পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (পর্ব ৩, পেপ্যালের ব্যাবসার ধরণের ক্রমবিকাশ)

3
400

পেপ্যাল একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যারা অর্থের স্থানান্তর বা হাতবদল ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা সহায়তা দিয়ে থাকে। অননলাইন স্থানান্তরের এই পদ্ধতি গতানুগতিক অর্থের লেনদেনের পদ্ধতি যেমন চেক বা মানি অর্ডারের বিকল্প হিসেবে ব্যাবহৃত হয়ে থাকে।

পেপ্যালের ব্যাবসার ধরণের ক্রমবিকাশ

পেপ্যালের ব্যাবহারকারীদের সংখ্যা এবং একই সাথে লেনদেনের পরিমাণের সাফল্যের পেছনে তিন ধাপে উন্নয়নের কথা বলেছেন ই-বের সিইও মেগ হুইট্ম্যান “প্রথমে পেপ্যাল তার মনযোগ নিবদ্ধ করে আমেরিকার ই-বের গ্রাহকদের কাছে তাদের সেবা পৌঁছে দিতে, তারপরে আমরা চেষ্টা করি ই-বের আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের নিকটেও আমাদের সেবাকে জনপ্রিয় করতে। তৃতীয়ত আমরা শুরু করি ই-বের বাইরের গ্রাহকদের নিকট আমাদের ব্যাবসাকে সম্প্রসারণ করতে।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (পর্ব ৩, পেপ্যালের ব্যাবসার ধরণের ক্রমবিকাশ)

ধাপ-১

প্রথম ধাপে লেনদেনের মূল অংশ আসছিল ই-বের নিলামের ওয়েবসাইট থেকে। এই পদ্ধতিটি নিলামের বিক্রেতাদের জন্য খুবই লোভনীয় ছিল, কারণ তাদের অধিকাংশই ছিলেন একজন ব্যাক্তি অথবা ক্ষূদ্র ব্যাবসায়ী, যারা নিজেরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণে অপারগ ছিলেন। একই সাথে ক্রেতাদের জন্যেও এটি সুবিধাজনক পদ্ধতি ছিল। পৃকৃতপক্ষে অধিকাংশ বিক্রেতাই “মার্চেন্ট একাউন্ট” খোলার যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন না কারণ তাদের বাণিজ্যিক ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের ইতিহাস ছিল না। পেপ্যালের সেবা নিলামের সাইটের ক্রেতাদের কাছেও আকর্ষণীয় ছিল এই কারণে যে তারা তাদের মূল্য পরিশোধ ক্রেডিট কার্ড অথবা ব্যাঙ্ক একাউন্টের টাকার মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ পেত অপরিচিত কোন বিক্রেতা বা ব্যাক্তির কাছে তার গোপনীয় তথ্য প্রকাশ না করেই। পেপ্যাল একটি অগ্রাসী বিজ্ঞাপনী প্রচার অভিযান চালায় তার বৃদ্ধি দ্রুততর করার জন্য। প্রতিজন নতুন ব্যাবহারকারী পেপ্যালের থেকে ১০ ডলার করে পেতেন (একই সাথে প্রতিজন নতুন ব্যাক্তিকে উৎসাহিত করার জন্য আরো ১০ ডলার ) ।

পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (পর্ব ৩, পেপ্যালের ব্যাবসার ধরণের ক্রমবিকাশ)

ধাপ-২

পেপ্যালের ভঙ্গুর ব্যাবসানীতি ছিল ২০০০ সালের সবচেয়ে বড় সমস্যা। প্রাথমিকভাবে পেপ্যাল তাদের সেবা বিনামূল্যে দেয়া শুরু করে, এই পরিকল্পনায় যে, ব্যাবহারকারীদের গচ্ছিত অর্থের ওপরের সূদ থেকে তার অর্থ উপার্জন করবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখা গেল অধিকাংশ ব্যাবহারকারীই তাদের অর্থ তৎক্ষনাত বের করে নিচ্ছেন। এছাড়াও প্রেরকদের একটি বড় অংশ তাদের অর্থ প্রেরণের জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহার করছেন যা পেপ্যালকে মোট লেনদেনের পরিমাণের প্রায় শতকরা ২ ভাগ করে দেয়া লাগছে, কিন্তু খুব কম ক্রেতাই ব্যাঙ্ক একাউন্ট ব্যাবহার করছেন যার খরচ অনেক কম।

