ডীপ ব্লু কম্পিউটার এর কথা শুনেছেন? না শুনলে এখুনি দেখুন!!!

2
368

ডীপ ব্লু (ইংরেজিঃ Deep Blue) দাবা খেলার উপযোগী যন্ত্রচালিত কম্পিউটার বিশেষ। এটি আইবিএম বা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন কোং কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছিল। ১১ মে, ১৯৯৭ তারিখে এ যন্ত্রটি তৎকালীন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন গ্যারী কাসপারভের বিরুদ্ধে ছয়টি দাবা খেলায় অংশ নেয়। তন্মধ্যে যন্ত্রটি দু’টিতে জয়, তিনটিতে ড্র এবং একটিতে পরাজিত হয়।কাসপারভ আইবিএমের বিরুদ্ধে প্রতারণার দাবী উত্থাপন করেন এবং প্রতিযোগিতাটি পুণরায় অনুষ্ঠানের জন্য দাবী জানান। কিন্তু আইবিএম কর্তৃপক্ষ তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ডীপ ব্লুকেই বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করেন। উল্লেখ্য, কাসপারভ ১৯৯৬ সালে ডীপ ব্লু’র পুরনো সংস্করণকে পরাজিত করেছিলেন।

Deep_Blue ডীপ ব্লু কম্পিউটার এর কথা শুনেছেন? না শুনলে এখুনি দেখুন!!!
ডীপ ব্লু, দাবা খেলার উপযোগী যন্ত্রচালিত কম্পিউটার

বনাম কাসপারভ

১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালে ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়ায় শুরু হওয়া যন্ত্র বনাম মানুষের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক খেলা শুরু হয়। এর মাধ্যমেই ডীপ ব্লু প্রথমবারের মতো ঐ সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও শীর্ষস্থানীয় ইলো রেটিংধারী দাবাড়ুর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। এতে সাদা ঘুঁটি ও সিসিলিয়ান ডিফেন্স (বি২২) ১ম খেলায়ই এটি নিয়মিতভাবে সময় নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন গ্যারী কাসপারভকে পরাভূত করে।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

অবশ্য পরবর্তী ৫টি খেলায় কাসপারভ নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে নেন। যাতে তিনি ৩টিতে জয়ী এবং বাকী ২টিতে ড্র করেন। সামগ্রীকভাবে ফলাফল ছিল কাসপারভ (৪) – ডীপ ব্লু (২)। (দাবায় জয়ী হলে ১ পয়েন্ট, ড্র / পয়েন্ট এবং পরাজিত ০ পয়েন্ট হিসেবে নিরূপণ করা হয়।) এর মাধ্যমে নিঃসন্দেহে তিনি যন্ত্রচালিত দাবা কম্পিউটার হিসেবে ডিপ ব্লু’র উপর মানুষের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালে প্রতিযোগিতাটি শেষ হয়।

পরবর্তীকালে ডীপ ব্লুকে আরো উন্নয়ন ও উন্নততর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অনানুষ্ঠানিকভাবে একে ডীপার ব্লু নামে নামাঙ্কিত করা হয়। মে, ১৯৯৭ সালে ডীপ ব্লু পুণরায় কাসপারভের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ৬ খেলার প্রতিযোগিতায় এটি ৩/-২/ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়। ১১ মে, ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত সমাপণী খেলার মাধ্যমে ও কাসপারভের শুরুতেই ভুলের কারণে প্রথম কম্পিউটারচালিত প্রোগ্রাম হিসেবে মানুষের বিরুদ্ধে জয় পায়। এ দাবা প্রতিযোগিতার সময় নিয়ন্ত্রণকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছিল।

ডীপ ব্লু বনাম গ্যারী কাসপারভ

ডীপ ব্লু কম্পিউটার এর কথা শুনেছেন? না শুনলে এখুনি দেখুন!!!
ডীপ ব্লু কম্পিউটার এর কথা শুনেছেন? না শুনলে এখুনি দেখুন!!!
 ১ম ম্যাচ
 ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬: ফিলাডেলফিয়া, পেনিসিলভ্যানিয়ায় অনুষ্ঠিত
  •  ফলাফল: কাসপারভ–ডীপ ব্লু (৪–২)
  •  রেকর্ড: ১ম কম্পিউটার প্রোগ্রাম হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের কাছে প্রতিযোগিতার নিয়মানুসারে পরাজিত

 ২য় ম্যাচ (পুণরায়)

  •  ১১ মে, ১৯৯৭: নিউইয়র্ক সিটি, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত
  •  ফলাফল: ডীপ ব্লু-কাসপারভ (৩/–২/)
  • রেকর্ড: ১ম কম্পিউটার প্রোগ্রাম হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে প্রতিযোগিতার নিয়মানুসারে পরাভূত
গ্যারী কাসপারভ
বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন

বৈশিষ্ট্যাবলী

ডীপ ব্লুকে দাবা খেলার উপযোগী লিখিত প্রোগ্রাম হিসেবে সি প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হয়েছিল। এআইএক্স অপারেটিং সিস্টেমে এটি পরিচালনা করা যায়। প্রতি সেকেন্ডে ডীপ ব্লু ২০০ মিলিয়ন ঘুঁটি চালনায় সক্ষম ছিল যা ১৯৯৬ সালের সংস্করণ বা ভার্সনের তুলনায় দ্বিগুণ গতিসম্পন্ন। জুন, ১৯৯৭ সালে এটি ছিল বিশ্বের ২৫৯তম সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার। উচ্চ গতিসম্পন্ন লিনপ্যাক বেঞ্চমার্ক অনুসারে টপ৫০০ তালিকায় ডীপ ব্লু ১১.৩৮ জিএসএলওপিএস অর্জন করে।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

2 মন্তব্য

  1. জটিল জিনিস টা এখন পরিষ্কার হয়ে গেল। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ।

মন্তব্য দিন আপনার