স্বপ্নের দেশ অস্ট্রেলিয়া !!

3
1613

আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই ? নিশ্চয়ই ভালো। আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি। তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে মুল পোস্টে যাওয়া যাক। চলুন আগে অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে কিছু জানা-অজানা তথ্য জেনে নেই।

অস্ট্রেলিয়া একটি দ্বীপ-মহাদেশ। এটি এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। কাছের তাসমানিয়া দ্বীপ নিয়ে এটি কমনওয়েল্‌থ অফ অস্ট্রেলিয়া গঠন করেছে। দেশটির উত্তরে তিমুর সাগর, আরাফুরা সাগর, ও টরেস প্রণালী; পূর্বে প্রবাল সাগর এবং তাসমান সাগর; দক্ষিণে ব্যাস প্রণালী ও ভারত মহাসাগর; পশ্চিমে ভারত মহাসাগর। দেশটি পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৪০০০ কিমি এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৩৭০০ কিমি দীর্ঘ। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ, কিন্তু ৬ষ্ঠ বৃহত্তম দেশ। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা। সিডনী বৃহত্তম শহর। দুইটি শহরই দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর। এটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ধরে প্রায় ২০১০ কিমি জুড়ে বিস্তৃত। এটি আসলে প্রায় ২৫০০ প্রাচীর ও অনেকগুলি ছোট ছোট দ্বীপের সমষ্টি। কুইন্সল্যান্ডের তীরের কাছে অবস্থিত ফেয়ারফ্যাক্স দ্বীপ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অংশ।

অস্ট্রেলিয়া ৬টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত – নিউ সাউথ ওয়েল্স, কুইন্সল্যান্ড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া, ভিক্টোরিয়া, ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া। এছাড়াও আছে দুইটি টেরিটরি — অস্ট্রেলীয় রাজধানী টেরিটরি এবং উত্তর টেরিটরি। বহিঃস্থ নির্ভরশীল অঞ্চলের মধ্যে আছে অ্যাশমোর ও কার্টিয়ার দ্বীপপুঞ্জ, অস্ট্রেলীয় অ্যান্টার্কটিকা, ক্রিসমাস দ্বীপ, কোকোস দ্বীপপুঞ্জ, কোরাল সি দ্বীপপুঞ্জ, হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ, এবং নরফোক দ্বীপ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বসতিস্থাপক ছিল এখানকার আদিবাসী জাতিগুলি। এরা প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ বছর আগে দেশটিতে অভিগমন করে। ১৭শ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত বহির্বিশ্বের কাছে দ্বীপটি অজানা ছিল। ১৭৮৮ সালে দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার পোর্ট জ্যাকসনে প্রথম স্থায়ী উপনিবেশ সৃষ্টি করা হয়; এটি ছিল ব্রিটিশ কয়েদীদের উপনিবেশ। এটিই পরবর্তীতে বড় হয়ে সিডনী শহরে পরিণত হয়। ১৯শ শতক জুড়ে অস্ট্রেলিয়া এক গুচ্ছ ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে কাজ করত। ১৯০১ সালে এগুলি একত্র হয়ে স্বাধীন অস্ট্রেলিয়া গঠন করে।

অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে তো অনেক কিছুই জানলেন এবার অস্ট্রেলিয়ার কিছু বিখ্যাত স্থানের ছবি দেখা যাক।

ভ্রমন পিপাসু মন আমার, কিছুদিন যেতে না যেতেই কোথাও বেড়াতে যাবার জন্য মন অস্থির হতে থাকে, সংসার, অফিসের কাজের ফাকে,খুঁজে ফিরি শুধু একটুকরো অবসর চারদিকের এই অপরুপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য…….

সারাটাক্ষণ শুধু চিন্তা, কখন পাব সময় আর দিব ছুট এক অন্তহীন সৌন্দর্য্য খোঁজার আশায়, যেখানে গেলে এক অপার শান্তিতে ভরে উঠবে মন-প্রান !

ছোট কাল থেকেই বেড়ানোর অভ্যাস আমার, বাংলাদেশেও বেশ ঘোরাঘুরি করার সৌভাগ্য হয়েছে কিছুটা মা-বাবার সাথে, কিছুটা স্বামীর অফিসিয়াল ট্যু’রের বদৌলতে আর বাকীটা নিজের উদ্যোগে। বেশ কিছু বছর হয়ে গেল বিদেশে পাড়ি জমিয়েছি !

দেশ ছেড়ে আসার সময় মন খারাপ ছিল, চির সবুজের দেশ ছেড়ে যাচ্ছি, বিদেশে যান্ত্রিক জীবন, কেমন লাগবে ? কিন্তু আমার ধারনাকে ভুল প্রমান করে দিল বিদেশের চির সবুজ শ্যামলিমা !!

একদিকে যেমন যান্ত্রিক সৌন্দর্য্য, আল্লাহ্‌তায়ালার অপূর্ব সৃষ্টি আর অন্য দিকে মানুষের হাতে তৈরী চমকপ্রদ সব মন মাতানো, চোখ ভোলানো সৌন্দর্য্য !!

