বিভ্রমযাত্রার স্মৃতি । না দেখলে ১০০% মিস করবেন!!!!

7
363

সায়ান স্কুল থেকে ফিরে নিজের i-Board (i-pad এর উত্তরাধুনিক ভার্সন) এর হলোগ্রাফিক স্ক্রিন(!) খুলে হাতে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর ফ্রুট জুস নিয়ে সোফায় আয়েশ করে বসল। ওর রুপকথা পড়তে ভাল লাগে। প্রায় সবগুলো গল্পই তার পড়া। যেগুলো বাকি, খুঁজতে খুঁজতে একটা পেল যেটি তার পড়া হয় নি। এই গল্পটা তেমন কেউ পড়েও নি। পেইজভিউ মাত্র দশ, রেটিং ও খুবই বাজে। পড়তে ইচ্ছে করছিল না, তবু কেন যেন শুরু করে দিল। তবু সে শুরু করলঃ

 

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

অনেক অনেক কাল আগের কথা এক দেশে বাস করত এক টেকনলজি প্রেমিক জাতি। প্রযুক্তি পণ্যের প্রতি তাদের ছিল সীমাহীন আগ্রহ। দিনের পর দিন অর্থসঞ্চয়ের পরে তারা নানা ধরনের প্রযুক্তিপণ্য কিনে ব্যবহার করত। টেকপাগল জাতিটির টেকজগতে প্রাধান্য লাভের উপকরণ প্রায় সবকিছুই ছিল। তাদের ছিল মেধা, ছিল  শেখার আগ্রহ আর সামনে এগিয়ে যাবার ইচ্ছা, কিন্তু ছিলনা মেধাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেই শিক্ষা।

টেকপাগল জাতিটির সম্ভাবনা ছিল, ছিল স্বপ্ন। কিন্তু প্রতিকূলতার পাহাড়সম বাধা  ওদের সামনে এগিয়ে যেতে দিত না। পশ্চাৎপদ জাতির তরুনেরা শুনে শুনে বড় হত ২০০০ সালের দিকে উন্নত সব দেশ ৩য় প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।  সেই তরুনরা ভাল বুঝত না সেটি কি। বুঝবেই বা কিভাবে? ওরাতো সবে সেল-ফোনের জগতে প্রবেশ করেছে মাত্র। পাড়ায়-মহল্লায় বেশি হলে একটা-দুইটা কম্পিউটার তখন। ওসব ছিল উচ্চবিত্তের বিলাস। মধ্যবিত্তের স্বপ্নে বিভোর হয়ে তারা দিন গুনত আর ভাবত ‘সময় ফুরিয়ে যায় নি’! কিন্তু বছর যায় কোন কাজ হয় না। ক্ষমতা যাদের ছিল তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল না। ওরা ছিল স্বার্থান্বেষী। নিজেদের স্বার্থের কাছে দেশের স্বার্থ আর মানুষের স্বার্থ সবই বিকিয়ে যেত।

সময় গড়িয়ে চলে। আর সব দেশ যখন গাড়ির চাকার মত গতিশীল জীবন কাটাত, সেদেশের লোকেদের বোঝানো হত গরুর গাড়িই আমাদের সংস্কৃতি।

ইন্টারনেটের জগতে অন্যসবাই যখন উড়ে বেড়াত, ওরা তখন হাঁটতে শিখেছে। ক্ষমতাধরেরা সে দেশের অর্ধেক ব্যান্ডউইডথ সাধারন মানুষকে ব্যবহার করতে দিত না। ইন্টারনেটের ছিল দাম ছিল আকাশছোঁয়া। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্ররা তাদের হোস্টেল ভাড়া দিত ৯০০ টাকা আর স্বল্পগতির ইন্টারনেটের জন্য দিত ১৪০০ টাকা! অবিশ্বাস্য কাহিনী।

এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশটি অনলাইন আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং-এ উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে চলত। কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট আর মান্ধাতা আমলের পিসির সাথে কম্পিউটার পণ্যের উচ্চমূল্য সত্ত্বেও কিভাবে যে ওরা এসব করত সেটা মনে হয় ওরাই ভাল জানত!

সায়ান পড়ছিল, তার বোরিং লাগতে শুরু হল। কয়েক পাতা বাদ দিয়ে গেল হঠাৎ এক জায়গায় ছোট একটি কথোপকথনে চোখ আটকে গেলঃ


অলিঃ বাবা ! বাবা ! তোমার ওডেস্কের যে প্রজেক্টটায় আমি হেল্প করছিলাম সেটার ডেডলাইন তো আজকে! তোমার মনে নেই?

বাবাঃ আছে তো।

অলিঃ আছে মানে? তুমি সাবমিট করবে না?

বাবাঃ করতে পারব না রে, ফাইলের যা সাইজ হয়েছে গতকাল থেকে আপলোড শুরু করা উচিত ছিল। কাজটা শেষই করতে পারিনি, আপলোড দেব কখন। আর আজ সারাদিন চেষ্টা করলেও শেষ করতে পারব না। লাইনের যা স্পিড! তাও আবার ঘন্টায় ঘন্টায় ড্রপ করছে।

অলিঃ এ কেমন কথা? এত কষ্ট করে করা এত দিনের কাজ। তোমার আগে অন্যরা জমা দিয়ে দিলে তুমি  তো পেমেন্ট পাবে না।

বাবাঃ এমনি তো হচ্ছে রে, কাজের কোয়ালিটি ভাল হলেও শুধু ইন্টানেট স্পিডের কারনে আমি হেরে যাচ্ছি অন্যদেশের ওয়ার্কারদের কাছে।

অলিঃ এমন কেন হচ্ছে বাবা? সরকার কি ঘুমায়? আমাদের ভালমন্দ দেখার দায়িত্ব কি ওদের না বাবা?

বাবাঃ যে দেশে এক মন্ত্রণালয় থেকে বিতাড়িত ব্যর্থ আবুলরা আইটি সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে সে দেশে এ ছাড়া কোন উপায় নেই।


 

শোনা যায়, দেশটির নাম ছিল বাংলাদেশ। তবে সমূদ্রের নিচে ডুবে যাবার আগ পর্যন্ত ওরা  মাথা উঁচু করে থেকেছে। শোনা যায় এই জাতি অনেক সংগ্রামের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছিল।

বিভ্রমযাত্রার স্মৃতি । না দেখলে ১০০% মিস করবেন!!!!

অনেক রক্ত ঝরিয়ে পাওয়া দেশটিকে সাধারন মানুষগুলো ভালবাসায় টিকিয়ে রেখেছিল।

যত যাই হোক, তবুও এই সীমিত সম্পদ নিয়ে কিসের যে বড়াই ওরা করত তা সায়ান বুঝে পায় না। গল্পে বলা আছে ওদের ছিলনা শুধু একটা জিনিস। এখানে তো দেখা যাচ্ছে ওদের কিছুই ছিল না। ধুৎ, ফালতু গল্প। সময়টাই নষ্ট হল।

সত্যি বটে, ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির মত পুনর্জন্ম নেয়ার মধ্যে যে কি সুখ, তা বাংলাদেশিরা ছাড়া আর কে বুঝবে?

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

7 মন্তব্য

  1. আপনি গ্রামবাংলার সঠিক ঠিক চিত্র তুলে ধরেছেন গল্পটির মাধ্যমে

  2. খুব ভালো পোস্ট। আসলে, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা যতদিন না ভালো হবে ততদিন আমাদের আইটি সেক্টর মনে হয় মুখ থুবড়েই পড়ে থাকবে। :( :'(

মন্তব্য দিন আপনার