ধাপে ধাপে কিভাবে আর্টিস্টার দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেসের থিম তৈরী শিখুন

14
912
ধাপে ধাপে কিভাবে আর্টিস্টার দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেসের থিম তৈরী শিখুন

Soubarna Das

আমি একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্‌। বর্তমানে CERN(www.cern.ch) এর COMPASS(wwwcompass.cern.ch) এক্সপেরিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত। কম্পিউটার আমার নেশা। ভারতে কলকাতা থেকে প্রায় ১০০কিমি দূরে বর্ধমান নামক শহরে আমার একটি থ্রিডি অ্যানিমেশন স্টুডিও আছে। আমেরিকার কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির সহায়তায় মোশন ক্যাপচার টেকনোলজি কে কাজে লাগিয়ে বাংলার দর্শকদের জন্য দুটি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নিমার্ণের প্রচেষ্টা করছি। এর মধ্যে একটি ছোটোদের সিনেমা হলেও অন্যটি কিন্তু কিশোর থেকে তরুণ বয়সের যুবক যুবতীদের জন্য। এছাড়াও বাংলার গেমারদের জন্য বাংলাতে একটি 3D RPG গেম তৈরীরও পরিকল্পনা আছে।
ধাপে ধাপে কিভাবে আর্টিস্টার দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেসের থিম তৈরী শিখুন

গতকাল আ্মি আপনাদের আর্টিস্টার অ্যাপ্লিকেশনের ডাউনলোড লিঙ্ক দিয়েছিলাম। আজ কিভাবে সেটি ব্যবহার করে ওয়ার্ডপ্রেসের থিম বানানো যায় তা লিখছি। আশা করি আপনাদের পছন্দ হবে।

আর্টিস্টারে কাজ শুরুর আগে প্রথমেই প্রয়োজন আপনি যে থিম টি তৈরী করতে চলেছেন তার রূপরেখা প্রস্তুত করা। আপনি কাগজ কলম ব্যবহার করে সেটি এঁকে নিতে পারেন। সব থেকে ভালো হয় যদি কোনো ফটো এডিটিং সফটওয়ারে রূপরেখাটি বানিয়ে নেন। রূপরেখাটি না করে নিলে আর্টিস্টারের অজস্র অপশনের মধ্যে সব গুলিয়ে ফেলতে পারেন।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

নিচের স্ক্রিনশট্‌ গুলি ম্যাক মেশিনে চালানো আর্টিস্টারের, উইণ্ডোজ মেশিনে এটি দেখতে সামান্য একটু আলাদা হতে পারে। তবে তাতে বূঝতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

আর্টিস্টার চালানোর পর “Getting started with Artisteer” স্ক্রিনটি আসবে। এতে আপনি ঠিক কিসের জন্য থিম তৈরী করতে চলেছেন সেটি নির্বাচন করতে পারেন।

শুরু করার জন্য “WordPress” নির্বাচন করুন.

WordPress বোতামে ক্লিক করার পর নিচের মত একটি স্ক্রিন খুলবে।

স্ক্রিনটি দু’ভাগে বিভক্ত। উপরের মেনু বারে থিম তৈরীর সমস্ত উপাদান গুলি থাকে আর নিচে দেখা যায় প্রস্তুত থিমের প্রিভিউ।

মেনুবারের বিভিন্ন অপশন গুলি দিয়ে আমরা থিম তৈরী করব।

“Suggest Design” বোতামে ক্লিক করলে আর্টিস্টার প্রস্তাবিত বিভিন্ন থিম দেখা যাবে। এর মাধ্যমে আর্টিস্টার দিয়ে কি কি রকম থিম করা যেতে পারে তার ভালো উদাহরণ পাওয়া যায়।

এছাড়াও থিমের বিভিন্ন অংশের জন্যও আর্টিস্টার প্রস্তাবিত অনেক বোতাম লক্ষ্য করবেন, সেগুলি দিয়ে থিমের শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ অংশের প্রস্তাবিত রূপ দেখা যেতে পারে।  যেমন “Suggest Colors” বোতামে ক্লিক করলে পুরো থিমটি একই রকম থেকে শুধু রং পরিবর্তিত হয়ে যাবে।

মেনুর “কালার এণ্ড ফন্টস” ট্যাব থেকে থিমের রং ও ফণ্ট পরিবর্তন করা যায়।

“Layout” ট্যাবে গিয়ে পেজ-লে আউট নির্বাচন করা যায়। Page Layout বোতাম থেকে “হিডার” এবং “মেনুর” স্থান ঠিক করা যায়। Columns বোতাম দিয়ে আপনি থিমের স্তম্ভ সংখ্যা, বেধ ও বিন্যাস নির্বাচন করতে পারেন।

অন্যান্য বাটন্‌ ( যেমন Search Position, Categories Position,…) এগুলি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ এগুলি আপনি পরে আপনার  WordPress ব্লগ থেকেও উইডগেটের মাধ্যমে ঠিক করতে পারেন।

