হ্যাকিং নিয়ে একটা পোস্ট করার ইচ্ছা ছিল...

13
519

হ্যাকিং শিখতে চান কে কে?

আমি।

কেন?

কেউ বলবেন আমি হ্যাকারদের থেকে বাচতে চাই। তাই হ্যাকিং সম্পর্কে যদি ধারণা না থাকে, তাহলে কিভাবে তাদের প্রতিরোধ করব(সত্য কথা)। কেউ বলবেন এই বিষয়টা অনেক মজার(আসলেই মজার)।

তো এখন আপনি বলবেন, হ্যাকিং শিখব। তাহলে আমি বলব হ্যাকিং শেখার কোন জিনিস না। এটা অনেক বেশি বিস্তৃত একটা শব্দ। এটা শুধু শেখার শুরু মাত্র। কেউ যদি আপনাকে বলে যে সে আবিস্কার করা শিখতে চাই। তাহলে আপনি তাকে কি বলবেন। আপনি কি মুখ লুকিয়ে হাসবেন না। আপনি সর্বোচ্চ যা বলতে পারবেন তা হল বেশি বেশি পড়। একই কথা হ্যাকিং এর বেলায়ও প্রযোজ্য।

তালা যে বানায় তার জন্য সে তালার চাবি বানানোও সহজ। কিন্তু অন্য কেউ যদি সে তালার চাবি বানাতে চাই তাকে আগে তালাটা সম্পর্কে জানতে হবে। স্বাভাবিক ভাবেই। তবে হ্যা যারা প্রতিরোধের জন্য শিখবেন মনে রাখতে হবে তাদের আরো বেশি শিখতে হয়। তো আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি আপনার সুরক্ষার জন্য যা করছেন তা পর্যাপ্ত কিনা। কথায় আছে হ্যাকাররা নাকি ঘুমায় না(এটাও সত্য কথা)। তাহলে চিন্তা করে দেখেন। তাদের কাছ থেকে বাচার জন্য আপনাকে কতক্ষন সময় দিতে হবে। বেশ কয়েকদিন ধরে একের পর এক হ্যাকিং নিয়ে পোস্ট হওয়াতে আশা করি মূল জিনিসটা সবাই ধরতে পেরেছেন।

প্রথমে ভেবেছিলাম খালি লেকচার দিয়ে যাব। পরে দেখলাম কেমন হয় যদি একটা গাইডলাইন তৈরি করে ফেলি।
কিছু সংজ্ঞা পড়ে নিন আগেঃ

হ্যাকারঃ সবচেয়ে সহজ বাংলা চোর। এদের কাজ শুধুই বন্ধ দুয়ার খোলা। সামান্য একটা ক্যালকুলেটর খোলা থেকে শুরু করে কম্পিউটার, কোন সফটওয়্যার এর সোর্স কোড, সাইটের Admin Power। মোট কথা যে কোন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি সেটা সফটওয়্যার হোক কিংবা হার্ডওয়্যার সম্পর্কে এদের ধারণা সবচেয়ে বেশি। অনেকে এদের দু’ভাগে ভাগ করেঃ সাদা টুপি ওয়ালা, কালো টুপিওয়ালা।( হ্যাকিং কি? হ্যাকার কে? কত প্রকার ও কি কি? সাধারণ ব্যবহারকারীও সহজে বুঝতে পারবে পড়ে দেখেন মজা পাবেন,অনেক কিছু জানতেও পারবেন)

ভাইরাসঃ নিজে থেকে বংশবিস্তার করতে পারে এমন সফটয়্যার বা কোডই হল ভাইরাস। কোনটা উপকার করে কোনটা অপকার।

এন্টিভাইরাসঃ ভাইরাস সনাক্ত করে মারাই এর কাজ।

কি-লগারঃ
আপনি যা টাইপ করবেন তা এই সফটওয়্যারটি মনে রাখবে। এবং আপনার শত্রুর হাতে সেই তত্ত্য ফাস করে দিবে।

এন্টি কি লগারঃ
কি-লগার কে ফাকি দেয়া, বোকা বানানো, ধরা, মারা প্রবৃত্তি এর কাজ।

পাসওয়ার্ডঃ
বিশেষ সাংকেতিক ভাষায় বানানো ডিজিটাল চাবি।

ফিসিং: এর বানান নিয়া এত ঝগড়া কেন আমি বুঝি না। যাই হোক এটা আপনাকে ধোকা দিয়ে বোকা বানানোর একটা পথ। ধরেন আপনার প্রিয় একটা সাইটের নাম মাখন.কম এখন হ্যাকার সাহেব মাখন.বেশি নামের একটা সাইট বানালো হুবুহু মাখন.কম এর মত। পার্থক্য শুধু একটা এটাতে পার্সওয়ার্ড দিলে তা হ্যাকার মশায়ের কাছে চলে যাবে। তারপর সুন্দর মত আপনাকে লগিন না করিয়ে মাখন.কম/পার্সওয়ারড ভুল হয়চে আবার ট্রাই করুন এ পাঠিয়ে দিবে।