এরা ভীষণ রকম সৌন্দর্য্য প্রিয়, কিভাবে কতটা সুন্দর ভাবে সাজালে মানুষের মনোরন্জন হয়, খুব ভাল করে এরা তা জানে………

নানান দেশ ঘুরে এখন এসে আস্তানা গড়েছি এই কোয়ালা, ক্যাংগারুর দেশে। অস্ট্রেলিয়া আসবার পর বিভিন্ন কারনে বেশ ক’টি শহর দেখবার সুযোগ আমার হয়েছে ।

আমার এই লেখায় একের পর এক অস্ট্রেলিয়ার বেশ কটি শহরকে উপস্থাপন করার চেস্টা করব তবে তার আগে এই মহাদেশটিকে নিয়ে কিছু কথা।

অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস খুব বেশি দিন আগের নয়, ৫০ হাজার বছর আগে এখানে এ্যাবরজিনস নামে এক জাতি বাস করত আর তারাই এখানকার প্রথম অধিবাসী।

এরপর ধীরে ধীরে স্থায়ি বসতি গড়ে তোলে ব্রিটিশ রা। ১৯০১ সালের ভেতরই অস্ট্রেলিয়ায় মোট ৬টি উপনিবেশ গড়ে উঠে।

আর সেগুলি হচ্ছে, নিউ সাউথ ওয়েলস, তাসমানিয়া, পশ্চিম, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ভিক্টোরিয়া এবং কুইন্সল্যান্ড। কেন্দ্র শাসিত হচ্ছে, নদার্ন টেরিটরি আর এ সি টি অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি।

এই ৬টি উপনিবেশ ৬টি রাষ্ট্রে পরিনত হয়ে “কমন ওয়েলথ” এর অন্তর্গত হয়ে নাম হয়, “কমন ওয়েলথ অফ অস্ট্রেলিয়া”।

অস্ট্রেলিয়ার বড় বড় শহরগুলির নাম হচ্ছে, সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, এডেলেইড, তাসমানিয়া, ডার‌উইন, পার্থ, গোল্ডকোষ্ট।

শহর জুড়ে আছে নানা রকম সমু্দ্র, নদি, যেগুলির দিকে চোখ গেলে ফেরানো মুসকিল হয়ে পড়ে, ইচ্ছা হয় ঘন্টার পর ঘন্টা ঐ সমুদ্রের পাড়ে বসে সময় কাটিয়ে দিতে…….
Oi jhinuk fota shagor belai_Samina Chowdhury 

কোয়ালা, অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বিখ্যাত প্রানী…

প্রায়ই দেখা যায় জংগলে গাছের ভেতর চুপটি মেড়ে বসে আছে আর মাঝে মাঝে এক গাছ থেকে আর এক গাছে বেয়ে উঠছে……

ক্যান্গারু এদেশের জাতীয় পশু…….

আর বিভিন্ন প্রকার পাখিদের কথা না বল্লে সব কিছুই যেন অপূর্ণ থেকে যায়……..

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা। অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশের অনেক ক্ষেত্রেই মিল পাওয়া যায়, যেমন, এখানে বলতে গেলে সবরকম দেশী ফুল, ফল, মাছ পাওয়া যায়।

এখানকার আবহাওয়ার ধরনটাও অনেকটা বাংলাদেশের মত, এটা অবশ্য সব যায়গায় না, বিশেষ কিছু শহরে, যেমন ব্রিজবেনে।

অস্ট্রেলিয়ার ফুল এর কথা না বল্লেই নয়, শহরের বিভিন্ন যায়গা গুলি নানান রকম সুন্দর সুন্দর ফুল ও লতা পাতায় সাজানো, যেখানে বসে, হাটাহাটি করে চমৎকার সময় কাটানো যায়…..

Bangla song-aha aji ei boshonte 
অস্ট্রেলিয়ার মাটির নীচে পাওয়া গেছে মূল্যবান ধাতব ঐশ্বর্য্য। বনে গাছপালা ছাড়াও নানান রকম জীব জন্তু আর পানিতে মাছের প্রাচুর্য্য।

অন্যান্য জীব-জন্তুর মত সাপের উপদ্রপও আছে যায়গা বিশেষে,আর অস্ট্রেলিয়ার এই ভয়ন্কর প্রানীটির কথাতো মনে হয় কম বেশী সবাই জানেন…… তবে সাধারনতঃ জংগল এলাকাতেই এই ভয়ন্কর সাহেবকে বেশী দেখতে পাওয়া যায় !!

সব শহর গুলিতেই খুব জাকজমক পূর্ণ ভাবে ফায়ার উয়ার্কস নাইট উদযাপন করা হয়, সমস্ত শহরটি তখন দেখবার মত হয় , মনে হয় সোনালী রং এর গয়না পড়ে এরা জ্বলজ্ল করছে ! কি যে ভাল লাগে নদীর পার ঘেসে এই আনন্দ উৎসব টি !!

আমার পোস্টটি কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।

ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

3 মন্তব্য

  1. এ তো দেখছি গিগা পোস্ট
    অনেক কষ্ট করে লিখেছেন
    আর অনেক ভালও লিখেছেন
    অনেক অনেক ধন্যবাদ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen + thirteen =