পিসির সমস্যা হাজারো, সমাধান একটি টিউনারপেজ হেল্প লাইন
৯,০০০ অনলাইন গেমস নিয়ে মেতে উঠুন টিউনারপেজ গেমস জোন

Horror Tune 41: ।। রহস্যময় মসজিদ ।। (শেষ পর্ব) 

বাংলা ব্লগ প্রতিযোগিতা
বাংলা ব্লগ প্রতিযোগিতা

((((http://www.tunerpage.com/archives/66649 এখান থেকে প্রথম পর্বটি পড়ে নিন)))

পরদিন:

– ‘জাবির!’ রায়হান ডাকল।
– ‘কিরে!’
– ‘কালকের ইমাম সাহেব যে দারুণ একখান গপ্পো দিলেন! তুই কী মনে করিস?’
– ‘একজন ইমাম তো এরকম গপ্পো দেওয়ার কথা না!’
– ‘আন্ডার কাভারে কিছু নাই তো আবার?’
– ‘ভাল একটা পয়েন্ট ধরেছিস। আন্ডারকাভার! ইয়েস! শিশু, মাদক পাচারের সাথে এরা জড়িত থাকতে পারে। হয়তো মসজিদের কাভারে আছে ওখানে। আর জ্বীন সেজে উপজাতিদের মনে ভয় ঢুকিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদেরকে বাচ্চা মনে করে জ্বীনের গল্প ফেঁদেছে, ভেবেছে ঝেড়ে দৌড়ে পালাব, ফিরেও তাকাব না কোনদিন তাদের দিকে!’
– ‘হুম! আজ আবার যাবি?’
– ‘আন্ডার কাভারের কথা বলে তো তুই একটু ভয় ঢুকিয়ে দিলি। এখন তো আরো মানুষ নিয়ে যেতে হবে। পুলিশ/RABর কোন পরিচিত সদস্য থাকলে আরো ভাল হত।’
– ‘আমার এক কাজিন আছে RAB-এ চাকরি করে। খুব বড় পোস্ট না, বললে হয়তো উনি আসবেন।’ বলল সোহাগ।
– ‘তাড়াতাড়ি কর। নাম্বার আছে? কল লাগা।’
সোহাগের কাজিন RAB অফিসার জামিল আহমেদের সাথে কথা বলে যাওয়া ফাইনাল করে ফেলল ওরা। আজ বিকাল চারটার সময় সোজা জঙ্গলে চলে যাবে। ওদের কলেজের আরো দুই বন্ধুকেও সাথে নেবে। হাফিজ আর রাজু। হাফিজ আর রাজুকে নেবে কারণ ওরা প্রায়ই জাবিরদের কাছে নানান এডভেঞ্চারের গল্প ফাঁদে। তাই ওদেরকে নিজেদের এডভেঞ্চার দেখানোরও একটা সুপ্ত উদ্দেশ্য কাজ করছে।

যথাসময়ে রওনা দিল তারা। আগের রাতের তীর চিহ্ন ধরে ধরে জামিল সাহেব, হাফিজ আর রাজুকে নিয়ে এগোতে লাগল জাবিররা। জামিল সাহেব বললেন-
– ‘তোমরা তো অনেক সাহসী! এই ঘন জঙ্গল দিয়ে কিভাবে রাতে গেলে আবার ফিরেও এলে!’
– ‘এডভেঞ্চারের ভূত মাথায় চেপে বসলে আসলে অনেক কঠিন কাজই সহজ হয়ে যায়।’
– ‘হুমম! আর কতদূর?’
– ‘এই তো এসে পড়েছি।’
হঠাৎ করেই আগের সেই খোলা জায়গায় এসে পড়ল ওরা।

কিন্তু মসজিদ কোথায়?

