গল্প

15
399

“হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে”


Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting



মায়ার বড় খালা লন্ডনে থাকেন। খালার একমাত্র  সন্তান নাবিল লন্ডনের

কিংস্টন ইউনিভার্সিটিতে এল.এল.বি  করছে   ফাইনাল ইয়ার ।


প্রতিবছর জুনে মায়ার খালা-খালুজান, নাবিল ভাইয়া

বাংলাদেশে আসে।  তখনকার পুরো সময়টা মায়ার কাছে উৎসবের মতো লাগে ।

এটা ফেব্রুয়ারি মাস , এখন খালাদের আসার  কথা না কিন্তু  গতপরশুদিন বিকেলে

মায়া ছাদে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে একটা বই পড়ছিল , লোকমান উল্কার  বেগে ছুটে

এসে বলল , ও আফা জলদি আহেন দেহেন কিডায় আয়ছে,  কথাটা সে একদমে  শেষ

করেই আবার দৌড়ে চলে গেলো । মায়া মনে মনে বলল, যার ইচ্ছা  সে আসুক আমার

কি ! বই টা প্রায় শেষের দিকে এখন দুনিয়া  উল্টে গেলেও তার কোন দিকে

তাকানোর উপায় নাই । মায়া আবার বই পড়া শুরু করতেই মনে মনে চিন্তা করলো ,

কে আসলো ? মায়ার সব রাগ গিয়ে পড়ল লোকমানের  উপর । ফাজিল ছেমড়া !

বললিই যখন ,  তখন কে এসেছে  তার নাম টা তো বলে যাবি ! মায়া তিক্ত – বিরক্ত

হয়ে বই বন্ধ করে নীচে চলে এলো।


রুমে ডুকতেই মায়া হতভম্ব ! মাকে জড়িয়ে ধরে নাবিল ভাইয়া বসে আছে । সে যা দেখছে তা

ঠিক দেখছে তো ?   নাকি স্বপ্ন ! নাবিল বলল,  আমার মায়ারাণী কেমন আছে ? মায়ার

ঘোর তখনও কাটেনি,  সে চোখ বড় বড় করে স্ট্যাচুর মতো দাড়িয়ে আছে । মায়ার

ঘোর কাটলো , নাবিল যখন তার মাথার চুল এলোমেলো করে দিয়ে বলল , তোদের

কাওকে  না বলেই চলে এলাম , ভাল করেছি নারে মায়া ?  মায়া  জোরে

জোরে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,  হুম  খুব ভালো করেছো , খালা – খালুজান কৈ ?

নাবিল বলল,  আম্মু – আব্বু আসেনি আমি একা এসেছি একটু  কাজ আছে

তাই ।  আমি যে আসছি এটা তোদেরকে ইচ্ছে করেই জানাইনি, কেমন সারপ্রাইজ

দিলাম বল ?  হিহি …।


মায়াদের বাড়ীতে ইতিমধ্যে উৎসব শুরু হয়ে গেছে । নাবিল ভাইয়ার প্রিয় খাবার – দাবার রান্না

করা হচ্ছে । মায়া আর নাবিল মিলে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল , লোকমান হুড়মুড় করে এসে নাবিলকে

বলল , ভাইজান কপি খাইবেন ? কপি বানায় আনমু ? আমি এখলাছ (A class ) এসপেসো কপি

বানান হিকছি । মায়া বলল , এই এসপেসো কপি কিরে ? বল এক্সপ্রেসো কফি । লোকমান দাঁত

বের করে হেসে বলল ওই অইল আর কি , ভাইজান আফনে আমার এসপেসো কপি খায়া কইবেন

কেমুন অইছে ,খালি  মুকে কইলে অইব না কাগজে লিহা  দিতে অইব ,টাহা – পয়সা জমাইতাছি

ইছছা আছে একখান চা – কপির দুকান দিমু আফনের লিহা আমি হেই দুকানে বান্দায়া টাঙ্গায়া রাখমু ।

মায়া বলল , এই তোকে না মা দোকানে যেতে বলল এখানে দাড়িয়ে ভ্যাজভ্যাজ করছিস ক্যান ? যা ।

আফা , যাইতাছিতো ইরুম করেন ক্যা , এদ্দিন বাদে নাবিল বাইয়ে আয়সে দুইডা কতা কয়া যাই !

ও আফা খালাম্মায় দুকানথে কি কি জানি আনবার কইছিল ?

মানে ! তোকে না আমি  কাগজে সব লিস্ট করে দিলাম ?

হ দিছিলেন তো …লোকমান  মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল , তয় হিডা কুতায় যে

থুইলাম ? ধুরো ! এতো খুশীতে কি আর মাইনষের মাথার ঠিক থাহে !


