কিলিক ফাঁদ আমি এবং অডেস্ক

14
387
কিলিক ফাঁদ আমি এবং অডেস্ক

মন চোরা বাপ্পী

অতি সাধারন একজন মানুষ । লিখতে ভাল লাগে । ফটোশপ নিয়ে কাজ করতে অনেক বেশী ভাল লাগে । ছবি তুলতে পছন্দ করি ।
কিলিক ফাঁদ আমি এবং অডেস্ক

বাংলার কীট

ডুলান্সার এর লিঙ্ক হিট..

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

অডেস্ক এ যারা কাজ করতে চান তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় আছে যা পরবর্তীতে আপনাকে ভাবিয়ে তুলতে পারে এবং যা আমাকে ও প্রথমে ভাবিয়ে তুলেছে । তবে ভাই এটা click বাহীনির জিবনের সাথে অনেক মিল থাকবে আশা করি, কেননা, আমিও প্রথমে কিলিক বাহিনির একজন সদস্য ছিলাম । ভাই, কিলিক বাহিনির জীবন যা একটা জীবন আহ কি মজার জীবন অনেক কিছু শিখছি যদি আপনারা কেউ এই হায়েনা বাহিনির সদস্য হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয় আপনারা এই লেখা পড়ে মজা পাবেন কেননা এটা আমার বাস্তব জীবনের অঙ্কুরিত একটি ঘটনা যা এখন “অডেস্ক” বিস্ফোরিত একটি ঘটনা বানাইছে । এখন অনেক মজা পাইতেছি মনে, নয়তো আমার পেট ফুলে কিলিক বাহিনির বন্দুক হয়ে যেত যার মাধ্যমে অডেস্ক নামক সোনালি পথ আমার জন্য বন্ধ হয়ে যেত । গল্পটা শুনতে আপনাদের কেমন লাগবে তা বলতে পারবনা । তবে সেটা আপনাদের বলার আগে আমার দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ফেলা উচিত …………………

আহহহহহহহহহহহহহ……………………………

এইতো কয়েক দিন আগে আমি এবং আমার মেসমেট রাজু ভাই আমরা দুজন একটা নতুন মেস এ উঠবো বলে ভাবছিলাম। আর একটা কথা না বললেই নয় যে তখন কম্পিউটার সম্পর্কে আমাদের ধারনা ছিল মোটামুটি কিন্তু ইন্টারনেট এর মাধ্যমে টাকা যে ইনকাম  করা যায় সেটা আমাদের দুজনের নাগালের বাইরে ছিল । আমরা ভাবতাম টাকা কামানো যায় এরকম একটা প্রসেস পেলেই হয়, দুনিয়া কাপাইয়া ফেলমু। কিছু দিন পর বগুড়া শহরের জহুরুল নগর একটা মেস এ উঠলাম । আমার কম্পিউটার ছিল না কিন্তু রাজু ভাই এর কম্পিউটার এ কাজ করতাম । তখন রাজু ভাই বলল “বাপ্পী” যদি  টাকা কামানো যায় কেমন হবে বলোতো । আমি বললাম, ভাই টাকা তো কামামু কিন্তু প্রসেসটা কই পাই। নতুন মেস এর এক বড় ভাই নাম রব্বানী, উনার কম্পিউটার ছিল। তো মেস এ যখন আমরা সবকিছু গুছিয়ে কম্পিউটার সেট করে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম তখন তৌফিক নামে এক ভাই বললোঃ ভাই আপনারা নেট ইউস করেন আমরা বললাম হ্যাঁ, উনি বলল “ভাই মাস কত টাকা ইনকাম করেন” বললাম ভাই এক টাকাও না । তখন ভাই বললো, “বলেন কি ভাই আমাদের রব্বানী ভাই মাস ২০০০০/= টাকা ইনকাম করে” আমরা তো অবাক। আমি রাজু ভাই কে বললাম “ভাই আমাদের ওই বড় ভাই এত টাকা কোন সিন্ধুক এ রাখে আর কোথায় থেকেই বা ইনকাম করে” তখন তৌফিক ভাই বলল “ ভাই আপনারা ইনকাম করতে চাইলে রব্বানী ভাই এর সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নিয়েন” এই কথা বলে উনি চলে গেলেন। আমি মনে মনে চিন্তা করলাম “আল্লাহ এত দিনে আমাদের মনে হয় সুমতি দিলা , এত টাকা কামায়া রাখমু কই”। রাজু ভাই বলল,  বাপ্পী একটা কথা বলবো ? চলো রব্বানী ভাইয়ের সাথে আলোচনা করি শুনি কিভাবে উনি এত টাকা ইনকাম করতেছে। আমি উত্তরে বললাম, ভাই কি যে কন ওই ভাই কি আমাদের পাত্তা দিবে? উনি কোথায় ২০০০০/= টাকা মাস করেন আর আমরা তো সামান্য কম্পিউটার  একমাত্র টিপাটিপি ছাড়া কিছুই করতে পারি না । তো আপনে যখন বলতেছেন তখন চলেন একবার বলেই দেখি । তারপর আমরা দুজন গেলাম রব্বানি ভাই এর কাছে উনি আমাদের বসতে দিলেন আমরা উনার সম্পর্কে জানলাম। উনার বাড়ি আমাদের বাড়ি হতে মাত্র ৫ কিমি দূরে, তো উনাকে চিনলাম । তখন একটু সাহস জাগল উনাকে বললাম ভাই মাস কত টাকা ইনকাম করেন উনি বলল “ভাই এই মোটামুটি ২০০০০/= টাকার মত আসে, আপনারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ?” উত্তর দিলামঃ হুম।

