পুলিশ এবং বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস যৌথভাবে সাইবার সিকিউরিটির কাজ করছে: সুজন চক্রবর্তী

1
464
পুলিশ এবং বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস যৌথভাবে সাইবার সিকিউরিটির কাজ করছে: সুজন চক্রবর্তী

বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস

আমাদের সম্পর্কে:
সাইবার ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশ কে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্যই আমাদের এই প্রচেষ্টা । তবে, আমারা কোনরূপেই বাংলাদেশী কোন ওয়েবসাইট নিয়ে কোন প্রকার এক্সপেরিমেন্ট করি না এবং করব না । আপনি আমাদের সাথে কাজ করতে হলে অথবাফেইসবুক গ্রুপে আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে অবস্থান করতে হলে আমাদের গ্রুপ এর নীতি মালাগুলো মেনে চলতে হবে
পুলিশ এবং বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস যৌথভাবে সাইবার সিকিউরিটির কাজ করছে: সুজন চক্রবর্তী

হ্যাকার নিয়ে মানুষের মনের মধ্যে অনেক প্রশ্নের বসবাস। তাদের সম্পর্কে জানার আগ্রহও কম নয়। কেউ তাদেরকে ভাল জানে। কেউবা মন্দ। কিন্তু বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় হ্যাকার সংগঠন বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস সম্পর্কে পুলিশের মন্তব্য পজিটিভ। কারণ সাধারণত হ্যাকাররা অনলাইনে ক্ষতি সাধন করলেও এই সংগঠনটি বিনামূল্যে দেশের সাইবার সিকিউরিটির কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজকে ভাল লেগেছে বলে তাদের পক্ষ নিয়ে স্বয়ং কাজ করছে পুলিশ। সম্প্রতি গ্রে হ্যাট হ্যাকারস এবং পুলিশের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের লাইব্রেরী এক্সপ্লোর অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলইএমএস) নামক সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. নাজমুল হক পিপিএম। বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস দেশে কি কাজ করছে আর আগামীতে কি করতে যাচ্ছে এ সম্পর্কে প্রিয়’র সাথে কথা বলেছেন বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারসের প্রোগ্রামিং হেড সুজন চক্রবর্তী।

 

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

প্রিয় টেক:সম্প্রতি আপনি পুলিশের একটি সফটওয়্যার তৈরি করে বাংলাদেশ পুলিশের আই.জি.পি ব্যাজ পদকে ভূষিত হয়েছেন। সে সম্পর্কে কিছু বলুন।
সুজন চক্রবর্তী:আমি আসলে বই পড়তে অনেক পছন্দ করি। কিন্তু একটি বড় লাইব্রেরী থেকে কাঙ্ক্ষিত বই খুঁজে বের করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। পরে অনেক চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম এ সম্পর্কে একটি সফটওয়্যার তৈরি করবো। তাহলে নিজের যেমন সুবিধা হবে তেমনি অন্যদেরও অনেক কাজে লাগবে। এটি পিএইসপি এবং মাই এসকিউএল দিয়ে তৈরি করেছি। প্রাথমিক অবস্থায় পিসি নেটওয়ার্কে এর কাজ শুরু হলেও আগামী দুই মাসের মধ্যে এটি দেশে পুলিশের সব ইউনিটে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

প্রিয় টেক: বাংলাদেশে কিছু দিন পর পর বিভিন্ন সাইট হ্যাক হচ্ছে এর আসলে কারণ কি?
সুজন চক্রবর্তী: আমাদের দেশে কিছু দিন পর পর বিভিন্ন সাইট হ্যাক হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে আমাদের সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টরা মিনিমাম সিকিউরিটি দিতে সক্ষম হচ্ছেন না। এক্সেল ইনজেকশন প্রুফ না করা এবং ডাটাবেজে পাসওয়ার্ড রেখে দেওয়া আরেকটি প্রধান কারণ। দেশে কেন ন্যূনতম সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করা হচ্ছে না তা আমার কাছে অনেকটা রহস্যজনক মনে হয়।

