ইউরো ফুটবল কে যাবে ফাইনালে স্পেন না পর্তুগাল

4
295

মেহেদী হাসান: রাত জেগে টেলিভিশনে ইউরো ফুটবল দেখা যাদের অভ্যাস, তাদের জন্য গত দু’দিন শূন্যতায় কেটেছে। তবে আজ রাতে ফের ফুটবলশৈলী অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। ইউরোর প্রথম সেমিফাইনালে আজ রাতেই মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। কারও কারও কাছে এটা ইউরোর ‘এল ক্লাসিকো’। যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের তারকা রোনালদো, পেপেরা মুখোমুখি হবেন বার্সার জাভি, ইনিয়েস্তাদের। দেশের জার্সির সম্মান রক্ষার পণ করে ক্লাব সতীর্থ ক্যাসিয়াস, রামোসদের সঙ্গে বন্ধুত্বটাও আজ বিসর্জন দেবেন রোনালদো। তিনি থাকবেন বদলা নেওয়ার খোঁজে।
স্পেন নামবে ইতিহাস ফেরানোর প্রত্যয় নিয়ে। কিন্তু ফুটবল দুনিয়ার কাছে এ লড়াইটা শুধুই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বনাম স্প্যানিশ ‘টিকি-টাকা’র।
ইউরোর প্রথম সেমিফাইনালের আগে দুই শিবিরের অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন অতীতে। দু’বছর আগের বিশ্বকাপের সেই স্মৃতি। শেষ ষোলোয় পর্তুগালকে ০-১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। যে ম্যাচের পর রোনালদোর মুখ দিয়ে বেরিয়েছিল, ‘ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আমাকে একা একা কষ্টটা সহ্য করতে দিন।’ বুকের ভেতর জমে থাকা বিষবাষ্পটা ৭২৮ দিন পর উগড়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ‘সিআরসেভেন’। স্পেন-পর্তুগাল ‘অল-ইবেরিয়ান’ সেমিফাইনাল লড়াইয়ের আগে রোনালদো তাই বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতা আছে ফাইনালে পেঁৗছানোর। নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।’ স্প্যানিশ কোচের রণকৌশলও আজ সোজাসাপ্টা_
‘রোনালদোকে সবসময় ঘিরে রাখতে হবে। বিশ্বকাপে আমরা যেমন করেছিলাম।’ কিন্তু সেই রোনালদো আর এই রোনালদোর মধ্যে ফারাক বিস্তর। গেল বিশ্বকাপে মাত্র এক গোল করা রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড এবার তার একক ক্যারিশমায় পর্তুগালকে তুলে এনেছেন সেমিফাইনালে। তিন গোল করে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়েও আছেন তিনি। আট বছর আগে ঘরের মাটিতে শিরোপা খোয়ানোর ব্যর্থতা মুছে ফেলতে এবার তাই যথেষ্ট পরিণত রোনালদো।
তবে গত চারটি লড়াইয়ের সঙ্গে আজ রাতে দোনেতস্কের মহারণের তুলনা চলে না। ২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ_ দুটো শিরোপাই জিতে চার বছর ধরে ফুটবল বিশ্বকে ‘টিকি-টাকা’র জাদুতে শাসন করছে স্পেন।
এখন পর্যন্ত ৩৪ বার পর্তুগিজদের মুখোমুখি হয়েছে স্প্যানিশ আর্মাডা, যা অন্য যে কোনো দলের তুলনায় সর্বোচ্চ। জয়ের হারও স্পেনের বেশি_ ১৬ জয়ের বিপরীতে মাত্র ছয় হার। বাকি ম্যাচগুলো ড্র হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অতীত ঘাঁটলে স্পেনের ক্ষতই বেশি চোখে পড়ে। দু’বছর আগে লিসবনে সর্বশেষ পর্তুগালের মুখোমুখি হয়ে ৪-০ গোলে হেরেছিল স্পেন। ১৯৬৩ সালের পর ওটাই ছিল ‘লা রোজা’দের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। এ ছাড়া পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ১২ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানীয় দলটি। জাভি আলোনসো অবশ্য বলেছেন, ‘২০১০ সালের সেই পর্তুগাল আর নেই। তাদের শক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্কে আমরা জানি। বিশেষ করে তাদের তারকা ফরোয়ার্ড সম্পর্কে। তাকে আটকানোর কৌশল রয়েছে আমাদের হাতে।’
স্পেনের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসের চোখে রয়েছে রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন। সতীর্থ রোনালদোর বিপক্ষে জিতলেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গড়বেন শততম ম্যাচ জয়ের রেকর্ড। কিন্তু সে জন্য রোনালদোর গোলাসম শটকে আগে রুখতে হবে। কিন্তু পর্তুগিজ কোচ পাওলো বেন্টো শুধু রোনালদোতেই মজে নেই। ‘ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কোনো মূল্য নেই আমার কাছে। দলীয় পারফরম্যান্সই আমার কাছে সবকিছু’_ বলেন বেন্টো।
মেরুন জার্সিতে বেন্টোর সর্বশেষ ইউরো অভিজ্ঞতা শোচনীয়। ২০০০ ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল্ডেন গোলে হেরে ছিটকে পড়েছিল পর্তুগাল। ওই ম্যাচে রেফারির সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন বেন্টো। ১২ বছর ধরে বয়ে চলা সেই ক্ষত মুছে ফেলতে বেন্টোর ভরসা আজ একজনই। তিনি অবশ্যই রোনালদো!

অনলাইনে লাইভ দেখতে সাইটটি ভিজিট করুনইউরো ফুটবল কে যাবে ফাইনালে স্পেন না পর্তুগাল

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

4 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × one =