– ‘কিরে মসজিদ কই?’ জিজ্ঞেস করল হাফিজ ও রাজু।
– ‘ইয়ে মানে! এখানেই তো ছিল। এখন গেল কই?’
– ‘পথ তো ভুল হওয়ার কথা না! কালকের তীর চিহ্ন ধরেই তো আসলাম। আর ঠিক এরকম জায়গায়ই তো মসজিদটা ছিল।’
– ‘জাবির! তোরা এরকম আমাদেরকে গুল খাওয়াতি পারলি!’ বলল হাফিজ।
– ‘তোরা পারিসও!’ রাজুও তাল মিলাল।
– ‘সোহাগ তুমি আমার সাথেও এরকম কাজ করতে পারলে!’ হাফিজ, রাজুর কথায় জামিল সাহেবও ভুল বুঝলেন।
– ‘প্লিজ জামিল ভাই! আপনি আমাদের ভুল বুঝবেন না!’ জাবির অনুরোধ করল।
– ‘আচ্ছা ওকে! আমি এখন যাই, আমার জরুরি কাজ আছে।’
– ‘আমরাও যাই। তোদের সাথে থাকলে হয়ত আরোও গুল খেতে হতে পারে! কি বলিসরে হাফিজ?’
– ‘হ্যা! ঠিক বলেছিস! চল যাই।’
RAB অফিসার জামিল সাহেবের সাথে হাফিজ আর রাজুও চলে গেল। ওরা তিনজন মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল ঐ জায়গায়ই।
– ‘ব্যাপারটা কি হল রে?’ সোহাগ কথা বলে উঠল।
– ‘পথে কোন ভুল-টুল হয় নাই তো!’ জাবির বলল।
– ‘পথে অন্তত ভুল-টুল হয় নাই। ভুল অন্য কোথাও হয়েছে।’
– ‘ইমামের কথাই তাহলে ঠিক?’ বলল রায়হান।
– ‘নাকি হ্যালুসিনেশন?’
– ‘তিনজনেরই হ্যালুসিনেশন হল?’
– ‘হতে পারে। একে বলে ‘মাস হ্যালুসিনেশন।’
– ‘আমি কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও মেনে নিতে পারছি না! ছুটি শেষে কলেজে গিয়ে মুখ দেখাবো কি করে! হাফিজ আর রাজু তো কলেজে ঘটনাটা আরোও রঙ চড়িয়ে চাউর করে দেবে!’
– ‘বাদ দে! লোকে যা খুশি বলুক। আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা বরং রহস্যটা উদ্ধারের দিকে মনোযোগ দেই।’
– ‘এই জায়গাটা আগে ভাল করে খুঁজে দেখি।’

জায়গাটা বেশি বড় না। মসজিদ যেটুকু জুড়ে ছিল সেটুকুই, এর বাইরে চারিদিকেই জঙ্গল ঘেরা। ছোট ছোট দুর্বা ঘাসে ছাওয়া ছোট মাঠ বলা যায়। জঙ্গলের মধ্যে এরকম মাঠের মতো জায়গা থাকাটাই বিরল।

– ‘দেখ! দেখ! এক টুকরো কাগজ।’ চিৎকার দিয়ে উঠল জাবির।
– ‘কিসের কাগজ?’ সমস্বরে জানতে চাইল সোহাগ আর রায়হান।
– ‘একটা চিরকুট!’
– ‘দেখি! দেখি!’
ছোট ভাইয়েরা,
আমি মসজিদের ইমাম।
আমাদের জ্বীনদের কেউ কোথাও দেখে ফেললে
আমরা সে জায়গা থেকে একেবারে চলে যাই।
আমরা এ জঙ্গলে ছিলাম প্রায় সাড়ে চারশ’ বছর ধরে।
জঙ্গলে আমাদের এদিকে কেউ আসছে দেখলে আমরা
সাধারণত অদৃশ্য হয়ে যাই।
এতো বছরের মধ্যে একটু অসতর্কতায় কালকেই প্রথম
তোমরা আমাদের দেখে ফেললে। তাই আমরা এ জায়গা
ছেড়ে চিরতরে চলে গেলাম। তোমাদের ভাগ্য ভাল,
আমরা ভাল জ্বিন, তাই তোমাদের কিছু করি নি।
কোন খারাপ জ্বিন হলে সোজা গলা টিপে মেরে ফেলত।
হয়ত এরকম হত্যার কাহিনী তোমরা শুনেও থাকবে।
সালাম রইল। ভাল থেকো।
ইতি
য়াতঁৎফ চম্ভয়ঞএরহজ

লিখেছেনঃ নাশিত চৌধুরী

Related posts

আপনার মতামত অথবা প্রশ্ন করুন...

সবার আগে মতামত শুরু করুন!