দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে বিকল্প সৌরশক্তি হতে পারে আমাদের আশীর্বাদ

0
640

সৌরশক্তি সংরক্ষণে বিশ্ব প্রেক্ষাপট
আধুনিক সভ্যতার মূল ভিত্তি শক্তি। এর সরবরাহ যার যত বেশি, সে প্রতিযোগিতার বাজারে তত বেশি দিন টিকে থাকবে। ২০০৯ সালে ফটোভল্টেক পাওয়ার স্টেশন থেকে প্রথম ২১ গিগাওয়াট শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এরপর থেকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সন্ধান ও উৎপাদনে উন্নত দেশগুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করে চলেছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারত উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ভারতে বর্তমানে মোট প্রয়োজনের প্রায় ১১ শতাংশ শক্তির সরবরাহ হয় নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে। যার এক শতাংশ আসে সৌরশক্তি থেকে। ২০০৯ সালে মাত্র ১৮ মেগাওয়াট শক্তি উৎপাদন করে ভারত। আর এ বছরে এর পরিমাণ দাঁড়াবে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াটের ওপরে। তবে ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিমাণটা খুবই কম মনে হতে পারে। আশার বিষয় হলো, ২০১৩ সালে এ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১০০০ মেগাওয়াট। আর বর্তমান শক্তিনীতি অনুযায়ী ২০২০ সালে ভারত ২০ গিগাওয়াট সৌরশক্তি উৎপাদন করবে, যা কিনা ২০০৯ সালের বিশ্বের মোট উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাবে। সৌরশক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতের পাশাপাশি চীনও ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোতেও সৌরশক্তিচালিত পাওয়ার স্টেশন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর এ আয়োজন বেশি চোখে পড়ছে জার্মানি ও স্পেনে। উন্নত দেশগুলো নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করলেও এখন পর্যন্ত সৌরশক্তি সঞ্চয় প্রকল্পে প্রাথমিক বিনিয়োগ যথেষ্ট ব্যয়বহুল।

solar power দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে বিকল্প সৌরশক্তি হতে পারে আমাদের আশীর্বাদ

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

সৌরশক্তি সংরক্ষণে দেশের প্রেক্ষাপট


সৌরশক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সৌরালোকসহ নবায়নযোগ্য অন্যান্য শক্তির মজুদ করতে পারলে আমাদের দেশও নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে বিদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করতে সক্ষম হবে। তবে এ জন্য সবার সম্মিলিত সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টা থাকতে হবে। নবায়নযোগ্য শক্তি উৎসের কোনো অভাব আমাদের নেই। শুধু প্রয়োজন এই উৎসকে ব্যবহার করার জন্য সঠিক বিনিয়োগ। এ বছরের জানুয়ারিতে সৈয়দপুর ও সান্তাহারে ১০০ মেগাওয়াট ও ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসমপন্ন দুটো বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পপনা চলছে। এটি হয়তো অনেকের কাছেই আশাব্যঞ্জক একটি পদক্ষেপ মনে হবে। কিন্তু দুর্লভ এই পণ্য তৈরিতে আপাতত সমস্যার আংশিক সুরাহার চেয়ে প্রয়োজন দীর্ঘস্থায়ী সমাধান। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র চলবে মূলত ফার্নেস অয়েলে, যা একদিকে ব্যয়বহুল, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব নয়। এ ধরনের বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় পড়ে। এখন থেকেই স্বল্পমেয়াদি শক্তিনীতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি শক্তিনীতির দিকে নজর না দিলে আমরা বহির্বিশ্ব থেকে পিছিয়ে পড়ব কয়েক গুণ। আর এ কারণেই দীর্ঘমেয়াদি শক্তিনীতির আওতায় সৌরশক্তিকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের উচ্চ সৌর ‘ইনসোলেশন’ এবং ব্যাপকসংখ্যক গ্রাহক থাকায়, প্রাথমিক পর্যায়ে এ প্রকল্পে বিনিয়োগ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এটি হতে পারে বাস্তবসম্মত সমাধান। বিশেষ করে এই শক্তির কাঁচামাল ঝুঁকিহীন ও সহজলভ্য এবং পরিবেশবান্ধব।

solar-panel-diagram দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে বিকল্প সৌরশক্তি হতে পারে আমাদের আশীর্বাদ