মায়া নাবিলের তিন বছরের ছোট । মায়ার সাথে নাবিলের যেমন ভাব আবার তাদের মাঝে ঝগড়াটাও

হয় দেখার মত । যেমন গতকাল একদফা হয়ে গেছে । নাবিল গিটার বাজিয়ে খুব ভাল গান করে ।

মায়া গতকাল নাবিলকে বলল , ভাইয়া আমি একটা গান লিখেছি দেখতো কেমন হল ? নাবিল খুব

উৎসাহের  সাথে বলল,  কই দেখি ! নাবিল মায়ার লিখা গান পড়ে বলল , বাহ্ ! চমৎকার হয়েছে !

দুর্দান্ত!  ফাটাফাটি ! কিন্তু আমি কিছুই বুঝি  নাই , এইটুকু শুধু বুঝেছি যে,  তুই বিরাট প্রতিভা

তোর মত মেয়েরা  বাংলাদেশের…..।

মায়া যে কত বড় প্রতিভা  তা নিয়ে নাবিল একটা জ্বালাময়ী বত্তৃতা

দেবার পর বলল , আচ্ছা এখন যদি রবিঠাকুর তোর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তোর কাছে  চলে এসে বলে,


” ওহে.. মোর পরাণ প্রিয়া

ছুটিয়া আসিলাম

তোমার প্রতিভা দেখিয়া ।

চল মোর সনে

সাহিত্য চর্চা করিব

দু’জনায় মিলিয়া

পরপারে বসিয়া ।”

তখন কি হবে ! এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন ! মনে হচ্ছে তোর অগ্নিদৃষ্টিতে আজকে আমাকে ভস্ম

করে ফেলবি ! মায়া হতাশ ভঙ্গিতে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল । নাবিল বকবক করেই যাচ্ছে , মায়া রেগে গিয়ে

একসময় বলল , ভাইয়া তুমি আমার সামনে থেকে যাওতো … যাও দুর হও …আমার চোখের সামনে

থেকে যাও ।

যদি না যাই কি করবি তুই ?

Oh God !

শুধু God কে ডাকছিস কেন ? ডাকতে হলে সবাই কে  একসাথে ডাকবি । শুধু God  কে সন্তুষ্ট রাখলে

হবে ! সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে হবে,  ডাকতে হলে সবাইকে একসাথে ডাকবি,  এভাবে বলবি…

Oh God ! ও আল্লাহ্‌ ! হে ভগবান !

ভাইয়া তুমি just shut up ok ?  এতক্ষণ অনেক অশান্তি করছ , এখন আমার চোখের

সামনে থেকে যাও ।

তুই এত রেগে যাচ্ছিস কেন ! আমি তোর চোখের সামনে থেকে এখনি বিদায় হবো তুই শুধু

আমার দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বল ,

” আমার দুই নয়ন  তোমারে আর  দেখিবার না চায় …

দু’দণ্ড  শান্তি দাও বলিয়া বিদায় ! ”


ভাইয়া তোমার সমস্যা  কি !

তুই ই বল তো কি সমস্যা ? তোরতো অনেক বুদ্ধি !

তোমার মাথায় সমস্যা বুজছ ? তোমার মাথা খারাপ ।

এইতো ধরতে পেরেছ মায়ারাণী । ওই যে কথায় আছে না ? রতনে রতন চেনে হাহা… ।




রাতে খওয়া-দাওয়া শেষ করে , বাসার সবাই মিলে কিছুক্ষণ আড্ডা দিল, নাবিল গিটার বাজিয়ে

গান গাইলো … আমার ও পরান ও যাহা চায়..

মায়ার বাবা বলল, বাবা তুমি কি এই গান টা জান ? আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে …

না জানি নাতো খালুজান , এটা কি আপনার খুব প্রিয়  গান ? মায়া গলা খাঁকারি দিয়ে বলল ,

এটা আমার মা’র  খুব প্রিয় একটা গান তাই অবধারিত ভাবে আমার বাবার ও প্রিয় , তাই

না বাবা ? মায়া কথাটা এমন ভঙ্গিতে বলল , তার  বলার ভঙ্গি দেখে সবাই একসাথে হেসে উঠলো ।


মায়া ঘুমাতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল , এমন সময় নাবিল এসে বলল , মায়া এত্তবড় একটা চাঁদ উঠেছে

দেখবি চল , মায়া বলল , তুমি যাও আমি এখন ঘুমাতে যাবো ।

ঘুমানোর অনেক সময় পাবি চলতো …

নাবিল,  মায়ার  হাত ধরে ছাদে টেনে নিয়ে গেল । ছাদে যাবার পর মায়া আকাশের এদিক – ওদিক

