গড়ে তুলুন আপনার Freelancing Career টিউটোরিয়াল নিয়েঃ পর্ব ৪

8
593
গড়ে তুলুন আপনার Freelancing Career টিউটোরিয়াল নিয়েঃ পর্ব ৪

রিকন

আমি একজন ফ্রিল্যান্সার। নিজেকে প্রতিদিন আরো নতুন ভাবে আবিষ্কার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং বাজারে একদিন সবার উপরে থাকবে সেই সপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। ব্লগ লিখতে পছন্দ করি এবং শিখাতে ভালবাসি নতুন ফ্রিল্যান্সারদের।
গড়ে তুলুন আপনার Freelancing Career টিউটোরিয়াল নিয়েঃ পর্ব ৪

আসসালামুআলাইকুম সম্মানিত পাঠক ভাই ও বোনেরা। আপনার সবাই কেমন আছেন? নিশ্চই ভাল। গত কয়েকদিন আগে আমি আপনাদেরকে কিছু ফ্রিল্যান্সিং টিপস দিয়েছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই পোষ্ট। আশা করি আপনাদের সবারই ভাল লাগবে।

 গড়ে তুলুন আপনার Freelancing Career টিউটোরিয়াল নিয়েঃ পর্ব ৪

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

  তবে একটা জিনিস এই ব্লগে আমি লক্ষ্য করলাম, এই ব্লগের ভিজিটররা কিন্তু মন্তব্য করেন না। আমার পোষ্টগুলো আপনাদের ভাল লাগে কি না তা আপনারা নিচের কমেন্ট অপশন থেকে নিশ্চই জানাবেন। আপনাদের মন্তব্যের মাধ্যমেই আমি আমার আর্টিকেল লেখার স্বার্থকতা খুজে পাব। আপনাদের সবার সাড়া পাওয়ার আশা নিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের আর্টিকেল। আজ আমি আপনাদের ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আরো কিছু প্রাথমিক ধারণা দিব। আসলে আমি আপনাদেরকে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে পুরো ধারণা দিব বলেই পোষ্টগুলো একটু লম্বা হচ্ছে। যাইহোক, আজ আমরা জানবো- কিভাবে একজন নতুন আগ্রহী ব্যক্তি তার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, বিড মানে কি, কেন একজন ফ্রিল্যান্সার কাজ জানা সত্ত্বেও অনেক সময় কাজ পান না, ইত্যাদি বিষয়াদি। তো.. দেড়ি না করে শুরু করা যাক আজকের আলোচনার বিবরণ।

কিভাবে একজন নতুন আগ্রহী ব্যক্তি তার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন?

আমি এক কথায় বলি- ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে, আপনাকে অবশ্যই কাজ জানতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই। কি কাজ শিখবেন, তা আগেই বলেছি- আপনার যা ভালো লাগে তা শিখেন। তবে এখানে আরেকটা কথা না বললেই নয়, আপনাকে আগে কাজের একটা টার্গেট করতে হবে। তারপর যারা ঐকাজে সফল হয়েছেন তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং বর্তমান অবস্থা দেখুন। সফলতা বলতে এখানে টাকার হিসাবটাকেও ধরা হচ্ছে। যে কাজ করে আপনার প্রতি মাসে আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমান বেশী হবে সে কাজ করাতো আপনার জন্য ভালো হবে না। আপনি এমন কাজ পছন্দ করবেন, যেটি আপনার চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম পাশাপাশি কাজের ধরণটিও আপনার পছন্দ।

যখন আপনার কাজ পছন্দ করা শেষ, তারপর আপনি ঐ কাজটি ভালভাবে শিখেন। ‍যদি কাজটি আপনার জানা থাকে তাহলেতো ভালো, আর যদি না জানা থাকে তাহলে আপনি ঐটা শিখে ফেলেন। অযথা কাজ না জেনেই বিড করে কোন লাভ নাই। কারণ বায়ার আপনার কভার লেটার আর প্রোফাইল দেখেই আপনার দক্ষতা অনেকখানি বুঝে নেবে। তাই আগে কাজ শিখেন, তারপর কাজ করার দিকে আগান। ধরা যাক, আপনি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হবেন ঠিক করেছেন, ভাল কথা। এখন আপনার প্রথম কাজই হল গ্রাফিক্স ডিজাইনিং শিখা।

