ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন (Aliens) এক রহস্যময় জগত, পর্বঃ- ৪

4
1441
ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন (Aliens) এক রহস্যময় জগত, পর্বঃ- ৪

যুক্তি বাদী

নাস্তিক্যবাদ বিশ্বাস নয় বরং অবিশ্বাস এবং সংশয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বাসকে খণ্ডন নয় বরং বিশ্বাসের অনুপস্থিতিই এখানে মুখ্য।
ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন (Aliens) এক রহস্যময় জগত, পর্বঃ- ৪

ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন (Aliens) বলতে পৃথিবী-ভিন্ন মহাকাশের অন্য কোনো স্থানের প্রাণকে বোঝায়। অনেকেই ভিনগ্রহের প্রাণী বলতে মানুষের আকৃতির প্রাণী বুঝে থাকলেও বস্তুত যেকোনো ধরণের প্রাণীই এতালিকায় ধর্তব্য হতে পারে- এধারণায় পৃথিবী-ভিন্ন অন্য জগতের একটা সূক্ষ্ম ব্যাকটেরিয়াও ভিনগ্রহের প্রাণী হতে পারে।

ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন (Aliens) এক রহস্যময় জগত, পর্বঃ- ৪

দেহাবয়ব

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

এখনও মানুষ বিজ্ঞানসম্মতভাবে কোনো ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধান পেয়েছে বলে জানা যায়নি, আবার এরকম দাবি যে একেবারেই নেই এমনটাও সঠিক নয়। তবে দেখা যাক আর নাই যাক আধুনিক বিজ্ঞানের সূত্রমতে ভিনগ্রহের প্রাণীদের বিবর্তন সম্পর্কে একটা ধারণা ঠিকই করা যায়। যেকোনো প্রাণীর ক্ষেত্রের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ। আর উষ্ণ রক্তের জীবরা ঠান্ডা রক্তের জীবদের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় ও সক্ষম। সরীসৃপদের মতো ঠান্ডা রক্তের জীবদের শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের সঙ্গে বাড়ে-কমে আর বুদ্ধিও তেমনি তাপমাত্রার সাথে বাড়ে-কমে। তাই বিবর্তনের পরের দিকে এসেছে উষ্ণ রক্তের জীব, যাদের দেহের তাপমাত্রা একই রকম থাকে। ফলে বুদ্ধিমান প্রাণীরা হয় এদের মতো। ভিনগ্রহের প্রাণীরা বুদ্ধিমান প্রাণী ধরে নিলে তারাও এই গোত্রে শামিল হবে।

ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন (Aliens) এক রহস্যময় জগত, পর্বঃ- ৪

ভিনগ্রহের প্রাণীদের আকৃতি কতটুকু বিশাল হতে পারে তারও ধারণা করা সম্ভব। প্রাণীদের ক্ষেত্রে দৈহিক শক্তি তাদের পেশির প্রস্থচ্ছেদের উপর নির্ভরশীল। যেহেতু শক্তির বৃদ্ধির সূত্র হলো:

শক্তির বৃদ্ধি : দৈহিক আকৃতি2

তাই কোনো প্রাণীর আকৃতি দ্বিগুণ করা হলে তার শক্তি বৃদ্ধি পাবে চারগুণ (22=4)। কিন্তু এই নিয়মের সাথে আরেকটা নিয়মও অতোপ্রতভাবে জড়িত, তা হলো:

প্রাণীর আকৃতি : দৈহিক ওজন3

অর্থাৎ কারো আকৃতি দ্বিগুণ করা হলে তার ওজন বেড়ে যাবে আটগুণ (23=8)। এই দুটো নিয়ম এক করলে দেখা যায় কারো আকৃতি দ্বিগুণ করলে তার শক্তি ও ওজনের অনুপাত আগের তুলনায় অর্ধেক হয়ে যাবে। অর্থাৎ বৃহতাকৃতির মানেই হলো দৈহিক শক্তির অপচয়। নাসা’র বিজ্ঞানীদের হিসাবনিকাশ অনুযায়ী এই অজানা প্রাণীদের ওজন ৪.৫৪ কেজি (১০ পাউন্ড) থেকে ১০ টনের মধ্যে থাকবে, এর বেশি বা কম নয়।

ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন (Aliens) এক রহস্যময় জগত, পর্বঃ- ৪

