আসছে থ্রিজি তৈরি থাকুন :D

15
493

টেলিটকের হাত ধরে থ্রিজি যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ

আসছে থ্রিজি তৈরি থাকুন :D

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

দেশে প্রথমবারের মতো তৃতীয় প্রজন্মের [থ্রিজি] ইন্টারনেট চালুর ঘোষণা দিয়েছে

রাষ্ট্রায়ত্ত সেলফোন অপারেটর কোম্পানি টেলিটক। নতুন প্রজন্মের এই ইন্টারনেটে

র মাধ্যমে গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে। তবে কী আছে এই নতুন প্রযুক্তিতে? এর বিশেষত্বই বা কী? প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমন্বয় ঘটাতে পারবে কি টেলিটক? উত্তর খুঁজেছেন তুহিন মাহমুদ

সবুজ পাহাড়ের গা ঘেঁষে বয়ে চলেছে ঝর্ণাধারা। ঝর্ণার কলতানে তৈরি হয়েছে নালা। এই নালার বুকে নীলাভ জলরাশি। হাঁটুজলে রণসাজে সজ্জিত তিনটি অ্যানিমেটেড কোলা ব্যাঙ। তাদের দেখে ভীতসন্ত্রস্ত পথিক। রাজধানীর বেশ কিছু পয়েন্টে সুদৃশ্য এমন বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে। এটি মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত সেলফোন অপারেটর টেলিটকের তৃতীয় প্রজন্মের ইন্টারনেট প্রচলনের একটি বিজ্ঞাপন। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর এবার সত্যিই টেলিটকের মাধ্যমে দেশে যাত্রা শুরু করছে থ্রিজি। গতিময় নতুন প্রজন্মের এই ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন দেশের গ্রাহকরা।
কাজের কাজি থ্রিজি
থ্রিজি প্রযুক্তি কার্যকর থাকলে একটি সাধারণ থ্রিজি সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে অনেক কাজ সম্পাদন করা যায়। থ্রিজি প্রযুক্তির সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুবিধা হলো, এই প্রযুক্তি কার্যকর থাকলে হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে ভয়েস সুবিধার পাশাপাশি ব্যবহারকারী ভৌগোলিকভাবে যে অবস্থানেই থাকুক না কেন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে টিভি দেখা, খেলা দেখা এবং ভিডিও ক্লিপস মুহূর্তেই আদান-প্রদান সম্ভব হবে। একজন ব্যবহারকারী থ্রিজি সমর্থিত মোবাইল সেটের সাহায্যে ভিডিও কনফারেন্স করতে পারবেন। একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাদের ভিডিও দেখার সুবিধাও পাওয়া যাবে। বিনোদনের ক্ষেত্রে এটি অদ্বিতীয়, ইন্টারনেট থেকে খুব কম সময়ে বিনোদনের যে কোনো কনটেন্ট ডাউনলোড করা যাবে সহজেই। থ্রিজি প্রযুক্তি কার্যকর থাকলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে টেলিমেডিসিন সেবা আরও সহজ ও কার্যকরভাবে প্রদান করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশিল্গষ্টরা। বাণিজ্যিক কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রেও থ্রিজি অসাধারণ। একজন বাণিজ্যিক কর্মকর্তা যে কোনো জায়গায় বসে এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট, পিডিএফ ফাইল এবং অন্যান্য ফরমেটের ফাইল পড়তে এবং সংশোধন করতে পারবেন। আপলোড, ডাউনলোডের মাধ্যমে তার ব্যবসায়িক কর্মসম্পাদন করতে পারবেন। তৃতীয় প্রজন্মের এই ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে গ্রাহক সেবা প্রদানে কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টও [সিআরএম] সম্ভব।
তৃতীয় প্রজন্মের কথকতা
তৃতীয় প্রজন্মের তারবিহীন ইন্টারনেট প্রযুক্তি হচ্ছে থ্রিজি। প্রযুক্তিটির সঙ্গে বিশ্ববাসীকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয় জাপান। এটি ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বাণিজ্যিকভাবে প্রথম বাজারে নিয়ে আসে এনটিটি ডোকোমো নামক মোবাইল অপারেটর কোম্পানি। বাণিজ্যিকভাবে ২০০৩ সালে জাপানি ভেরিজো ওয়্যারলেস অপারেটর থ্রিজি প্রযুক্তিসেবা নিয়ে বাজারে আসে। এটি আগের তারবিহীন প্রযুক্তিগুলোর চেয়ে উন্নততর সংস্করণ। আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার [আইটিইউ] মতে, থ্রিজি প্রযুক্তি হচ্ছে এমন এক মোবাইল প্রযুক্তি যাতে জিএসএম, ইডিজিই, ইউএমটিএস এবং সিডিএমএ-২০০০ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ডিইসিটি এবং ওয়াইম্যাক্স সার্ভিস, ভয়েস কল, ভিডিও কল এবং ওয়্যারলেস ডাটা সবই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা যায়। থ্রিজি প্রযুক্তি একই সঙ্গে ভয়েস ও উচ্চগতিসম্পন্ন ডাটা সার্ভিস [১৪ এমবিপিএস পর্যন্ত ডাউনলিংক এবং ৫.৮ এমবিপিএস পর্যন্ত আপলিংক] সমর্থন করে। থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইলে গেল্গাবাল পজিশনিং সিস্টেম [জিপিএস] ডিভাইসের মাধ্যমে এবং স্যাটেলাইটের সাহায্যে একজন ব্যবহারকারীর অবস্থান জানা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের মোবাইল অপারেটর ভেরিজন ব্যবহারকারীরা ১.০৯ মেগাবিটস/সেকেন্ড এবং আপলোডে ০.৬৭ মেগাবিটস/সেকেন্ড গতি পেয়ে থাকেন। আমাদের দেশে তৃতীয় প্রজন্ম সুবিধা চালু হলেও একই ধরনের গতি পাওয়া যাবে।