আর আপনি ‍যদি মনে করেন আপনি কাজটা খুব ভালভাবে জানা আছে, তাহলে আপনার কাজের দক্ষতা যাচাই করুন। এর জন্য আপনি বিভিন্ন সাইটের গ্রাফিক্স কন্টেস্টে জয়েন করতে পারেন। যেমন: 99designs.com অথবা freelancer.com/contest/ ইত্যাদি। আপনার কাজের ক্যাটাগরি যদি ভিন্ন থাকে তাহলে আপনি আপনার ক্যাটাগরি অনুসারে সাইট খুজে বের করুন। এখানে আপনি বিভিন্ন কন্টেস্টে জয়েন করে ফিডবেক পাওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার দক্ষতা যাচাই করতে পারেন। আরো ভালো হবে যদি আপনি কোন কন্টেস্ট জিতে যান। এক্ষেত্রে প্রথমত আপনি জেতার জন্য একটা বড় অংকের পুরস্কার পাবেন। আর দ্বিতীয়ত, এই কাজটা আপনার পোর্টফোলিওতো রাখলে এটা আপনার কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করবে।

আপনার দক্ষতাটা পুনরায় যাচাই করার জন্য ওডেস্কে স্কিল টেস্ট দিন। তবে এক্ষেত্রে একটা কথা হল স্কিল টেস্টের ক্ষেত্রে নিজের কাজের দক্ষতাই যথেষ্ট, এ রকম অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন ওয়েব সাইটের সাহায্য নিয়ে ওডেস্কে স্কিল টেস্ট দিয়ে উত্তীর্ণ হন। এ রকম নকল করে পাশ হয়ে পরবর্তীতে দেখা যায় দুই/একটা কাজ করে ফলাফল হিসেবে খারাপ ফিডব্যাক পেয়ে যান। তারপর দোষটা কার দেওয়া হয়? বায়ারের। ভাই, আপনি আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কিভাবে আপনার প্রোফাইলটা তৈরী করেছেন সেটা দেখুন।

আমি কথা দিচ্ছি- আপনি যে কাজের জন্য টেস্ট দিবেন, ঐ কাজটা আগে শিখুন। তারপর ঐ কাজের টেস্ট অপশনে যান, ঐখানে সিলেবাস আছে। সিলেবাস অনুযায়ী কয়েকদিন আরো ঘাটাঘাটি করুন। সবকিছু শেষ হয়ে গেলে- মনোযোগ সহকারে টেস্টটা দিন। দেখবেন পাশ হয়ে গেছেন।

আর যদি পাশ নাও হন সমস্যা নাই, আপনি এর মাধ্যমেতো আপনার দক্ষতাকে পরিমাপ করতে পাড়লেন। ফেল হলেন তো কি হলো? আরো পড়াশোনা করে আবার টেস্ট দিবেন। কবির ভাষাই বলি “একবার না পাড়িলে দেখো শত বার।” দুই/এক বার ফেল করে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। চেষ্টা করে যান আপনি জিতবেনই। তাড়াহুড়া করার কোন দরকার নাই। এসব ঘটনা আমাদের জীবনেও ঘটেছে। “এস.এস.সি পরীক্ষায় দুই বছর থেকেও বেশী পড়াশোনা করে ফেল হলে, পরের বছর আবার সবাই’ই পরীক্ষা দেয়। তো ওডেস্কে আবার পরীক্ষা দিতে দোষের কি?” ভেঙ্গে পড়বেন না। হামাগুরি দিয়ে হলেও আবার উঠে দাঁড়ান। দেখবেন সফলতা একদিন না একদিন আসবেই। এজন্যইতো বলা হয়, “যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে, হবেই হবে দেখা, দেখা হবে জয়ে।”

আরেকটা বিষয় নতুনদের ক্ষেত্রে না বললেই নয়। তা হল- ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনাকে ইংরেজী ভাষা জানতে হবে। অনেকেই আবার ইংরেজীর কথা শুনলে দৌড় দেন। এসবের দরকার নাই। আপনাকে এখানে ইংরেজী ভাষায় কোন সাহিত্য রচনা করতে হবে না। শুধু বায়ারকে আপনার কথা বুঝালে আর আপনি বায়ারের কথা ভালভাবে বুঝলেই হল। আপনি যদি অনলাইনে আপনার কাজ শিখেন তাহলে ইংরেজী বিষয়টা অনেকখানি অর্জন করতে পাড়বেন। এছাড়া আল-হেরা কর্তৃক ইংরেজী শেখারও একটা প্যাকেজ আছে। তারপরও আরো জানতে চাইলে গুগোল মামাকে একটা ডাক দিবেন, সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বায়ারদের সাথে অনলাইনে কথা বলার জন্য ইমেইল বা চ্যাট ব্যবহার করতে হয়। আর এর জন্য সবচেয়ে বেশী ব্যবহার হয় Skype। অনেকে আবার Google Talk-ও ব্যবহার করেন।

আচ্ছা, আমিতো এতক্ষণ অনেক বকবক করলাম। আমার কথা-বার্তা শুনে আপনার কি মনে হয়? কাজ করতে পাড়বেন তো? যদি করতে পাড়েন তাহলে এখনই ওডেস্কে লগইন করে কাজ খুজতে শুরু করেন। মন মত কাজ পাওয়া মাত্রই করে ফেলুন জীবনের প্রথম বিড।

বিড বলতে কি বুঝায়?

