ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শংকা!যদি এমনটা হয় তবে কি হবে আমাদের?

2
303

ইন্টারনেটে জনসাধারণের অবাধ বিচরণ থাকবে না সরকার এটি নিয়ন্ত্রণ করবে। বিষয়টি সামনে রেখে আগামী ৩-১৪ ডিসেম্বর ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) আয়োজনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অন ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স (ডব্লিউসিআইটি) সম্মেলন।

ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে নানা আলোচনা। সম্প্রতি ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের ভার জাতিসঙ্ঘের টেলিকম সংস্থাকে দেয়ার বিপে অবস্থান নিয়েছে সার্চ ইঞ্জিন গুগল। ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ধারণের ভুল জায়গা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকম ইউনিয়ন (আইটিইউ)। রাশিয়া, চীন ও কিছু আরব রাষ্ট্র এর নিয়ন্ত্রণভার জাতিসঙ্ঘের হাতে তুলে দেয়ার পক্ষে অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার বেশির ভাগ দেশসহ গুগলের মতো প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এর বিপে অবস্থান নিয়েছে। কোনো সংস্থার কাছে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হলে তা ইন্টারনেটের গতি রুদ্ধ করবে বলে মত দিয়েছে এসব দেশ ও প্রতিষ্ঠান। এমন অবস্থায় বিষয়টির সমাধান খুঁজতে দুবাইয়ে আলোচনায় বসবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। দুবাইয়ে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়নের  অধীনে ১২ দিনের এ সম্মেলনে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করবে বিভিন্ন দেশ।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

১৯৪ টি দেশের সংস্থা এবং আইটিইউ চাইছে ইন্টারনেটের গতিপথ নির্ধারণ করতে। বর্তমানে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণভার কারো হাতে না থাকার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না তারা। এ কারণে জাতিসঙ্ঘের সংস্থাটিও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সম্মেলনে এ বিষয়টির পাশাপাশি আরো কয়েকটি দিক নিয়ে আলোচনা হবে। বিভিন্ন দেশের টেলিকম কোম্পানির পরস্পরের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে থাকা চুক্তিটি হালনাগাদ করা হবে। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে টেলিকম সেবা আরো ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে। এ সম্মেলনে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের নতুন কিছু আইন জারি করা হতে পারে। ১৯৮৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক টেলিকম নীতি হালনাগাদ হতে পারে এ সম্মেলনে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণের পে অবস্থান নেয়া ব্যক্তিরা এ সম্মেলন নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। কারণ ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণের  চীন ও রাশিয়া কথা বলবে। এ ছাড়া আইটিইউকে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও দিতে চাইবে তারা। এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের গতিপথ সীমিত করতে চাইতে পারে এসব দেশ। ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের পে আনা প্রস্তাবগুলোর কড়া সমালোচনা করছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও স্বাধীন মতবাদের পে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ইন্টারনেট বিকেন্দ্রীকরণের তারা সোচ্চার।

গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইন্টারনেট কিভাবে চলবে, তা ঠিক করার ভুল জায়গা আইটিইউ। কারণ এখানে কেবল সরকারের মুখপাত্ররা থাকবে। এখানে এমন অনেক সরকারও থাকবে, যারা মুক্ত ও অবাধ ইন্টারনেটের বিপক্ষে চলতি মাসে জাতিসঙ্ঘের অধীনে থাকা আইটিইউ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে আলোচনায় বসবে। এ আলোচনায় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের পে অবস্থান নেবে এমন ধারণা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। আইটিইউ অনেক গোপনীয়তা মেনে চলে। সম্মেলনের আগে বিভিন্ন দেশ ইন্টারনেট বিষয়ে যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, তা গোপন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সম্মেলনে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে, যা ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণকে বাধাগ্রস্ত করবে। এর মাধ্যমে ইন্টারনেটে সেন্সরশিপ আরোপের পাশাপাশি উদ্ভাবন তিগ্রস্ত হবে। ফলে উদীয়মান দেশগুলো তিগ্রস্ত হবে। ইউটিউব, ফেসবুক, স্কাইপে ব্যবহারের খেত্রে অর্থ দিতে হবে সবাইকে, যা অবাধ যোগাযোগের অন্তরায় হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অবস্থান নিয়েছে গুগল। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইন্টারনেট বর্তমানে যেভাবে আছে, সেভাবেই চলুক। আর গুগলের দাবি, ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কেবল সরকারের ভূমিকা থাকা যৌক্তিক হবে না। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ, যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং যারা ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে তাদেরকেও এ আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। সার্চ ইঞ্জিন গুগল ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এর সামাজিক যোগাযোগের সাইট গুগল প্লাসে মুক্ত ও স্বাধীন ইন্টারনেটের পে অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছেও বিষয়টি সম্পর্কে প্রচারণা চালাচ্ছে সাইটটি। গুগল কর্তৃপক্ষ মনে করে, কিছু মানুষের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের অব্যাহত প্রচেষ্টা থেকে এটাই প্রমাণিত, তারা এখনো আদিম যুগে পড়ে আছে। তারা বুঝতে পারছে না এ ধরনের কোনো কিছু এখন অচল। তারা বুঝতে পারছে না, কারণ এসব বিষয় তাদের মাথায় ঢোকে না।

সম্মেলনের আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার আইটিইউর কাছে ইন্টারনেটের বিষয়ে নিজেদের মতামত গোপনে জমা দিয়েছে। এসব দলিলের কিছু ফাঁস হওয়ায় জানা যায় রাশিয়া ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের প।ে তাদের দাবি, প্রতিটি দেশ নিজের মতো করে ইন্টারনেটের কাঠামো দাঁড় করাক। প্রতিটি দেশের সীমারেখার মধ্যে থাকা ইন্টারনেটকে ওই দেশের সরকারের অধীনে রাখার পপাতী দেশটি। কিছু আরব রাষ্ট্র আইটিইউকে এক পরামর্শে জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী যত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই একটি ভিন্ন পরিচয় থাকতে হবে। ওই পরিচয়ে যাতে সব সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় এমন ব্যবস্থা চায় তারা। উন্নয়নশীল দেশ এবং কিছু টেলিকম প্রতিষ্ঠান চায় ইন্টারনেটের যেকোনো সেবা ব্যবহারের জন্য গ্রাহক অর্থ দিক।

আইটিইউর কাছে রাশিয়ার ইন্টারনেট বিষয়ক প্রস্তাবনা দেয়ার এক সপ্তাহ পরই এ বিবৃতি প্রকাশ করল গুগল। ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণের পে থাকা বেশির ভাগ মানুষই রাশিয়ার প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে। রাশিয়ার প্রস্তাবে খোলামেলাভাবে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের ভার জাতিসঙ্ঘকে দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারসের (আইসিএএনএন) ভূমিকা খর্ব করার প্রস্তাবও দিয়েছে রাশিয়া। তার ভাষায়, রাশিয়ার মতো আরো কিছু দেশের সরকার ইন্টারনেট ও অবাধ তথ্যপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণের প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। ইন্টারনেটকে তারা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে। আইটিইউর সদস্য বেশির ভাগ দেশ যদি ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের কাজ জাতিসঙ্ঘের হাতে তুলে দেয়ার পে ভোট দেয়, তাহলে তিক্ততার সূচনা হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলো বিষয়টি মেনে নেবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

