ডেসটিনির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

13
572

ডেসটিনি গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠান ও পরিচালকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৩০ দিন তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে সব ধরনের অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এ নির্দেশনা জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্যাক্সযোগে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাঠায়। তবে বৈশাখী টেলিভিশন ও দৈনিক ডেসটিনির ব্যাংক হিসাব এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ডেসটিনির টাকা স্থানান্তর হয়ে থাকলে তার রেকর্ড থাকবে। অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর হয়ে থাকলে ডেসটিনিকে ধরা যাবে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা অর্থ তুলে নেওয়া সংক্রান্ত পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। জানা গেছে, ডেসটিনি গ্রুপের দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রাখা মোট ৫ হাজার ৯৬১ কোটি ৮২ লাখ টাকার মধ্যে ৪ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা সরিয়ে ফেলেছেন ডেসটিনি গ্রুপের পরিচালকরা। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বিস্ময়ের সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কি এ ঘটনা জানে?
ডেসটিনির অনিয়ম তদন্তে কমিশন কবে নাগাদ গঠিত হবে_ এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। এটি পাওয়া গেলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর গতকাল বিকেলেই অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে টাকা উত্তোলনের ঘটনাটি জানতে চান। তিনি এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডেসটিনির কোনো কর্মকর্তা যেন ব্যাংক থেকে আর অর্থ উত্তোলন করতে না পারে তার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ
দেন তিনি।
প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক শাখায় ডেসটিনির গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান (বৈশাখী টেলিভিশন ও দৈনিক ডেসটিনি বাদে) ও এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা বা বর্তমান পরিচালকের নামে কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলে আগামী ৩০ দিনের জন্য এসব হিসাবের লেনদেন বন্ধ রাখতে হবে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর আওতায় তাদের হিসাব বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে ডেসটিনির বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিংয়ের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর তাদের নানা কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নির্দেশনা দিল।
এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ডেসটিনি গ্রুপের সবচেয়ে বড় সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড এবং ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে। এছাড়া ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ ১৫ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডেসটিনি গ্রুপের ৩৭টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো_ ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি, ডেসটিনি শপিং সেন্টার, এয়ার ডেসটিনি, ডেসটিনি ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশন, আলীশা ডেসটিনি এগ্রো কমপ্লেক্স, ডেসটিনি হিটাচি ইলেকট্রিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ডেসটিনি হিটাচি ইলেকট্রনিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ডায়মন্ড বিল্ডার্স, দৈনিক ডেসটিনি, বৈশাখী মিডিয়া, ডেসটিনি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, ডেসটিনি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, ডেসটিনি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, ডেসটিনি প্রিন্টিং প্রেস, ডেসটিনি এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ ফাউন্ডেশন, ডেসটিনি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, ডেসটিনি সাসকো প্রোপার্টিজ, কনফিগার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন, ডেসটিনি বিল্ডার্স, ডেসটিনি টি লিমিটেড, ডেসটিনি সিকিউরিটি ফোর্স, ডেসটিনি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, কনফিগার হাউজিং, বন্ধিশাহী কোল্ড স্টোরেজ, বেস্ট এয়ার, ডেসটিনি কনজুমার প্রোডাক্ট, ডেসটিনি এয়ার সিস্টেমস, ডেসটিনি নিহাজ জুট স্পিনার্স, হাইটেক ফুড প্রোডাক্ট, ডিটুকে এক্সপ্রেস লিমিটেড এবং ডেসটিনি এনভায়রন সেভিং এনার্জি লিমিটেড।

প্রথমে এখানে প্রকাশ হয়।

Advertisement
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

 

ডেসটিনির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

ডেসটিনির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

Advertisement -
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

13 মন্তব্য

  1. জানিনা এ জাতি কবে যে, সচেতন হবে? ৪০ বছরেও এ দেশের উন্নয়ন না হওয়ার পিছনে আর সব কারণের মধ্যে এটা সবচেয়ে বড় কারণ। কারণ টা হলো অসচেতনতা। আপনাদের বলছি বিষয়টা এখনও তদন্ত অবস্থায় আছে। ফাইনাল রিপোর্ট আসুক মন্তব্য করুন। মন্তব্যকারীদের সবাই ধন্যবাদ জানাবে।

  2. ভাল হল।
    কবে যে ডুলেন্সারের এই অবস্থা হবে। দেশের মেধা গুলকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

      • মালিবাগের ওই office তা তে তিন বার যাওয়া লাগসে ,কয়েকজন বড় ভাই আর কয়েকটা বন্ধুর সাথে সম্পর্ক বিছিন্ন করতে হয়েসে এই ***** কোম্পানি এর জন্য . এভাবে যেন এই কোম্পানি তা ধংশ হয়ে যাই এটাই আশা করি .

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 − three =