মোবাইল ফোন ক্রাইম চলছে প্রযুক্তির নানা কৌশলে ব্যবহার করে

1
885

অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ‘মোবাইল ফোন ক্রাইম’। সরকারের কোনো উদ্যোগই ঠেকাতে পারছে না এই অপরাধ। ‘ই-মোবাইল’ ও ‘আইএমইআই কোড বিহীন সেট’ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাণনাশ, চাঁদাবাজির হুমকি ও নারীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনা গোটা সমাজে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করেছে। প্রযুক্তির কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে এ অপরাধ বৃদ্ধির নেপথ্যে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোতে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও মোবাইল সেট আমদানিকারকদের একটি বিশাল সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

cayapath মোবাইল ফোন ক্রাইম চলছে প্রযুক্তির নানা কৌশলে ব্যবহার করে

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

ধনাঢ্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি থেকে পেশাজীবী সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবার কাছে মোবাইলের মাধ্যমে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে চাঁদাদাবি এখন মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশাল অঙ্কের চাঁদার দাবির বিপরীতে তাদের প্রাণনাশ, স্ত্রী সন্তানদের অপহরণের আলটিমেটাম, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা ইত্যাদি হুমকির ফলে অনেকের জীবনযাত্রায় উদ্বেগজনক পরিবর্তন এসেছে। কেউ কেউ এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, তারা ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। অফিস, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বাজার ঘাটে যাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন অনেকেই। স্ত্রী সন্তানদের স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ করা ছাড়াও বাড়ির সব ফোন লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ র‌্যাব-পুলিশের সহায়তাও নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। এমতাবস্থায় অপরাধীদের হাত থেকে সাধারণ নাগরিকদের রক্ষায় তেমন কিছুই করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)।

২০০৮ সালের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মোবাইল ফোন ক্রাইম প্রতিরোধে একটি কমিটি গঠন করে। বিটিআরসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এ কমিটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু তথ্য সূত্রে জানা যায়, এ কমিটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল সিম ব্লকের সিদ্ধান্ত ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিটিআরসি গত ২০০৮ সালে তিন হাজার ৪৯১টি, ২০০৯ সালে এক হাজার ৯২টি এবং ২০১১ সালে চার হাজার ২০৭টি সিম ব্লক করেছে। এ ব্যাপারে বিটিআরসি সূত্র জানায়, শুধু অভিযোগ এলেই তারা সিম ব্লক করতে পারে। তবে ব্লককৃত সিমগুলো মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে শনাক্ত করে এর ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় আনার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। র‌্যাব ও পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ইতঃপূর্বে এ ধরনের উদ্যোগ নিলেও মোবাইল অপারেটরদের অসহযোগিতায় বিষয়টি সফল হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

120410060745214 মোবাইল ফোন ক্রাইম চলছে প্রযুক্তির নানা কৌশলে ব্যবহার করে

সম্প্রতি র‌্যাবের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, অপরাধীরা মোবাইল ক্রাইম করতে প্রযুক্তির কৌশল ব্যবহার করছে। তারা সাধারণ মোবাইল কলের পরিবর্তে ব্যবহার করছে ইন্টারনেট কল। ফলে ফোন কলগুলো দেশের ভেতর না বাহির থেকে আসছে তা বোঝার কোনো উপায় থাকছে না। ই-কল হওয়ায় সিম ব্যবহারকারীকেও শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তা ছাড়া মোবাইল সেট ব্যবহারে অপরাধীরা আইএমইআই কোড নম্বরবিহীন সেট ব্যবহার করছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবেই তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে না। সম্প্রতি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধ বন্ধে বিটিআরসি প্রি-অ্যাকটিভ সিম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিতের পরই সিম কার্যকর হবে।

আগামী ১১ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হবে। ডাটা ব্যাংকে গ্রাহকদের পরিচয় থাকলে সে নম্বরের ব্যক্তিকে মুহূর্তের মধ্যেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বর্তমানে যে প্রায় ১০ কোটি মোবাইল সিম বাজারে রয়েছে সেগুলোর ব্যবহার নিয়ে। এর মধ্যে কি পরিমাণ সিম অপরাধী, ভুয়া পরিচয়দানকারী ও ভিওআইপি ব্যবসায়ীদের হাতে রয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর কাছে নেই। ফলে অবৈধ সিম ব্যবহারকারীদের সহসাই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়ি থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ২০ হাজার মোবাইল সিম উদ্ধার হয়েছে। সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ব্যাপক তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের চিফ কমান্ডার এম সোহায়েল। এ ধরনের অপরাধে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির অসাধু কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে বলেও র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে।

phone মোবাইল ফোন ক্রাইম চলছে প্রযুক্তির নানা কৌশলে ব্যবহার করে

অপর দিকে বাংলাদেশ ব্রিটিশ অ্যাপ্রুভাল বোর্ড ফর টেলিকমিউনিকেশনের (বিএবিটি) সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এখানে মার্কেটগুলোতে প্রকাশ্যেই ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনন্টিটি (আইএমইআই) কোড বিহীন মোবাইল সেট বিক্রি হচ্ছে। হাতেগোনা দুই তিনটি ব্রান্ডের কোম্পানি ছাড়া কম দামি কোনো মোবাইল সেটেরই আইএমইআই কোড নেই। চায়না থেকে আমদানিকৃত সেটগুলোর বেশির ভাগেরই এ কোড নেই। বিক্রেতারা কেউ কেউ ভুয়া কোডের স্টিকার বানিয়ে সেটে লাগিয়ে দিচ্ছে। মোবাইল ব্যবহারকারীকে শনাক্তকরণের আন্তর্জাতিক পন্থা আইএমইআই কোড। এ কোডধারী ব্যক্তি বিশ্বের যেখানেই থাকুক তাকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশের বেশির ভাগ মোবাইলেই এ কোড না থাকায় সে সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না অপরাধ দমনে।

ইতঃপূর্বে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একটি আইএমইআই কোড ব্যবহার করে অপরাধীরা ১৯৮টি মোবাইল সেট ব্যবহার করছে। ২০০৯ সালে সিআইডি ২৪ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী ভারত, নেপাল ও দুবাইয়ে অবস্থান করে ই-মোবাইলের মাধ্যমে দেশে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে বলে শনাক্ত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ক্রাইম প্রতিরোধে বিটিআরসির প্রি-অ্যাকটিভ সিম চালু প্রক্রিয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে মোবাইল অপারেটরদের সহায়তায় পুরনো ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত সিমগুলো শনাক্তকরণ এবং একই সাথে আইএমইআই কোডবিহীন মোবাইল সেট বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

  1. ভাই আপনি মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখেছেন true false মিক্স করে..:)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

one + 9 =