সাধারণ অর্থেই, আপনি কোন কাজের জন্য আবেদন করাই হল বিড। যখন কোন বায়ার একটা জব পোষ্ট করেন। তখন তিনি এর জন্য একটা নির্দ্দিষ্ট পরিমান রেট দিয়ে থাকেন। যেমন- ১০০০ ডলার। বায়ার এই টাকার মধ্যেই তার কাজ করিয়ে নিতে চান। এখন আপনি এই কাজটা ১০০০ ডলারে করবেন নাকি আরো কমে করবেন, এই কথাটা বায়ারকে জানানোই হল বিড। বিড করার ক্ষেত্রে প্রায় সবাই বায়ারের রেট থেকে কিছু কম চেয়ে থাকেন। আরেকটা জিনিস, বিড করার সময় বায়ারকে একটা ভাল কভার লেটার লিখে দিতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে বায়ার কেন আপনাকে কাজটা দিবে। আসলে কাজ পাওয়ার অনেকাংশই কভার লেটারের উপর নির্ভর করে। কভার লেটার সুন্দর হলে বায়ারের রেট থেকে বেশী রেট থাকলেও কাজ পাওয়ার সম্ভবনা থাকে। আমিতো একবার একটা ২০০০ ডলারের কাজে সুন্দর একটা কভার লেটার লিখে ২২০০ ডলারে বিড করি। তারপর দেখি বায়ার আমাকে ইন্টারভিউতে ডাকছে। যাইহোক, আমিতো এতো বড় একটা কাজের ইন্টারভিউতে আসছি, এর উপর আবার বায়ারের বাজেট থেকে আরো বেশী চেয়ে। এর মেইন কারণ হল আমার সুন্দর কভার লেটার এবং প্রোফাইল।  এখন আরেকটি প্রশ্নের দিকে এগিয়ে যাই-

কেন একজন ফ্রিল্যান্সার কাজ জানা সত্ত্বেও অনেক সময় কাজ পান না?

আসলে আজকের এই পোষ্টটির আগের অংশ পড়লে অবশ্যই এই ধরণের ঘটনা ঘটার কারন জানতে পাড়বেন। কাজ জানা সত্ত্বেও কাজ না পাওয়ার কারনটা আসলে বেশী বড় কোন দোষ না। সামান্য কয়েকটা জিনিস খেয়াল করলেই এই সমস্যায় আর পড়তে হবে না। কথা হল- আপনাকে প্রথমেই একটা ভালো প্রোফাইল তৈরী করতে হবে। তারপর আপনার প্রোফাইল অনুযায়ী কাজে বিড করবেন। আপনি একটা কাজে দক্ষ আর আরেকটা কাজে বিড করলে রিজেক্ট হওয়ারই তো কথা। তারপর, আপনি যে কাজে বিড করতে যাচ্ছেন সেটি ভালোভাবে বুঝে তারপর বিড করুন। শুধু শুধু কাজটা না বুঝে বিড করলে আপনার বিডটা বাতিল হওয়ার সম্ভবনা বেশী থাকে। অনেক বায়ার আছেন, যারা তাদের জব পোষ্টে বিভিন্ন কী-ওয়ার্ড দিয়ে দেন। আসলে এটা দেওয়ার কারণ হল- যারা জব পোষ্টটি ভালভাবে পড়েছেন, তাদেরকে নির্ধারণ করা। এরপরও আরেকটা সমস্যা দেখা যায় তাহল- কপিরাইটের সমস্যা। অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন, যাদের দেখা যায় অন্যের কভার লেটারকে বার বার কপি-পেষ্ট করে নিজের কভার লেটার তৈরী করেন। আবার অনেক সময় নিজেই একই কভার লেটার বার বার লিখে দিচ্ছেন। সাবধান!! এক্ষেত্রে আপনার কভার লেটারতো বাতিল হবেই, এমনকি আপনার রেজিষ্ট্রেশনটাও বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। তাই কপি-পেষ্ট থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন।

যাইহোক, আজকের মত এখানেই থাক। পরবর্তীতে আরো আর্টিকেল নিয়ে আবারো আপনাদের মাঝে আসবো। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ্য থাকবেন।

মো: আলাউর রহমান রিকন

মৌলভীবাজার, সিলেট।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

8 মন্তব্য

  1. খুব ভালো লাগলো। এরকম লেখাই চাচ্ছিলাম। আরো লিখা চাচ্ছি। ধন্যবাদ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

six + two =