সাবিহাদের গল্প।

7
329
সাবিহাদের গল্প।

sheikh

sometimes it seems that i am different...
সাবিহাদের গল্প।

কারেন্ট নেই ঘর অন্ধকার।অন্ধকার ঘরে জানালার পাশে সাবিহা বসে আছে।আকাশের তারা গুলো মেঘের জন্য দেখা যাচ্ছেনা।চাঁদটাকেও অস্পষ্ট মনে হচ্ছে।মনে হয় তার চোখে সবকিছু ধোয়াটে দেখাচ্ছে।হয়তো আকাশে কোন মেঘ নেই।আজ তার এস এস সি পরিক্ষা শেষ হয়েছে।পরিক্ষা চলাকালিন তার অনেক পরিকল্পনা ছিল।সে তার ডায়রিতে অনেক কিছু লিখে রেখেছে এই ব্যাপারে।পরিক্ষা শেষ হওয়ার পরের দিন সবাই মিলে সামিয়ার বাসাই যাওয়ার কথা ছিল।তারা সেখান থেকে কম্পিউটার শেখাই এরকম কোন অফিসে যাবে। এস এস সি পরিক্ষার পর কম্পিউটার শিখতে হয়। কনা আজ তাকে ফোন করেছে, সে বলেছে তার বাসাই সমস্যা আছে .যেতে পারবেনা।এর কোন মানে  হয়না।বাসার সমস্যা সম্পূর্ন বাহানা। ও না যাওয়ার কারনটা সম্পুর্ন অন্য রকম। সামিয়ার সাথে তার কী নিয়ে যেন ঝগরা হয়েছে। বাসার সবাই তার বিয়ের ব্যাপারে গুন গুন করছে.সে জিবনেও ভাবেনি এই সমই তার বিয়ের কথাবার্তা হবে।কত স্বপ্ন ছিল।সে কলেজে ভর্তি হবে।সবাই বলবে এই মেয়ে কলেজে পড়ে।অনেকে তাকে আপনি করে বলবে,তখন নিজেকে বড় মনে হবে।সে রিক্সা করে কলেজে যাবে।এসব কথা ভেবে ভেবে সে বার বার রুমাঞ্ছিত হয়।তার মনে হচ্ছে সে অনেক বড় হয়ে গেছে। আজ বিকেলে সাবিহা নিশ্চিন্তে টিভি দেখছিল।পড়ার জন্য তাকে কেও বক্তেও পারবেনা।কেনই বা বকবে আজ তার পরিক্ষা শেষ, সে এখন স্বাধীন।

তার মা তার পাসে এসে বসল।মেয়ের একটা হাত ধরে তিনি বললেন,”কাল তোকে দেখতে আসবে”

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

কথাটা শুনে সাবিহার বুক ধুক করে উটলো।সে তার মা’র মুখের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।তার মা’র মুখ হাসি হাসি।সাবিহা না বুঝার মত ভান করে জিজ্ঞেস করল,”দেখতে আসবে মানে,কে দেখতে আসবে?”

সাবিহার মা বলল,”তোর বাবার এক কলিগ,ঐ যে সেদিন আসলো আমাদের বাসাই একটু খাটো করে,উনি সেই দিন তোকে দেখেছেন।উনার এক আত্বীয়ের জন্য তোর বাবার কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন।ছেলের বাবার অনেক সম্পত্তি।ছেলে তেমন কিছু করেনা।তেমন কিছু করার দরকার কী।এত টাকা পইশা কে খাবে।”

তিনি কথাগুলো হর হর করে বলতে লাগলেন।সাবিহা তার দিখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।সে কী বলবে বুঝতে পারছেনা।

“তারা গ্রামের বিরাট জমিদার।তুই রাজ রানী হয়ে থাকবি…”
সাবিহার বিকের মাঝে কেমন যেন খুব খারাপ ধরনের ব্যাথা করছে। সে কাওকে বুঝাতেও পারবেনা।

সাবিহার সামনে চার জন অপরিচিত লোক বসে আছে।সাবিহার খুব ভয় হচ্ছে ব্যাপারটা তার জিবনে প্রথম ঘটছে।তাই সে নার্ভাস হচ্ছে। এখানে একজনকে অবশ্যি সে আগে দেখেছে। তার বাবার কলিগ।বাকি তিন জনের মধ্যে একজন বৃদ্ধ। বাকিদের মধ্যে তার বর কোনটা হবে সে বুঝতে পারছেনা।লোক দুইটার মধ্যে একটা কমন ব্যাপার আছে। দুজনের মাথায় সামান্য টাক।তার বর যদি টাক হয় তাকে যান গেলেও বিয়ে করবেনা।

