কাক ও কাকের কা-কা – ১

0
1232
কাক ও কাকের কা-কা - ১

Mr.টিউনার ™

আসসালামু আলাইকুম । সবাই কেমন আছেন আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো ই আছেন ।আমাকে নিশ্চয় চিনতে একটু কস্ট হচ্ছে আমি হলাম টিজে মিস্টার গেমওয়ালা, খালি নামটা বদল করে লিখেছি মিস্টার টিউনার , আশা করি আপনাদের সাথে ভালো কিছু তথ্য শেয়ার করতে পারব । ধন্যবাদ ।
কাক ও কাকের কা-কা - ১

কাক কালো বর্নের মাঝারী আকৃতির এক ধরনের পাখি যা আমাদের দেশে খুব দেখা যায়। বিশেষকরে আমাদের রাজধাণী ঢাকাতে এর দেখা মেলে হরহামেসাই। অনেকে ঢাকাকে কাকের শহরো বলে থাকেন, কারণ ভোরে অন্যকোনো পাখির ডাক শোনা না গেলেও কাকের কা-কা রব ঠিকই শোনা যায়।

কাক ও কাকের কা-কা - ১কাকের উদ্ভব ঘটেছে মধ্য এশিয়ায়। সেখান থেকে এটি উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। উষ্ণমন্ডলীয় সব মহাদেশ (দক্ষিণ আমেরিকা ব্যতীত) এবং বেশ কিছু দ্বীপ অঞ্চলে কাকের বিস্তার রয়েছে। এদের গোত্র কর্ভাস । এই গোত্রের মধ্যে প্রায় ৪০টি ভিন্ন প্রজাতির কাক দেখা যায়।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

আমাদের দেশে সাধারণত দুই প্রকারের কাক বেশী দেখা যায়- ১। দাঁড় কাক : ঘোর কৃষ্ণ বর্ণে আচ্ছাদিত কাক, এরা আকারে বেশ বড় হয়। ২। পাতী কাক : এদের ঘাড়, গলা, পিঠ ও বুক ছাই রংএ আচ্ছাদিত আর লেজ, ডানা, মাথা কলো কুচকুচে। এরা আকারে দাঁড় কাকের তুলনায় বেশ ছোটো হয়। এছাড়াও আমাদের দেশে আরো নানান ধরনের কাকেদের দেখা মেলে অল্পসল্প। যেমন: সাধারণ দাঁড় কাক (C. corax) অস্ট্রেলীয় দাঁড় কাক (C. coronoides) বুনো দাঁড় কাক (C. tasmanicus) ছোট দাঁড় কাক (C. mellori) মোটা ঠোঁটের দাঁড় কাক (C. crassirostris) সাদা ঘাড়ের দাঁড় কাক (C. albicollis) বাদামী ঘাড়ের দাঁড় কাক (C. ruficollis) চিহুয়াহুয়ান দাঁড় কাক (C. cryptoleucos)

অনেকে এদেরকে কুৎসিত পাখি বলে থাকে। কিন্তু অনেকেই জানে না যে কাককে পাখিজগতের সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান পাখি বলে মনে করা হয়। কাকের বুদ্ধির একটি গল্প “কলসের মধ্যে পাথর ফেলে পানি ঠোঁটের নাগালে আনার সেই গল্প” ছোটো বেলায় সকলেই পড়েছি।

কাক ও কাকের কা-কা - ১কাকেদের কাছ থেকে আমরা অনেক উপকার পাই। এরা মরা ইদুর, বিড়াল, পঁচা-বাসী খাবার নিয়মিত ভাবে পরিস্কার করে, কারণ এগুলোই তাদের খাবার। আর এসব খেয়ে হজম করতে কোন বেগ পেতে হয়না। তবে শরীর থেকে সব সময় বিশ্রী গন্ধ বের হয়। মজা কথা এরা কখনো গোছল করা বাদ দেয় না। আর ঘরে ফিরার আগে নদী, পুকুর বা ডোবার কাছ গিয়ে পা, মাথা পরিস্কার করে, ঠোট দিয়ে জল তুলে পাখা ধোয়। নংরা জিনিস খেলেও শরীর নোংরা রাখেনা।

কাকেরা একটু নির্জন কোন গাছ ঠিক করে রাখে রাত কাটানোর জন্য আর সন্ধ্যা হলেই ঐ গাছের ডালে গিয়ে বসে। এরা শীতের রাতে এবং প্রবল বৃষ্টিতেও গাছের ডালে বসে থাকে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই এরা কা কা রব লোকালয় মুখর করে।

কাক ও কাকের কা-কা - ১কাকেরা যেনতেনভাবে খড়, সরু ডাল, কাগজের টুকরা, টিনের টুকরা দিয়ে বাসা তৈরী করে আর তাতে ৪/৫ টা ফিকে নীল রঙের ডিম পারে। কাকের ডিম পাড়ার নিয়মটি বেশ অদ্ভূত। কাক ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে মাত্র চার-পাঁচটি ডিম পাড়ে। আমরা সেই সকলেই ছোটোবেলা থেকে শুনে আসছি, কাকের বাসায় কোকিল ডিম পারে তবে তা আকারে ছোট আর রংটা সবুজ তার উপর হলুদ পোচ থাকে। কাক না জেনেই ওগুলো তা দেয় বাচ্চা ফোটায় ও বড় করে। ফিঙে, পেচা, চড়ুই, চিল সবাই চেষ্টা করে কাকের ডিম নষ্ট করার কিন্তু কাকরা এমন কড়া পাহারা দেয় যে কারোর সাধ্য থাকেনা ডিম ও বাচ্চার কোন ক্ষতি করার। যদিবা কখনো কেউ তার বাসা ভাঙ্গার উদ্ধত্য হয়, তখন কাকেরা দলগত ভাবে তা প্রতিহত করার চেষ্ঠা করে। আবার কোনো দূঃঘটনায় যদি কাকের ছোটো বাচ্চা বাসা থেকে নিচে পরে যায়, তখনো কাকেরা দলগতো ভাবেই কাকা করে পাড়া মাথায় তোলে।

কাক সাবান চুরিতে ওস্তাদ। সুযোগ পেলেই তারা সাবান চুরি করে। বলা হয় এই সাবান তারা লুকিয়ে রাখে। সাবান লুকিয়ে রাখার সময় তারা নাকি চোখবুজে থাকে, যাতে কেউ দেখেনা ফেলে সাবান কোথায় লুকানো হচ্ছে।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 4 =