ই-বের যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যাবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পেপ্যাল ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভার্চুয়াল পৃথিবীর লেনদেনের ক্ষেত্রে চিরায়ত সমস্যাগুলোর সমাধানের দিকে নজর দেয়। যেমন প্রতারণা, দায়বদ্ধতা, অভিযোগ নিরসন ইত্যাদি ( লেনদেনের ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতি পেপ্যাল বহন করে, এছাড়াও ক্রেতা ও বিক্রেতার নিরাপত্তার প্রোগ্রামের দায়িত্ব পেপ্যাল নেয়) প্রকৃতপক্ষে যখন কোন বিক্রেতা দেউলিয়া হয়ে যায়, যা অনলাইন কেনাবেচার ক্ষেত্রে খুব দূর্লভ নয়, তখন পেপ্যাল দায়িত্ব নেয় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া বিক্রেতার পক্ষ থেকে যেসকল টাকা পাওনা আছে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সেগুলো পরিশোধ করে দেয়া। একই ভাবে ক্রেতাদের তাদের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অননুমোদিত ব্যাবহারের বিরুদ্ধে পেপ্যালের পক্ষ থেকে সুরক্ষা দেয়া হয়। এর সাথে, ই-বের ক্রেতাদের যারা পেপ্যাল ব্যাবহার করছেন তাদের ১০০০ ডলার পর্যন্ত সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়া হয়, (এক বছরে ৩ বার পর্যন্ত) যখন তাদের ক্রয়কৃত পণ্য সময়মত পৌছায় না, অথবা পণ্যের বর্ণনার সাথে সরবরাহকৃত পণ্যের অবস্থার অমিল দেখা যায়, শুধুমাত্র সেইসব বিক্রেতাদের জন্য যাদের ফীডব্যাক রেটিং বেশী। সর্বশেষ, ব্যাবসা একাউন্ট সম্বলিত বিক্রেতাদের বিক্রেতা নিরাপত্তা প্রকল্পের সহায়তা দেয়া হয় ৫০০০ ডলার পর্যন্ত, যেখানে বিক্রেতাদের চার্জব্যাকের বিপরীতে সুরক্ষা দেয়া হয়, যখন তারা অর্থ ফেরত দেবার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে। (যেমন নিশ্চিত ঠিকানায় পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে পণ্য পাঠানোর প্রমাণ বা রশিক সংরক্ষণ অথবা ২৫০ ডলারের অধিক মূল্যের পণ্যের ক্ষেত্রে পণ্য গ্রহণের সময় ক্রেতার সই নেবার নীতি ইত্যাদি)

পেপ্যাল (paypal) নিয়ে বিস্তারিত (পর্ব ৩, পেপ্যালের ব্যাবসার ধরণের ক্রমবিকাশ)

ধাপ-৩

পেপ্যালের ব্যাবসা পদ্ধতি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ ও উন্নয়ন এবং স্থানীয় (আমেরিকা) ও ই-বের লেনদেনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরে, পেপ্যাল তাদের ই-বের বাইরের ব্যাবসার দিকে মনযোগ দেয়। যদিও ই-বের মাধ্যমে ব্যাবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি ক্রমান্ময় মন্থর হয়ে শতকরা এক একাঙ্কে নেমে আসে, তবুও ব্যাবহারকারীর সংখ্যা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ব্যাবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাবার কারণে বেড়েই চলে। ২০০৩ সালের শেষদিকে পুনর্গঠনের মাধ্যেমে পেপ্যাল তার একটি নতুন ব্যাবসা শাখা খোলে মার্চেন্ট সার্ভিস নামে। যার উদ্দেশ্য ছিল ই-বের বাইরের ক্ষূদ্র থেকে বড় পর্যন্ত ই-কমার্স ব্যাবসায়ীদের অনলাইন লেনদেনের সুবিধা দেয়া। ২০০৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে পেপ্যালের মার্চেন্ট সার্ভিস বেশ কিছু উদ্যোগ নেয় ই-বের নিলামের বাইরের অনলাইন ব্যাবসায়ীদের তাদের সেবা নিতে উৎসাহিত করতে। যেমনঃ

  • অধিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের ফী ২.২% থেকে কমিয়ে ১.৯% এ নামিয়ে আনা। (একই সাথে উচ্চ লেনদেনের সীমা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ১০০,০০০ ডলারে উন্নীত করা)
  • ই-বের বাইরের ব্যাবসায়ী/বিক্রেতাদের পেপ্যাল ব্যাবহারের জন্য সুপারিশের জন্য পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে ১০০০ ডলার করা (যা আগে ১০০ ডলার ছিল)।
  • ক্রেডিট কার্ড প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান যেমন সাইবারসোর্স এবং রিটেইল ডিসিশনস ইউএসএ কে অনুপ্রাণিত করা যেন তারা তাদের অনলাইন বিক্রেতাদের সুবিধাসমূহের মধ্যে পেপ্যালকেও অন্তর্ভূক্ত করে নেয়।
  • ডেল, এপেলের আইটিউনস এবং ইয়াহুর মত বৃহৎ অনলাইন প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিক্রয় ও বিপণন বিভাগে লোক নিয়োগ করা।

! যেখানে হাজারো অনলাইন বিক্রেতাদের সমাগম হয়।

  • অনলাইনে সংগীত বিক্রয় ও অন্যান্য ক্ষূদ্র বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ফী এর পরিমাণ কমানো।
  • পেপ্যাল মোবাইলের উদ্বোধন করা, যেখানে ব্যাবহারকারীরা তাদের মোবাইল ফোনে ক্ষূদেবার্তা প্রেরণের মাধ্যমে অর্থপ্রেরণ করতে পারবেন।
Advertisement -
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

3 মন্তব্য

  1. সরি ভুল কমেন্ট আর জন্য।

    আর ধন্যবাদ লেখাটা শেয়ার করার জন্য। অনেক কিছু জানলাম।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 − 11 =