উনার কথা ভাই বসেই ত থাকেন কাজ করেন না কেন? আমরা বললাম “ভাই এ সম্পরকে কিছুই ত জানিনা”

উনি বলল আপনারা কাজ করতে পারেন আমার এই কোম্পানিতে……………ডাউন লাইন……………

…রেফারাল………………….আমাদের কোম্পানি ………………এ…….সে………………….তার একেকটা কথা আমাদের বগুড়ার সাথমাথার হকার দের মত। তার পরেও কিছু করার নাই ভাই…।  কারন টাকার ক্ষুধা কাজ করতেছে আমাদের মাঝে । হকারদের কাছে যেমন অসহায় রুগীরা যায় আমরাও এখানে টাকার জন্য অসহায় ছিলাম।

যাই হোক উনার কথার মাঝে একবার আমার মুখ থেকে বেরিয়ে আসলো ভাই এটা কি আপনাদের সৃষ্ট কোম্পানি নাকি? উনি বলল কেন আপনি এই কথা বলেন কেন?

বললাম আপনি যে বললেন “আমাদের কোম্পানি” তাই আমি ভাবলাম হয়তো আপনারা কয়েক জন মিলে কোম্পানি টা চালু করছেন । তখন উনার কাছে জানতে চাইলাম এ জন্য আমাদের কি করতে হবে  বলল ভাই কিছু করতে হবে না শুধু ৭০০০ টাকা লাগবে তারপর আমি আপনাদের শিখিয়ে দিব কি করতে হবে । আমরা দুজন উনার ঘর থেকে বের হয়ে আসলাম,  বললাম “ভাই আসি” পরে কথা হবে ।

তার পর ভাবলাম সাত হাজার টাকা তো ব্যপার না জোগাড় করবই, টাকা ইনকাম করেই ছাড়বো । রাজু ভাইয়ের ও সম্মতি আছে।  সাথে আছে আমাদের বিভু ভাই,  উনিও আমাদের সাথে থাকতেন এক কথায় মেস মেট। তিন জন ই টাকার নেশায় মত্ত ছিলাম। ৭০০০ এত টাকা কোথায় পাই মনে ভয় ঢুকল । বাবার কাছে চাইলাম উনি তো রেগে আগুন লেখা পরা করবি নাকি এগুলো করে খাবি। ওগুলো বাদ দিয়ে লেখাপড়া ভালভাবে কর । রাগ ধরল মনে টাকা দেন তো দেন না হলে না বলে দেন। তারপরও না বলল । আবার একবার ভালভাবে বুঝালাম যে, এই সাত হাজার টাকা নিয়া আর কখনো আপনার কাছে থেকে লেখাপরার জন্য যত টাকাই লাগুক না ক্যান টাকা আর নিব না। আমি নিজের টাকা দিয়া নিজেই চলবো । তাতেও কাজ হল না । অবশেষে টাকা ধার করার জন্য মাঠে নামলাম কেউ ধার পর্যন্ত দিল না । তার পর খালাতো ভাইকে বিস্তারিত খুলে বললাম উনি আমার কিলিক জাদুতে অবশেষে টাকা দিলেন। সেই টাকা নিয়ে আসলাম, রাজু ভাই হাসান ভাই উনারাও অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করল। তিনজন তিন টা account নিলাম ২১০০০ টাকা দিয়া। টাকাগুলো গুনে দেওয়ার সময় বুক ধুক ধুক করল । পরের দিন উনি কাজ শিখিএ দিলেন । আমি বললাম ভাই এই কিলিক মাইরা এত টাকা কামাইছেন ? উনার মুখ থেকে কোন কথা বের হল না । কিছু দিন পর মনে ভাবনা চলে আসলো কিভাবে ২০০০০/= টাকা উনি কামাইছেন। আমরা তো মাত্র ২১০০ টাকা পাচ্ছি তাও আবার মোডেম খরজ বাদ দিলে মাত্র ১৫০০ ও টিকে না। এটাই কি ২০০০০/= এর চক্কর?

