মঙ্গলে হবে মানুষের বসতি?

4
377

লাল গ্রহদক্ষিণ গোলার্ধে অবতরণ করল পৃথিবীবাসীর দূত আরেকটি রোভার কিউরিওসিটি। আগের থেকে আরও শক্তিশালী এই রোভারের মূল কাজ মঙ্গলের মাটিতে জৈব অণু অনুসন্ধান।
মঙ্গলে হবে মানুষের বসতি?
নাসার মার্স সায়েন্স ল্যাবরেটরি মিশনের রোভার কিউরিওসিটি। রোভারটি মঙ্গল গ্রহে পৃথিবীর হিসাবে ৬৮৭ দিন বা এক মঙ্গলীয় বছর অভিযানে সক্রিয় থাকবে। মঙ্গলের পরিবেশ, পানি ও বরফ অনুসন্ধান, মঙ্গলের আবহাওয়া ও ভূতত্ত্ব গবেষণা এবং ভবিষ্যতে মানুষ অবতরণের সুযোগ নিয়ে গবেষকদের তথ্য পাঠাবে রোভারটি। আগামী এক বছর প্রাণ খুঁজে বেড়ানোর জন্য রোভারটি চলবে মঙ্গলের বুকে। অবতরণস্থল থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকায় খুঁজবে জৈব অণু।

প্রাণ খুঁজিয়া বেড়াই
আরো মজার মজার খবর পড়তে ও লিখতে চান? ভিসিট করুন
প্রায় নয় মাস অভিযানের পর ৬ আগস্ট মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করল কিউরিওসিটি। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাতে কিউরিওসিটি মঙ্গলপৃষ্ঠ স্পর্শ করে। অবতরণের কয়েক মিনিট পরই প্রথম ছবি প্রেরণ করে রোবটটি। সাড়ে ৫০ কোটি কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রোভারটি পৌঁছায় মঙ্গলে। নামার সময় রোভারের ল্যান্ডিং ক্যাপসুলটি ঘণ্টায় ১২ হাজার কিলোমিটার গতিতে মঙ্গলপৃষ্ঠের দিকে নেমে যায়। অবতরণকালে বায়ুমণ্ডলের সংঘর্ষে সংযুক্ত খেয়াযানের তাপমাত্রা অতিক্রম করে ৮৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ক্যাপসুলের প্যারাস্যুট যখন খোলা হয়, তখন গতি ছিল ঘণ্টায় এক হাজার ৪৫০ কিলোমিটার।
নাসার গবেষকেরা কিউরিওসিটির তোলা প্রথম ছবিটি দেখতে পান ১১টা ৩৪ মিনিটে এবং আনন্দে মেতে ওঠেন। ১১টা ৪১ মিনিট থেকে ‘টুইট’ করা শুরু করে রোবটযানটি। এর আগে ১১টা ২৬ মিনিট থেকে গবেষকেরা তথ্য পেতে শুরু করেন। প্রথম দিন কিউরিওসিটি মঙ্গলের তেজস্ক্রিয়তা মাপতে আর যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, পরীক্ষা করে দেখে। মঙ্গলে অবতরণের দ্বিতীয় দিন অ্যানটেনা চালু করে কিউরিওসিটি। অ্যান্টেনার নেভিগেশন ক্যামেরায় তুলতে শুরু করে মঙ্গলপৃষ্ঠের ছবি। কিউরিওসিটির অবতরণস্থল গেইল জ্বালামুখে অতীতে পানির অস্তিত্ব ছিল বলে মনে করেন গবেষকেরা। তিন মাইল উচ্চতার গেইল কার্টারে দুই বছর অণুজীবের সন্ধান করবে কিউরিওসিটি; গেইল কার্টারের তলা থেকে এদের খোঁজে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে উঠতে থাকবে। খুঁজবে সেখানে প্রাণ!
আরো মজার মজার খবর পড়তে ও লিখতে চান? ভিসিট করুন

