিয়াল গুলো। তবে আপনাদের আরো বেশী ফিদব্যাক আসা করি আমি। আজকে আমরা দেখে নিব কিছু গুরুত্যপুরন ব্যপার। এই সিরিজের শেষ পর্ব আজকে লিখছি মিস করবেন না আসা করি। সামনেই আসা আছে এনিমেশন নিয়ে বিস্তারিত একটি কয়েক পর্বের টিউটোরিয়াল লিখার।

power point পাওয়ারপয়েন্টে প্রোজেন্টেশনঃ পর্ব ৪ যুক্ত করা ভিডিও/অডিও ফাইলের লক্ষণীয় বিষয়অবশ্যই দেখে নিন আপনার তৈরি স্লাইডে যুক্ত ভিডিও/অডিও ফাইলের ব্যাপারে কিছু ব্যাপার লক্ষ রাখা জরুরি, তা হচ্ছে-

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

০১.
স্লাইডে যুক্ত করা ভিডিও/অডিও ফাইল স্লাইডের সাথে একেবারে যুক্ত হয়ে যায় না, যেমনটি কোনো ছবি বা ক্লিপ আর্টের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে শুধু ভিডিও ও অডিও ফাইলের একটি লিঙ্ক সংযুক্ত হয়। তাই পাওয়ারপয়েন্ট ফাইলের সাথে যুক্ত করা ভিডিও ফাইলটিও অন্য পিসিতে প্রেজেন্টেশন দেয়ার আগে সে পিসিতে কপি করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় একটি ফোল্ডার খুলে সেখানে ভিডিও ফাইলটি রাখতে হবে। এরপর স্লাইডে ফাইলটি সেই ফোল্ডারের লোকেশনে থেকে লিঙ্ক করতে হবে। প্রেজেন্টেশন ফাইল অন্য কোথাও স্থানান্তরের সময় সেই ফোল্ডারসহ কপি করে নিতে হবে।

০২.
ভিডিও ফাইলের সময়পরিধি বেশি না থাকাই ভালো। কারণ, বেশি সময় ধরে চলা ভিডিও ফাইল অনেকের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারে। তাই বড় আকারের ভিডিও ফাইল হলে তা কেটে নিতে হবে ৪৫-৬০ সেকেন্ডের ক্লিপ আকারে এবং আলাদাভাবে চালাতে হবে।

০৩.
একই স্লাইডে অনেক ভিডিও ফাইল চালানো যায়। তবে সেক্ষেত্রে ভিডিও প্লেয়ারের আকৃতি ছোট হয়ে যায়, তাই একটি স্লাইডে একটি ভিডিও ফাইলের জন্য স্থান রাখা ভালো।

০৪.
বড় আকারের ভিডিও কেটে তা ছোট ছোট খন্ডে বিভক্ত করার জন্য ভিডিও কাটার সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। অনেক ধরনের ভিডিও কাটার রয়েছে, তবে উইন্ডোজ এক্সপির সাথেই দেয়া থাকে উইন্ডোজ মুভি মেকার নামের ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। উইন্ডোজ ভিসতা ও সেভেনের ক্ষেত্রে তা দেয়া থাকে না, তবে মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইট থেকে তা বিনামূল্যে ডাউনলোড করে নেয়া যায়।

০৫.
পাওয়ার পয়েন্টের নতুন ভার্সনে স্লাইডে যুক্ত করা ভিডিও বা অডিও ফাইলের ওপরে রাইট বাটন ক্লিক করে সেখান থেকে Trim Video/Audio অপশনটি থেকে ভিডিও বা অডিও ফাইলের নির্দিষ্ট অংশ সিলেক্ট করে তা চালানোর ব্যবস্থা করা যায়। তাই অডিও ফাইল কাটার জন্য আলাদা কোনো সফটওয়্যারের সাহায্য লাগে না।

০৬.
ভিডিও ফরমেটের বেলায় নতুন পাওয়ারপয়েন্ট পুরনো ভার্সনের চেয়ে বেশি ফরমেট সাপোর্ট করে থাকে। সাপোর্ট করা ভিডিও ফাইলগুলো হচ্ছে- asf, avi, QuickTime movie file, mpeg, mpeg-2, wmv ও Adobe Flash Media।

