উন্মুক্ত ইন্টারনেটের পক্ষেই পশ্চিমা বিশ্বের অবস্থান

2
287

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গত ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অন ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স (ডাব্লিউসিআইটি)। ১১ দিনের এই সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী ক্রমপ্রসারমাণ ইন্টারনেটের উপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে জাতিসংঘের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)। তবে আইটিইউ’র আশাবাদকে ভুল প্রমাণ করে পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো অবস্থান নিয়েছে ইন্টারনেটের উপর যেকোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে এবং উন্মুক্ত ইন্টারনেটের পক্ষেই। ফলে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট থাকছে উন্মুক্ত এবং সব ধরনের নিয়ন্ত্রণের বাইরেই। ফলে ৮৯টি দেশ আইটিইউ-এর প্রস্তাবিত নীতিমালার সাথে সহমত পোষণ করলেও শেষ পর্যন্ত প্রভাবশালী দেশগুলোর অসম্মতিতে এই প্রস্তাবিত নীতিমালা কোনো প্রভাব রাখতে সমর্থ হবে না। এবারের ১১ দিনের সম্মেলনের শুরু থেকেই আইটিইউ তাদের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স রেগুলেশন্স’কে সর্বজনস্বীকৃত একটি নীতিমালায় পরিণত করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই নীতিমালায় বিশ্বের যেকোনো দেশের সরকারকে তার রাষ্ট্রসীমার মধ্যে ইন্টারনেটের ব্যবহারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রদান করার বিষয়ে প্রস্তাবনা রাখা হয়। রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর অনলাইন উপাদানগুলোর উপর এই নিয়ন্ত্রণ ইন্টারনেটের স্বাভাবিক গতি প্রকৃতির বিরুদ্ধে যায় বলেই মন্তব্য করেন ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এতে করে ইন্টারনেটের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেই মতামত প্রদান করেন তারা। তবে আইটিইউ-এর এই প্রস্তাবনাতে এই নীতিমালা অনুসরণের জন্য সব দেশের উপর বাধ্যবাধকতা থাকবে না বলেও প্রস্তাব করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো যে বৈপ্লবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে, তাতে অনেক দেশের সরকারই ইন্টারনেটের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এবং এই নিয়ন্ত্রণ তারা লাভ করতে সমর্থ হলে তা সার্বিকভাবে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে যে মুক্তমত প্রকাশের ধারা তৈরি করেছে, তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মতামত প্রদান করেন। এদিকে আইটিইউ এই প্রস্তাবনা উত্থাপনের পর অনেকেই ধারণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো এই প্রস্তাবনার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করবে। বিশেষ করে কিছুদিন আগেই গুগল তাদের কাছে রাষ্ট্রীয় পক্ষের যে তথ্য চাওয়ার প্রবণতার তালিকা প্রকাশ করে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অবস্থানের কারণে অনেকেরই ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র আইটিইউ-এর এই প্রস্তাবনার সাথে একমত পোষণ করবে। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশ এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেনি। ডেনমার্ক, ইতালি, চেক রিপাবলিক, ফ্রান্স, গ্রিস এবং আরও বেশকিছু দেশ এটি পুনর্মূল্যায়নের জন্য আরও সময় চেয়েছে। এই প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জানান, ‘ইন্টারনেট যাত্রা শুরুর পর থেকেই গোটা বিশ্বকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছে আপন শক্তিতে। অর্থনৈতিক এবং সামজিকভাবে এটি বিশ্বকে অকল্পনীয় সহায়তা প্রদান করেছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে এর উন্মুক্ততার কারণে। কাজেই একে নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্তটি খুব বেশি যৌক্তিক নয়।’ প্রভাবশালী দেশগুলোর এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন উন্মুক্ত ইন্টারনেটের পক্ষের ব্যক্তিরা। ভবিষ্যতেও এই দেশগুলো যেন তাদের অবস্থান ধরে রাখে, সেই আহ্বানই জানিয়েছেন তারা।

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

ইচ্ছে হলে আমার সাইট টি ভিজিট করতে পারেন

আমার ফেসবুক পেজ like দিতে পারেন

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

2 মন্তব্য

  1. ইন্টারনেট ব্যবস্থা উন্মুক্ত থাকাটাই উচিৎ বলে মনে করি ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × four =