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

মঙ্গলে যত অভিযান
মঙ্গল গ্রহে প্রথম পৃথিবী থেকে প্রেরিত প্রতিনিধি ছিল মার্স ওয়ান। ১৯৬২ সালে সোভিয়েত মহাকাশ মিশন থেকে এই নভোযান প্রেরণ করা হয়। মঙ্গল গ্রহের ১১ হাজার কিলোমিটার ওপর থেকেই মিশন শেষকরে মার্স ওয়ান। সোভিয়েত মহাকাশ যান মার্স টু প্রথম মঙ্গলপৃষ্ঠে অবতরণ করে। যদিও এক হাজার ২১০ কেজি ওজনের এই মহাকাশযান অবতরণের সময়ই পৃষ্ঠে ধ্বংস হয়। মার্স টু অবতরণের নয় দিন পর অনুরূপ আরেকটি যান মার্স থ্রি মঙ্গলপৃষ্ঠে অবতরণ করে। পৃষ্ঠে অবতরণের ১৪.৫ সেকেন্ড পর্যন্ত মার্স থ্রির সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগ ছিল। সিরেনাম টেরা অঞ্চলে অবতরণের পর এই যানও হারিয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে ৬৩৫ কেজি ওজনের মার্স সিক্স নভোযান মঙ্গলপৃষ্ঠে অবতরণের পর ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৭৬ সালে ভাইকিং ওয়ান নামের নভোযান মঙ্গলে অবতরণ করে। ক্রিসে প্ল্যানিশিয়া অঞ্চলে অবতরণ করা এই যানের সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগ ছিল ছয় বছর। ১৯৮২ সালের ১১ নভেম্বর সর্বশেষ যোগাযোগ করা হয়। ১৯৭৬ সালে আরেকটি অনুরূপ নভোযান ভাইকিং টু প্রেরণ করা হয়। এর সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগ ছিল ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৭ সালে মঙ্গলে প্রেরণ করা হয় মার্স পাথফাইন্ডার। ১৯৯৯ সালে দুটি মহাকাশযান প্রেরণ করা হয়। ৬২৯ কেজি ওজনের মার্স ক্লাইমেট অরবিটার ও ৫০০ কেজি ওজনের ডিপ স্পেস টু প্রেরণ করা হয়। দুটো যানই মঙ্গলে প্রবেশের পর ধ্বংস হয়ে যায়। ২০০৪ সালে স্পিরিট ও অপরচুনিটি নামের যমজ রোভার প্রেরণ করা হয়। স্পিরিট রোভারের সঙ্গে এখনো পৃথিবীর যোগাযোগ রয়েছে। মঙ্গলের তথ্য সংগ্রহ করতে ২০০৬ সাল থেকে মঙ্গল গ্রহের চারপাশে ঘুরছে ‘মার্স রিকোনাইসেন্স অরবিটার’ নামের এক যান। অরবিটারটি থেকে মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে নিয়মিত নানা তথ্য সংগ্রহ করছেন বিজ্ঞানীরা। সর্বশেষ ২০১২ সালের ৬ আগস্ট মার্স সায়েন্স ল্যাবরেটরি প্রজেক্টে কিউরিওসিটি রোভার প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে মঙ্গল গ্রহে সক্রিয় অপরচুনিটি রোভারের সঙ্গে মঙ্গল গবেষণায় যোগ দিল কিউরিওসিটি। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার সঙ্গে সঙ্গে চীন, জাপান ও ভারতের মঙ্গল গ্রহে মহাকাশযান রোভার প্রেরণের প্রকল্প রয়েছে।
আরো মজার মজার খবর পড়তে ও লিখতে চান? ভিসিট করুন

মঙ্গলালোকে
খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৩৪ অব্দে মিসরের মানুষদের মঙ্গল নিয়ে জানাশোনা ছিল। পঞ্চম শতকে আমাদের ভারতবর্ষের অজানা লেখকের বই সূর্য সিদ্ধান্তে মঙ্গল গ্রহের পরিধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। জোহানেস কেপলার সৌর মডেলে প্রথম মঙ্গল গ্রহকে অন্তর্ভুক্ত করেন। ইতালীয় জ্যোতির্বিদ গ্যালিলিও গ্যালিলি ১৬১০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম মানুষ হিসেবে টেলিস্কোপ দিয়ে মঙ্গল গ্রহ দেখা শুরু করেন। তিনি জানান, মঙ্গল গ্রহের আকার সংকুচিত কৌণিক আকারের। পোলিশ জ্যোতির্বিদ জোহানেস হেভেলিয়াসও মঙ্গল গ্রহ দেখতে সক্ষম হন। ১৬৫৯ সালে তো ওলন্দাজ জ্যোতির্বিদ ক্রিস্টিয়ান হুইজেনস সাহস করে মঙ্গল গ্রহের মানচিত্র এঁকে ফেলেন। হাতে আঁকা সেই মানচিত্রে মঙ্গল গ্রহের ঘন কালো জায়গা সাইরটিস মেজর প্ল্যানাম ও একটি বরফ মেরুর অস্তিত্ব ছিল। হুইজেনসই প্রথম মঙ্গল গ্রহের পরিধি, আকার সম্পর্কে ধারণা দেন। তাঁর হিসাবে মঙ্গলের আকার ছিল পৃথিবীর আকারের ৬০ শতাংশ। ১৬৬৬ সালে ইতালীয় জ্যোতির্বিদ ক্যাসিনি মঙ্গলের নিজ অক্ষে আবর্তন ২৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট নির্ণয় করেন, যা বর্তমানের হিসাব থেকে তিন মিনিট বেশি।

