ধারাবাহিক বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি “ঘরে ফেরার গান” (ক্রম- ১)

5
273

ধারাবাহিক বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি “ঘরে ফেরার গান” (ক্রম- ১)

১.

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

দক্ষিণ প্রশান্তমহাসাগরীয় পর্বতাবৃত অঞ্চলের দুটি বৃহৎ পর্বতের মাঝের উপত্যকায় রয়েছে মানুষের বসতি, যা একটি বৃহৎ এবং সুন্দর ভবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অথচ হঠাৎ করে ভবনটিকে চোখে পড়ে না। স্থাপত্যশৈলীতে অসাধারণ কোন বৈশিষ্ট্য না থাকলেও আধুনিক উপকরণের কোন অভাব নেই। এর প্রবেশপথ যেমন কঠোর ভাবে সংরক্ষিত তেমনি জীবনযাপনের পদ্ধতিও অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। কোন বাহুল্যতা নেই, তেমনি নেই কোন বিশৃঙ্খলা। আছে সুন্দর, পরিশুদ্ধ, আয়েশী অথচ প্রায় বন্দী এক পরিবেশ। আরও রয়েছে, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের গল্প, আছে আগামী দিনের হতাশামূলক আশা আর একঘেয়ে বিরক্তিকর জীবন। ভবনটির ছাদে রয়েছে একটি বৃহৎ হলঘর, যা নির্মিত হয়েছে কোয়ার্টজ দিয়ে, যার উপরিভাগ তৈরি স্বচ্ছ মোটা কাচ দিয়ে।

 

এক গ্রীষ্মের বিকালে ভবনের অধিবাসীদের একজন কোয়ার্টজ দেয়ালে হেলান দিয়ে কাচের ভিতর দিয়ে দূর আকাশের দিকে তাকিয়েছিল। সূর্য ডোবার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে যখন আকাশ রক্তিমাভাব হয়, তখন একটি মায়াময় পরিবেশ তৈরি হয়, আর তখন দীর্ঘ সময় এক নাগাড়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকলে এক অদ্ভূত ভালো লাগা তৈরি হয়। তাই, মাইক এক ধরনের ছেলেমানুষী আগ্রহ আর কিছুটা অস্থিরতা নিয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকে। তাকিয়ে থাকতে তার ভালো লাগে।

 

সূর্য ডোবার পর হলঘরটি অন্ধাকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। প্রকৃতিতেও তখন আবছা অন্ধকার খেলা করে। সেই আবছা অন্ধকারে খেয়াল করলে হঠাৎ হঠাৎ ঘরে ফেরা কিছু পাখিও চোখে পড়ে। মাইক কিছুতেই আকাশ থেকে চোখ ফেরাতে পারে না, এক ধরনের অসুস্থ কৌতূহল নিয়ে সে তাকিয়ে থাকে, কাকে খুঁজে কেউ জানে না।

 

“মাইক তুমি কি এখানে?” উচ্চস্বরে কেউ একজন ডাকলে, হলঘরে তা প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে। মাইকের ভাবনায় ছেদ পড়ে।

 

“হ্যাঁ সানি, আমি এখানে।” বলেই মাইক অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাতি জ্বালিয়ে দিল, সে তখন দিনের শেষ আলোটুকু গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখছিল। হঠাৎই ঘরটি আলোর বন্যায় ভরে যায়।

 

সানি আস্তে আস্তে হেঁটে মাইকের পিছনে এসে দাঁড়ায়। মাইক তখন ফ্লোরে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছিল, সানি মাইকের কাঁধে হাত রাখল, সে সানির দিকে ঘুরে চোখে চোখ রেখে মেঝেতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ায়।

 

মাইকের চোখে চোখ পড়তেই সানি চমকে উঠল, মনে হল বহুদিনের অপরিচিত কোন চোখ, হাহাকার আর গভীর বিষণœতার কোন চোখ।

 

“চল।” সানি বলে।

 

“যাচ্ছি।” মাইক দীর্ঘশ্বাস ছাড়ার ভঙ্গিতে জবাব দেয়।

মাইক বাতি নিভেয়ে দিল। অন্ধকারে সাবধানে পা ফেলে ওরা দরজার দিকে এগিয়ে যায়। বাইরে হালকা নীলাভ আলোতে লম্বা বৃহৎ করিডোর ধরে ওরা এগিয়ে যেতে থাকে।

 

(ভাল কিংবা খারাপ অথবা বিরক্তিকর যা-ই লাগুক আপনারা মন্তব্য করুন। আপনাদের মন্তব্য আমাকে আরও ভাল কিছু লিখতে উৎসাহ দিবে।)

 

 

আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগত জানাই- (mahkbd.blogspot.com)

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

5 মন্তব্য

  1. আপনার পর্বের বিষয় টা খুবি ভাল । চালাই জান , ধন্যবাদ।

  2. বাইরে হালকা নীলাভ আলোতে লম্বা বৃহৎ করিডোর ধরে ওরা এগিয়ে যেতে থাকে।
    হয়তবা গ্রহ নক্ষত্রদের ইর্শে হয় ওদের দেখে । দারুন হচ্ছে !!!!!!!!!!!

    • দিলাম ভাই, আশা করি দ্বিতীয় পর্ব পড়বেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 4 =