টেলিটকে তৃতীয় প্রজন্মের আহ্বান
উন্নত বিশ্ব যেখানে চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেটে অভ্যস্ত, সেখানে বেসরকারি সেলফোন অপারেটর কোম্পানি কেবল টুজি লাইসেন্স পেয়েছে। তবে একধাপ এগিয়ে টেলিটক তৃতীয় প্রজন্মে উত্তরণের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থ্রিজি সেবার উদ্বোধন হবে। তবে ইতিমধ্যে নিবন্ধন পর্ব শুরু হয়েছে। একটানা তিন মাস গ্রাভিটি প্যাকেজের শর্ত পূরণ করলে মিলবে থ্রিজি সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা। টেলিটকের প্রিপেইড গ্রাহকরা থ্রিজি সেবার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে একটানা তিন মাসে তিন ধাপে ৫০০ টাকা করে নিবন্ধন ফি দিলেই এ সেবার নিবন্ধিত গ্রাহক হওয়া যাবে। টেলিটকের থ্রিজি সেবাভুক্ত হতে প্রথমে মোবাইলে ৫০০ টাকা ব্যালেন্স নিশ্চিত করে [এৎধারঃু] লিখে ৬৬৬ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। এরপর নিবন্ধিত টেলিটক গ্রাহক গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্য হবেন। তবে এখানেই শেষ নয়।
এরপর পরবর্তী আরও দুই মাসে দুই কিস্তিতে ৫০০ টাকা করে ১ হাজার টাকা নিবন্ধন ফি দিতে হবে। সব মিলিয়ে তিন মাসে দেড় হাজার টাকার নিবন্ধন ফি দিলেই থ্রিজি সেবার জন্য গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্যপদ বহাল থাকবে।
গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্য হলে বান্ডল অফার দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি সেকেন্ডে পালস সুবিধা। সর্বমোট ৬০০ মিনিট টকটাইম সুবিধা। এ প্যাকেজে ৩০০ মিনিট অননেট আর ৩০০ মিনিট অফনেট টকটাইম প্রযোজ্য। আর বোনাস অফারে থাকছে থ্রিজি গ্রাভিটি ক্লাবের গ্রাহক হওয়ার সুযোগ।
এ ক্লাবের সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ রিচার্জকারীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে থ্রিজি সংযোগ দেওয়া হবে। আর গ্রাভিটি নিবন্ধিত প্রতিটি সদস্যই পাবেন ১ জিবি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। এটি ৩০ দিন পর্যন্ত উপভোগ করা যাবে। তবে আপাতত এ সুযোগ শুধু ঢাকা, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট এবং কক্সবাজার শহরের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। আরও বিস্তারিত জানতে টেলিটক থেকে ১২৩৪ নম্বরে কথা বলা যাবে। তবে থ্রিজি সুবিধা ব্যবহার করতে হ্যান্ডসেটটি অবশ্যই থ্রিজি সমর্থিত হতে হবে। এ ছাড়া থ্রিজি সমর্থক ইন্টারনেট মডেমেও দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন ব্যবহারকারীরা।
টেলিটকের পর বেসরকারি অন্যান্য টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা সংস্থাও চাহিদা অনুযায়ী পাবে থ্রিজি নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশের যেসব মোবাইল ফোন সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয় প্রজন্মের [টুজি] বা ২ দশমিক ৫জি প্রযুক্তিনির্ভর নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে, তাদের নেটওয়ার্কে সামান্য উন্নয়ন করেই থ্রিজি সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।
খরচ কমবে কি?
থ্রিজি এলে খরচ কমবে বলে ধারণা করা হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভিন্ন কথা। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন থ্রিজি লাইসেন্স নিলামে তোলার পরিকল্পনা করছে। লাইসেন্সের পাশাপাশি নেটওয়ার্ক উন্নয়নেও বিনিয়োগ করতে হবে অপারেটরগুলোকে।
তাই কম খরচে থ্রিজি ইন্টারনেট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না বললেই চলে। টুজি ইন্টারনেট প্রযুক্তিতেই খরচের ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। আমাদের দেশে ইন্টারনেট খরচ এমনিতেই বেশি, এর মধ্যে খরচের নতুন বাহন হিসেবে আবির্ভূত হবে থ্রিজি। এ দিকটায় এখনই নজর দিতে পারে বিটিআরসি।
প্রয়োজন কনটেন্ট
আমাদের দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়াতে কনটেন্ট তৈরির বিকল্প নেই। তবে ইন্টারনেটে আমাদের নিজস্ব কনটেন্ট নেই বললেই চলে। কেবল গুগল ফেসবুক, ইউটিউব, ইয়াহু সাইটগুলোই আমাদের দেশের ব্যবহারকারীরা বেশি ব্যবহার করে থাকেন। বাংলাদেশি যেসব ওয়েবসাইট শীর্ষে রয়েছে সেগুলোও সংবাদভিত্তিক সাইট। এ ছাড়া বৈচিত্র্যময় কনটেন্টের তেমন কোনো সাইট নেই বললেই চলে। হ্যান্ডসেটে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তারা কেবল মিনিপ্যাকেই বেশি আগ্রহী থাকেন, কারণ ইন্টারনেটে কনটেন্ট না থাকলে বেশি মেগাবাইটের প্যাকেজ নিয়ে একজন ব্যবহারকারী আসলে কী করবেন? ইন্টারনেটে তাই আমাদের দেশি কনটেন্ট তৈরিতে জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