প্রিয় টেক: আমাদের সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট নাকি হ্যাকাররা এক্সপার্ট?
সুজন চক্রবর্তী: আমাদের সাইবার সিকিউরিটি যারা দিচ্ছেন তাদেরকেই এক্সপার্ট বলা উচিৎ ছিল। কিন্তু ঘটনাটা তার উল্টো হয়ে গেছে! দেখা যাচ্ছে হ্যাকাররাই এক্সপার্ট। কারণ তারা জানে কোথায় সিকিউরিটি দুর্বল আছে। যে কারও পাসওয়ার্ড ভাঙতে পারে।

প্রিয় টেক: পুলিশ এবং বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস যৌথভাবে সাইবার সিকিউরিটির কাজ করছে তা কিভাবে শুরু করেছিলেন এবং কবে থেকে?
সুজন চক্রবর্তী: গত ৩ মাস আগের কথা। দেশে সাইবার সিকিউরিটি কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে সম্পর্কে আমরা পরিকল্পনা করছিলাম। হটাত বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস আমাদের নজরে আসে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে হ্যাকাররা দেশের সাইবার সিকিউরিটির জন্য তৎপর ছিল। তারা দেশের হ্যাক হওয়া সব সাইটের কাজ করেছে। আর যারা হ্যাকার তারা সাইবার সিকিউরিটির ব্যাপারে খুব দক্ষ। তারা অন্যদের সিকিউরিটি ভাঙতে পারে। তাদের থেকে যদি আমরা জানতে পারি কিভাবে সিকিউরিটি ব্রেক করা যায় তাহলে সেভাবে প্রোগ্রামিং করা যেতে পারে। এরফলে হ্যাকিং অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই চিন্তা থেকেই আমরা বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস টিমের সাথে যোগাযোগ করি। তারা আমাদের সহযোগিতা করতে চেয়েছে বলে এখন পুলিশ এবং বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস যৌথভাবে সাইবার সিকিউরিটির কাজ করছে।

প্রিয় টেক: এখন পর্যন্ত পুলিশ এবং বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস যৌথভাবে কি কি কাজ করেছেন?
সুজন চক্রবর্তী: আমরা শুরুর দিকে পুলিশ স্টাফ কলেজে সিএমএস এর কাজ করেছি। তাদের সাইট আগে প্লেন এইচ.টি.এম.এল দিয়ে তৈরি করা ছিল। এখন আমাদের এই নতুন সাইটে হ্যাক করা যায় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমরা অনেকটা সফলতা অর্জন করতে যাচ্ছি। সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের লাইব্রেরী এক্সপ্লোর অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলইএমএস) নামক সফটওয়্যার তৈরি করেছি। সফটওয়্যারটি উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. নাজমুল হক পিপিএম। এ জন্য আমি পুলিশের আই.জি.পি ব্যাজ পদকে ভূষিত হয়েছি। সামনের দিনে আমাদের আরও কিছু কাজ চলছে এবং চলবে। কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই সব কিছু বলতে চাচ্ছি না।

প্রিয় টেক: ভবিষ্যতে পুলিশ এবং বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস যৌথভাবে সাইবার সিকিউরিটির কাজ কিভাবে পরিচালনা করছেন?
সুজন চক্রবর্তী: বর্তমানে পুলিশ এবং বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস যৌথভাবে পুলিশের সাইবার সিকিউরিটির কাজ করছে। আগামীতে দেশের অন্যান্য সরকারি সাইট বা সরকার সম্পর্কিত কোন কাজ করতে হলে আমরা প্রস্তুত আছি। যদিও এখন পর্যন্ত আমরা দেশের সকল হ্যাক হয়ে যাওয়া সাইটগুলোর জন্য বিনামূল্যে কাজ করে যাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আমাদেরকে বলা হলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।

প্রিয় টেক: বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস টিমের সাথে আপনারা যে কাজ করছে তা কি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল জানেন? যদি সমর্থন দিয়ে থাকে তাহলে কে সমর্থন দিয়েছেন?
সুজন চক্রবর্তী: আমি এ ব্যাপারে আমাদের পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত কেউ এক সাথে কাজ করতে না বলেননি। তবে যারা এ কাজে সমর্থন দিচ্ছেন তাদের ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। শীঘ্রই এ সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারসের সাথে যোগাযোগ করুনঃ Click Me

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × three =