আপনি কি আপনার হ্যাকিং নিয়ে সচেতন?

1
384

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সাথে সাথে দিনে দিনে সাইবার ক্রাইম বিশেষ করে হ্যাকিংয়ের পরিমান বেড়েই চলেছে। ভালো কিংবা মন্দ যে উদ্যেশ্যেই ওয়েবসাইট, ইমেইল আইডি বা অনলাইনে সংরক্ষিত কোনো তথ্য হ্যাকিং হোক না কোনো সেটি সংশ্লিষ্ঠদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দেয়। হারিয়ে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। হতে পারে আর্থিক ক্ষতি।কয়েকটি বিষয় মেনে চললে ইমেইল, ওয়েব অ্যাকাউন্ট বা প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটটিকে হ্যাকিং থেকে প্রতিরোধ করা যেতে পারে। এগুলো শতভাগ সাফল্য আনবে কিনা নিশ্চয়তা নাই, তবে আপাতভাবে নিরাপত্তা বাড়বে। এছাড়া হ্যাকিং হবার পর কি করতে হবে সেটি নিয়ে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নিই, হ্যাকিং হওয়ার আগে ও পরে করনীয় বিষয়গুলো কি কি?

হ্যাকিংয়ের আগে:

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা: হ্যাকিং প্রতিরোধে প্রথমেই যে কাজটি করা প্রয়োজন সেটি হলো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, সেটি সামাজিক যোগাযোগ সাইট, ই-মেইল বা অন্য কোনো ওয়েবসাইটটের অ্যাকাউন্ট হোক না কোনো। আর শক্তিশালী পাসওয়ার্ড হলো সেগুলো যেগুলো সহজেই কারো অনুমানে না আসে। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড হতে পারে কমপক্ষে ১৫ অক্ষরের, ছোট ও বড় হাতের অক্ষর যেগুলো কিবোর্ডে ক্যাপস লক অথবা শিফট কি চেপে লিখতে হয়, অথবা বর্ণের সাথে নূণ্যতম একটি সাংকেতিক চিহ্ন থাকা। পাসওয়ার্ড হিসেবে কোনোভাবেই নাম, জন্মতারিখ, মোবাইল বা টেলিফোন নম্বর বা কোনো বার্ষিকী যেমন জন্মবার্ষিকী, বিবাহবার্ষিকীর তারিখ ব্যবহার করা মোটেই সমীচীন নয়। হ্যাকাররা এগুলো সহজেই অনুমান করতে পারে। এছাড়া একই পাসওয়ার্ড একাধিক সাইটে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

ইউনিক ইউজারনেম ব্যবহার: হ্যাকিং প্রতিরোধে পাসওয়ার্ডের পর গুরুত্ব হিসবে যেটি আসে সেটি হলো ইউজার নেম। পাসওয়ার্ড ক্রাক করতে পারলেই যেকোনো সাইট হ্যাক করা হ্যাকারদের জন্য স্বাভাবিকভাবে সহজ হয়ে যায়। যেমন ওয়ার্ডপ্রেসে সাধারণত ‘অ্যাডমিন’ হিসেবে ইউজার নেম ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে এটি সহজেই পরিবর্তন সম্ভব। হ্যাকিং প্রতিরোধে তাই একটি ইউনিক ইউজারনেম ব্যবহার করা উচিত।

অ্যাপস, এক্সটেনশন অথবা প্লাগ-ইন ইনস্টলের আগে ভেবে নিন:
আমরা সাধারণত কোনো ভাবনা চিন্তা ছাড়াই ফেসবুক অ্যাপস, ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগ-ইন ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এসব অ্যাপস, প্লাগ-ইনের মাঝেই লুকিয়ে থাকতে পারে হ্যাকিং কৌশল। তাই অ্যাপস, প্লাগ-ইন অথবা এক্সটেনশন ব্যবহারের আগে সেগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে রিভিউ বা রেটিং দেখে নেয়া ভালো। সেটি সম্ভব না হলে Snopes.com এরমতো সাইট থেকে যেকোনো অ্যাপস, প্লাগ-ইন স্প্যাম কিনা সেটি পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে।

জিমেইলে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ব্যবহার করা: কোনো ব্যবহারকারীর মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং হলে সেটি কতো ভয়াবহ হতে পারে সেটি ভাবলেই আতকে উঠতে হয়। কারন একজনের মেইলেই তার ইন্টারনেটের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট হিস্টোরি, ডেবিট, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ব্যক্তিগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। ফলে এটি হাতছাড়া হয়ে গেলে ভোগান্তির শেষ নেই। জিমেইলে বর্তমানে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রয়েছে। এরফলে ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড জানা থাকলেও কেউ ইমেইলে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রয়োজন হবে মূল ব্যবহারকারীর মোবাইল। টু-স্টেপ ভেরিফিকেশনে মোবাইলে নিরাপত্তা কোড পাঠানো হয়। এই কোড ছাড়া তাই ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড জানা থাকলেও হ্যাকার মেইল হ্যাক করতে পারবে না।