একটু তাকিয়ে, নাবিলের দিকে ঘুরে দুই হাত কোমরে রেখে কপাল কুঁচকে বলল , ভাইয়া কোথায়

তোমার এত্তবড় চাঁদ ! আমি তো কোনো চাঁদ দেখছি না ! নাবিল দুহাতে মায়ার মুখ তুলে ধরে  বলল ,

এই যে আমার আকাশের চাঁদ ! মায়া লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো ।

মাঝে মাঝেই নাবিল ভাইয়া কিভাবে

যেন কথা বলে!  তখন,  তার চেনা নাবিল ভাইয়াকে তার কাছে অন্যরকম লাগে ।

নাবিল বলল,  মায়া ,  আজ

ফেব্রুয়ারির তেরো তারিখ , এখন সময় হল রাত ১১.৫৫ মিনিট , আমি ঠিক ১২ টার পর তোকে একটা প্রশ্ন

করবো , আমার চোখের দিকে তাকিয়ে উত্তরটা দিবি, উত্তরটা  দিবি হ্যাঁ অথবা না দিয়ে । মায়া কিছু বলল না

তার অসম্ভব লজ্জা লাগছে ।


মায়া নাবিল মুখোমুখি চুপচাপ বসে আছে ।

মায়া ?

হুম বল

আমার চোখের দিকে তাকা

মায়া মুখ তুলে তাকাল

চোখের দিকে তাকিয়ে থাকবি চোখ সরাবি না

মায়া নাবিলের চোখের দিকে তাকাল

নাবিল বলল, Will U Marry Me ?

মায়া , মাথা ঝাঁকিয়ে  বলল , হুম

নাবিল হেসে উঠলো , মায়ার মনে হল , এত সুন্দর হাসি সে তার জীবনে দেখেনি । মায়ার চোখ ভিজে উঠল ।

সে মনে মনে বলল , আমি সুখী ,  পৃথিবীর সবচে সুখী মানুষ আমি ।


আমার মায়ারাণীর এত সুন্দর চোখ দু’টোতে  পানি কেন ?

মায়া চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল,

দুক্ষে বুজলা দুক্ষে,   তুমি সারাজিবন অনেক যন্ত্রণা  করবে,   আমার জানটা ভাজা ভাজা করে ফেলবে সেই দুক্ষে ।

নাবিল গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল , হুম কথাটা তুই খারাপ বলিস নাই , ভাজা বলতে ভাজা ! একেবারে ঝাল ফ্রাই করে ফেলব !

দুজনেই একসাথে হেসে উঠল ।


মায়া , আমি তোকে পেয়েছি ,  আমার জিবনে আর কিছু চাই নারে ।

” আমার মায়ারাণীর কপালে দিলাম একটা চুমু এঁকে…

আমার হৃদয়ে আলো হয়ে যেন সে সবসময় থাকে ।”



প্রকৃতির একটা  নিষ্ঠুর দিক আছে , এই নিষ্ঠুরতা প্রকৃতি মানুষের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ করে ।

প্রকৃতির নিয়মই হল,  পরিপূর্ণতা দান করে তা আবার কেঁড়ে নেয়া । প্রকৃতি তার  নিজস্ব নিয়মে  চলে ।

মায়া- নাবিলের ক্ষেত্রেও হয়ত এই নিয়মের ব্যতিক্রম  ঘটবে না ।


টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

15 মন্তব্য

  1. অনেকদিন পর একটা সুন্দর গল্প পড়লাম, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, ভাল থাকবেন।

  2. মানি না, , মাত্র একটা গল্প কেন?? :O আরও গল্প চাই।
    খুবই ভাল হয়েছে, ,

    ending টার সম্বন্ধে ভাবগাম্ভীর্য পূর্ণ কথা ;) — প্রকৃতির এই নিয়ম টা আছে দেখেই বোধহয় ‘পরিপূর্ণতা’ টা অনেক বেশি ভাল লাগে।।

    newaYz,,,keep..iT..uP :)


    • ending টার সম্বন্ধে ভাবগাম্ভীর্য পূর্ণ কথা ;) — প্রকৃতির এই নিয়ম টা আছে দেখেই বোধহয় ‘পরিপূর্ণতা’ টা অনেক বেশি ভাল লাগে।। ”
      ওরে….. সাবাশ ! হ্যাঁ try করব, N তুই’ ও keep..iT..uP :)

  3. কবিতা টি আমার পছন্দ হয়েছে। ভাল থাকবেন। চালিয়ে যাবেন আশা করি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × 1 =