চরণচিহ্নের অপেক্ষা
বিংশ শতকের ষাটের দশকে চন্দ্র জয়ের পর থেকেই মানুষের মনে মঙ্গল গ্রহ জয়ের নেশা জেগে ওঠে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে চার-পাঁচ জন নভোচারী প্রেরণের প্রকল্পও রয়েছে রাশিয়ার। বেসরকারি খেয়াযান নির্মাতা স্পেসএক্স নাসার সঙ্গে কাজ করে ২০১৮ সালের মধ্যে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে মানুষবাহী ক্যাপসুল পাঠাতে চায়। আমরা চাই মঙ্গলে মানুষের চরণচিহ্ন এঁকে দিতে।

কিউরিওসিটি রোভার
পৃথিবী থেকে অভিযাত্রা: ২৬ নভেম্বর ২০১১
মঙ্গলে অবতরণ: ৬ আগস্ট ২০১২
অবতরণস্থল: এয়ালিস পলাস, গেইল জ্বালামুখ
ওজন:৮৯৯ কেজি
শক্তি: প্লুটোনিয়াম ২৩৮ রেডিও আইসোটোপ চালিত থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর
মোট খরচ: ২.৫ বিলিয়ন ডলার
নির্মাতা: বোয়িং, লক হেড মার্টিন, ম্যাকডোনাল্ড ডেটউইল
আরো মজার মজার খবর পড়তে ও লিখতে চান? ভিসিট করুন

মঙ্গলগ্রহ
আয়তন: ১.৬৩১৮x১০১১ কিমি
উঁচুবিন্দু: মাউন্ট অলিম্পাস (উচ্চতা: ২৭ কিমি)।
গভীর গিরিখাত: ভ্যালিস ম্যারিনারিস (দৈর্ঘ্য ৪০০০ কিমি, গভীরতা ৭ কিমি)
সূর্য থেকে গড় দূরত্ব: ২৩০ মিলিয়ন কিমি
সৌর আবর্তন: ৬৮৭ দিন।
দিন: ২৪ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ৩৫.২৪৪ সেকেন্ড।
চাঁদের সংখ্যা: দুই
চাঁদের নাম: ফোবস, ডেইমস

পাথ ফাইন্ডার
পৃথিবী থেকে অভিযাত্রা: সেপ্টেম্বর ৯, ১৯৭৫
মঙ্গলে অবতরণ: ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬
অবতরণস্থল: ইউটোপিয়া প্ল্যানিশিয়া।
ওজন: ৩৬০ কেজি
সর্বশেষ যোগাযোগ: ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭

স্প্রিট
পৃথিবী থেকে অভিযাত্রা:
১০ জুন ২০০৩
মঙ্গলে অবতরণ:
৪ জানুয়ারি ২০০৪
অবতরণস্থল: কলাম্বিয়া মেরিয়াল স্টেশন, গুসেভ জ্বালামুখ
ওজন: ১৮৫
শক্তি: সৌরকোষ, রিচার্জেবল লিথিয়াম আয়ন
সর্বশেষ যোগাযোগ: ২২ মার্চ ২০১০

অপরচুনিটি
পৃথিবী থেকে অভিযাত্রা: ৭ জুলাই ২০০৩
মঙ্গলে অবতরণ: ২৫ জানুয়ারি ২০০৪
অবতরণস্থল: মেরিডিয়ানি প্ল্যানাম
ওজন: ১৮৫ কেজি
শক্তি: সৌরকোষ, রিচার্জেবল লিথিয়াম আয়ন
সর্বশেষ যোগাযোগ: এখনো সক্রিয়

ফিনিক্স
পৃথিবী থেকে অভিযাত্রা: ০৪ আগস্ট ২০০৭
মঙ্গলে অবতরণ: ২৫ মে ২০০৮
অবতরণস্থল: ভ্যাসিটিটাস বোরিয়েলিস, গ্রিন ভ্যালি
ওজন: ১৮৫ কেজি
শক্তি: সৌরকোষ, নিকেল হাউড্রোজেন ব্যাটারি
সর্বশেষ যোগাযোগ: ২ নভেম্বর ২০০৮
আরো মজার মজার খবর পড়তে ও লিখতে চান? ভিসিট করুন Rup2020.com

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

4 মন্তব্য

  1. মঙ্গলগ্রহ
    চাঁদের সংখ্যা: দুই
    চাঁদের নাম: ফোবস, ডেইমস

    মঙ্গলগ্রহে চাঁদ আছে ভাই ?

  2. খুশি হতে পারলাম না, বারেক ভাই তো আমাদের নিবে না। এইটি আমেরিকার জন্য সত্যি ভাল খবর। সুতরাং পরবর্তী target…..

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

three + 8 =