বিস্কিট চুরিঃ(Cookie Steal):আপনি যখন কোন সাইটে লগইন করেন তখন আপনার ব্রাউজার সাময়িক সময়ের জন্য আপনার পার্সওয়্যার্ড কুকি হিসেবে মনে রাখে। তা নাহলে ঐ সাইটের প্রতি পেজের জন্য আপনাকে বারবার লগিন করতে হবে। তো চোর মশাই আপনাকে একটা ফাদে ফেলে(সবচেয়ে কমন পদ্বতি হল আপনাকে একটা ভুয়া লিঙ্ক দিবে) আপনার সেই কুকি চুরি করে ফেলবে। এরফলে হ্যাকার আপনার পার্সওয়্যার্ড না জেনেও আপনার একাউন্টটা ব্যাবহার করতে পারবে।

এবার আসি আসল কথায় (গাইডলাইন):

১ম ধাপঃ ইলেক্ট্রনিক্সের বিভিন্ন জিনিস খুলে আবার লাগান। সামনে যা পানঃ ক্যালকুলেটর, কম্পিউটার। এতে আপনার একটা সাধারণ ধারনা জন্মাবে। আপনার খোলাখুলির অভ্যাস তৈরি হবে যা হ্যাকারের প্রধান গুণ।

২য় ধাপঃ কম্পিউটার নিয়ে বাজারে যত বাংলা বই আছে সংগ্রহে রাখুন(যত পারেন)। আর সব নিয়মিত পড়তে থাকুন।

৩য় ধাপঃ এবার ধীরে ধীরে কয়েকটা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখে ফেলুন। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন। প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর উপর আপনার দক্ষতা যত বেশি হবে। আপনি তত ভাল হ্যাকার হতে পারবেন কোন সন্দেহ নেই। কোনটা শিখবেন? সি প্রোগ্রামিং দিয়ে যাত্রা শুরু করে দেন(জাকির ভাইয়ের সাথে) > এইচ.টি.এম.এল(HTML) >জাভাস্ক্রিপ্ট( javascript) >পার্ল( perl) >পাইথন( python) > . . .> এই যাত্রা শেষ করবেন না। যত দিন নিজেকে হ্যাকার হিসেবে দেখতে চাইবেন ততদিনই শিখে যাবেন। যত পারেন, যত ভালো পারেন, যত বেশি পারেন।

৪র্থ ধাপঃ উইনডোজ পরিত্যাগ করুন, লিনাক্স গ্রহণ করুন। হ্যাকারদের জন্য লিনাক্সের চেয়ে ভাল কোন অপারেটিং সিস্টেম নাই। একটা বাড়তি সুবিধা হল আপনি চাইলেই এটি নিজের মত করে পাল্টাতে পারবেন। কারণ এর সোর্স কোড সম্পূর্ণ উন্মূক্ত।

৫ম ধাপঃ ইন্টারনেটের কানেকশন নিন। আনলিমিটেড হলে ভাল হয়। কারণ প্রথম প্রথম আপনাকে প্রচুর বই, ভিডিও,সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে। তারপর গুগলে খুজে কয়েকটা হ্যাক ফোরামস এ রেজিষ্ট্রেশন করেন।

৬ষ্ঠ ধাপঃ ঘর থেকে পালিয়ে যান। একমাসের জন্য। সাথে বেশ কিছু টাকা ল্যাপটপ আর মডেম টা নিন। একটা ব্যাচলর বাসা বাড়া নিন। তারপর ঘড়ি দেখা ভুলে যান। রাতদিন এক করে শুধু এটা নিয়ে পড়ে থাকুন। আমি কথা দিচ্ছি আপনার প্রতিদিনের উন্নতি তুলনা করে আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন।

৭ম ধাপঃ ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুন। হ্যাকার হিসেবে নতুন জীবন শুরু করুন। নিজের আলাদা একটা কোড নাম সিলেক্ট করুন। পুরোপুরি আলাদা জীবন(ভার্চুয়াল জগতে) তৈরি করুন। তারপর…………………………………………………… হ্যাপি হ্যাকিং

পুনশ্চঃ এগুলো সম্পূর্ন অবৈজ্ঞানিক এবং শুধুমাত্র আমার এলোমেলো চিন্তার ফসল। এই গাইডলাইনের এক লাইনও আমি নিজে মেনে চলি নি। আমি কোন পর্যায়ের হ্যাকারই না।

13 মন্তব্য

  1. ভালো লেগেছে পড়ে। একটু অন্য রকম স্টাইলে লিখেছেন। হ্যাকিং হ্যাকিং শুনতে শুনতে আর ভালো লাগে না। তবে ইচ্ছা আছে শিখার। তাই এখানে আছি আপনাদের কাছ থেকে কিছু শিখতে।
    ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পোষ্ট দেয়ার জন্য

    আরে ভাই, পুদিনা পাতা ভাই কি বলছে শুনেন নাই। সবই হবে। ধীরে ধীরে ষ্টাইলে… সাথে থাকেন।
    অনেক ধন্যবাদ।
    একটা জিনিস বুঝলাম না। মন্তব্যের বাটন কি নষ্ট হইয়া গেছে নাকি। ৩৮৫ জন পরছে অথচ এই জায়গায় শুধু আপনারে দেখা যায়। যাউজ্ঞা…

  2. ভালো লেগেছে পড়ে। একটু অন্য রকম স্টাইলে লিখেছেন। হ্যাকিং হ্যাকিং শুনতে শুনতে আর ভালো লাগে না। তবে ইচ্ছা আছে শিখার। তাই এখানে আছি আপনাদের কাছ থেকে কিছু শিখতে।
    ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পোষ্ট দেয়ার জন্য

একটি উত্তর ত্যাগ