অনুর মেলা

0
212

একটূ একটু করে সূয ডুবে গেল পশ্চিম পাড়ার গাছপালার আড়ালে।অন্যদিনের মত আজকেও সন্ধ্যা নেমে এল আনুদের বাড়ির আঙিনায়, ঘরের চালে।আনুর মনটা আজ দারুন উতফুল্ল।আজ অনেকগুলো দিন ধরে সে আগামীকালের অপেক্ষায় ছিল।দাদুর মুখে সে পয়লা বোশেখের মেলার গ’ল্প শুনেছে।সেদিন থেকে সে বায়না ধরেছে এবারের বোশেখের মেলায় সে যাবেই যাবে।আব্বা মা যাতে তাকে ফাঁকি দিতে না পারে তাই সে বার বার দাদুকে পঞ্জিকা দেখতে বাধ্য করেছে। বৈশাখের প্রথম দিন কবে দাদু তা ভালোই জানেন, তবু একমাত্র নাতির মন রাখতে মিছেমিছে পঞ্জিকাটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে রেখে দেন।

আনু রাতে কিছুতেই দুচোখের পাতা এক করতে পারল না। মন বারবার সেই রূপকথার মেলায় ছুটে যাচ্ছে। তার ইচ্ছে করছে এখনি মেলার মাঠে ছুটে যেতে। কিন্তু মেলার মাঠ সে তো অনেক দূরে। দাদুর কাছে শুনেছে দুই গ্রাম পরে বসে বোশেখের মেলা। আশেপাশের আট দশ গ্রামের মানুষের জমায়েত হয় মেলার দিনে।মেলার কথা ভাবতে ভাবতে আনু যে কখন ঘুমিয়ে পড়ল তা সে নিজেও টের পেল না।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

সকালে মায়ের ডাকে আনুর ঘুম ভেঙ্গে গেল।প্রথমে ভেবেছিল স্কুলে যেতে হবে তাই মা ডাকছেন।আলসেমিতে পাশ ফিরে শুল।হঠাত’ ম্নে পড়ল মেলার কথা। তড়াক করে লাফিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল।বেশ রোদ উঠেছে নারিকেল গাছের মাথায়।মা রান্না ঘরে পায়েষ রান্না করছে। মিষ্টি একটা গন্ধে মৌ মৌ করছে সারা বাড়ি। আজ নববষে’র দিন। প্রত্যেকটি গৃহস্থ বাড়িতে পায়েষ রান্না হয়।অনেক বাড়িতে পিঠাপুলিও বানানো হয়।সারা বাড়িতে সে কোথাও বাবাকে খুঁজে পেল না। মায়ের কাছে শুনল বাবা হাটে চলে গেছে।

 

ঠিক তাকে মেলায় নেবে না বলে বাবা ফাঁকি দিয়ে হাটে চলে গেছে। অভিমানে আনুর দুচোখে জল ভরে এল।বারান্দায় খাঁটের উপর দাদু বসে আছেন। আনু দাদুর পাশে চুপটি করে বসে থাকল। বিপত্তি হল মা যখন পায়েশের বাটি সামনে দিয়ে গেল। আনু রাগে ক্ষোভে বাটিটা উঠোনে ছুঁড়ে দিল। কাল কুকুরটা ছুটে এল পায়েশের গন্ধে।মা আর দাদু প্রথমে আনুর এই অকাজে অবাক হয়ে গেল।বছ্রের প্রথম দিন বলে মা কিছু বলল না আজ। না হলে আনুর কপালে খারাবি ছিল।দাদু আস্তে আস্তে আনুর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, মেলা বসবে দুপুরের পর।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

মন্তব্য দিন আপনার