আবার আকৃতি বড় হলে পানির নিচে চলাচলে অনেক সুবিধা। কেননা আর্কিমিডিসের তত্ত্ব অনুযায়ী আকৃতির বিশালতা বাড়লে পানির প্লাবতাও বেশি জায়গা জুড়ে কাজ করবে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী ভিনগ্রহের প্রাণীদের জলচর হবার সম্ভাবনা থাকলেও তারা ‘জলচর হবে না’ -এমন তত্ত্বই বেশি প্রচলিত। কেননা বুদ্ধিমত্তার জন্য পানির চেয়ে স্থলভাগ এগিয়ে আছে। সামুদ্রিক জীবন অনেক সহজ, উত্থান-পতন কম তাই সামুদ্রিক প্রাণীরা বুদ্ধির দিক দিয়ে স্থলভাগের প্রাণীদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। কেননা পানিতে প্রতিকুল পরিবেশের সাথে লড়াই স্থলভাগের তুলনায় কম করতে হয়। অনেকে ডলফিনের উদাহরণ টেনে এই তত্ত্বের বিরোধিতা করতে চাইলেও ডলফিনের বিবর্তন ইতিহাস বলে যে, তাদের পূর্বপুরুষ সামুদ্রিক প্রাণী ছিলো না, বরং তারা স্থলচর স্তন্যপায়ীর বংশধর: বিবর্তনের শেষের দিকে এসে তারা জলে আশ্রয় নিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা ভিনগ্রহের প্রাণীদের বুদ্ধিমান প্রাণী ধরে নিয়ে বলেন যে, এরকম প্রাণীরা যদি খুব ছোট হয়, তবে কখনোই বুদ্ধিমান হতে পারবে না। কারণ বুদ্ধিমান হবার জন্য যতটুকু মস্তিষ্ক দরকার তা ধারণ করার মতো দেহ তাদের নেই। জনৈক লেখক মাইকোপ্লাজমা নামক ব্যাক্টেরিয়ার কথা জেনে তাঁর বইতে গল্প লেখেন যে, ভিনগ্রহের প্রাণীরা মসুর ডালের চেয়েও ছোট। বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বকে উড়িয়ে দেন। কেননা প্রাণীর আকৃতিকে কোনোভাবে যদি অর্ধেক করে দেয়া যায়, তাহলে জ্যামিতিক নিয়মে তার উপরতলের ত্বক ও ভিতরকার কলকব্জার অনুপাত হয়ে যাবে চারগুণ। ফলে দেহের তাপটুকু সমস্ত শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে ও শরীর খুব দ্রুত তাপ হারিয়ে ঠান্ডা হয়ে যাবে। একারণে তাকে খুব ঘনঘন খাবার গ্রহণ করতে হবে। আর একটা প্রাণী তার জীবনের বেশিরভাগ সময় খাবারের পিছনে ব্যয় করলে কখনোই বুদ্ধিমান হতে পারবে না।

ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন (Aliens) এক রহস্যময় জগত, পর্বঃ- ৪

জীবনযাত্রা

জীবনযাত্রায় অন্যতম একটি উপাদান পোষাক। বিজ্ঞানের কাছে ভিনগ্রহের প্রাণীদের পোষাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। যারা, ভিনগ্রহের প্রাণী দেখেছেন বলে দাবি করেন, তাদের বক্তব্য হলো ভিনগ্রহের এসব বুদ্ধিমান প্রাণীরা পোষাক হিসেবে কিছুই পরে না। এব্যাপারে মানুষের তত্ত্বটি হলো যেহেতু তারা অতিবুদ্ধিমান, তাই পোষাক-পরিচ্ছদের বাহুল্য ত্যাগ করতে শিখে নিয়েছে। তবে তারা মাথায় হুড পরিধান করে থাকে বলে অনেকের দাবি। কারো দাবি, তারা লম্বা লম্বা জোব্বা পরে থাকে।

ভিনগ্রহের প্রাণীরা নাকি স্কুলেও পড়ে, তবে শুধুমাত্র আকৃতিতে লম্বারা স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কোনো এক বনের ভিতরে একদল ভিনগ্রহের প্রাণীকে তাদের শিক্ষক পড়াচ্ছিলেন -এই দৃশ্য দেখে বিখ্যাত লেখক হোয়াইটি স্ট্রেইকার তাঁর সিক্রেট স্কুল: প্রিপারেশন ফর কন্ট্রাক্ট বইতে এদের কথা লিখেছিলেন। এ নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কও হয়েছিলো।

গণমাধ্যমে উপস্থাপনা

ভিনগ্রহের প্রাণীদের সম্পর্কে গণমাধ্যমে বহু চটকদার এবং কখনও কখনও ভাবগম্ভির কাজও হয়েছে। যেমন লেখা হয়েছে বই, প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকার প্রতিবেদন, তেমনি তৈরি হয়েছে গান, চলচ্চিত্র এবং এ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র।

চলচ্চিত্র

ভিনগ্রহের প্রাণীদের নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্রের মধ্যে সবার আগে উল্লেখযোগ্য হলো স্টার ট্রেক চলচ্চিত্রের নাম।এছাড়াও রয়েছে স্টিভ ম্যাকুইন অভিনিত ছায়াছবি দি ব্লব

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

4 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − 3 =