সৌরশক্তি রক্ষণাবেক্ষণ


সূর্যের আলোকে সরাসরি সৌরশক্তিতে পরিণত করা হয় সৌরসেলের মাধ্যমে। সৌরসেলকে ফটোভল্টেক সেলও বলা যায়। একাধিক সৌরসেলকে একত্র করে তৈরি করা হয় সৌর মডিউল বা প্যানেল। সৌর প্যানেলে যে সৌরশক্তি উৎপাদন হয়, তা হলো সৌরক্ষমতা। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ‘ফটোভল্টেক’ ব্যবহার করা হয়। ফটোভল্টেক হলো, সরাসরি সূর্য থেকে আলোকশক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার প্রক্রিয়া ও গবেষণা। সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত শক্তিকে বিদ্যুৎ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ব্যবহার করা হয় ‘ইনভার্টার’। এর মাধ্যমে শক্তিকে বৈদ্যুতিক গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করা হয়। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন না থাকলে ব্যাটারির মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে রাখা হয়।

images22 দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে বিকল্প সৌরশক্তি হতে পারে আমাদের আশীর্বাদ

সৌরশক্তির বহুবিধ ব্যবহার


সৌরশক্তি সম্পূর্ণ বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। সৌরশক্তি বাংলাদেশের গ্রামীণ অবস্থা ও জীবনযাত্রাকে একেবারেই বদলে দিতে পারে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতায়ন ছাড়াও সৌরশক্তির সাহায্যে জলসেচসহ বিদ্যুৎচালিত যাবতীয় কর্মকাণ্ডে সৌরশক্তি ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরশক্তির ব্যবহারে জনগণকে আকৃষ্ট করার কাজ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌরশক্তি হতে পারে বিদ্যুতের উৎকৃষ্ট সমাধান। গ্রামাঞ্চলে যেখানে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, সেখানে কেরোসিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে গ্রামে ১০ থেকে ২০ ওয়াটের ছোট ছোট এসএইচএস বাল্ব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সৌরশক্তির কল্যাণে। প্রতিবছর সেচপাম্পগুলো প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ঘটায়। তাই বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনে বর্তমানে সেচকাজেও সৌরশক্তি ব্যবহার হচ্ছে। শহরাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের সন্তোষজনক বা বিকল্প সমাধান দিতে পারে সৌরশক্তি। বিশেষ করে রাজধানীর বিশাল জনগোষ্ঠীর বিদ্যুৎ সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। রাজধানীজুড়ে রয়েছে অসংখ্য বড় বড় দালানকোঠা। আর এ দালানকোঠার ছাদ হতে পারে সৌরশক্তি সংগ্রহের বিশাল ভাণ্ডার। বিশেষ করে অনেক আবাসিক ফ্ল্যাটে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয় বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও ব্যয়বহুল। কিন্তু একটু সচেতন হলেই ফ্ল্যাটের ছাদে সৌরপ্যানেল ব্যবহার করে নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব। প্রথম পর্যায়ে একটু ব্যয়বহুল হলেও এটি পরিবেশবান্ধব ও শক্তির নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। শহরের হাইরাইজ ভবনগুলোর ছাদ হতে পারে উৎকৃষ্ট পাওয়ার হাউস। বিশেষ করে বড় বড় শপিং সেন্টারে বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধে সৌরশক্তি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকি থেকে রক্ষা পেতে নিজেদের তাগিদেই আমাদের সৌরশক্তি ব্যবহারে সচেষ্ট হওয়া উচিত।

images দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে বিকল্প সৌরশক্তি হতে পারে আমাদের আশীর্বাদ

সৌরশক্তি ব্যবস্থাপনা


বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় শক্তিনীতি তৈরি হয় ১৯৯৬ সালে। এরপর থেকে এ নীতি বাস্তবায়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। নীতির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগসহ অন্যান্য গবেষণাকেন্দ্রের ভূমিকা ও উপস্থিতি ততটা জোরদার না থাকায় সৌরশক্তি ব্যবস্থাপনা পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশে। সৌরশক্তি উৎপাদনে বিশ্ব প্রচুর পরিমাণে এগিয়ে গেছে এবং এই অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে; বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ এখনো সৌরশক্তি সংগ্রহের দৌড়ে সফল অংশীদার হতে পারেনি। কারণ এই শক্তি সংরক্ষণের কাঁচামাল এখনো সহজলভ্য হয়নি ।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

two + 6 =