বৃদ্ধ করে লোকটা বলল, “খুকি, তোমার নাম কী?”
তার মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল। তাকে কেও খুকি ডাকলে তার ভালো লাগেনা।সে খুকি হলে তার বিয়ের কথা হত না।
কিছুদিন আগেও এক চোখের ডাক্তার তাকে খুকি ডেকেছে।তখনো তার খারাপ লেগেছে।কনাকে চশ্মাতে খুব ভালো লাগে।ওর চশ্মাটা ও কয়েকবার চোখে দিয়েছে।তাকেও ভালো লেগেছে। তার মাকে মিথ্যে করে বলল তার চোখে সমস্যা।তাই চোখের ডক্তার কাছে গিয়ে চশ্মা এনেছে।ডাক্তার তাকে “ক খ” এর একটা বোর্ড দেখিয়ে বলল, “এই খুকি এখানে কী লেখা আছে বলতো”
তখনি তার মাথা খারাপ হয়েছে।সে বলেছে কিছুই দেখতে পারছেনা।ডাক্তার তার দিকে তাকিয়ে হাসলো।তবে তাকে একটা চশ্মা দিয়েছে।
সাবিহার বুকটা দুক দুক করছে। সে আস্তে করে বলল, “সাবিহা”

তুমি কি রান্না বান্না কিছু জানো?

সে কী বলবে বুঝতে পারছেনা।সে খুব সুন্দর করে নুডোলস রান্না করতে পারে।সামিয়ার নাকি এখনো জিহ্বায় লেগে আছে। এছারাও সে চা রান্না করতে পারে।কিন্তু ভাত রান্না করতে পারেনা। মা বলেছিল পরিক্ষার পর শিখিয়ে দেবে।আগে শিখিয়ে দিলে কী হত? এখন তার খুব লজ্জা লাগছে।
না আমি রান্না করতে পারিনা। আমি শুধু নুডলস আর চা রান্না করতে পারি।
বৃদ্ধ লোকটা আওয়াজ করে হেসে উটলো।
তার খুবই অসস্থি বোধ হচ্ছে। লজ্জাই মরে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে।
ঠিক আছে তুমি যাও।
সাবিহা যেন হাপ ছেরে বাঁচলো। সাবিহা তার ঘরে চলে আসলো।

 

সেদিনই রাতের ঘটনা।সাবিহা তার মার ঘরে গিয়ে বললো আমি এখন বিয়ে করবনা।আমি কলেজে ভর্তি হব।সাবিহার মা তৎখনাত গিয়ে তার বাবাকে ডেকে আনলো।

সাবিহার বাবা মেয়ে কে বুঝাতে লাগলেন।

দেখ মা এইরকম প্রস্তাব সবসময় আসেনা।এটি খুব ভালো প্রস্তাব।আমরাতো তোর খারাপ চাইনা।আমরা যা করছি তোর ভালোর জন্য করছি।

তোমরা বুঝনা কেন, আমি এখন বিয়ে করবনা।
তার মা বলল, “তুই কী বুঝিস?তোর কথাইতো আর দেশ চলেনা”

তখন থেকেই সাবিহা রুমের দরজা বন্ধ করে বসে আছে। তাকে ভাত খেতে ডাকা হয়েছে। কিন্তু সে যায়নি। সে এখন তাকিয়ে আকাশের দিকে।আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে তার খুব ভালো লাগে।

 

এক মাস পরের ঘটনা…

আজ সাবিহার বিয়ে।তার বান্ধবীরা সবাই এসেছে।সবাই এসে বলছে তাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। অন্য সময় হলে তার খুব ভালো লাগতো। এখন ভালো লাগছেনা।তার বিদায়ের সময় সে সবাইকে জড়িয়ে ধরে কান্না করেছে।

তাকে একটি খাটে বসানো হয়েছে। আশে পাশে অনেক মহিলা। সবাই হাসছে।
মাশাল্লাহ বউতো একদম রাজ কন্নার মত।আমাদের সেলিমের কপাল অনেক ভালো। সে অনেক সুন্দর বউ পেয়েছে।তাকেতো কালকে ঘুম থেকেই উঠানো যাবেনা। কথাটা বলার সাথে সাথে সবাই হেসে উটলো।

সাবিহার খুব লজ্জা লাগছে।সম্পূর্ন এক নতুন পরিবেশে সে তাকে মানিয়ে নিতে পারছেনা।সে এখন অনেক ক্লান্ত। কাল সারারাত সে ঘুমোতে পারেনি।তার খুবই ঘুম পাচ্ছে। তাকে বিছানায় রেখে সবাই চলে গেল।তার স্বামী দরজা বন্ধ করে তার পাশে এসে বসল। তার একটা হাত ধরল। সাবিহার ভাবতে অবাক লাগছে তার সাথে ব্যাপারটা ঘটছে। সে কোন অপরিচিত ছেলের সামনে কখন বসেনি।কিন্তু আজ সম্পুর্ন একজন অপরিচিত মানুষের সাথে তার ঘুমাতে হচ্ছে।তার চিতকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে। কেন যেন তার মুখ দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছেনা।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

7 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − ten =