ফেসবুকে সিকিউর ব্রাউজিং চালু করা: ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ‘সিকিউর ব্রাউজিং’ সুবিধা দেয়। এরফলে অ্যানক্রিপটেড কানেকশনের মাধ্যমে ফেসবুক ব্রাউজ হবে। ব্রাউজারের নিরাপত্তা ত্রুটি থাকলেও এই পদ্ধতিতে ব্রাউজিং নিরাপদ। এই সিকিউর ব্রাউজিং চালু করতে প্রথমে ফেসবুকে লগ-ইন করে ডান পাশের অ্যাকাউন্ট সেটিং থেকে সিকিউরিটি সেটিং নির্বাচন করতে হবে। সেখান থেকে ‘Secure Browsing’ এডিট বা পরিবর্তন করতে হবে। এটি চালু হলে যেকোনো ব্রাউজারেই ফেসবুক ব্যবহার করা হোক না কেনো এটি HTTP এর পরিবর্তে HTTPS পদ্ধতিতে ব্রাউজ হবে।

ফেসবুকে লগ-ইন নোটিফিকেশন চালু করা : ফেসবুকে ইমেইল এবং মোবাইলের মাধ্যমে লগ-ইন নোটিফিকেশন পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি চালু থাকলে যখনই অপরিচিত একটি ডিভাইস  থেকে ঐ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা হবে তখন ব্যবহারকারীর নিবন্ধন করা মোবাইল ও ইমেইলে নোটিফিকেশন যাবে। এরফলে মূল ব্যবহারকারী বুঝতে পারবেন তার অ্যাকাউন্টে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে কিনা। এবং তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ নিতে পারবে। এজন্য অ্যাকাউন্ট সেটিং থেকে মোবাইল নোটিফিকেশন ও ই-মেইল নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য লগ-ইন নোটিফিকেশন চালু করে নিতে হবে।

ফাইলের ব্যাকআপ রাখা: হ্যাকিংয়ের উদ্যোশের পিছনে হ্যাকারদের যে মূল বিষয়টি থাকে সেটি হলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচুরি অথবা সেগুলো মুছে ফেলা। একবার সাইট বা ব্লগের অ্যাক্সেস পেয়ে গেলে তারা একমুহুর্তেই আপনার কঠিন পরিশ্রমের ফলাফল নষ্ট করে দিতে পারে। নষ্ট করে দিতে পারে আর্কাইভ। তাই ব্যবহারকারীদের সাইট বা ব্লগের ব্যাকআপ রাখা উচিত। এজন্য ভালোমানের কোনো সফটওয়্যার কিনে অথবা ফাইলজিলার মতো বিনামুল্যেও সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাইটের ব্যাকআপ রাখা ভালো। এতে সাইট হ্যাকিং হলে ভ্যাকআপকৃত ডাটা থেকে সহজেই সাইটকে আগের অবস্থায় নিয়ে আসা সহজে হবে।
ইউআরএল ভেরিফাই করা: ফিশিং স্ক্যাম হলো যেকোনো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার অন্যতম পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে হ্যাকাররা মূল সাইটটের অনুরুপ এবং সামান্য বানানের পার্থক্য দিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই কোনো ওয়েবসাইটটে প্রবেশ করা বা নিবন্ধন করার আগেই সেটি অফিসিয়াল বা যথার্থ সাইট কিনা সেটি দেখে নেয়া উচিত। যদি প্রমানিত হয় এটি বৈধ সাইট না বা খারাপ উদ্যেশে তৈরি করা তাহলে যথাসম্ভব দ্রুত সাইটটি থেকে বের হয়ে আসা উচিত। কৌতুহল বশতও  সাইটটি পুনরায় ভিজিট করা উচিত নয়।

হ্যাকিংয়ের পরে:

হ্যাকিং হবার পর প্রায় সকলেই করনীয় বিষয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। মনে রাখতে হবে হ্যাকিং মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এরপরেও করনীয় অনেক কিছুই আছে। ফিরে আসার অনেক পথই খোলা আছে। আসুন জেনে নিই হ্যাকিংয়ের শিকার হবার পর কিভাবে আবারো নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা যায়।

পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা: হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন জানার পরপরই করনীয় হলো যতো দ্রুত সম্ভব পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলা। এক্ষেত্রে অবশ্যই আগের পাসওয়ার্ড থেকে সম্পূর্ন ব্যতিক্রম কোনো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