{সূত্রঃ দৈনিক সমকাল পত্রিকা}

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

15 মন্তব্য

  1. thaklam wi8 koira r kiroum….hangama badhailei jodi kaj hoito taile atto din e 3g shubidha vhog kortam…………post shundor hoise……….thank you

  2. vaia sundor tune kkorecen.kintu kicu vul kotha bolecen.apni bolecen onno operator ra jokhon 2g er licence renew korce tokhon teletalk 3g ance.er madhdhome kintu prokash pachce j teletalk onnanno operator der theke valo.karon tara notun projukti age ance.but kothata sotto na.prothom kotha teletalk er hat dhore 3g ashce na.teletalk er hat dhore 3g aste badhdo kora hochce.onnanno operator der to 3g anar permiion i dea hochce na.tara anbe kivabe??ar jodi gp ke permission dea hoto tahole amra onek din agei 3g er mukh dekhte partam.r sob operator k ek sathe 3g er permission dile teletalk sobar pore 3g anto.tacara akhane sorkar trick khatayce.teletalk er user kome jaauay tara j lose khayce ta posanor jonno e kaj korce.r ata to emon kotha holo j ghush na dile 3g dibo na.karon bd te ekta notun projukti chalu hoce.seta sobaike use korte dear madhdhome tar sathe porichito korano uchit.sekhane bolce age 1500 taka ghush deu nahole 3g dibo na.3g nea sobai setisfied hole tar user evabei bere jabe.kintu tara ta na kore trick khatie tader sartho udhdhar korte chachce…

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − ten =