বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট হিসেবে ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক পার করল

0
291

বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট হিসেবে ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক পার করল ফেইসবুক। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই আছে প্রায় ৩৫ লাখ। মাত্র সাড়ে আট বছরেই যোগাযোগের এই সামাজিক সাইটটি হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনযাত্রার অংশ। এ অবস্থানে পেঁৗছাতে ফেইসবুককে পার হতে হয়েছে কয়েকটি ধাপ। জন্ম থেকেই ফেইসবুকের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে ‘৪’। সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় সাইটটির জন্ম চলতি শতকের ৪ সালে (২০০৪ সালে)। দিনটিও ছিল ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ। চলতি মাসের ৪ তারিখে ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছে তারা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফেইসবুক যেভাবে দুরন্ত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে, তার কোনো দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত নেই! গত মাসেই সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলকে পেছনে ফেলে অ্যালেক্সা (www.alexa.com) র‌্যাঙ্কিং-এ প্রথম স্থান দখল করে তারা। বিশ্বের জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের মুকুট পেয়ে যায় ফেইসবুক। এর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন খবরটি এলো।

বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট হিসেবে ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক পার করল

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

১০০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাইলফলক পার করল সাইটটি। ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ ৪ অক্টোবর তাঁর স্ট্যাটাসে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আজ সকালে ফেইসবুকের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটিতে পেঁৗছাল। শত কোটি মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষার কাজটা অবিশ্বাস্য। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে গর্বের ব্যাপার।’ সব ব্যবহারকারীকে তিনি ফেইসবুকের ‘ছোট্ট দল’-এর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ফেইসবুকে মোট এক হাজার ৭০০ কোটিবার লগ-ইন, প্রায় ৫২ হাজার কোটি ছবি আপলোড এবং দেড় লাখ কোটি বারেরও বেশি ‘লাইক’ দিয়েছেন ব্যবহারকারীরা।

কেন এই জনপ্রিয়তা

ফেইসবুকের জনপ্রিয়তার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বেশির ভাগের মতে, এর মূল আকর্ষণ স্বতঃস্ফূর্ততা। আপনি যতক্ষণ ফেইসবুকে থাকবেন, ততক্ষণই করার মতো কোনো না কোনো কাজ পাবেন। ব্যবহারকারী সাধারণত ফেইসবুকে লগ-ইন করে নোটিফিকেশন দেখেন, বন্ধুদের সর্বশেষ আপডেটে চোখ বোলান, পছন্দের পেইজ কিংবা গ্রুপগুলোতে ঘুরে বেড়ান। হাতে সময় থাকলে কেউ কেউ বসে যান চ্যাটে। যাঁরা খেলতে ভালোবাসেন, তাঁরা খুলে বসেন ফেইসবুকের বিভিন্ন অনলাইন গেইম, কেউ কেউ আবার বিচিত্র সব অ্যাপ্লিকেশন চালিয়ে নির্মল আনন্দ পান। যে বয়স বা শ্রেণীরই হোন না কেন, আপনাকে আকৃষ্ট করার মতো ফেইসবুকে কোনো না কোনো উপাদান আছেই।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ফেইসবুকের প্রতি সব শ্রেণীর মানুষের আকর্ষণের মূলে রয়েছে দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রয়াস। নতুন বন্ধু তৈরি, তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে সহজেই ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে বিচরণ করতে পারি আমরা। অনেকে আবার ফেইসবুকে নিজের মনের মতো সঙ্গী খুঁজে বেড়াচ্ছেন, অনেকে খুঁজে পাচ্ছেন হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের। সমমনা কিংবা একই পেশার মানুষরা এক হয়ে গড়ে তুলছেন নিজস্ব নেটওয়ার্ক। পরস্পরকে সহযোগিতা করছেন, আড্ডা মারছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।সাদামাটা, সহজবোধ্য ইন্টারফেস শুরু থেকেই ফেইসবুককে সর্বজনীন হতে সাহায্য করেছে। ফলে অনেক স্বল্পশিক্ষিত মানুষও দ্রুত শিখতে পারছেন এর ব্যবহার।বিশ্বের কোনো দেশ, জাতি বা শ্রেণীকে ফেইসবুকে বেশি মূল্যায়িত করা হয়নি। এর ফলে ভিন্ন জাতি ও শ্রেণীর মানুষ একত্রে মিশে যেতে পারছেন।

ফেইসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট বলতে অনেকে ফেইসবুককে বুঝে থাকেন। এটি ছাড়া আরো বেশকিছু জনপ্রিয় সামাজিক সাইট রয়েছে, তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগুলো ফেইসবুকের ধারেকাছে নেই! যেমন_মাইস্পেস আর লিঙ্কড-ইন আগে থেকেই জনপ্রিয় ছিল। ২০০৬ সালে বাজারে আসার পর দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে টুইটার। এটি এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগ সাইট। ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়ে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ সামাজিক সাইটই যেখানে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণী বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের মানুষকে সামনে রেখে তৈরি, সেখানে ফেইসবুক করা হয়েছে যেকোনো বয়সের, যেকোনো পেশার মানুষের জন্য। উদাহরণ হিসেবে মাইস্পেসের কথাই ধরা যাক। বিশ্বের চতুর্থ জনপ্রিয় সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইট মাইস্পেসের সদস্যদের নেটওয়ার্ক মূলত সংগীত ও শিল্পীদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই মিডিয়া সম্পর্কে আগ্রহী নন_এমন কেউ মাইস্পেসে আকর্ষণ খুঁজে পাবেন না। লিঙ্কড-ইন কিংবা টুইটারও এভাবে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে ব্যবহারকারীদের বেঁধে ফেলেছে। চাকরি, ব্যবসা কিংবা পেশাগত কাজেই কেবল লিঙ্কড-ইন ব্যবহার করা হয়। টুইটারকে ফেইসবুকের ‘স্ট্যাটাস আপডেট’-এর একটি সংস্করণ বলা যেতে পারে। ১৪০ শব্দের মধ্যে আপনাকে কিছু ‘টুইট’ করতে হবে, আর আপনার ‘ফলোয়ার’ বা অনুসারীরা তাতে মন্তব্য করতে পারবেন। ওপরের জনপ্রিয় সাইটগুলোর সব বৈশিষ্ট্য তো ফেইসবুকে পরিপূর্ণভাবে আছেই, পাশাপাশি ফেইসবুকে অন্য সব কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘বন্ধুত্ব’কে। আর বন্ধুত্ব যেহেতু কোনো বয়স বা সীমানা মানে না, তাই ফেইসবুকও কখনো এসব সীমায় বাঁধা পড়েনি।ইন্টারনেটে যোগাযোগ রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা। অন্য যেকোনো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের চেয়ে এ শর্তটি ফেইসবুক অনেক কঠোরভাবে পালন করছে। ফলে নিরাপদ থাকছে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য। চাইলে এই নিরাপত্তার মাপকাঠি নিজের মতো কমবেশি করে নিতেও পারবেন। আপনার তথ্যটি কতজনের সঙ্গে শেয়ার করতে চান, তাও সহজে নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনি নিজেই নিতে পারছেন, যেটা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ সাইটে পাওয়া যায় না।

নেপথ্যে যাঁরা

আজকের এই ‘বিশাল’ ফেইসবুকের মূল কারিগর মার্ক জুকারবার্গ। ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে নিছক খেয়ালের বশেই ওয়েবসাইট ‘ফেইসম্যাশ’ তৈরি করেছিলেন। তিনি তখন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। হার্ভার্ডের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করে সেই ফেইসম্যাশে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন অনেক শিক্ষার্থীর প্রোফাইল। অবিশ্বাস্য গতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল সাইটটি। এরপর দ্রুত ফেইসবুকের নামে ডোমেন কিনে নেন জুকারবার্গ, হার্ভার্ড ছাড়িয়ে ফেইসবুক ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে। ২০০৬ সালে সারা বিশ্বের জন্য ফেইসবুক উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
ফেইসবুকের যাত্রায় জুকারবার্গের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন এডুয়ার্ডো স্যাভেরিন, অ্যান্ড্রু ম্যাককুলাম ও ক্রিস হিউজেস। ফেইসবুকের প্রথম লোগোটি ডিজাইন করেছিলেন ম্যাককুলাম। শুরুর দিকে ফেইসবুকের বাণিজ্যিক দিকটা দেখাশোনা করতেন স্যাভেরিন। এ ছাড়া শন পার্কার জুকারবার্গকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন।
ফেইসবুকের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা দেখে প্রযুক্তিবিদরা ধারণা করছেন, সেদিন আর দূরে নয়, যেদিন পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ ফেইসবুকে একত্র হবে। সে দিনটিরই অপেক্ষায় এখন বিশ্ববাসী।

সুত্র “কালের কণ্ঠ”

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × 2 =