সম্প্রতি ব্যবহার করা অ্যাপস, প্লাগ-ইন নিষ্ক্রিয় করা: হ্যাকিংয়ের আগে কোন অ্যাপস, প্লাগ-ইন অথবা এক্সটেনশন ব্যবহার করেছেন সেটি নিষ্ক্রিয় বা আনইনস্টল করা উচিত। কারণ এগুলো থেকেই হ্যাকারা আপনার ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড পেয়ে থাকতে পারে। তাই যতো দ্রুত সম্ভব এগুলো ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।

বন্ধুদেরকে অবহিত করা: হ্যাকিংয়ের শিকার হলে বিশেষ করে মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগ সাইটের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে সেটা সম্পর্কে অতি দ্রুত বন্ধুদেরকে ও আপনার কন্ট্যাক্ট লিস্টে অবহিত করা উচিত। এতে তারা আপনার মতো যাতে স্ক্যামের শিকার না হয় সেবিষয়ে সতর্ক হতে পারবে।

সাইটটি অফলাইনে নেয়া: আপনার নিজস্ব ব্লগ বা সাইট যদি হ্যাকিংয়ের শিকার হয় তাহলে যতো দ্রুত সম্ভব সাইটটি অফলাইনে নেয়া উচিত। এতে সাইটটির রিডার বা ভিজিটর, ক্লায়েন্ট অথবা কাস্টমাররা হ্যাকিং হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। হ্যাকিং অবস্থায় সাইটটি চালু থাকলে এতে যারা ভিজিট করতে আসবে তাদের বিভিন্ন তথ্য হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পেতে পারে হ্যাকাররা। এছাড়া কারিগরি ত্রুটি সেরে সাইটটি চালু হলে পুনরায় ভিজিটর পাওয়া সম্ভব। তবে আপনার সাইটের মাধ্যমে কোনো ভিজিটর হ্যাকিংয়ের শিকার হলো সে আর কখনো ফিরে আসবে না। এই খারাপ ভাবমূর্তি কাটতে নাও পারে অথবা অনেক সময় লাগতে পারে। তাই হ্যাকিং হলে যতো দ্রুত সম্ভব সাইটটি অফলাইনে নেয়া উচিত।

ওয়েব হোস্টিং কোম্পানিকে জানানো: বেশিরভাগ ওয়েব হোস্টিং কোম্পানিকে অবহিত করলে তারা নিজেদের থেকে সাইটটি পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। প্রায় প্রতিটি ওয়েব হোস্টিং সেবাদাতাদের কাছে তাদের গ্রাহকদের সাইটের ব্যাকআপ থাকে। এছাড়া কিছু কিছু কোম্পানি সাইট মালিককে এই কাজটি করার এখতিয়ার দিয়ে দেন। তাই যাই হোক না কেনো আপনার সাইটটি ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই হ্যাকিংয়ের বিষয়ে হোস্টিং কোম্পানিকে অবহিত করতে হবে। একইসাথে করনীয় বিষয়গুলো জেনে নিতে হবে।

গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ: আপনার সাইটটি যদি ই-কমার্স বা বিজনেস সাইট হয় তাহলে ক্ষতি কমাতে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো অতি দ্রুত ও সৎভাবে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করা। তাদের সাথে খোলাখুলিভাবে বলা আসলে কি হয়েছে। এতে কি পরিমান ক্ষতি হতে পারে এবং এ থেকে তাদের কি ব্যবস্থা নেয়া উচিত হবে সেটি সম্পর্কে জানানো ভালো। এরফলে তারা আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ইউজার নেম, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ছাড়া অন্যসক তথ্যের বিষয়ে সচেতন হবে। একইসাথে আপনি জানিয়ে দেবেন সাইটটি সমস্যা সমাধানে আপনারা কতোটা আন্তরিক।

পরবর্তী হ্যাকিং হওয়া প্রতিরোধ করা: হ্যাকিংয়ের শিকার হলে ভোগান্তির শেষ থাকে না। আপনি কি কারণে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন সেটি জেনে বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াস হন। এরমধ্যে থাকতে পারে দৃর্বল পাসওয়ার্ড, দুর্বল সাইট স্ক্রিপ্ট অথবা পুরাতন সফটওয়্যার ব্যবহার। সমাধানের পথটি খুজুন এবং দুর্বল বিষয়টিতে নিরাপত্তার পরিমান কয়েকগুন বাড়িয়ে দিন। সতর্ক হন আর যেনো হ্যাকিং নামক যন্ত্রনা, ভোগান্তি, ক্ষতির শিকার না হতে হয়!
আমি মনে হয় অনেক বেশি বলে ফেললাম। যা হোক আজ তাহলে এটুকু থাক ।
এরকম টিপসঃ HTTPS://www.facebook.com/CY133R
আমিঃ HTTPS://WWW.FACEBOOK.COM/TECHFREAK.UNKNOWN
আল্লাহ হাফে্য

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × five =