০৭.
পাওয়ারপয়েন্টে সাপোর্ট করা অডিও ফাইলগুলো হচ্ছে- mp3, midi, mp4 audio, au, aiff, wav I wma।

০৮.
সাপোর্ট করা ভিডিও বা অডিও ফাইলের ফরমেটের বাইরে যদি অন্য কোনো ফরমেটের ফাইল যুক্ত করতে হয়, তবে তা ভিডিও/অডিও কনভার্টার সফটওয়্যার দিয়ে কনভার্ট করে সাপোর্ট করা ফরমেটে নিয়ে তা সংযুক্ত করতে হবে।

অন্যান্য কিছু বিষয়


প্রেজেন্টেশনের সময় স্লাইডগুলো পর্দায় ভেসে ওঠার আগে এক ধরনের অ্যানিমেশন দেখানোর ব্যবস্থা করা যায়, একে ট্রানজিশন বলা হয়। পাওয়ারপয়েন্টে অনেক ধরনের ট্রানজিশন রয়েছে। তবে আলাদা করে আরো কিছু নতুন ট্রানজিশন ডাউনলোড করে নেয়া যায়। প্রেজেন্টেশনের স্লাইডগুলো পরিবর্তনের সময়পরিধি ও অ্যানিমেশনের সময়পরিধি বেশি না হওয়াই ভালো। ট্রানজিশন প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হওয়ার কমান্ড দেয়া উচিত। স্লাইডের টাইটেল বা হেডলাইনগুলো ভিন্ন কালার, বোল্ড বা ওয়ার্ড আর্টের সাহায্যে প্রদর্শন করলে ভালো দেখায়। স্লাইডে লেখা টেক্সটের আকার যেনো বেশি ছোট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ টেক্সটের ফন্ট সাইজ ২০ থেকে ৩২-এর মধ্যে এবং টাইটেলে ব্যবহার করার ফন্টের আকার ৩০ থেকে ৪৪-এর বেশি বা কম হলে দেখতে খারাপ লাগে। স্লাইডে যত কম লেখা যায় তত ভালো। তাই গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো বুলেটপয়েন্ট দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে লেখা উচিত। স্লাইডের ব্যাকগ্রাউন্ডের কালার বেশি গাঢ় বা বেশি হালকা ব্যবহার না করে মাঝারি ও রুচিসম্মত কালার ব্যবহার করতে হবে। স্লাইড সুন্দর করার লক্ষ্যে তা বেশি রঙ ব্যবহার করে সঙ সাজানোর দরকার নেই, এতে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা আছে।

পুরনো ভার্সনের চেয়ে পাওয়ারপয়েন্টের নতুন ভার্সনে আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু নতুন অপশন, যার সাহায্যে অনেক সহজে কাজ করা যায়। এসব অপশন ব্যবহার করে স্লাইডে যোগ করা যায় নতুন এক মাত্রা যা আগে করা সম্ভব ছিল না। নতুন ভার্সনে পুরনো ভার্সনের সব অপশনের পাশাপাশি দেয়া নতুন কিছু অপশনের তালিকায় রয়েছে- বিভিন্ন ধরনের শেপ, স্মার্ট আর্ট, নতুন কিছু ওয়ার্ড আর্ট, ফটো অ্যালবাম যুক্ত করার ব্যবস্থা ও স্ক্রিনশট স্লাইডে নেয়ার ব্যবস্থা। এছাড়াও রয়েছে অনেক ধরনের স্লাইডের মডেল ও ট্রান্সজিশন সিস্টেম যা স্লাইডগুলোকে করে তুলবে আরো মনোরম। আরো যুক্ত করা হয়েছে অ্যানিমেশন যুক্ত করার বিশেষ ও অবাক করার মতো কিছু কৌশল, যা অনেকাংশে পাওয়ারপয়েন্টে ফ্ল্যাশে বানানো অ্যানিমেশন ফাইলের চাহিদা দূর করতে সক্ষম।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

মন্তব্য দিন আপনার