ব্যাকগ্রাউণ্ড ট্যাবে অবশ্যভাবেই ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করা যায়। আপনার পছন্দের যে কোনো ছবি বা কোনো রঙও ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও টেক্সচার, গ্র্যাডিয়েন্ট ও গ্লেয়ার ও দেওয়া যায়। এগুলির সঠিক নির্বাচন আপনার থিমকে একটা আলাদা সৌন্দর্‍্য্য প্রদান করতে সক্ষম।

“Sheet” ট্যাব থেকে  “Sheet” এর বর্ডার, প্যাডিং, ছায়া, রং, স্বছতা, পাতার গোলাকার কোণা ইত্যাদি ঠিক করা যায়।

“হিডার” হল ওয়েবসাইট বা ব্লগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। “হিডার” ট্যাব থেকে আপনি যে যে জিনিস গুলি ঠিক করতে পারবেন সেগুলি হল

  • হিডারের উচ্চতা, বেধ ও তাতে কি লেখা থাকবে সেটিও
  • পেজের ব্যাকগ্রাউণ্ডের মত এখানেও ব্যাকগ্রাউণ্ড তৈরী করতে পারবেন
  • তাছাড়া আর্টিস্টার ৩.১ এ আছে ফ্ল্যাশ অপশন, যা দিয়ে হিডারে ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশন ঢোকানো যায়। আর্টিস্টারে আগে থেকে কিছু ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশন দেওয়া আছে, তাছাড়াও swf ফাইল ফর্ম্যাটে আপনি নিজস্ব ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশনও ঢোকাতে পারেন।
  • এছাড়াও ফোরগ্রাউণ্ড পিকচারও যোগ করা যায়

“Menu” ট্যাবে গিয়ে আপনি আপনার মেনু কাস্টমাইজ করতে পারবেন। পেজের মেনুবার দেখতে কেমন হবে তার স্টাইলও ঠিক করা যায়।

“Articles” ট্যাবে পেজ কনটেন্টে লেখার ডিফল্ট রং, সাইজ ইত্যাদি ঠিক করে দেওয়া যায়। এখানে একাধিক অপশনের সাহায্যে অভিনব কিছু ডিজাইন করা সম্ভব।

“Blocks” হল উইডগেটের ধারক। এই ট্যাব থেকে ব্লকের ভেতরের লেখা কেমন হবে বা এর স্টাইল কেমন হবে সেটি ঠিক করা যায়।

“Buttons” ট্যাবে আপনার ব্লগের বাটন্‌ কেমন দেখতে হবে সেটা ঠিক করে দিতে পারেন।

“Footer” ট্যাবে গিয়ে সাজিয়ে নিন আপনার ব্লগের ফুটারের লেখা।

আপনার থিম মনের মত করে সাজানো হয়ে গেলে উপরে মেনুবারের ফাইল থেকে এক্সপোর্ট অপশনে যান

Select “File” > “Export options…”

এখানে আপনি আপনার ও থিমের সম্পর্কে লিখতে পারেন। যেমন থিমের নাম, আপনার নাম, থিমের বিবরণ ইত্যাদি।

আপনি যদি WordPress কে ব্লগ হিসাবে ব্যবহার করতে চান তাহলে Show “Home” item এ “yes” অপশন আর যদি WordPress কে CMS হিসাবে ব্যবহার করতে চান তাহলে “No” অপশন সিলেক্ট করুন.

আর্টিস্টার নিজের এবং WordPress এর লিঙ্ক তৈরী করা থিমের মধ্যে রেখে দেয়। এই লিঙ্ক গুলি তুলে দিতে হলে  “Include backward links to the CMS and Artisteer” অপশনটির টিক্‌ মার্ক তুলে দিন।

এবার Ctrl+E টিপুন বা ফাইল মেনু থেকে Export -> WordPress Theme  এ ক্লিক করুন ও জিপ আরকাইভ হিসাবে এক্সপোর্ট করুন। থিমের মধ্যে থেকে আর্টিস্টারে তৈরী প্রজেক্ট ফাইলটি বাদ দেওয়ার জন্য “Include the *.ARTX project” অপশন থেকে টিক মার্কটি তুলে দিন।

 

ধাপে ধাপে কিভাবে আর্টিস্টার দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেসের থিম তৈরী শিখুন

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

14 মন্তব্য

  1. ভাই আমি কি লাইসেন্স কি টা পেতে পারি। ওটা ছাড়া তো ব্যবহার করা যাচ্চে না।

    • আর্টিস্টারের লাইসেন্স নিয়ে অনেকেই কাজ করছে না বলেছে। আমার ক্ষেত্রে এটা ভালোই কাজ করছে। আপনি কি আমার “http://www.tunerpage.com/archives/১২৩০২৬” এই পোস্টে দেওয়া লিঙ্ক গুলি ব্যবহার করে দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তাহলে একবার দেখুন। আমি খুব তাড়াতাড়ি আর্টিস্টারের নতুন ভার্সানটি সবার সঙ্গে শেয়ার করব।

  2. ধন্যবাদ জানালাম হৃদয়ের সমস্ত আনন্দ থেকে । অনেক খুজেছি কিন্তু পাইনাই .

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 + fifteen =