আইটিইউর মহাসচিব হামাদন তোরে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হলে প্রায় সব দেশের ভোটের প্রয়োজন হবে। কোনো চুক্তি হালনাগাদের েেত্র বেশির ভাগ ভোটে কাজ চলতে পারে। কিন্তু এটি অনেক বড় সিদ্ধান্ত। ইন্টারনেটের জন্য একটু হলেও নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া আরো একটি বিষয়ের সমালোচনা করেন তিনি। আইটিইউ এত দিন টেলিকম ক্যারিয়ারের মধ্যে সমঝোতা করে এসেছে। কিন্তু ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের যোগ্যতা সংস্থাটির নেই বলে অনেকেই বলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন তিনি। তার ভাষায়, রাস্তার মালিক আপনি। তার মানে এই নয় যে, রাস্তা দিয়ে যাওয়া গাড়ি এবং গাড়িতে থাকা মালপত্রের মালিকও আপনি। আবার আপনি হয়তো বা একটি গাড়ি কিনতে পারেন, কিন্তু রাস্তা আপনি কিনতে পারেন না। রাস্তা দিয়ে যে পরিমাণ গাড়ি যায় এবং এর জন্য যে রকম মজবুত রাস্তা থাকা দরকার, তা নিয়ে পরিকল্পনার প্রয়োজন। একই কারণে ইন্টারনেটের ট্রাফিকের জন্যও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। ১৭টি আরব রাষ্ট্রের সমন্বিত দাবি মেনে নেয়া হলেও ঝামেলার সূত্রপাত হতে পারে। দেশগুলোর দাবি, প্রত্যেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একটি বিশ্বজনীন পরিচয় থাকতে হবে। এ পরিচয় ছাড়া তারা ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে পারবে না। এমন কিছু করলে ভিন্ন মতাবলম্বীরা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও দুবাই সম্মেলনে মারাত্মক কোনো সিদ্ধান্ত আসবে না বলেই মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলিগেশন দলের প্রধান টেরি ক্রামার। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নিতে হবে। আমরা ইন্টারনেটের স্বাধীনতার ইউরোপ ও এশিয়ায় চীন ছাড়া বেশির ভাগ দেশ আমাদের প।ে’

বাংলাদেশের একটি সরকারি প্রতনিধিদল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর  নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির সমন্বয়ে দুবাইয়ে যাচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে গোপনে হলেও বাংলাদেশের একটি পরামর্শ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মূলত ইন্টারনেট এখনকার মতো উন্মুক্ত থাকবে, নাকি  টেলিযোগাযোগ খাতের মতো এটিও সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আইটিইউর এই সম্মেলনে। জাতিসঙ্ঘের ১৯৪টি সদস্য  দেশের ভোট বলে দেবে ইন্টারনেটে সাধারণের অবাধ বিচরণ থাকবে, কী থাকবে না? এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোন পে যাবে? ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়ে মতায় আসা এ সরকারের ভোট নিয়ন্ত্রণ আর গ্রাহকের বাড়তি খরচের পে যাবে, নাকি উন্মুক্ত বিশ্বের পে থাকবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

ভোটের ফলাফল যদি আইটিইউর অনুকূলে যায়, তাহলে প্রত্যেক দেশের সরকারই ঠিক করে দেবে তাদের দেশে কোন সাইট দেখা যাবে আর  কোনটি দেখা যাবে না। এখন যেমন বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি পৃথিবীর যেকোনো দেশে গিয়ে ই-মেইল, ফেসবুক, টুইটার ব্যবহার করতে পারেন। নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরোপিত হলে তখন এ সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তখন ব্যক্তির যে দেশে অবস্থান সেখানকার সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে অনুমতি নিতে হবে। অথবা টেলিফোনের মতো রোমিং করে ই-মেইল বা অন্যান্য সেবা বিদেশে গিয়েও পাওয়া যাবে।

ইন্টারনেট নিয়ে যে সিদ্ধান্তই নেয়া হোক না কেন, অনেক দেশই এখন ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে এখন ইন্টারনেট ফিল্টার করা হচ্ছে বলে জানান টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রোনাল্ড ডেইবার্ট। রাশিয়ায় তিকারক সাইটগুলোকে কালো তালিকায় ফেলার মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর দেশ চীনেও কঠোরভাবে ইন্টারনেট নজরদারি করা হচ্ছে।

নিউজটি নয়া দিগন্ত থেকে সংগৃহীত।

নতুন নতুন গেম, মুভি, গান, টিউটোরিয়াল ডাউনলোডের জন্য  আমার সাইট থেকে ঘুরে আসতে পারেন।সবাই ভাল থাকবেন।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen − eleven =