Horror Tune 24

0
234
Horror Tune 24

ফুসকাওয়ালী

World Wide Web পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
টিউনারপেজে আমি শিখছি দিবারাত্র,
চেনে আমায় কেউ, বোঝেনা কেউ,
তবুও . . . . . .
টিউন করে যাই,
আপন মনে,
Horror Tune 24

আপনি বাথরুমে গেলেন, হাত মুখ ধুলেন, তারপর নিশ্চয়ই বেসিনের আয়নাটার দিকে তাকাবেন। কেমন হবে যদি দেখা যায় আয়নায় যেই মুখটি দেখা যাচ্ছে তা আপনার না, অন্য কারো? ধরেন বীভৎস একটা মুখ, যা আপনি আগে কখনো দেখেন নি!

আয়না নিয়ে অনেক রহস্যময় ঘটনা আছে। একবার একছেলে মুখ ধুতে ওয়াসরুমে গেলো। যখন হাত মুখ ধোঁওয়া শেষে সে আয়নার দিকে তাকাল তখন দেখতে পেলো তারমুখের একপাশ ঠিক আছে, কিন্তু অপর পাশটা কঙ্কাল হয়ে গেছে। সে ভাবল চোখের ভুল, তাই সে আবারো মুখ ধুয়ে আয়নার দিকে তাকাল এবং এইবার সে অন্য জিনিস দেখল। দেখল, এক মহিলা আয়নার ভেতর থেকে অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মহিলার চোখের মণি নেই। চুল কপালের দুই পাশ দিয়ে ঝুলে রয়েছে। মুখে বসন্তের দাগ। ছেলেটা ভয় পেলো, এবং আবার মুখ ধুলো, এরপর আয়নার দিকে তাকাল। এবার ছেলেটা কাউকেই দেখতে পেলো না। এমনকি নিজেকেও না। শুধু তার পিছনের সাদা দেয়ালটা দেখা যাচ্ছে। ছেলেটা সেন্সলেস হয়ে পড়ে যায়।

হাজার হাজার বছর ধরেই আয়না নিয়ে মানুষ অনেক ভীতিকর ঘটনা ফেস করে আসছে। নানান গল্পও শোনা যায় এই নিয়ে। অনেকে বিশ্বাস করেন যে, আয়না মৃত মানুষের আত্মাকে ধরে রাখে। কেউ যদি মারা যায় এবং সেই ঘরে যদি কোনও আয়না থাকে তবে সেই আয়না সেই লাশের আত্মাটাকে ধরে রাখে। তাই অনেক জায়গায় কেউ মারা গেলে সাথে সাথে সেই রুমে কোনও আয়না থাকলে তা সরিয়ে ফেলা হয়।

বাইবেলে বলা আছে, আয়না শয়তান তৈরি করেছে, যাতে আয়নার মধ্যে আত্মা ঢুকে গিয়ে আর স্রস্টার কাছে ফিরে যেতে না পারে।

আয়না তে কি আসলেই আত্মা ঢুকতে পারে? একটা লজিক আছে এই ব্যাপারে। ক্যামেরার ফিল্ম তৈরিতে হেলাইড নামের জিনিস ব্যাবহার করা হয়, যার ফলে ক্যামেরা যেকোনো ছবি ধরে রাখতে পারে। আয়না তৈরিতেও সিলভার হেলাইড ব্যাবহার করা হয়। এখন তা যদি কোনও মানুষের ছবি ধরে রাখতে পারে তবে এটা কি বলা যায় না যে সেই আয়নায় এমন কারো ছবি দেখা যেতেই পারে যে হয়তো এখন বেঁচে নেই, কিন্তু কোনও একসময় সেই আয়নায় মুখ দেখেছে? বলা যায় না? যেতেই পারে!

আমেরিকাতে একটা কথা শোনা যেতো ১৯৭৮ সালের দিকে। কোনও অন্ধকার রুমে যদি একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ “ব্লাডি মেরী” বললে নাকি আয়নাতে একটা অল্প বয়সী মেয়েকে দেখা যেতো! তাকে ইভিল স্পিরিট বা শয়তানের আত্মা বলা হয়। কেউ কেউ নাকি সেই ব্লাডি মেরী দ্বারা খতির সম্মুখীনও হয়েছে।

আমেরিকার আরেকটা জায়গায় “কারদিনি গ্রিন” নামের একজনের কথা শোনা যায়। এই লোকের নামও নাকি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পাছবার নিলে তাকে দেখা যায়। তার এক হাত কাঁটা। সেই হাতে নাকি একটা স্টিলের স্পাইক লাগানো!

এক স্টুডেন্ট একবার আসাইন্মেন্ট করার কাজে ঐ জায়গাতাই গিয়েছিলো যেখানে সেই গ্রিন নামক ব্যাক্তির কথা প্রচলিত ছিল। সেই এলাকার সবাই গ্রিন নামক ব্যাক্তির আত্মা নিয়ে এতো বেশি আতঙ্কে ছিল যে তারা কেউ ঐ স্টুডেন্টকে কোনও তথ্য দিতে পারছিল না ভয়ে। স্টুডেন্টটা পরে নিজে একা সেই এলাকায় গিয়ে ঐ কারদিনি গ্রিন নামক ব্যাক্তির ব্যাপারে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলো। পরের দিন ঐ স্টুডেন্টের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার সাথে কি ঘটেছিলো তা কেউ জানে না।

বলা হয়ে থাকে যে, কারো ঘরে যদি পুরনো আমলের বিশাল বড় কোনও আয়না থেকে থাকে তবে সেসব আয়নাতে কিছু না কিছু থাকে। আত্মা যখন একটা রুমে ঢুকে আয়নাকে সে তার বের হবার পথ ভেবে ভুল করে। তখন সে আয়নার ভেতর ঢুকে ঠিকই কিন্তু বের হতে পারে না। তাকেই হয়তো লোকেরা দেখে।

একবার ভাবুন তো, আজকে একটু পর হয়তো আপনি বাথরুমে যাবেন, ওখানে বা তার আসে পাশে নিশ্চয়ই একটা আয়না আছে। তাকিয়ে দেখুন তো! আয়নার ভেতরের মানুষটাকি আপনি? নাকি অন্য কেউ!

যিনি পাঠিয়েছেনঃ Asif Zaman

একটি উত্তর ত্যাগ