নাকি কিলিক বাহীনির মক্কর যে দুনিয়ার সব ধনী দের সাথে দিবে টক্কর, বাংলার মানুষের ধরাবে কাশি খক্কর খক্কর।

কিছু দিন পর আসলো পোস্ট টু earn  যার দ্বারা অসহায় সব মানুষদের দেওয়া হল যত চোরাকারবারী আশা । কেউ বুঝে উঠতে পারেনি যে তাদের এটার মাধ্যমে ডুবানো হচ্ছে কিলিক বাহিনির সেই ফান্দে, যাতে ডুবে আছে  লাখো বাঙ্গালীর অর্জিত কোটি কোটি টাকা । পোস্ট টু earn  এর মাধ্যমে বলা হল যে তারা দিন ৫ ডলার করে দিবে। আশা বেধে থাকলো সবাই । এই সব গোলমালে কারবার এ অসহ্য লাগলো আমার দুই মাসে ৩০০০ টাকা উঠলো তার পর এই account  বিক্রি করলাম ৪০০০ টাকায়।  সন্ধান পেলাম oDesk  এর । কাজ শেখার আগ্রহ জাগলো ভাবলাম দু এক দিন কাজ দেখলেই হয়ে যাবে । কিন্তু তা নয় অনেক কষ্টে কাজ শিখতে হল। কিছু দিন পর রব্বানি ভাই এসে ধরনা দিয়া বসে থাকে “ভাই oDesk এর কাজ শেখান” । তখন আমি বললাম ভাই আপনি না  ২০০০০ টাকা ইনকাম করেন ? এখন তো আমি মাত্র ১০০০০-১৫০০০০ টাকা কামাই তাহলে আপনি ওই সহজ কাজ ছেরে এই কষ্টের কাজ করতে যাবেন ক্যান ? তাও আবার আপনার চেয়ে পাঁচ দশ হাজার টাকা কম । ভাই এগুলো বাদ দেন, আপনি আপনার কিলিক বন্দুক এর গুলি ছুঁড়ে ছুঁড়ে বিশ হাজার করে পান এতে তো অনেক মজা তাই না?

এই গল্পের মাধ্যমে  বাংলার কিলিক বাহিনীকে আমি জানান দিতে চাই যতই চাপাচাপি কর তোমরা , কোন লাভ নাই , লক্ষ লক্ষ টাকার স্বপ্ন মানুষকে দেখিয়ে তোমাদের অর্জিত এইসব টাকা কোন কাজে লাগাতে পারবা না। সবাই মুখ বুজে সহ্য করলেও আল্লাহ তায়ালা তোমাদের এই লক্ষ টাকার ভিক্ষুকদের জেল খানার লাল কাঁসার ভাত খওয়াবেনই । আর সকল ন্যায্য মানুষের পক্ষে যদি তোমরা আসতে চাও তবে কষ্ট করে নিজের বুদ্ধি বিবেক দিয়ে নিজের শক্তি দিয়ে টাকা অর্জন কর । দেখ টাকা ইনকাম করতে কত খাটুনি আর কত মেধার প্রয়োজন হয়।

পোস্টটি এর আগে আমার ব্লগ এ প্রকাশ করা ছিল ।।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

14 মন্তব্য

  1. কাহিনি তো সত্য, বুঝলাম । কারণ সবটাই আমার এক বড় ভাইয়ের সাথে মিলসে । কিন্তু দ্বিধা টা হলো যে, oDesk এ কি করেন ? আর একটু বললে ভাল হইত ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − one =